অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

১৫০টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছেন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ফটোগ্রাফার অ্যানি গ্রিফিথস


ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রথম নারী ফটোগ্রাফার অ্যানি গ্রিফিথস ছবি তোলার জন্য ১৫০টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছেন। তার ৪৫ বছরের কর্মজীবনে, প্রকৃতি নথিভুক্ত করার জন্য প্রতিটি মহাদেশে গেছেন, এবং পথে তার দেখা নারীদের কাহিনী সংগ্রহ করেছেন।ভয়েস অফ আমেরিকার ম্যাক্সিম মোসকালকভ অ্যানি গ্রিফিথসের সঙ্গে তাঁর এই রোমাঞ্চকর কর্মজীবন সম্পর্কে কথা বলেছেন।

অ্যানি গ্রিফিথস বলেন, "এটা ক্যাম্বোডিয়ার উপর, যখন শিশুরা তাদের জীবনে প্রথমবারের মত মাটি থেকে পানি বের হতে দেখছে। এটা ইন্দোনেশিয়ায় যেখানে মায়েরা তাদের বাচ্চাদের অসহায়ের মতো অপুষ্টিতে ভুগতে দেখছে।এটা সবচেয়ে কঠিন কাজ, এরা লবণ শ্রমিক বেশীরভাগ তরুণী এবং নারীরা এই কঠিন কাজটি করে থাকে। আমি একটি স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছিলাম সে সময় এবং ঐ মেয়েদের সঙ্গে ছিলাম। এই লবণ তাদের ছোট শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

পুরো বিশ্ব জুড়ে তার তোলা হাজার হাজার ছবি আছে। বিখ্যাত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের প্রথম মহিলা ফটোগ্রাফারদের একজন অ্যানি গ্রিফিথস। ভাবা যায় ৪৫ বছরের কর্মজীবনে তিনই ১৫০টির ও বেশী দেশ ঘুরেছেন?

অ্যানি গ্রিফিথস বলেন,"আমি সবসময় অনুভব করি নারী হওয়ার কারনে আমার কাজ করতে সুবিধা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে, ফটোসাংবাদিকতায় প্রবেশ করা এবং তারপর উপলব্ধি করা যে অর্ধেক পৃথিবী আমার কাছেই রয়েছে। 'আমি প্রায় পাঁচ বছর মধ্যপ্রাচ্যে কাটিয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছি। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক অংশ এবং তাদের সংস্কৃতির অনেক দিক লিঙ্গ-পৃথক। পশ্চিমা বিশ্বে এ নিয়ে প্রায়ই সমালোচনা হয়। নারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা দেখার সুযোগ আছে!

গ্রিফিথের ক্যামেরায় ধরা পড়া নারীরা প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অভিবাসন, বৈষম্য, যুদ্ধ, মহামারী এবং দুর্ভিক্ষ থেকে বেঁচে যাওয়া যোদ্ধা। কিন্তু তিনি বলেন, এত কিছু সত্ত্বেও তারা ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখে, শিশুদের লালন-পালন করে, শোক করে এবং শুধু বেঁচে থাকে।

অ্যানি গ্রিফিথস বলেন,"আমি যে সব গল্পের উপর মনোযোগ দিয়েছি তা হচ্ছে যেখানে নারীরা কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে কারণ তারা একটি দল হিসেবে একত্রিত হয়ে সমস্যার সমাধান খুঁজেছে। কিভাবে একটি কাজ আরও ভালোভাবে করা সম্ভব। তারাই লক্ষ লক্ষ বৃক্ষ রোপন করছে। তারাই পুরুষরা চলে যাওয়ার পর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংসারের হাল ধরে রাখছেন তাদের সন্তানদের এবং কখনও কখনও তাদের পিতামাতাকে দেখাশোনা করছেন।

অ্যানি গ্রিফিথস বিশ্বাস করেন যে নারীরা নির্যাতনের শিকার হতে চায় না। এবং ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও আশা নিয়ে বেঁচে থাকে। আর এই কারণেই গ্রিফিথস একটি দাতব্য প্রকল্প যার নাম রিপল ইফেক্ট ইমেজেস হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীদের কর্মসূচীর জন্য অর্থ জোগান দেবে। নয় বছর আগে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন যখন গ্রিফিথস যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার তত্থ-উপাত্ত দেখেন।

অ্যানি গ্রিফিথস বলেন,"যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সহায়তার মধ্যে মাত্র দুই সেন্ট নারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল। ৯৮ শতাংশ ছিল পুরুষদের জন্য। আমি আমার বান্ধবীদের ফোন করেছি যারা বিশ্বের সেরা ফটোগ্রাফারদের মধ্যে অন্যতম এবং বলেছি - দেখুন, আমরা বৃহত্তর বিশ্বে যে সব নারীদের পর্যবেক্ষণ করি তাদের কাছ থেকে আমরা কেন শিখি না? এবং তারা রিপোর্ট করেছে। প্রথম ছয় বছরে ১ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছেো। একটি পরিস্থিতিকে মানবিক পরিস্থিতিতে পরিনত করার জন্য প্রয়োজন সঠিক বুদ্ধিমত্তার যেমন আপনি মরোক্কোর নারীদের নিয়ে কথা না বলে, আপনি মরোক্কোর একজন মহিলাকে দেখান। আপনি তার চোখে আলো দেখতে পাবেন!

শুধু কাজ নিয়েই পড়ে থাকেন না গ্রিফিথস। তিনি দুই সন্তানের মা, এবং শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি দুই সপ্তাহের বেশি তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন না। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সাথে তার বেশীরভাগ কাজ অন্তত তিন মাস স্থায়ী হয়- তাই তাদের মায়ের মত গ্রিফিথের সন্তানরা ডজন খানেক দেশ দেখেছে এবং হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে।

অ্যাঅ্যানি গ্রিফিথসের ছেলেচার্লস বেল্ট বলেন,"আমি আমার মায়ের সাথে ভ্রমণ করছি যখন থেকে আমি তার পেটে ছিলাম। তাই, বছরের পর বছর ধরে কিছু গল্প রয়েছে আমার কাছে। আমরা সত্যিই কিছু উল্লেখযোগ্য জায়গায় গিয়েছি। মধ্যপ্রাচ্য সবসময় আমার কাছে খুব স্পেশাল হবে।

২০০৮ সালে গ্রিফিথস ছবির স্মৃতিকথার একটি বই প্রকাশ করেন যার নাম দিয়েছেন একটি ক্যামেরা, দুই সন্তান এবং একটি উট।যেখানে লেখা রয়েছে কাজ, পরিবার এবং পুরো বিশ্ব এই তিনকে এক সুরে গাঁথা সম্ভব।

XS
SM
MD
LG