অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভে উত্তাল থাইল্যান্ড


(ব্যাংকক) - থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রয়ূথ চান-ওচার পদত্যাগের দাবীতে তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে টিয়ার গ্যাস, জলকামান এবং রাবার বুলেট ছুঁড়েছে থাই পুলিশ। রবিবারের ওই বিক্ষোভে এক হাজারেরও বেশি প্রতিবাদকারী অংশ নিয়েছিল।

বিক্ষোভকারীদের অনেকেই করোনাভাইরাসের মৃত্যুর জন্য প্রতীকী শবদেহ বহন করে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন।

এক বিক্ষোভকারী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা ছিল খুবই নাজুক এবং আমরা যদি কিছু না করি তবে কোনও পরিবর্তন হবে না”।

এর আগে, গণতন্ত্রের স্মৃতিস্তম্ভ থেকে সরকারী আবাসন পর্যন্ত রাস্তা অবরুদ্ধ করে কাঁটাতারের ব্যারিকেড স্থাপন করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভকারীরা এই ব্যারিকেড ভাঙ্গার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাঁধা দেয় এবং অনেককেই আটক করে। থাইল্যান্ডে চলতি সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ হয়েছে এমনটি গত কয়েক বছরের মধ্যে দেখা যায়নি।

আটক হওয়া বেশিরভাগ বিক্ষোভকারী নেতাকে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এদের মধ্যে অনেকেই গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল।

থাইল্যান্ডে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে বিধিনিষেধ আরও বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় রাত্রীকালীন কারফিউ এবং ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফলে পাঁচ জনের বেশি লোকের সমাগম হলে, সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল অথবা ৪০,০০০ বাত পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

রোববার দেশটিতে নতুন করে ১১ হাজার ৩৯৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে থাইল্যান্ডে মোট ৪ লাখ ৩ হাজার ৩৮৬ জন আক্রান্ত এবং ৩ হাজার ৩৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেল্টা ও আলফা ভ্যারিয়ন্টের কারণে এপ্রিল থেকে থাইল্যান্ডে করোনায় বেশি মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে লড়াই করছে দেশটি।

পুলিশ রবিবারের প্রতিবাদে যোগ না দেওয়ার জন্য জনগণকে অনুরোধ করে বলেছে, এতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং সেই সাথে যারা আইন লঙ্ঘন ও অশান্তি সৃষ্টি করবে তাদের জন্য ভয়াবহ শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

XS
SM
MD
LG