অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তালিবানের হয়রানির শিকার হচ্ছে আফগান সাংবাদিকরা


আফগানিস্তানের শাহর-ই নাও এ তালিবান সদস্য মোটর সাইকেল করে টহল দিচ্ছেন। ১৬ আগস্ট ২০২১।

আফগানিস্তানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে ইসলামপন্থী দল তালিবান কাবুলের এক সাংবাদিককে "বন্দুক তাক" করে মারধর করেছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে রাজধানী শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে আফগান সাংবাদিক এবং কর্মীরা অভিযোগ করছেন যে তারা তালিবানদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দেশটির সবচেয়ে বড় সংবাদ মাধ্যম টোলো নিউজ চ্যানেলের জিয়ার খান ইয়াদ বৃহস্পতিবার টুইট করেন, যে কাবুলের নিউ সিটিতে (অথবা শাহর-ই-নাও এলাকায়) তালিবান তাকে মারধর করেছে। তিনি লিখেছেন যে তার ক্যামেরা, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং মোবাইল ফোনও ছিনতাই হয়েছে। টোলো নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে যে ইয়াদ এবং তার ক্যামেরাম্যান যখন বেকার মানুষ এবং শ্রমিকদের ওপর একটি প্রতিবেদনের জন্য ফুটেজ নিচ্ছিলেন তখন তালিবান বাহিনী তাদের প্রহার করে।

ইয়াদ লিখেছেন, "আমি এখনও জানি না কেন তারা এমন আচরণ করেছিল এবং হঠাৎ করেই আমাকে আক্রমণ করেছিল।বিষয়টি নিয়ে তালিবান নেতাদের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে; তবে, অপরাধীদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি।"

তালিবানের সাংস্কৃতিক কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য, আহমাদুল্লাহ ওয়াসিক ইয়াদের অভিযোগের জবাবে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। ওয়াসিক বলেন, "আমরা ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি এবং আমরা এ বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে আলাপ করেছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

ওদিকে, আফগান সাংবাদিক এবং সক্রিয়বাদীরা তাদের নিরাপত্তার জন্য বৃহস্পতিবার কাবুলে অবস্থান ধর্মঘট করেছে। গণমাধ্যম অধিকার সংস্থার তথ্য মতে তালিবান কাবুলে কমপক্ষে পাঁচজন সাংবাদিকের সম্পত্তি তল্লাশি করেছে।

তালিবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সাম্প্রতিক দিনগুলিতে বারবার বলেছেন যে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রচার করতে পারবে।তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যারা আমেরিকা বা অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে কাজ করছে তাদের বিশেষ ছাড় দিচ্ছে তালিবান।সাংবাদিকদের হয়রানির দিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মুজাহিদ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, " ছোট কিছু ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। হয়তো আমাদের কিছু যোদ্ধা আপনাদের অফিসের কাছেই রয়েছে।আমরা সংবাদ মাধ্যমের কার্যালয় থেকে আমাদের বাহিনী সরিয়ে নেব এবং আপনারা নির্দ্বিধায় কাজ করতে পারবেন।"

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএমএফ) বলেছে, তালিবান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আফগান সংবাদ মাধ্যম থেকে যা শোনা যাচ্ছে তার সঙ্গে কোন মিল নেই। আইডব্লিউএমএফের উপ -পরিচালক নাদিন হফম্যান ভিওএকে বলেন, "আমরা সরাসরি সাংবাদিকদের কাছ থেকে শুনেছি যে তালিবান তাদের খুঁজছে, তাদের বাড়িতে গিয়েছে এবং সেজন্য তারা আতঙ্কিত।" তিনি আরও বলেন, অনেক নারী মনে করেন যে গত ২০ বছর ধরে তারা যা কিছু অর্জন করেছেন তা রাতারাতি হারিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনতার সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমি দেশগুলোকে চাপ দিচ্ছে যে তারা আফগান সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে এবং তালিবানদের শাস্তির আশঙ্কায় অন্যদের সাথে ঐ দেশ থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

XS
SM
MD
LG