রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ১২ জন মার্কিন সেনেটরের চিঠি

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে হাঁটছে। ১০ অক্টোবর ২০২১। (ছবি-এপি/শফিকুর রহমান)

যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সেনেটর কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সমর্থন আদায় করতে উদ্যোগ নেবেন বলে বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে লেখা এক চিঠিতে সেনেটররা এই আশ্বাস দেয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, রাখাইন রাজ্যে সংকটের মূল কারণ ও নৃশংসতার জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়ে জোরালো ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরোধ করবেন বলে উল্লেখ করেছেন ।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের জেফ মার্কলে, বেন কার্ডিন, ডিক ডারবিন, ক্রিস কুন্স, রন ওয়াইডেন, ক্রিস ভ্যান হলেন, এড মার্কি, করি বুকার, এলিজাবেথ ওয়ারেন, মার্কো রুবিও, সুজান কলিন্স ও রজার উইকারের যৌথ স্বাক্ষরিত চিঠিটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছে। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত সেনেটর মার্কো রুবিওর ওয়েবসাইটে ৯ নভেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে সুরক্ষা দেয়ার প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই ১২ জন সিনেটর। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শিবির সমুহে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, শিক্ষা কার্যক্রম, জীবিকার সুযোগ সীমিত হওয়া এবং ভাসানচরে ‘বলপূর্বক’ স্থানান্তরের মত বিষয়গুলো চিঠিতে উল্লেখ করে দেশে

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পরও রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তা কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ অব্যাহত থকায় তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রোহিঙ্গাদের জন্য সামাজিক ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে আশ্রয় শিবির গুলোতে মানবিক সহায়তা কর্মীদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই সেনেটররা।

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির সমূহে সাম্প্রতিক সময়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সেনেটররা তাঁদের চিঠিতে লিখেছেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পাশাপাশি অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতার কারণে নারীসহ রোহিঙ্গা শরনার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তাঁরা ওই হত্যার স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। অপরাধীদের যাতে দায়মুক্তি দেওয়া না হয় এবং আশ্রয় শিবিরে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

চিঠিতে সেনেটররা লিখেছেন রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে বাংলাদেশ সরকারের বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টিও তাঁরা আমলে নিয়েছেন। তবে তাঁরা ভাসানচর থেকে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যাওয়া এবং পরে তাঁদের আবার সেখানে ফিরিয়ে নেয়ার মত খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়টি তাঁদের সম্মতিতে করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। চিঠিতে সেনেটররা লিখেছেন রোহিঙ্গাদের জোর করে ভাসানচরে নেওয়া এবং এ ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য অর্থায়ন তাঁরা সমর্থন করেননা।