অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা কঠিন: ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার


প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন। এদিকে এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্ত করার পেছনে কি ছিল তা এবং রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন দলিল সম্পর্কে জানানোসহ নানা বিষয় নিয়ে চলছে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্ক। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। প্রেসিডেন্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

please wait

No media source currently available

0:00 0:08:39 0:00

রাশিয়ার কর্মকর্তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য নিয়ে আলোচনা করা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এর আগে সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি কর্তৃক সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিষয়ক তদন্ত বন্ধ করার অনুরোধ না শোনায় তাঁকে বরখাস্ত করার বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউজের বিবৃতি চাওয়া হচ্ছে।

বুধবার কানেক্টিকাটে কোস্ট গার্ড ক্যাডেটদের এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব নিয়ে কথাবার্তা বলায় তাঁর সমালোচকদের এবং মিডিায়ার সমালোচনা করেছেন।

“আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ইতিহাসে কোনো রাজনীতিকের সঙ্গে এ্যাতো খারাপ আচরণ করা হয়নি- এ্যাতো আযৌক্তিকভাবে দেখা হয়নি। সমালোচকদেরকে আর বিদ্রুপকারীদেরকেতো আর আপনি আপনার স্বপ্ন বা পরিকল্পনার অংশ করতে পারেন না”।

হোয়াইট হাউজের এই আপাত বিশৃংখল অবস্থাকে সেনেট ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার বলছেন আশংকাজনক বিষয় হিসাবে। তিনি বলেন এই অবস্থায় প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাস করাই কঠিন।

“এই প্রশাসন এখন বিশ্বযোগ্যতার সংকটে নিপতিত। এই সংকট আমাদের সকলকেই ক্ষতি করবে। শীর্ষ অবস্থানে প্রেসিডেন্টের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতায় ভাটা পড়ে গেছে; আমেরিকানর নাগরিক, আমাদের মিত্র সকলেই এই সংকট ও বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি বুঝতে পারছেন”।

হাউজ স্পিকার পল রায়ানসহ অনেক রিপাবলিকান নেতাও এই সংকট কাটাতে হোয়াইট হাউজকে অনুরোধ করছেন যেসকল বিষয় নিয়ে বিতর্ক চলছে সেসব সম্পর্কে আরো তথ্য জানাতে।

“আমাদের কাজ হচ্ছে দায়িত্বশীল, ও সংযত হয়ে সত্য যোগাড় করা ও তুলে ধরা।”

তবে এই বিশৃংখলা অনেকের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে, যেমনটি বলেছেন সেনেট মেজরিটি নেতা মিচ ম্যাককনেল, “আমার মতে হোয়াইট হাউজ নিয়ে নাটকীয়তা যতো কমানো যায় ততোই ভালো”।

প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফর নিয়ে দেশে ও বিদেশে নানা তর্ক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ANTHONY CORDESMAN, CSIS বিষশ্লেষক যেমনটি বললেন:

“যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের মানুষদের মনে যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে যা তারা প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস হয়তো করবেন না; তা হচ্ছে বিভক্তির তুলনায় কংগ্রেসের বাস্তবিক রাজনৈতিক শক্তি কতটুকু; তাঁর নিজের দলের সমস্যা কি তিনি তার নিজস্ব এজেন্ডা দিয়ে সমাধান করতে পারবেন?”

সমস্যার সময়ে প্রেসিডেন্টের তা তাৎক্ষনিকভাবে সমাধানের ক্ষমতা রয়েছে এমন মন্তব্য অনেক রিপাবলিকান নেতা করলেও এখন এই পরিস্থিতিতে তারাও সন্দিহান। রিপাবলিকান ষ্ট্র্যাটেজিস্ট জন ফেরীর বরলেন।

“তিনি স্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করার অঙ্গীকার করেছেন। এবং তিনি তা করেছেন। গনমাধ্যম সর্বদাই বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষ করে তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে। তবে বিশ্বাসযোগ্যতা গঠনে – বরং তা তাঁর বিরুদ্ধে যায়”।

সামনের দিনগুলোতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরো বেশী বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে সন্দেহ নেই। সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমির বিষয়টি এর মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর। জেমস কোমি কংগ্রেসের সামনে প্রেসিডেন্ট এবং তার মধ্যেকার আলোচনা কথপোকথন নিয়ে শুনানীতে অংশ নেবেন। তখন আরো নতুন নতুন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কিনা সেটাও চিন্তার বিষয়।

৯ দিনের বিদেশ সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশে কি করবেন তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ ব্যাপক। অনেকে ভাবছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি যে নীতিমালা তার হয়তো ব্যাপক পরিবর্তন করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ভয়েস অব আমেরিকার হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা পিটার হাইনলাইনের তথ্যমতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো সৌদী আরবে সুন্নী মুসলমানদেরকে ইরানের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।

২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদী আরবের ব্যাপক সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমান অভিবাসিদের নানা ভাবে হুমকী দিয়েছিলেন। দায়িত্ব গ্রহনের পর পরই তিনি নির্বাহী আদেশ জারির মধ্যে দিয়ে ৭টি মুসলিম প্রধান দেশের যাত্রী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নানা মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। আর এখন তার প্রথম আন্তর্জাতিক বিদেশ সফরের প্রথম স্থান হিসাবে বেছে নিলেন রিয়াদ।

“সৌদী আরব হচ্ছে ইসলামের দুই পবিত্র শহরের দেশ। এবং এই দেশটিতেই আমরা আমাদের মুসলমান মিত্রদের সঙ্গে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে পারস্পারিক সহযোগিতার সম্পর্ক নির্মানের ভিত রচনার সূচনা করবো”।

তাঁর মুসলমান বিরোধী ইমেজকে পরিস্কার করতে, পরিবর্তন করতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এটা একটি বড় সুযোগ।

রিয়াদে ৫৪জন বাদশা আমীর এবং সুন্নী মুসলমান দেশের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক স্বাগত জানানোর এক বিরল সম্মান পাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তার বার্তা হচ্ছে: ঐ অঞ্চলে তারা তাদের বিরোধী শক্তি বলে যাকে জানে সেই ইরানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের পাশে পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা H.R. MC MASTER, যেমনটি বলেন।

“তিনি আমাদের এ্যারাবিয়ান এবং মুসলমান মিত্রদেরকে উৎসাহিত করবেন আইসিস আল কায়েদা ইরান বা আসাদ শাষনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তাদের মনোবল বাড়াবেন; নতুন ও শক্ত পদক্ষেপ নিতে তাদেরকে উৎসাহ যোগাবেন”।

মিশরের আব্দেল ফাত্তাহ আস-সিসি এবং তুরস্কের রেসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ন্যায় কর্তৃত্বপরায়ন শাষকদেরকে স্বাগত জানানোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। বারাক ওবামার নীতির তুলনায় এই অবস্থা বেশ বড় পরিবর্তীত অবস্থা।

ওবামা ও ট্রাম্পের নীতিমালার পার্থক্য সম্পর্কে এ WASHINGTON INSTITUTE FOR NEAR EAST POLICY এর EXECUTIVE DIRECTOR, ROBERT SATLOFF, বললেন

“তিনি যখন কায়রো গিয়েছিলেন তিনি লম্বা বক্তৃতা দিয়েছিলেন তবে আরব নেতাদের তোয়াক্কা না করে- মধ্যপ্রাচ্যের মানুষদের উদ্ধেশ করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিনিমালা ভীন্ন। তিনি নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছেন”।

ওয়াশিংটনস্থ এ্যারাবিয়ান ফাউন্ডেশেনের নির্বাহী পরিচালক সৌদী নাগরিক আলী যিহাবী বলেন ট্রাম্পের মূল বার্তা হচ্ছে সুন্নী নেতাদের লক্ষ্য করে।

“তিনি সেখানে যাচ্ছেন এই বার্তা নিয়ে যে তিনি বোঝেন তাঁর মুসলমান মিত্ররা আমেরিকার মুসলমানদের বন্ধু। আর তারাই জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধের যুদ্ধে প্রথম সহযোদ্ধা। তাদের সুরক্ষা দেয়া তাঁর প্রথম কাজ। তিনি আরো মনে করেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানকে কোনো রকম ছাড় দেয়া যাবে না যাতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত জিইয়ে রাখার রাজনীতি না করতে পারে”।

রিয়াদ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইল যাবেন এবং পারে যাবেন ভ্যাটিকানে। একেশ্বরবাদী ধর্মের তিন তীর্থস্থান সফর শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেটো সম্মেলনে এবং জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন।

XS
SM
MD
LG