করোনায় মৃত্যুর কাফেলা থামেনি। বরং এই মিছিল প্রতিদিনই লম্বা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ১৬৩ জন। এই সময় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। ১১ হাজার ৫২৫ জনের শরীরে করোনার হদিস মিলেছে। এ নিয়ে আক্রান্ত হলেন ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪০৬ জন।
শুধু ঢাকা নয়। সারাদেশে একই অবস্থা। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই মৃত্যু হানা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী কোথাও কোথাও সংক্রমণ কমলেও বাংলাদেশে তা আকাশচুম্বী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ার কারণে হিসেবটা গোলমেলে হয়ে গেছে। একসময় বলা হতো, গরীব মানুষরা করোনায় আক্রান্ত হন কম।
এখন বলা হচ্ছে, এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। যদিও অন্ধ বিশ্বাসের কারণে মুল্য দিচ্ছেন অনেকেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মানুষজন সাধারণ সর্দি-কাশি মনে করে হাসপাতালে আসছেন না। আর যখন আসছেন তখন দেরি হয়ে গেছে। এ কারণে অনেকেই মারা যাচ্ছেন।
আইইডিসিআরের এক গবেষণায় স্পষ্ট, বস্তিতেও করোনা ছড়িয়েছিল। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বস্তি এলাকায় তিন হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ঢাকায় ৭১ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৫৫ শতাংশ মানুষের নমুনা পরীক্ষায় এমনটা ধরা পড়েছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। ৩০টি জেলা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা নেই। এসব হাসপাতালে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, করোনার আগে দিনে একশ' টনের মতো মেডিকেল অক্সিজেনের প্রয়োজন হতো। এখন তা বেড়ে একশো থেকে দুশো' টনে পৌঁছেছে। দেশে উৎপাদন এবং আমদানি মিলিয়ে প্রতিদিন ২৫০ টনের মতো সক্ষমতা রয়েছে। চাহিদা আরও বেড়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে বলে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন।
ইতিমধ্যেই বগুড়া, সাতক্ষীরা ও পাবনায় অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ সাধারণত অক্সিজেন আমদানি করে ভারত থেকে। আড়াই মাস যাবৎ তা বন্ধ। অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গত রোববার থেকে আবার আমদানি শুরু হয়েছে। গত দু'দিনে ১৯০ টন অক্সিজেন এসেছে।
ঈদের আগে দোকান খুলে দেয়ার দাবিতে অনড় দোকান ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো এক খোলা চিঠিতে তারা দোকান খুলে দেয়ার পাশাপাশি আড়াই কোটি কর্মচারীকে রেশন কার্ডের আওতায় আনার আর্জি জানিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা অনেকেই জমানো পুঁজি ভেঙ্গে খাচ্ছেন। তারা আজ নিঃস্ব। দোকান বন্ধ থাকলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিলতো কেউ ছাড় দেবেনা।
করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হেলথ ইন্সটিটিউট থেকে এক হাজারেরও বেশি চিকিৎসককে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে গণবদলি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, হাসপাতালে করোনা রোগী বাড়তে থকায় চিকিৎসকরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। এ কারণে করোনাকালীন সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মেডিকেল কলেজগুলো থেকে চিকিৎসকদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গণবদলির আদেশের পর চিকিৎসকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তারা বলছেন, এ ধরনের গণবদলি কোনো উপকারে আসবে না। কারণ যারা শুধু শিক্ষকতা করেন তাদেরকেও বদলি করা হয়েছে। এসব চিকিৎসকরা করোনা চিকিৎসায় কি ভুমিকা রাখবেন?