অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পশ্চিমবঙ্গে অতি সাম্প্রতিককালে এসিড হামলা বেড়ে চলায় উদ্বিগ্ন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কমিশন।

কমিশনের চেয়ারপার্সন সুনন্দা মুখোপাধ্যায় বলেছন, শুধুমাত্র গত ডিসেম্বর মাসেই রাজ্যের পাঁচটি জায়গায় এসিড হামলার অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এর কারণ হিসাবে তাঁর দাবি, খোলা বাজারে এসিড বিক্রি বন্ধে সরকার ব্যর্থ। তিনি বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বড় বড় শপিং মল বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও টয়লেট ক্লিনার হিসাবে যা বিক্রি হচ্ছে, তা আসলে সালফিউরিক এসিড। শুধু মোড়কে এসিড কথাটি লেখা নেই। তাতেই পার পেয়ে যাচ্ছে সেগুলি।

খোলা বাজারে এসিড বিক্রি নিয়ন্ত্রিত হয় পয়জন অ্যাক্ট ঊনিশো ঊনিশ অনুযায়ী। সুনন্দা মুখোপাধ্যায় প্রায় শতাব্দী প্রাচীন এই আইন সংশোধনের দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পাল্টেছে। আরও বাস্তবমুখী আইন প্রণয়নের দাবি আমরা সরকারের কাছে রাখছি।

কথা প্রসঙ্গে কমিশনের চেয়ারপার্সন আরো বলেন, রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় দুই বান্ধবীর উপরে এসিড হামলা হয়েছিল। তাঁরা ভর্তি রয়েছেন ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে। তাঁদের দেখতে গিয়ে শিউরে উঠেছি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালের এসিড আক্রান্তের কথা বলতে গিয়ে সুনন্দা মুখোপাধ্যায় বলেন ভ্রু’র উপরের চামড়া মাংস সমেত খসে পড়ে গিয়েছে। বর্ধমানের আক্রান্তের কসমেটিক সার্জারি হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। আইন অনুযায়ী, আক্রান্তদের তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। ১৫ দিনের মধ্যে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু এঁদের বেশিরভাগই সেই ক্ষতিপূরণ পাননি। ক্ষতিপূরণ নিয়ে টালবাহানায় হাইকোর্টে মামলাও চলছে বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেছেন সুনন্দা মুখোপাধ্যায়। কলকাতা থেকে পরমাশিষ ঘোষ রায়।

XS
SM
MD
LG