অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তালিবানকে প্রথম কোন রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেবে?


ফাইল ফটো- তালিবান শান্তি আলোচনা দলের সদস্যদের ছবি। দোহা, কাতারে, ২১ নভেম্বর, ২০২০।

তালিবান কাবুল দখল করে নেয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ে পর অনেক সরকারই কঠিন এক প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছেন যে কখন আফগানিস্তানের ইসলামপন্থী দলকে বৈধ শাসন ক্ষমতা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত? কিংবা আদৌ দেওয়া উচিত্ কি না ?

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দ্বারা ১৯৯৯ সাল থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত তালিবান প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত ছিল।

আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের যে প্রায় ১০ বছর ধরে ব্যর্থ লড়াই তারই ভষ্মাবশেষ থেকেই তালিবানের সৃষ্টি এবং ১৯৯০ এর মাঝামাঝি সময়ে তালিবান ক্ষমতা দখল করে। ঐ দেশটিতে তালিবানের নিয়ন্ত্রণ মাত্র তিনটি দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছিল। দেশগুলো হচ্ছে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

তবে ঐ গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ঝুঁকি এবং সুবিধা কি তা নিয়ে ঐ দেশগুলোর রাজধানীতে এখন বিতর্ক চলছে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে বরং অন্য কোন সরকার তালিবানকে স্বীকৃতি দেওয়া পর্যন্ত সম্ভবত তারা অপেক্ষা করবে।

এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ উল্লেখ করেছে যে আফগানিস্তানে "আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি" এবং শাসন ক্ষমতার অধিকর্তা হিসেবে কাকে স্বীকৃতি দেয়া হবে সে প্রসঙ্গ তারা এড়িয়ে গেছেন।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তার দিকে রাশিয়া এবং চীনের মতো দেশের নজর রয়েছে। সেখানে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের উপায় হিসাবেই তাদের তালিবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের পরিচালক রিচার্ড গোওয়ান বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পশ্চিমা সদস্যরা যখন নারী অধিকারের মতো বিষয়ের উপর সর্বাগ্রে জোর দেবেন, তখন রাশিয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মাদক ব্যবসার প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।" "চীন এবং রাশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে তাত্ক্ষণিক উদ্বেগের কারণে বাস্তব অবস্থা বিবেচনার তালিবানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভাল যুক্তি আছে।”

XS
SM
MD
LG