অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

উত্তর টিগ্রায় অঞ্চলে বিজয় আসন্ন বলে দাবী ইথিওপিয়া সরকারের


উত্তর টিগ্রায় অঞ্চলে পাহার দিচ্ছেন ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনীর সদস্যরা। (ফাইল ছবি- এপি)

উত্তর টিগ্রায় অঞ্চলে ইথিওপিয়ার সরকারী বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ইথিওপিয়ার সরকার বলেছেন তাদের সেনাবাহিনী বিজয়ের কাছাকাছি রয়েছে।

সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বিশ্বের যুদ্ধবিরতির জরুরি আবেদনের মধ্যে, ফেসবুকে সরকার এক বিবৃতিতে বলেছেন যে টিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট "এবং তাদের হাতের পুতুলদের আমাদের বাহিনী ঘেরাও করে রেখেছে। প্রবাদ ব্যবহারের মাধ্যমে তারা বলছে, "একটি ইঁদুর যে তার গর্ত থেকে দূরে সরে গেছে সে মৃত্যুর কাছাকাছি"।

বিবৃতি আরও বলা হয়, "এটি এমন একটি দেশ নয় যা বিদেশী অপপ্রচারের কারণে ভেঙ্গে পড়বে। আমরা অস্তিত্বের জন্যে লড়াই করছি!"

টিগ্রায় বাহিনী বলছে যে তারা রাজধানী আদ্দিস আবাবার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং কয়েক মাস এমনকি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এর পতন হতে পারে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিগ্রায় বাহিনীর সঙ্গে ওরোমো আঞ্চলিক বাহিনী যোগ দিয়েছে এবং দুই গোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করার দাবি করেছে।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তার সরকারই ক্ষমতায় থাকবে।

সহিংসতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হর্ন অফ আফ্রিকার বিশেষ দূত জেফরি ফেল্টম্যান দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ইথিওপিয়ায় পৌঁছেছেন। আবি, ফেল্টম্যানের সঙ্গে দেখা করবেন কিনা এমন প্রশ্নে আবির মুখপাত্র, বিলেন সিয়ুমকে করা হলে তিনি কোন জবাব দেননি।

বুধবার আদ্দিস আবাবায় দেয়া ভাষণে আবি আহমেদ বলেন, “ইথিওপিয়ার পতন হবে না। ইথিওপিয়া সমৃদ্ধ হবে”। "ইথিওপিয়ার সন্তানদের হাড় ও রক্তের বিনিময়ে যারা দেশটির পরীক্ষা নিচ্ছে তাদের পরাজিত করে ইথিওপিয়া সম্মানের সাথে চিরকাল থাকবে।"

ইথিওপিয়ার সরকার বুধবার ছয় মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং বিদ্রোহীরা রাজধানীতে এলে বাসিন্দাদের তাদের এলাকা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সম্মেলনে বিচারমন্ত্রী গেডিওন টিমোথিওস বলেন, “আমাদের দেশ তার অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব এবং ঐক্যের জন্য এক মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন। এবং আমরা স্বাভাবিক আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা এবং পদ্ধতির মাধ্যমে এই বিপদ দূর করতে পারবো না।"

টিগ্রায় অঞ্চলের নেতা ডেব্রেটসিওন গেব্রেমিকাইল গত এক বছরের দুর্ভোগের জন্য ইথিওপিয়ার সরকার এবং তার মিত্রদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধবাজরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং আমরা এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছি কারণ আমাদের একমাত্র উপায় ছিল শক্তির মাধ্যমে শত্রুদের ধ্বংস করা।"

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস টিপিএলএফ ও ইথিওপিয়ার সরকারসহ যুদ্ধরত সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

XS
SM
MD
LG