অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঢাকার বেশিরভাগ এলাকা করোনায় আক্রান্ত


বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বেশিরভাগ এলাকা এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। ৫০টি থানার মধ্যে ৩৩ টি থানায় করোনা ছড়িয়েছে। বাকি ১৭ থানায় করোনা নেই এটা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তাদের ভাষ্য এসব এলাকা থেকে কেউ পরীক্ষা করতে আসেননি। গত ৮ই মার্চ থেকে সারাদেশে এ পর্যন্ত ৪৮২ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫৪ জনই ঢাকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শনিবার এক সংবাদ সন্মেলনে জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ জন। মারা গেছেন তিন জন।

মন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর ও বাসাবোর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এখন পর্যন্ত ৩৬ জন চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকার আটটি হাসপাতালকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হলেও কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ছাড়া বাকিগুলোতে চিকিৎসা হচ্ছেনা। শুধুমাত্র বহির্বিভাগে করোনা উপসর্গ সর্দি, জ্বর, কাশি নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত অঘোষিত কারফিউ বলবৎ রয়েছে। বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ঘর থেকে বের হওয়া যাবেনা। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন চলছে ঢিলেঢালা ভাবে। সর্বশেষ সিলেটকে লকডাউন করা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থানরত মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা আট টন খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ত্রাণ নিয়ে কোন ধরণের অনিয়ম সহ্য করা হবেনা। সরকারি ত্রাণ আত্মসাতের বেশ কিছু খবর সংবাদ মাধ্যমে আসার পর ওবায়দুল কাদের এই হুশিয়ারি দিয়েছেন। করোনা নামক এই অদৃশ্য শক্তিকে পরাজিত করতে সকল মতপার্থক্য ভুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা।

ওদিকে পৃথিবীর ৯টি দেশে ১৪৭ জন বাংলাদেশি প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মারা গেছেন। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ইতালি, কানাডা, কাতার, স্পেন, সুইডেন, লিবিয়া ও গাম্বিয়ায় বাংলাদেশিরা মারা গেছেন।

XS
SM
MD
LG