অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও সুযোগের দেশে পরিণত করতে চান এলিজাবেথ ওয়ারেন


Democratic Sen. Elizabeth Warren is surrounded by reporters at the Massachusetts Statehouse, Jan. 2, 2019, in Boston.

যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।সোমবার সংবাদকর্মীদের ওয়ারেন জানান তিনি চান যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও সুযোগের দেশে পরিণত করতে। শুধু বিত্তবানদের জন্য নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য তিনি এই সুযোগ তৈরি করতে চান।

ম্যাসেচুসেটস এর এই সেনেটর ই প্রথম ডেমোক্রাট যিনি দলের সভাপতি মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এলিজাবেথ ওয়ারেন বলছিলেন...

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্তদের কোণঠাসা করে ফেলা হচ্ছে। তরুণ সমাজ যেন নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সুযোগ পাচ্ছেনা। এবং এইসব কিছুর জন্য আমি তাদের জনপ্রতিনিধি হয়ে কাজ করবো।

ওয়ারেন বলছিলেন দাতা সংস্থাদের প্রতি ঋণমুক্ত থাকার জন্য তিনি তৃনমূল পর্যায় থেকে প্রচারনার কাজ করবেন।

ওয়ারেন বলেন...

আমার মনে হয়না প্রচারণার জন্য বিত্তবানদের কাছ থেকে অর্থ নেবার প্রয়োজন আছে।ডেমোক্রাট জনগণের দল। এবং আমরা একত্রিত হয়ে আমাদের প্রচারণার খরচ নিজেরাই বহন করবো। আমরা মানুষের মাধ্যমে আমাদের প্রচারণার কাজ করে থাকি। এবং আমি ঘোষণা দেবার পর পরই যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য থেকে অনুদান পেয়েছি। অনুদান পেয়েছি ডিসি এবং পুয়েরটো রিকো থেকেও।

তবে যারা ওয়ারেনের কথা পছন্দ করছেন, তার পরিকল্পনাগুলোকে স্বাগত জানাচ্ছেন, তারা ভাবছেন ওয়ারেন ভোটার তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে কতটা সফল হবেন। আদি আমেরিকান বংশোদ্ভূত হবার বিষয়ে ওয়ারেনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাকযুদ্ধ তাঁর ভাবমূর্তির উন্নতিসাধনে তেমন কোনও সহায়ক হয়নি। তাঁর ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভুল প্রমানিত করার জন্য ওয়ারেন যেই চিত্র তৈরি করেছেন তা এই পুরো বিষয়টিকে আরও খারাপের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়ারেন সম্পর্কে বলেন...

আমার কাছে এলিজাবেথ ওয়ারেনকে কাণ্ডজ্ঞানহীন মনে হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবাচাইতে খারাপ সেনেটর। তিনি এই পর্যন্ত কোনও উল্লেখযোগ্য কাজ করেননি। এবং তিনি যদি পারতেন তাহলে কর ৯৫ শতাংশে নিয়ে জেতেন।

ওয়ারেন সংবাদকর্মীদের জানান যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ তাদেরকেই ভোট দেবে যারা তাদের জন্য কাজ করবে।

ওয়ারেন আরও বললেন...

রিপাবলিকানরা, ডনালড ট্রাম্প পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন তাদের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার শুধুমাত্র বিত্তবানদের জন্য এবং যাদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে তাদের জন্য কাজ করবে। কিন্তু আমার মতে এমন একটি সরকার প্রয়োজন যে সবার জন্য কাজ করবে। কোনও নির্দিষ্ট দল,মত গোষ্ঠীর জন্য নয়।

এলিজাবেথ ওয়ারেন নিজেকে একজন পুঁজিবাদী বলে দাবী করেন। তবে তিনি চুরির বিপক্ষে। তিনি যদি তাঁর দলের মনোনয়ন পান তাহলে তিনি ট্রাম্পের বিপক্ষে লড়াই করবেন। ক্ষমতায় বহাল থাকা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তাঁর মতে দুর্দান্ত একটি ব্যপার। তবে ট্রাম্প খুব নির্মম।

এদিকে আজ কিছুক্ষনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১১৬ তম কংগ্রেসে নারী শক্তির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে যাচ্ছে। শপথ নিতে যাচ্ছেন মেয়াদ মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীরা।

রিপাবলিকানরা দুই বছর ওয়াইট হাউস,সেনেট, প্রতিনিধি পরিষদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ পায় ডেমোক্রাট।

৪৩৫ টি আসনের মধ্যে ডেমোক্রাট ২৩৫টি আসনে জয়লাভ করে।

ধারণা করা হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি নান্সি পেলোসি দ্বিতীয়বারের মত হতে যাচ্ছেন হাউস স্পিকার। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত পেলোসি এই দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই প্রথম নারী যিনি হাউসে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ বছরের ইতিহাসে তিনিই হবেন প্রথম নারী যিনি দল পরাজিত হবার পরও স্পিকার হিসেবে পুনরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন।

এই প্রথম কংগ্রেসে দেখা যাবে বৈচিত্র্য। শপথ নিতে যাওয়া ১০২ জন নারীদের মধ্যে রয়েছেন সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত কংগ্রেস প্রতিনিধি নিউ ইয়র্কের আলেকযানড্রা অকাসিও কোর্টেয। রয়েছেন নির্বাচিত দুই মুসলিম নারী মিশিগানের রাশিদা তালিব এবং মিনেসোটার ওমার ইলহান। আরও আছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হওয়া আদিবাসি নারী নিউ মেক্সিকোর ডেব হাল্যান্ডএবং ক্যানসাসের শারিস ডেভিডস।

দুই মুসলিম নারীর মধ্যে ইলহান ওমার ক্যাপিটল হিলের চিত্র পরিবর্তন করতে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী হিজাব নিষিদ্ধ। কিন্তু ইলহান ওমর হতে যাচ্ছেন প্রথম নারী যিনি এই নিষেধাজ্ঞার ইতি টানতে যাচ্ছেন। ১৮১ বছর আগের করা এই নিয়ম করা হয়েছিলো যখন কংগ্রেসের চিত্র ছিল ভিন্ন। তখন নারী এবং সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করা হত। বলা হয় কোন বৈষম্য তৈরি করার জন্য এই আইন করা হয়নি।কিন্তু তারপরও এই আইন নিয়ে অনেক সমালোচনা হয় সেই সময়েই।

২০১০ সালে একজন ডেমক্রাট সদস্য ফ্লোরিডার প্রতিনিধি ফ্রেডেরিকা ওইলসাণ তখনকার স্পীকার জন বোইনারের কাছে আহ্বান জানান এই নিয়ম বন্ধ করতে। কিন্তু এই বিষয়ে পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

ম্যাসেচুসেটসের প্রতিনিধি জীম ম্যাকগাভারণ এবং প্রতিনিধি ন্যানসী পেলোসী সহ ওমর ইলহান একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য চেষ্টা করছেন যাতে কোড়ে তাকে হিজাব পরার অনুমতি দেয়া হয়।

আজ কংগ্রেসে শপথ নেয়া সকল নারীদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।

please wait
Embed

No media source currently available

0:00 0:07:31 0:00

XS
SM
MD
LG