অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নারী কন্ঠ: দুজন আফ্রিকান আমেরিকান কিংবদন্তি নারীর কাহিনী


শাগুফতা নাসরিন কুইন

যুক্তরাষ্ট্রে ফেব্রুয়ারী মাস -- কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসের মাস হিসেবে পালিত হয়।
আজকের নারী কন্ঠ অনুষ্ঠানে দুজন বিখ্যাত আফ্রিকান আমেরিকান কিংবদন্তি নারীর কাহিনী আপনাদের শোনাব।

please wait

No media source currently available

0:00 0:12:40 0:00

আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম বিষাদময় অধ্যায়ের অবসান হয় ১৮৬৫ সালে যখন সংবিধানের ত্রয়োদশতম সংশোধনী দাসপ্রথা বিলোপ করে।

The new Harriet Tubman Underground Railroad Visitor Center in Church Creek, Md, on Friday, March 10, 2017, help tell the story of Tubman, who was born about 10 miles away. (AP Photo/Brian Witte)
The new Harriet Tubman Underground Railroad Visitor Center in Church Creek, Md, on Friday, March 10, 2017, help tell the story of Tubman, who was born about 10 miles away. (AP Photo/Brian Witte)

হ্যারিয়েট টাবম্যানের জন্ম ম্যারিল্যান্ড রাজ্যের একটি খামারে। দাসপ্রথা অবসানের আন্দোলনে তার অমূল্য অবদান রয়েছে। শত শত দাসকে মুক্ত করার জন্য তিনি প্রচুর ঝুঁকি নিয়েছেন এবং কাজ করে গেছেন। হ্যারিয়েট টাবম্যানের কাহিনী নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য ম্যারিল্যান্ডের কেম্ব্রিজে হ্যারিয়েট টাবম্যান মিউসিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়।
ডনাল্ড পিনডার হচ্ছেন হ্যারিয়েট টাবম্যানের মিউসিয়ামের প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন “তিনি শতাংশ সফল হতেন। হ্যারিয়েট যদি সিদ্ধান্ত নিতেন যে তিনি আপনাকে বার করে নেবেন, এবং আপনি সেটাই চাইতেন, আপনি তাহলে মুক্তি পেতেন।”

যারা মিউসিয়াম পরিদর্শন করতে আসেন, ডনাল্ড পিনডারএর কাছে তারা ইতিহাসের পাতা থেকে, টাবম্যান কিভাবে ১৮৪৯ সালে একটি খামার থেকে দাসত্বের হাত খেকে বাচার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে যান
সেই কাহিনী শোনেন।

ডনাল্ড পিনডারবলেন "কয়েকটি মৌলিক জিনিষ তিনি বুঝতেন না। তার মধ্যে একটি হচ্ছে দাসত্ব। কেন কিছু মানুষ মুক্ত এবং কেন কিছু মানুষকেক্রীতদাস করা হয়েছে?”

পেনসেলভেনিয়া রাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় পৌছনোর পর টাবম্যান "Underground Railroad."এ যোগ দেন। কিছু পথ, ব্যক্তিগত বাড়ি এবং লুকিয়ে থাকার একটা ব্যবস্থাকে বলা হত"Underground Railroad." এর মাধ্যমে টাবম্যান সহ পলাতক দাসরা দক্ষিণাঞ্চল থেকে পালিয়ে উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে চলে যেতেন যেখানে দাস প্রথা অবৈধ ছিল।

ডনাল্ড পিনডার বলেন " হ্যারিয়েট সম্ভবত ১৮ বার সাফল্যের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বার করে নিয়ে যান। তিনি অন্যান্য দাসদেরও পরামর্শ দিতেন। এবং তারা মুক্তি পেয়েছেন।”

অ্যানজেলা হরসি একজন পর্যটক। তিনি টাবম্যানের কাহিনী শুনে অভিভূত হয়ে পড়েন।

অ্যানজেলা হরসিবলেন "আমার মনে হয় হ্যারিয়েট টাবম্যান সকল জনগনের স্বাধীনতার পথ প্রদর্শক ছিলেন। আমার কাছে তিনি একজন অসমান্য ব্যক্তিত্ব।”

জে মেরেডিথ একটি পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি হ্যারিয়েট টাবম্যানের জীবনকাহিনী শোনাতে ভালবাসেন।

জে মেরেডিথবলেন "তিনি শিখেছিলেন কিভাবে ভূমির সাহায্যে বেচে থাকা যায়। তিনি জানতেন কিভাবে আকাশের তারা পথ দেখাতে পারে। তিনি বন জঙ্গল বিল আরজলাভূমি সম্পর্কে খুব ভাল জানতেন। তাই তিনি এত সফল হয়েছিলেন।”

জে এবং তাঁর স্ত্রী অষ্টাদশ শতাব্দীরএকটি দোকান কেনেন । বলা হয় সেখানে, এক স্বেতাঙ্গ পুরুষ, এক পলাতক দাসকে আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েচিলেন কিন্তু টাবম্যান তা মানতে অস্বীকার করেন।

জে মেরেদিথ বলেন " হ্যারিয়েট টাবম্যান সত্যিকারের আমেরিকান হিরো ছিলেন। সে বিষয়ে কোন প্রশ্ন নেই। নির্দেশ অমান্য করার তাঁর প্রথম কাজটির সঙ্গে, যে দোকানটি সংশ্লিষ্ট, তা যাতে সংরক্ষনকরা হয় তা নিশ্চিত করাটা আমার স্ত্রী ও আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ লোকজন যাতে বুঝতে পারেন হ্যারিয়েট টাবম্যান এবং তাঁর কাহিনী কত গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৭ সালে মেরিল্যান্ড রাজ্যের Dorchester Countyতে হ্যারিয়েট টাবম্যানের স্মরণে একটি জাতীয় পার্ক স্থাপন করা হয়। এটি হচ্ছে কোন আফ্রিকান আমেরিকান নারীর নাম অনুসারে প্রথম জাতীয় পার্ক।


আরেক মহিয়সী নারী ছিলেন রোসা পার্কস।

২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী, ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল ভবনে, নাগরিক অধিকারের অন্যতম নেত্রী রোসা পার্কসের স্মরণে তাঁর পূর্ণ আকারের মূর্তি উন্মোচন করা হয়।

Obama Rosa Parks
Obama Rosa Parks


আমেরিকার ইতিহাসে পরিবর্তন এনেছিলেন রোসা পার্কস যখন ১৯৫৫ সালে তিনি একটি বাসে স্বেতাঙ্গদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছেড়ে দিতে অস্বীকার করেন। রোসা পার্কসকে বলা হয় নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মাতৃ।
প্রায় তিন মিটার দৈর্ঘের ব্রনজের মূর্তিটি উন্মোচন করেন তদানিন্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

প্রেসিডেন্ট ওবামা রোসা পার্কসের সাহসিকতার প্রতি সম্মান জানান।

প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন "Rosa Parks' এর অসহযোগিতার একটি কর্ম, একটা আন্দোলনের সূচনা করে। এবং সে কারণেই এই প্রতিমূর্তি এই ভবনে স্থান পেয়েছে আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য যে যত সুউচ্চই হোক,-- নেতৃত্বের জন্য কি প্রয়োজন, নাগরিকত্বের জন্য কি প্রয়োজন।"

এই প্রথম কোন আফ্রিকান আমেরিকান নারীর পূর্ণ আকৃতির ভাস্কার্য ক্যাপিটল ভবনে স্থান পেয়েছে। ১৯৫০ এর দশকে আমেরিকার দক্ষিনাঞ্চলে বর্ণপৃথকীকরণ প্রত্যাখ্যানের -- পার্কসের ওই অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হল। কংগ্রেসম্যান জেম্স ক্লাইবার্ন বলেন আমেরিকার ইতিহাসের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যাদের মূর্তি ক্যাপিটলে প্রদর্শিত আছে, তাদের মধ্যে পার্কসও তাঁর ন্যায্য স্থান অধিকার করে আছেন। তিনি বলেন " ঈশ্বর আমাদের সমান ভাবে সৃষ্টি করেছেন – জাতি হিসেবে আমরা যে সে ভাবে জীবন যাপন করতে চাই, সেই প্রচেষ্টায়, রোসা পার্কসের মর্যাদা,এই মূর্তি চিরকালের জন্য অটুট রাখবে।"

১৯৫৫ সালের ডিসেম্বার মাসে অ্যালাবামা রাজ্যের মন্টগামারিতেপার্কস ইতিহাস তৈরি করেন যখন তিনি এক শ্বেতাঙ্গ যাত্রীকে তার আসন ছেড়ে দিয়ে বাসের পেছনে যেতে অস্বীকৃতি জানান। তাকে কারারুদ্ধ করা হয়, এবং জরিমানা দিতে হয়। সেই সময় দক্ষিণাঞ্চলে বাস, হোটেল রেস্তোরা এবং বিভিন্ন গণপ্রতিষ্ঠানে আইন অনুসারে বর্ণ পৃথকীকরণের ব্যবস্থা ছিল।রোসা পার্কসের পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত হয়ে আফ্রিকান আমেরিকানরা শহর ব্যাপী বাস বয়কট করে। এর ফলে বর্ণ পৃথকীকরণ অবসানের উদ্যোগ শুরু হয় দেশব্যাপী।

১৯৯১ সালে রোসা পার্কস ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন এক সাধারণ বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি অনুপ্রাণিত হন। তিনি বলেন,"আমি সব সময়ই বাইবেলের ওই কথাগুলোতে বিশ্বাস করি --- আপনি যেটা চান যে অন্য মানুষ আপনার প্রতি যে আচরণ করবে, আপনি
অন্যদের প্রতি সেই আচরণই করবেন। আমি মনে করি সেই আদর্শ মেনে চলাটা ভাল।"

পার্কসএরযাজক বা মিনিস্টার,ড: মার্টিন লুথার কিং বাস বয়কট সংগঠনে রোসা পার্কসকে সাহায্য করেন এবং ওই আন্দোলনে যোগ দেন। সুপ্রিম কোর্ট বর্ণ পৃথকীকরণ খারিজ করা পর্যন্ত বাস বয়কট এক বছর বজায় থাকে।

ড: কিং বলেছিলেন, "মন্টগামারিতেবাসে বর্ণ পৃথকীকরণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে—আমরা যার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করেছি। গণ পরিবহনে বর্ণ পৃথকীকরণ ব্যবস্থা আইনগত ভাবে এবং সামাজিক ভাবে অবৈধ।"

রোসা পার্কস মারা যাওয়ার পর ২০০৫ সালে কংগ্রেস, ক্যাপিটল ভবনে তাঁর মূর্তি স্থাপন অনুমোদন করে।

XS
SM
MD
LG