অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নারী কন্ঠ: সিরিয়ান শরণার্থীদের উদ্যোগ


Noor al Mousa sells Syrian sweets as Tan Jakwani and an interpreter help at a farmers market in Phoenix, Arizona.

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন কারণে শরণার্থীরা আমেরিকা সহ অন্যান্য দেশে আশ্রয় নেন।

আজকের নারী কন্ঠ অনুষ্ঠানে, সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগত শরণার্থীদের উদ্যোগ এবং তাদের যে আমেরিকান স্বেচ্ছাসেবীরা সাহায্য করেন তাদের কাহিনী আপনাদের শোনাব।

please wait
Embed

No media source currently available

0:00 0:06:38 0:00

শরণার্থীরা যখন প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তখন তারা একটা সামান্য ভাতা পান ৩ থেকে ৬ মাসের জন্য। এ ছাড়াও তারা পুনর্বাসন সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও সাহায্য পান। তার পর তাদের নতুন দেশে জীবন যাত্রার জন্য নিজেদেরই ব্যবস্থা করতে হয়।

২০১৬ সালে বেশ কিছু সিরিয়ান শরণার্থী আমেরিকায় আসেন। অ্যরিজোনা রাজ্যের ফিনিক্সে মহিলাদের একটি সংগঠন নবাগত শরনার্থীদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যান। ভয়েস অফ আমেরিকার জুন সো তারই বিস্তারিত বিবরণ দেন।

নুর আল মুসা এবং তার ছোট্ট মেয়ে সিরিয়ায়, গোলা গুলির শিকার হন, তাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের পরিবার পায়ে হেটে জর্ডান যান এবং সেখানে চার বছর কাটানোর পর আমেরিকায় আসেন।

নুর মুসা বললেন, "আমি যখন বেক করি আমি খুব আনন্দ পাই। আমার খুব ভাল লাগে।”

নুর মুসা যখন সিরিয়ায় ছিলেন তখন বাড়িতে মিষ্টি তৈরি করতেন।

“আমি যখন প্রথমে এখানে আসি আমার তখন কেউ ছিল না। কোন বন্ধু বান্ধব ছিল না। কিন্তু আমেরিকান স্বেচ্ছাসেবীরা আমাকে সব কিছুতে সাহায্য করেন। দেশে আমি শুধু আমার পরিবারের জন্য মিষ্টি তৈরি করতাম। এখন ফার্মার্স মার্কেটে মিষ্টি বিক্রী করতে স্বেচ্ছাসেবীরা আমাকে সাহায্য করেন। আমি Syrian Sweets Exchange কার্যক্রমে আছি।”

এই Syrian Sweets Exchange কার্যক্রমটির মাধ্যমে, শরণার্থীরা যে সব মিষ্টি তৈরি করেন, বেক সেল অর্থাৎ ঘরে তৈরী কেক বা বিস্কিট বিক্রী করা হয় যে ভাবে, সে ভাবেই ওই মিষ্টি গুলো বিক্রী করা হয়। ওই শরণার্থীদের অনেকেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যারিজোনা রাজ্যে এসেছেন।

সাত জন যারা এই কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদের একজন হচ্ছেন ট্যান জাকওয়ানি। তিনি বলেন একটি গীর্জায় প্রথম বেক সেলে আনুমানিক হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৮ শো মানুষ এসেছিলেন। সব মিষ্টি বিক্রী হয়ে যায়।

“প্রথম Syrian Sweets Exchangeএর অনুষ্ঠানে প্রচন্ড সাড়া পাওয়ার পর আমরা বেক সেল অব্যাহত রাখি। গীর্জা, সিনেগগ, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় বই এর দোকানগুলোতে আমরা বেক সেল করি।”

Syrian Sweets Exchangeএর প্রতিষ্ঠাতারা এবং স্বেচ্ছাসেবীরা, যারা মিষ্টি তৈরি করেন তাদেরকে গাড়িতে করে বেক সেলে নিয়ে যান এবং তাদের জন্য দোভাষী হয়ে কাজ করেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতারা এবং স্বেচ্ছাসেবীরা অধিকাংশই মহিলা এবং তারা বিভিন্ন ধর্মের এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

ট্যান জাকওয়ানি যে শরণার্থীদের সাহায্য করেন তার একটা কারণ হচ্ছে জাকওয়ানি পরিবারের ইতিহাস। তাঁর বাবা দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনা বাহিনীতে মেজর ছিলেন। ১৯৭৫ সালে যখন ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হয় তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। ট্যান এবং তাঁর মা ও তিন ভাই বোন ১০ বছর পর আমেরিকায় আসেন।

“আমরা যখন এসেছি আমার বাবা ইতিমধ্যেই আমাদের জন্য ছোট একটা বাড়ি কিনে রেখে ছিলেন। শরণার্থী হিসেবে থাকার যে পর্বটা তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি আমাদের। কিন্তু আমার বাবা যখন প্রথম এদেশে আসেন সে সময়কার কথা তিনি আমাদের সব সময় বলেছেন। একটি পরিবার তাকে স্পনসার করেন এবং তারা ড্রাইভার্স লাইসেন্স, লাইব্রেরি কার্ড, চাকরী পেতে তাকে সাহায্য করেন।

Refugee Connection Phoenix নামের একটি বড় সংগঠনেরই একটা অংশ Syrian Sweets Exchange। গত বছর Refugee Connection Phoenix সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৬০ থেকে বেড়ে ৮০০ তে দাড়ায়। ওই গ্রুপটির আরও কয়েকটি কার্যক্রম রয়েছে যেমন Refugee Baby Shower, Syrian Supper Club, এবং Refugee Reading Program। এই রিডিং প্রোগ্রামের অধীনে একজন স্বেচ্ছাসেবী প্রতি সপ্তাহে শরণার্থীদের একটি পরিবারে যান এবং বই পড়ে শোনান।

বই পড়ার ওই কার্যক্রমটির সমন্বয়ক হচ্ছেন মেলেক আকগুল লি।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু শিশুদের একজন স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে ইংরেজীতে বই পড়ার সুযোগ করে দেই না। আমরা তাদেরকে স্থানীয় পরিবারগুলোর সঙ্গে সংযোগ করিয়ে দি। তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক গড়ে উঠে। শরণার্থি পরিবারগুলোর জন্য, আমাদের কমিউনিটিতে উত্তরণে তা সাহায্য করে।

জাকওয়ানি বলেন শরণার্থীদের অনেক সাহায্যের প্রয়োজন থাকে।

"কিন্তু আমি মনে করি আমরা প্রত্যেকে যদি একটু চেষ্টা করি, তাহলে শরণার্থীরা, যাতে, নতুন দেশে তাদের নতুন জীবন গড়ে তুলতে পারেন তাতে সাহায্য করার জন্য অনেক কিছু করা যায় ।”

XS
SM
MD
LG