<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom">     
    <channel>      
        <title>স্বাস্থ্য - ভয়েস অব আমেরিকা</title>     
        <link>https://www.voabangla.com/z/3736</link>
        <description>VOA Bnagla Health</description>
        <image>
            <url>https://www.voabangla.com/Content/responsive/VOA/bn-BD/img/logo.png</url>
            <title>স্বাস্থ্য - ভয়েস অব আমেরিকা</title>
            <link>https://www.voabangla.com/z/3736</link>
        </image>
        <language>bn</language>
        <copyright>স্বত্বাধিকার ২০১০-ভয়েস অব আমেরিকা</copyright>   
        <ttl>60</ttl>        
        <lastBuildDate>Sun, 18 Oct 2026 18:48:56 +0600</lastBuildDate> 
        <generator>Pangea CMS – VOA</generator>        
        <atom:link href="https://www.voabangla.com/api/zoi$regg$o" rel="self" type="application/rss+xml" />
    		<item>
            <title>রবার্ট কেনেডিঃ ট্রাম্পের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ভ্যাক্সিন সন্দিহান রাজনিতিককে সেনেটের অনুমোদন</title>
            <description>যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট বৃহস্পতিবার রবার্ট এফ কেনেডিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হেল্‌থ সেক্রেটারি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) হিসেবে অনুমোদন করেছে। এর ফলে ভ্যাক্সিন ( টিকা) নিয়ে সন্দিহান এই রাজনীতিক স্বাস্থ্য খাতে ১৭ লক্ষ কোটি ডলারের ফেডেরাল ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ পেলেন।


স্বাস্থ্য বিভাগ ভ্যাক্সিন নিয়ে পরামর্শ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য বীমা কর্মসূচী  দিয়ে থাকে।


ভ্যাক্সিন সম্পর্কে কেনেডির মতামত নিয়ে অস্বস্তি থাকা সত্ত্বেও রিপাবলিকান দলের সেনেটররা তাঁর পক্ষেই থাকেন, এবং ৫২-৪৮ ভোটে আমেরিকার সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক  - এবং ডেমোক্র্যাটিক - পরিবারের একজনকে হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের সেক্রেটারি বা মন্ত্রী পদে নিয়োগ দেন। 


রিপাবলিকানদের মধ্যে শুধুমাত্র সেনেটর মিচ ম্যাককনেল “না” ভোট দেন, তিনি শিশুকালে পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক পদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষেও ভোট দিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাট দলের সকল সেনেটর কেনেডির বিরোধিতা করে।


রিপাবলিকান দলের প্রায় সবাই কেনেডির “আমেরিকাকে আবার স্বাস্থ্যবান করুন” দর্শনের সাথে একমত হয়েছেন। কেনেডি চান জনস্বাস্থ্য এজেন্সিগুলো যেন মেদবৃদ্ধির মত দীর্ঘস্থায়ী রোগ মোকাবেলার দিকে মনোযোগ দেয়।  


একাত্তর বছর বয়সী কেনেডি তাঁর নাম এবং পারিবারিক ট্র্যাজেডির জন্য শিশুকাল থেকে জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন। তিনি খাদ্য, ভ্যাক্সিন এবং রাসায়নিক নিয়ে তাঁর পপুলিস্ট এবং কোন কোন  সময় উগ্রবাদী মতামতের জন্য জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন।  


তাঁর অনুসারিদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায় কোভিড-১৯ মহামারীর সময়, যখন কেনেডি ভ্যক্সিন প্রস্তুতকারক কোম্পানিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করেন। তিনি বেশির ভাগ সময় সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণার চালিয়ে ভ্যাক্সিন এবং সরকারী এজেন্সি যারা ভ্যাক্সিন  সমর্থন করে, তাদের উপর আস্থা খর্ব করেন।


ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে কেনেডি দাবী করেন যে, জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি “অনন্য অবস্থানে” রয়েছেন। এই এজেন্সিগুলির মধ্যে রয়েছে  ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিন্সট্রেশন, দ্য সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এবং দ্য ন্যাশনাল ইন্সটিটিউটস ফর হেলথ।    

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7973889.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7973889.html</guid>            
            <pubDate>Fri, 14 Feb 2025 00:32:08 +0600</pubDate>
            <category>যুক্তরাষ্ট্র</category><category>খবর</category><category>বিশ্ব</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (এপি)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/cb70a660-a45d-4bd0-8230-4f58f83f43b8_cx0_cy2_cw0_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের দু&apos;জন গবেষক </title>
            <description>যুক্তরাষ্ট্রের ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রুভকুন ‘মাইক্রোআরএনএ’ আবিষ্কারের জন্য এ বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। মাইক্রোআরএনএ হলো জেনেটিক উপাদানগুলোর ক্ষুদ্র টুকরো যা সেলুলার স্তরে জিনগুলো কীভাবে কাজ করে তা পরিবর্তন করে এবং ক্যান্সারের চিকিৎসার নতুন উপায়ে নেতৃত্ব দিতে পারে।


ক্যারোলিনস্কা ইন্সটিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি, যারা পুরস্কার প্রদান করেছে, তারা বলেছে, জীবের বিকাশ ও কার্যকারিতা বোঝার ক্ষেত্রে এই দুজনের আবিষ্কার ‘মৌলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হচ্ছে’।


ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অনকোলজির প্রভাষক ড. ক্লেয়ার ফ্লেচারের মতে, মাইক্রোআরএনএ সেলুলার স্তরে জিনগুলো কীভাবে কাজ করে তা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে ক্যান্সারের মতো রোগের চিকিৎসার জন্য বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি উন্মুক্ত করেছে।


ফ্লেচার বলেন, মাইক্রোআরএনএ কোষকে নতুন প্রোটিন তৈরি করতে বলার জন্য জেনেটিক নির্দেশনা সরবরাহ করে এবং দুটি প্রধান ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে মাইক্রোআরএনএ সহায়ক হতে পারেঃ রোগের চিকিৎসার জন্য ওষুধ তৈরি এবং বায়োমার্কার হিসেবে কাজ করা।


“মাইক্রোআরএনএ কোষের জিনগুলো কীভাবে কাজ করে তা পরিবর্তন করে,” বলেন ফ্লেচার, যিনি নোবেল পুরস্কারের সাথে যুক্ত নন।


হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা


অ্যামব্রোস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যে গবেষণা সম্পন্ন করেন সেটা পুরস্কার নিশ্চিত করে। তিনি বর্তমানে ম্যাসাচুসেটস মেডিকেল স্কুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক।


নোবেল কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল থমাস পার্লম্যান বলেন, রুভকুনের গবেষণাটি ম্যাসাচুয়েটস জেনারেল হাসপাতাল এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে করা হয়েছিল। তিনি সেখানকার জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক।


পার্লম্যান বলেন, ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে তিনি রুভকুনের সাথে ফোনে কথা বলেন।


পার্লম্যান বলেন, “ফোন ধরতে তার অনেক সময় লেগেছিল, তাকে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছিল। কিন্তু যখন তিনি ঘটনা বুঝতে পারলেন, তখন তাকে বেশ উত্তেজিত এবং খুশি মনে হচ্ছিলো।”


গত বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরি-আমেরিকান কাতালিন কারিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ড্রিউ ওয়েজম্যান। তাদের আবিষ্কার কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল যা মহামারীর বিস্তার কমিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7813156.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7813156.html</guid>            
            <pubDate>Mon, 07 Oct 2024 19:28:15 +0600</pubDate>
            <category>বিশ্ব</category><category>খবর</category><category>যুক্তরাষ্ট্র</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (এপি)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/e5bbf7b6-e12b-487a-822f-3a5505e3dc5b_cx0_cy3_cw0_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>ডেঙ্গু জ্বরে ২৪ ঘণ্টায় &apos;বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্তর&apos; ঘটনা</title>
            <description>ডেঙ্গু জ্বরে শনিবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে ৮ জনের মৃত্যু এবং ১,২২১জন আক্রান্ত হয়েছে বলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে।  


ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার জানাচ্ছে, এটা ছিল এ’বছর এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্তের ঘটনা।  


রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০১ জন, আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫২০ জন রোগী।


আটটি মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে পাঁচটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায়, এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তর, খুলনা বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগে একটি করে।


চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।


বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৯ হাজার ৭৮৬ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ নারী।


(এই রিপোর্টের জন্য কিছু তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়) 

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7803695.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7803695.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 29 Sep 2024 22:22:10 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>খবর</category><category>দক্ষিণ-এশিয়া</category><category>বিশ্ব</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/7bdfcad9-556d-4581-91e1-34845ea37981_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>ফ্লু, কোভিড-১৯-এর প্রকোপ বৃদ্ধি, মাস্ক বাধ্যতামূলক করলো যুক্তরাষ্ট্রের অনেক হাসপাতাল 

</title>
            <description>ক্রিসমাসের ছুটির পর ফ্লু, কোভিড-১৯ ও অন্যান্য রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্টের অনেক হাসপাতাল মাস্ক বাধ্যতামূলক করছে এবং লোকজনের আনাগোনায় সীমারেখা টানছে। ভাইরাসজনিত এইসব রোগের মোকাবেলা করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। 


অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, সাম্প্রতিককালের অন্যান্য শীতের মতো এত ভয়াবহ হয়ে উঠবে না এই মরসুম, তবে তারপরও হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালের ভর্তি হতে পারে এবং গোটা দেশে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। 


নিউইয়র্ক সিটি গত সপ্তাহে এই শহরের ১১টি সরকারি হাসপাতালে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। লস এঞ্জেলিস ও ম্যাসাচুসেটসেও গত সপ্তাহে একই ধরনের পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিছু হাসপাতালে। 


কয়েক সপ্তাহ ধরে ফ্লু ও কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রিসমাসের আগে ৩১টি প্রদেশে উচ্চমাত্রার ফ্লুয়ের মতো অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার দেশের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশের কথা রয়েছে, তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আগাম জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে অনেক প্রদেশে সংক্রমণ বাড়বে। 


সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের অধিকর্তা ড. ম্যান্ডি কোহেন বলেন, “জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আমরা যা দেখছি তা সত্যিই রোগ  বৃদ্ধি ঘটছে , বিশেষ করে ফ্লু রোগের ক্ষেত্রে।” 


কোহেন আরও বলেন, কিছু ভাল খবর রয়েছে। ফ্লু ও কোভিড-১৯ রোগ এই মাসের মধ্যে বাড়তে পারে, তবে তারপর তা নিম্নগামী হবে। 


&quot;ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম স্কাফনার বলেন, “আমার মনে হয় না পরিস্থিতি খুব বাড়াবাড়ি হবে।” 


কোহেন সবাইকে টিকা নিতে অনুরোধ করেছেন এবং ফ্লু ও কোভিড-১৯-এর জন্য চিকিৎসা নিতে বলেছেন। 


কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়ার  হার এই বছর কম। সিডিসির টিকা সমীক্ষার সর্বসাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪৪ শতাংশ ফ্লু-র টিকা নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১৯ শতাংশ মতো ডিসেম্বরের প্রথম দিকে আপডেটকৃত কোভিড-১৯ টিকা নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 


স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, করোনার নতুন উপরূপ জেএন.১ সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে বা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণ করতে পারে, তবে বর্তমানে থাকা অন্যান্য উপরূপের চেয়ে এটি আরও গুরুতর রোগ তৈরি করতে পারে, এমন প্রমাণ নেই। 


.সিডিসি আরও জানিয়েছে, আরেকটি মরসুমি ভাইরাস যা রেসপিরেটরি সিনসাইটিকাল ভাইরাস বা আরএসভি নামে পরিচিত তার বিরুদ্ধে টিকাকরণের হার হতাশাজনক। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হালকা জ্বরের উপসর্গ দেখা যায়, তবে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। 

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7427053.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7427053.html</guid>            
            <pubDate>Fri, 05 Jan 2024 03:23:30 +0600</pubDate>
            <category>বিশ্ব</category><category>খবর</category><category>যুক্তরাষ্ট্র</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (এপি)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-aa78-08dc0cdb8c09_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>ইউক্রেনঃ রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রবল চাপের মুখে </title>
            <description>ইউক্রেন যখন যুদ্ধের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মত শীতকালের দ্বারপ্রান্তে, তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়বে। লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিক সামনের দীর্ঘ, তীব্র শীতে নিজেদের নিরাপদ ও উষ্ণ রাখার চেষ্টা করছে।


ইউক্রেনের ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ইয়ার্নো হাবিট বলেন, “ইউক্রেনে রুশ ফেডারেশনের আগ্রাসনের পর থেকে… আমরা জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব এবং রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে দেখছি।”


“তাই যুদ্ধ আজ শেষ হলেও ইউক্রেন জুড়ে লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়বে&apos;&apos;, তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ভুগছে বেশি ‘’এবং চলমান যুদ্ধের মধ্যে শীতের কারণে কষ্ট পাচ্ছে।”


রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে, ১,৪০০’র বেশি হামলা স্বাস্থ্যসেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে। এর ফলে অনেক বেসামরিক মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে।


তিনি বলেন, ৫৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মীকে মানসিক স্বাস্থ্যের চাহিদা নিয়ে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্য কর্মীর দল উপস্থিত রয়েছে।


তিনি বলেন, “পূর্ণ মাত্রার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা দেখেছি, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সেই সাথে টিকাদানের ওপর কী ধরনের প্রভাব যুদ্ধ ফেলেছে।‘’


ডব্লিউএইচও-র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেন টিকাদানে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে টিকাদানের হার খুবই কম। সামনের দীর্ঘ শীতে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সাথে সাথে কার্ডিওভাসকুলার রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং শ্বাসকষ্টসহ অসংক্রামক রোগ থেকে উদ্ভূত সমস্যাগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।


ডব্লিউএইচও অনুমান করছে, ২০২৪ সালে ৭৩ লাখ মানুষের ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন হবে। হাবিট  বলেন, ডব্লিউএইচও এবং তার অংশীদারদের লক্ষ্য হলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ৩৮ লাখ মানুষকে নিয়ে কাজ করা।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7407209.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7407209.html</guid>            
            <pubDate>Thu, 21 Dec 2023 22:09:10 +0600</pubDate>
            <category>বিশ্ব</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (লিসা স্লাইন)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-8da9-08dc01aad7e9_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে এইডস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার করলেন বাইডেন</title>
            <description>শুক্রবার সারা বিশ্বে ৩৫ তম বার্ষিক এইডস দিবস পালন করা হয়েছে। এই দিনটিতে ১৯৮১ সালে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে এই রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস এইচআইভি সংক্রমণে সারা বিশ্বে নিহত ৪ কোটি ৪ লাখ মানুষকে স্মরণ করা হয়।


সারা বিশ্বে ৩ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে বেঁচে আছেন, যার মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।


শুক্রবার এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র “এইচআইভি-সংক্রমণকে পুরোপুরি নির্মূল করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে”। বাইডেন অঙ্গীকার করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া এই ভাইরাস বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের প্রতি আর কোনো ঝুঁকির সৃষ্টি করবে না। 


বাইডেন জানান, তিনি এইডস সহায়তার জন্য  প্রেসিডেন্টের দপ্তরের জরুনি পরিকল্পনা বা পেপফারের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।   


হোয়াইট হাউস বলছে, প্রায় দুই দশক আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে শুরু করা দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ পেপফার এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি দেশে ২ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা ও পরীক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের মাঝে এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকিয়েছে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7381845.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7381845.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 03 Dec 2023 03:35:58 +0600</pubDate>
            <category>বিশ্ব</category><category>খবর</category><category>যুক্তরাষ্ট্র</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (ভয়েস অফ আমেরিকা)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0a00-0242-30c7-08dbf29daae9_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>&quot;আমার কাছে স্তন ক্যান্সার মৃত্যুর অপর নাম নয়&quot;</title>
            <description>ক্যান্সার মানেই মৃত্যু, এমন ধারণাই বেশিরভাগ মানুষের। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ এন্ড ক্যান্সার-এর তথ্য বলছে, বিশ্বে সকল ধরণের ক্যান্সারের মধ্যে ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সারেই নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে কোন ধরণের লক্ষণ ছাড়াই এই ক্যান্সার নারীর শরীরের বাসা বাঁধে এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা যায়, স্তন ক্যান্সার হয়েছে এমন অর্ধেক নারীর ক্ষেত্রেই কোন রিস্ক ফ্যাক্টর ছিলোনা, অর্থাৎ একজন নারী যেকোন বয়সে যেকোন সময় স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। ক্যান্সার যদি শরীরে ছড়িয়ে পড়া শুরু করে, সেক্ষেত্রে এটি মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে যদি ক্যান্সার সনাক্ত করা যায়, তবে চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থতার সাফল্যের হার ১০০%। আর তাই ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার পরীক্ষার কোন বিকল্প নেই। প্রতিমাসে একবার স্তন নিজ হাতে পরীক্ষার মাধ্যমেই এই রোগের বিস্তার রুখে দেয়া সম্ভব। সেজন্য প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতার।


কোনপ্রকার রিস্ক ফ্যাক্টর ছাড়াই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন নারীদের একজন সাহারা ইসলাম সিমু। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। ঘরোয়া পরীক্ষায় সন্দেহ হওয়ায় ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর তার জটিল ক্যান্সারের ধরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হন। ক্যান্সার মানেই মৃত্যু, এমন চিন্তা আর ভয় প্রথমে তাকে ঘিরে ধরলেও চার বছরের মেয়েটার দিকে তাকিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর টানা চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় দেড় বছর পার করার পর তিনি জানতে পারেন, তার শরীর ক্যান্সার মুক্ত। এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুখী জীবন যাপন করছেন। সিমু মনে করেন, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইটা শেষ পর্যন্ত করে যাওয়াই তার জীবনের ‘বেস্ট ডিসিশন’ ছিল। স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস উপলক্ষ্যে তার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তিনি শেয়ার করেছেন ভয়েস অফ আমেরিকার সাথে। ভিডিওটি তৈরী করেছেন মারজানা সাফাত।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7333315.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7333315.html</guid>            
            <pubDate>Tue, 31 Oct 2023 01:40:24 +0600</pubDate>
            <category>ভিডিও</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><category>ভিডিও</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (মারজানা সাফাত)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-f38c-08dbd97e492f_tv_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>মেনোপজ মানেই  দুশ্চিন্তা, ভয় আর অবসাদ নয়, মত বিশেষজ্ঞদের</title>
            <description>“তখন আমার বছর ৪৩ এর কাছাকাছি। বেশ কিছুদিন ধরেই খেয়াল করছিলাম অফিসে মাঝে মাঝেই অসম্ভব গরম লাগছে। কান মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। ঘাড়ে মুখে চোখে জল দিয়ে এলে সাময়িক আরাম হলেও সেই অস্বস্তি যেন কাটছে না। দৈনন্দিন কাজকর্ম, সন্তানদের যত্ন, কর্তব্যের খাতিরে করতাম ঠিকই কিন্তু সবসময়ে মন চাইত না। খাওয়ার ক্ষেত্রে অরুচি লাগছিলো। ঘর অন্ধকার করে চুপচাপ শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করতো। আমার স্বামী আগেই গত হয়েছেন। ফলত, প্রাথমিক ভাবে ঘরের কাজ, অফিসের কাজ সবমিলিয়ে হয়ত এই অস্বস্তি ,অবসাদ লাগছে বলে মনে করি। একদিন আমার কন্যার জন্যই শিশু চিকিৎসকের কাছে যাই এবং খুব সাধারণভাবেই শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতার কথা প্রকাশ করি। তখন তিনিই প্রথম আমাকে সতর্ক করেন যে আমার মেনোপজের সময় মনে হচ্ছে এগিয়ে আসছে। প্রয়োজনে আমি যেন কোন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিই। সৌভাগ্যক্রমে আমার পরিবারের এক সদস্যা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তার কাছে গোটা বিষয়টা জানানোর পর তিনি নিশ্চিত করলেন” – প্রায় দুই দশক আগের অভিজ্ঞতা ভয়েস অফ আমেরিকা-কে শোনালেন ষাটোর্ধ  তপতী ঘোষ।


আবার কাকলী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান – “বছর দুয়েক আগে থেকে হঠাৎ করে দেখি রক্তচাপের মাত্রা বাড়ছে কমছে, চোখ মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। কাজ করতে ইচ্ছে করছে না, কারুর সঙ্গে কথা বলতেও ইচ্ছে করছে না। ঘুমের ওষুধ আমাকে খেতেই হতো বেশ কয়েক বছর ধরেই ডাক্তারের পরামর্শে কিন্তু ঐ সময়ে যেন সেটাও কাজ করত না। আবার ছেলে তার পছন্দ মতো কোন খাবার হয়ত রাতে খেতে চাইছে আর তাতেই হয়ত মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে। করতে ইচ্ছে করছে না। প্রথমে বুঝতে পারিনি কেন এটা হচ্ছে। পরে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং জানতে পারি মেনোপজের সময় এসে গেছে।&quot;


মেনোপজ সম্পর্কে ধারণার সময়ের সঙ্গে যথার্থ বিকাশ হয়েছে কিনা, অনেক মহিলা ভাবেন &apos;ঝামেলা থেকে মুক্তি&apos; আবার আরেক দল মহিলা ভাবতে হয়ত তাদের এবার বুড়িয়ে যাওয়ার পালা শুরু - তাহলে কোন ভাবনাটি আদতে ঠিক আর কোনটি নয় নাকি দুটোই ভুল – এই যাবতীয় দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে এবং নারী, পুরুষ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ১৮ অক্টোবর ‘বিশ্ব মেনোপজ দিবস’ উপলক্ষে ভয়েস অফ আমেরিকা কথা বলেছে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে।  


মেনোপজ কী


মহিলাদের মাসিক চক্রের পরিবর্তনকে মেনোপজাল ট্রানজিশন বলা হয়। সাধারণত একজন মহিলার শেষ মাসিকের ১২ মাস পর যদি তার আর মাসিক না হয় তাহলে তাকে  মেনোপজ বলা হয়।


পরিসংখ্যানগত ভাবে ভারতীয় মহিলাদের মেনোপজের গড় বয়স ৪৬.৫ বছর। আর রেঞ্জ হল ৪৪-৫০ বছর। তবে এই সময়সীমার সামান্য আগে বা পরে হলেও কোন ক্ষতি নেই। তবে, ৪০ বছরের নীচে বন্ধ হলে প্রি মেনোপজ আর ৫২ বছরের পরেও বেশ কিছুদিন চললে তাকে ডাক্তারি পরিভাষায় ডিলেইড মেনোপজ বলা হয় বলে  জানিয়েছেন বর্ষীয়ান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।


তিনি জানান “মেনোপজকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা মিথ তৈরি হয়েছে। আমাদের মনে রাখা জরুরি যে, এটি কোনো অসুখ নয়। এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। ঠিক যেমন প্রেগনেন্সি। প্রেগনেন্সির সময়ে যেমন আমাদের যত্ন পরিচর্যার প্রয়োজন, মেনোপজও ঠিক তাই। শরীরের কোনও রোগ নয়, তাই আলাদা করে চিকিৎসা দরকার নেই। নিয়মিত একটা অভ্যাসের হঠাৎ বন্ধ হওয়া ছাড়া আর কোন শারীরিক পরিবর্তন হয় না এইসময়ে। তাই অযথা দুশ্চিন্তা বা ভয়ের কোন কারণ নেই।”


এই সময়পর্বের উপসর্গসমূহ


অল্প সময়ের মধ্যে বা হঠাৎ করে মেনোপজ হওয়া সম্ভব নয়। কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। এই প্রসঙ্গে শুভব্রতা বসু তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ভয়েস অফ আমেরিকা-র সঙ্গে – “এক এক সময়ে মনে হতো কান ও মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে যেন আগুনের হল্কা বেরোচ্ছে, অবসাদও গ্রাস করছে, মুড সুইং হচ্ছে সঙ্গে টেনশনের মাত্রাও অযথা বেড়ে যাচ্ছে। সেই সময়ে কী করব ভেবে না পেরে তাই খানিক বাধ্য হয়েই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করি”।


বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন কোনও শারীরিক পরিবর্তন না হলেও বেশ কিছু উপসর্গ মহিলাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়; যেমন –


১) হট ফ্লাশ


২) নাইট সোয়েট


৩) রাতে ঘুম ভাঙার পর আবার ঘুম আসতে দেরি হওয়া বা অনিদ্রা


৪)  মন-মেজাজের ঘনঘন পরিবর্তন


৫) জননাঙ্গে শুষ্ক ভাব


৬) একাকীত্বের ভাব


৭) ডিপ্রেশন বা অবসাদ


এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভয়েস অফ আমেরিকা কথা বলেছে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ চান্দ্রেয়ী ভট্টাচার্য-র সঙ্গে। তিনি বলেন, মেনোপজের হয়ত মাস ছয়েক আগে থেকেই হট ফ্লাশ অর্থাৎ হঠাৎ করে নারীর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে গরম হল্কা বের হওয়ার অনুভূতি দেখা দিতে পারে। হট ফ্লাশ-এর স্থায়িত্ব মেনোপজের পরে ছয় মাস থেকে দুই বছর ধরেও চলতে পারে।


নাইট সোয়েট বা রাতে ঘুম ভেঙে সারা শরীর ভিজে জবজবে হয়েছে, এমনও দেখা যেতে পারে আবার প্রচণ্ড মুড সুইং হয়, মাথাধরা, ভুলে যাওয়া বা মনোযোগের অভাব, ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাও হয়ে থাকে। অনেক মহিলাদের এই সময়ে ইউরিনের মাত্রাও বেড়ে যায় এমনও দেখা যায়। সেই সঙ্গে এই পর্যায়ে মহিলাদের জননাঙ্গে শুষ্ক ভাব দেখা যায়, ফলে, শারীরিক সম্পর্কে অনীহা দেখা দিতে পারে। এই বিষয়গুলি মূলত ইস্ট্রোজেনের অভাবজনিত কারণেই হয়ে থাকে। তবে এসবের কোনোটিই দীর্ঘস্থায়ী হয় না বলে জানিয়েছেন ডঃ ভট্টাচার্য। কিন্তু কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে সমস্যা গুরুতর হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। 


“শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও এই পর্যায়ে মহিলাদের গ্রাস করে। তারা একাকীত্বে ভুগতে থাকেন যাকে এম্পটিনেস সিনড্রোম বলা হয়। এটি হয় সাধারণত, একদিকে সন্তানদের বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছনো যেখানে তারা নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চেষ্টা করছে অন্যদিকে পার্টনারের চূড়ান্ত কর্মব্যস্ততা- ফলত এই হঠাৎ করেই কাজের ক্ষেত্রে একটা শূন্যতা তৈরি হচ্ছে যা মহিলাদের ডিপ্রেশনে নিয়ে যায়। আবার এর থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় হীনমন্যতা, যা একপ্রকার সমাজ নিয়ন্ত্রিতও বটে। আমার সৌন্দর্য কমে যাবে – আমার আর যৌন সক্ষমতা থাকবে না ফলে আমার পার্টনার আমাকে হয়ত আর পচ্ছন্দ করবে না বা আমার শরীরে এবার হাজার রোগ বাসা বাঁধবে অর্থাৎ লোকে কী মনে করবে – এইসব নানা নেতিবাচক চিন্তা মহিলাদের মানসিক অস্থিরতায় ফেলে” – জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার পাভলভ হাসপাতালের মনোবিদ গীতশ্রী সাহা।


মেনোপজের সময় নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে জীবনধারা কেমন হবে


ডঃ চান্দ্রেয়ী ভট্টাচার্যের কথায় - “পোস্ট মেনোপজাল পিরিয়ডে মহিলাদের কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ, অস্টিওপোরোসিস ও ক্যান্সারের ( বিশেষ করে সারভাইকাল ক্যান্সর ও ব্রেস্ট ক্যান্সর) সম্ভবনা বৃদ্ধি পায় তাই এই বিষয়ে বিশেষ সচেতনতা ও যত্নের প্রয়োজন। মহিলাদের নিয়ম করে মাসে একবার অন্তত ব্রেস্ট পরীক্ষা করা দরকার। এর জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, সঠিক পদ্ধতি জেনে নিয়ে বাড়িতেই করা যেতে পারে। তবে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।&quot;


পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা আমরি হসপিটাল (ঢাকুরিয়া)-র মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল মহিলাদের শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পরামর্শ দেন –


১) নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীর চর্চা, যাপিত জীবনে পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, যোগাসন, মেডিটেশন মন প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে।


২) অনেকের ক্ষেত্রে এই সময় ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে যার ফলে এই ৫-৭ বছরের মধ্যেই হাইপার টেনশন, ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই যথাসম্ভব হাই কার্বোহাইড্রেট, হাই ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।


৩) ধূমপান, মদ্যপান বর্জন করাই বাঞ্ছনীয় কারণ এতে ডিপ্রেশন, মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।


৪) যাদের রাতে ঘুমের সমস্যা আছে তারা এই সময়ে রাতে খুব মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না, এতে অনিদ্রার সম্ভবনা আরও বেড়ে যায়।


৫) যারা দীর্ঘদিন হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন বা বলা ভালো অস্টিওপোরোসিসের শিকার তারা হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন – দুগ্ধজাত দ্রব্য, দই, মাছ ইত্যাদি খেতে পারেন। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি-র অভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে। তবে সবক্ষেত্রেই অবস্থা গুরুতর হলে অবশ্যই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।


মনোবিদ গীতশ্রী সাহা মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা বিষয়ে বললেন –


১) ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে বয়ঃসন্ধিতে স্বাভাবিক নিয়মে যা শুরু হয়েছে মধ্যবয়সে এসে তা বন্ধ হবেই। এই সহজ বিষয়টিকে প্রথম থেকেই আমাদের স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করে মাথায় ঢুকিয়ে নিতে হবে।


২) মনে রাখতে হবে, এটা আমার আপনার একার নয় বিশ্বের সব মেয়েদের আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। সুতরাং প্রতিটি মহিলাকেই এই পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যেতেই হবে। তাই আলাদা দুশ্চিন্তা বা ভয়ের কোন কারণই নেই। জীবনের প্রত্যেক পর্যায়েরই নিজস্ব বয়সোচিত সৌন্দর্য থাকে তাকে লালন করুন, প্রকাশ করুন।


৩)  নিজেকে ভালবাসা নিজের যত্ন নেওয়া ভীষণ জরুরি। সেক্ষেত্রে চাইলে আপনি সৃজনশীল কিছু কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। নতুন কিছু শিখতেও পারেন। এতে নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকবেন ও মন ভালো থাকবে।


৪) মন খুলে কথা বলতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে। হীনমন্যতায় না ভুগে বা লজ্জা না পেয়ে পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য এবং সর্বোপরি পার্টনারের সচেতনতা, সহযোগিতা ভীষণ কাম্য।


  
</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7315004.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7315004.html</guid>            
            <pubDate>Wed, 18 Oct 2023 03:47:19 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><category>ভারত</category><category>দক্ষিণ-এশিয়া</category><author> voadigital@voanews.com (সৃজনী দাশমুন্সী)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-b502-08dbcf5a5f2f_cx0_cy10_cw0_w800_h450.jpeg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>বিশ্ব দৃষ্টি দিবস: অন্ধত্ব থেকে রক্ষা পেতে চোখের যত্নে সতর্ক হতে হবে</title>
            <description>মানবদেহের সংবেদনশীল অঙ্গগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয় আমাদের চোখ। অথচ চোখের যত্নের ব্যাপারে আমরা সবচেয়ে বেশি উদাসীন। আজকের আধুনিক বিশ্বে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন টাইম, ধুলোবালি, দূষণ ইত্যাদির কারণে আমাদের চোখের সুস্থতা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। চোখের সমস্যাগুলোর অবহেলার পরিণতি হতে পারে চিরদিনের মতো অন্ধত্বকে বরণ করে নেয়া।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা &apos;ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অফ ব্লাইন্ডনেস&apos; (IAPB) যৌথভাবে জানাচ্ছে, সারা বিশ্বে আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন মানুষ দৃষ্টিশক্তিহীন এবং ১৩৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষীণ দৃষ্টিসম্পন্ন। সচেতনতা এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ক্ষতি প্রতিরোধ বা নিরাময় করা যেতে পারে।


বৈশ্বিক পর্যায়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা এবং অন্ধত্বের প্রধান কারণ হল প্রতিসরণ ত্রুটি (refractive error) এবং ছানি। প্রতিসরণ ত্রুটি অর্থাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, কাছের বস্তু কিংবা দূরের বস্তু কম দেখা অর্থাৎ সাধারণ ভাষায় যে সমস্যাগুলিকে চোখের পাওয়ারের সমস্যা বলা হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরো বলছে, সময়মত সনাক্তকরণের অভাবে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গেলে কিংবা হারিয়ে গেলে তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব জনজীবনে এবং অর্থনীতিতে পড়তে পারে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা সব বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করে যার মধ্যে শিশু থেকে পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তি রয়েছেন। বাংলাদেশের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক কোটি ৪৩ লাখ লোক দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে। বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধতার প্রধান কারণ ছানি।


বিশ্ব দৃষ্টি দিবস


প্ৰতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অন্ধত্ব এবং চোখের বিকলতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে গোটা বিশ্বজুড়ে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ পালন করা হয়। ২০০০ সালে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক অনুষ্ঠিত সাইট—ফার্স্ট—ক্যাম্পেইনের ফলশ্রুতিতে এই দিবসের শুরু হয়।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় এবং  ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অফ ব্লাইন্ডনেস (IAPB)-এর পরিচালনায় এই দিবসটি বহুল ভাবে প্রচারিত হয়ে আসছে। এবারে ১২ অক্টোবর, ২০২৩—এ বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের মূল থিম, “Love your eyes at work” অর্থাৎ দিবসটি কর্মক্ষেত্রে চোখের স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা প্রচার করছে।


কর্মক্ষেত্রে চোখের সমস্যা ও সতর্কতা


বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে চোখের কী ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন সে বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভয়েস অফ আমেরিকা-কে জানালেন শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং কনসালটেন্ট অপথালমোলজিস্ট ডা. সারওয়াত সালেক। তিনি বলেন, &quot;আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এখন স্ক্রিন যোগ হয়েছে। ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ট্যাব, কম্পিউটার এগুলোর দিকে তাকিয়ে আমাদের দিনের বেশিরভাগ সময় চলে যাচ্ছে।  যারা অফিসে কম্পিউটারে কাজ করেন এবং পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজে স্ক্রিন বেশি ব্যবহার করেন তাদের চোখের ড্রাইনেসের সমস্যা হয়। আমরা এটাকে  ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’ বলি। আমাদের চোখের ব্লিঙ্কিং-এর একটা রেট আছে, কিন্তু যখনই আমরা স্ক্রিনে থাকি বা স্ক্রিন ছাড়াও যখন কোনও কাজ মনোযোগ দিয়ে করি তখন ব্লিঙ্কিং রেট কমে যায়। তখন আমাদের চোখের যে পানি লেয়ার থাকে সেটার প্রপার ডিস্ট্রিবিউশন হয় না।    


সেক্ষেত্রে আমরা পরামর্শ দেই,  চোখটা কিছুক্ষণ পরপর বন্ধ করতে। টানা স্ক্রীন ইউজ করতে মানা করি।  বারবার চোখের পলক ফেলতে হবে।  কিছু  আর্টিফিশিয়াল টিয়ার পাওয়া যায় সেরকম আর্টিফিশিয়াল টিয়ার তারা ব্যবহার করতে পারেন। আমরা বলি কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রতি বিশ মিনিট অন্তর  চোখ বন্ধ করে রাখতে হবে অথবা দূরে যদি তাকানোর  কিছু সুযোগ থাকে যেমন চোখের সামনে বারান্দা, আকাশ, সবুজ গাছপালা ইত্যাদির দিকে তাকাতে হবে।  মোট কথা চোখকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিতে হবে।


ফ্যাক্টরি ওয়ার্কশপ ইন্ডাস্ট্রি এগুলোতে যারা কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে  আমাদের দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী কিছু নিয়মনীতি আছে যেগুলো ফলো করা হয় না। কিছু  ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজ আছে, যেগুলোতে চোখে কোনো অবজেক্ট এসে পড়ার কিংবা আঘাত লাগার সম্ভবনা আছে। আমরা এগুলোকে ‘ফরেন বডি’ বলি।  সে ক্ষেত্রে প্রোটেকটিভ গ্লাস অথবা শিল্ড ব্যবহার করতে হবে। যেমন, রাস্তার ধারে ওয়ার্কশপে যারা কাজ করেন, লেদ মেশিনে যারা কাজ করেন, এ ধরণের কারখানায় একটা কিছুতে বাড়ি দিলো কোন একটা মেটেরিয়াল সেখান থেকে চোখে যাওয়া, সেটা ইঁটের গুড়া হতে পারে, লোহার কণাও হতে পারে।  এ ধরনের জিনিস ছুটে এসে চোখে খুব জোরে আঘাত লাগে এবং ফ্রিকোয়েন্টলি এ ধরনের পেশেন্ট আমরা আউটডোরে পাই। তাই যারা এ ধরণের কাজ করেন তারা অবশ্যই যেন প্রটেকশন নিয়ে কাজ করেন। কারখানাগুলোতে প্রটেক্টিভ গ্লাস অথবা শিল্ড অবশ্যই অ্যাভেইলেবল থাকতে হবে।”


ডা. সারওয়াত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোর কাজের পরিবেশ সম্পর্কে বলেন, “আমি নিজে গিয়ে দেখেছি, গার্মেন্টস এবং  নিটিং ফ্যাক্টরিতে যারা কাজ করেন তাদের চোখের ভেতরে চুল, চোখের পাতা এবং উলের আঁশ চলে যায়।  এগুলো দু ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। একটা হচ্ছে শ্বাসনালীতে গিয়ে শ্বসনতন্ত্রে সমস্যা তৈরি করে, তার পাশাপাশি চোখেরও সমস্যা হয়। এই আঁশ থেকে এলার্জি সমস্যা হবে, চোখে চুলকানি হবে, চোখে ঝাপসা দেখবে। এ ধরনের কাজ যারা করেন তাদেরও চোখের প্রটেকশন নিয়ে কাজ করা উচিত।” ডা. সারওয়াত আরো বলেন,  “এছাড়া যারা গার্মেন্টসে সুতা কাটার কাজ করে তাদের হাতে এক ধরনের চোখা বস্তু থাকে, নিডল থাকে এটা খুবই  রিস্কি। এটা  থেকে চোখে ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  এই জিনিসগুলা এতটাই শার্প এবং হঠাৎ করে এত জোরেই চোখে যায়  যে  অনেক ক্ষেত্রে  চোখকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যায়। পার্মানেন্টলি একটা চোখ চলে যেতে পারে। গার্মেন্টেসে  যারা কাপড় কাটেন তাদের  কাপড়ের আঁশগুলো উড়ে, উলের ফ্যাক্টরিতেও তাই হয় এবং টেক্সটাইলগুলোতেও তাই হয়। এটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হ্যাজার্ড-এর মধ্যেই পড়ে। এটা  ফুসফুস এবং চোখ উভয়েরই সমস্যা তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে মাস্ক পড়া এবং চোখের প্রটেকশন নেয়াটা খুব জরুরী।&quot;


শিশুদের চোখের সমস্যা ও যত্ন


ডা. সারওয়াত বাড়ির বাইরে অর্থাৎ স্কুলে শিশুরা চোখের কী ধরণের দুর্ঘটনায় পড়তে পারে সে সম্পর্কে বলেন,   “শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে যতক্ষণ থাকবে খুব ইম্পর্ট্যান্ট হচ্ছে ট্রমার শিকার হচ্ছে কি না। স্কুলে শিশুদের হাতে পেন্সিল, কলম, ধারালো স্কেল এ জাতীয় জিনিস হাতে থাকে। অনেকসময় দুষ্টুমি করে একজন আরেকজনকে এসব বন্তু দিয়ে আঘাত করে ফেলে। এটার ব্যাপারে সবাইকে কেয়ারফুল থাকতে হবে এবং এ ধরনের কিছু হলে সাথে সাথে কোনো চক্ষু হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যেতে হবে। এ ধরণের পেশেন্ট আমরা বেশি পেয়ে থাকি। “ তিনি জানালেন,  মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আবার আরেক ধরনের সমস্যা দেখা যায়।  মাদ্রাসার বাচ্চাদের শাস্তিস্বরূপ অনেকসময় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। ডা. সারওয়াত বললেন, অনেক সময় এক্সিডেন্টালি চোখে লেগে যায়। এ থেকেও শিশু চোখে মারাত্মক আঘাত পেতে পারে।


চক্ষু হাসপাতালে আর কী ধরণের সমস্যা নিয়ে শিশুরা আসে সে প্রশ্নে উত্তরে ডা. সারওয়াত জানালেন,  


“এখন যেহেতু আমাদের স্ক্রিন টাইম খুব বেশি তাই ড্রাইনেস রিলেটেড রোগী আমরা হাসপাতালে বেশি পাই।  এছাড়া  এমনকি একই কারণে আমরা বেশিরভাগ শিশুদের চোখের পাওয়ারের সমস্যা পাচ্ছি।  শিশুদের চোখের পাওয়ারের সমস্যা বাড়ছে। এটা খুব বেশি হচ্ছে শিশুদের অতিরিক্ত পরিমাণ ডিভাইস নির্ভর করার ফলে। এমনকি দেড় বছর বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও আমরা এই  দৃষ্টি ক্ষীনতার সমস্যা লক্ষ্য করছি।  তার একটাই কারণ হচ্ছে অনেক বেশি সময় তারা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সময় কাটাচ্ছে।  এছাড়াও চোখের ড্রাইনেসের সমস্যা হচ্ছে।  চোখ চুলকাচ্ছে, চোখের  শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, এলার্জির সমস্যা হচ্ছে এবং চোখে কম দেখছে।”


চোখের সাধারণ যত্ন


দৈনন্দিন জীবনে চোখের সাধারণ কিছু যত্ন চোখকে ভালো রাখে। যেমন :


· রোদের হাত থেকে চোখকে রক্ষা করার জন্য যারা চশমা পরেন তারা ইউভি প্রোটেকটিভ লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। যারা চশমা পরেন না তারা ভালো সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন। 


· স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সতর্ক হোন। প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।   


· চোখের কোনো সমস্যা না থাকলে বছরে একবার নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান।


· ক্রনিক ডিজিজের  পেশেন্ট  যেমন  হাই ব্লাড প্রেশারের রোগী, ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে চোখে যদি সমস্যা না থাকে তাহলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর পর  চেক আপ করানো উচিত।  আর যদি সমস্যা হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চেক আপে থাকতে হবে। 

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7307799.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7307799.html</guid>            
            <pubDate>Fri, 13 Oct 2023 02:36:43 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><author> voadigital@voanews.com (আফরিন শাহনাজ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-c0a8-0242-573e-08dbcb62c423_w800_h450.jpeg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>১০ টাকায় মনের চিকিৎসা</title>
            <description>মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসাকেন্দ্র বলতে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ শুধু পাবনা মানসিক হাসপাতালকে বুঝলেও রাজধানী ঢাকা শহরের শেরে বাংলা নগরে প্রায় ২২ বছর ধরে ‘উন্নত চিকিৎসা’ দিয়ে যাচ্ছে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। মাত্র ১০ টাকায় এখান থেকে চিকিৎসা নিতে পারেন দেশের যেকোনো অঞ্চলের মানুষ।


হাসপাতালটির চিকিৎসকেরা ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, এখানকার চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেকেই আসেন না। বর্তমান সক্ষমতায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হলেও চিকিৎসা নিতে আসেন ৪৫০ থেকে ৫০০ জন। তবে হাসপাতালটিতে ভর্তিযোগ্য রোগীর সংখ্যা প্রায়ই বেশি থাকে।


কীভাবে ভর্তি হতে হয়, কত টাকা খরচ হয়,কতদিন থাকা যায়-এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সম্প্রতি হাসপাতালটি ঘুরে দেখেছেন এই প্রতিবেদক। চিকিৎসাপ্রত্যাশী রোগীদের পাশাপাশি কথা বলেছেন বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকের সঙ্গে।


শুরুতে বহির্বিভাগ


হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে হলে কাউন্টার থেকে প্রথমে ১০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে বহির্বিভাগে লাইনে দাঁড়াতে হয়। অবস্থা গুরুতর না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে রোগীকে ছেড়ে দেন। তবে ফলোআপে আসতে বলা হয়। পাশাপাশি স্বজনকে বলে দেওয়া হয়, পারিবারিক পরিবেশে রোগীকে যত্নে রাখতে। কারো কাছে আবার ১০ টাকা না থাকলে আছে বিকল্প উপায়।


‘‘১০ টাকাও না থাকলে এখানে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে টিকিট কাটার ব্যবস্থা করা হয়,’’ জানিয়ে হাসপাতালটির অভ্যর্থনাকক্ষ থেকে ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলা হয়, ‘‘এখানে আসা কোনো রোগীই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন না। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসা মানুষ চিকিৎসা নিতে পারেন। শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিন বাদে সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বহির্বিভাগে সেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে।’’


চিকিৎসা প্রক্রিয়া


বহির্বিভাগে ৯ জন কনসালট্যান্ট বিভিন্ন কক্ষে প্রথমে রোগীদের দেখেন। যাদের ‘গৃহপরিবেশে’ রেখে চিকিৎসা করানো সম্ভব, তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়। নির্দিষ্ট দিন পর এই রোগীরা ফলোআপ চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া যারা গুরুতর মানসিক সমস্যা নিয়ে আসেন অর্থাৎ যাদের বাড়ির পরিবেশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না, তাদের ১০১ নম্বর রুমে আবাসিক সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে রেফার করা হয়।


রেফারড রোগীদের জন্য প্রতিদিন একটি বোর্ড বসে।এই বোর্ডে একজন আবাসিক সাইকিয়াট্রিস্ট, একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং একজন সাইকিয়াট্রিস্ট সোশ্যাল ওয়ার্কার রোগীদের ভর্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। মাঝে মাঝে শয্যার তুলনায় ভর্তিযোগ্য রোগীর সংখ্যা বেশি থাকে। তখন রোগীদের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়।


জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ওবজারভেশন ওয়ার্ড আছে। সেখানে ১২টি বেড।


হাসপাতালটির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আট তলা ভবনটিতে একসাথে চার শতাধিক রোগী ভর্তি হতে পারেন। আগে ২০০ রোগী ভর্তি হতে পারত।


ভর্তিতে খরচ


বেডগুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশ নন-পেয়িং। ৩০ শতাংশ পেয়িং বেড। যেসব রোগী নন-পেয়িং বেডে ভর্তি হন, তাদের ১০ টাকার পাশাপাশি মাত্র ১৫ টাকার ভর্তি ফি দরকার হয়।


এবিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালটির সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘‘যতদিন ভর্তি থাকবেন, ততদিন বাবদই এই ১৫ টাকা দিতে হবে। অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়। আমার জানামতে ৯০ শতাংশ ওষুধই বিনামূল্যে হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শুধুমাত্র রোগীর জন্য তিনবেলা খাবার দেওয়া হয়।’’


‘‘যেসব রোগী একবারে দরিদ্র, কোনো ওষুধই বাইরে থেকে কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয় থেকে আর্থিক সাহায্য করা হয়।এমনকি যদি কারো যাতায়াত ভাড়াও না থাকে, আমরা দূরত্ব অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত সাহায্য করি। প্রতিদিন তিন থেকে চারজন রোগীকে এই ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়।’’


তিনি জানান, পেয়িং সেকশনে সম্প্রতি কেবিন বাড়ানো হয়েছে। আগে ছিল ১৫টি। বাকিগুলো বেড।পেয়িং বেডে সরকারি খরচ প্রতি দশদিনে ২ হাজার ৭৫০ টাকা। ওষুধ এবং খাবার বিনামূল্যেই পাওয়া যায়। ভর্তির সময় রোগীকে দশদিনের টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয়। কোনো কারণে বেশি সময় থাকতে হলে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাকি টাকা জমা দিতে হয়। রোগীকে আগেভাগে ছেড়ে দেওয়া হলে অবশিষ্ট টাকা অ্যাকাউন্ট সেকশন থেকে ফেরত দেওয়া হয়।


আউটডোর থেকে ইনডোরে ভর্তি হতে আসা রোগীদের জন্য ছয়টি বিভাগ আছে। প্রতিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানেই একজন প্রফেসর অথবা অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর থাকেন। পাশাপাশি  সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, মেডিকেল অফিসার এবং পর্যাপ্ত ট্রেইনি ফিজিশিয়ান রয়েছেন, যারা হাসপাতালটিতে বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এরমধ্যে সরকারি-বেসরকারি ডাক্তার রয়েছেন।


এবিষয়ে জামাল হোসেন বলেন, ‘‘সরকারি ডাক্তাররা তাদের নির্ধারিত পোস্টের সাথে সাথে আমাদের নিয়মিত শিক্ষার্থী। তারাও অ্যাকাডেমিং এবং ক্লিনিক্যাল কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বেসরকারি ডাক্তারদের অনেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে তারা ভর্তি হন। সব বিভাগের সঙ্গে সূচি অনুযায়ী কাজ করেন।’’


যে ধরনের রোগী বেশি দেখা যায়


বহির্বিভাগে লাইনে দাঁড়ানো কমপক্ষে ১০ জন রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাদের চারজন ‘আবেগজনিত মানসিক সমস্যার’ কথা উল্লেখ করেন।


পরে হাসপাতাল সূত্রেও জানা যায়, এই ধরনের রোগীর সংখ্যা সম্প্রতি বেশি দেখা যাচ্ছে। অ্যাডমিশন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভর্তি হওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেয়েছি বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার রোগী। এটি একটি আবেগজনিত মানসিক সমস্যা। দ্বিপ্রান্তিক মানসিক রোগ।’


বাইপোলার অর্থ দুটি পোল বা মেরু। এক মেরুতে বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন। আরেক দিকে অতি উৎফুল্লতা বা ম্যানিয়া। এখানে আবেগের প্রকাশ বেশি। এই রোগীরা স্বাভাবিক পরিবেশ বুঝতে পারেন না। অসম্ভব কল্পনায় ডুবে থাকেন।


রোগটির বিষয়ে জানতে চাইলে জামাল হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের চিকিৎসকেরা খুবই অল্প সময়ে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ধরনের রোগীদের ছুটি দেওয়ার সময় বলে দিতে হয় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। রোগটি যেন বারবার না হয়, সে জন্য ফলোআপ চিকিৎসা নিতে আসতে বলা হয়।’’


তিনি জানান, এর পাশাপাশি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যাও যথেষ্ট। তৃতীয় সর্বোচ্চ রোগী নেশাগ্রস্ত। অর্থাৎ নেশার কারণে যাদের মানসিক সমস্যা হয়েছে। নারীদের মধ্যে বেশি রোগী আসেন কনভারশন ডিসঅর্ডার সমস্যা নিয়ে। জীবনের কোনো স্ট্রেস বা দুর্ঘটনা থেকে এই রোগীদের মানসিক রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। এর পাশাপাশি বেশ কিছু ডিপ্রেশনের রোগীও ভর্তি হন। সন্তান জন্মদানের পর অনেক নারীর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। কমিউনিটি পর্যায়ে যখন তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তখন এখানে ভর্তি করানো হয়।


জামাল হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে প্রাপ্ত বয়স্ক রোগীরাই বেশি ভর্তি হন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৬০। শিশুদের বহির্বিভাগে বেশি চিকিৎসা দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য পারিবারিক পরিবেশই সবচেয়ে ভালো বলে মনে করা হয়।


ওষুধ-ভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি কাউন্সিলিংও করা হয়। বিভিন্ন ধরনের থেরাপিও দেওয়া হয়।


বাড়ি ফিরতে থাকা কমপক্ষে পাঁচজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের তিনজন সর্বোচ্চ একমাস ভর্তি ছিলেন। বাকিরা দুই সপ্তাহ করে। এই রোগীর স্বজনেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক মাসের বেশি সময় রাখা হয় না।


অন্যদিকে বহির্বিভাগে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার রোগী। এরপর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, অফসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, সাবসটেন্স ডিসঅর্ডার। অনেক রোগী আছেন, যাদের মানসিক রোগের সব উপসর্গ থাকে না কিন্তু নিজে সমস্যা অনুভব করেন-এই ধরনের রোগীও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এই রোগীদের অনেক ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি নিতে হয়।


থেরাপির বিষয়ে জামাল হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের এখানে সরকারিভাবে ক্লিনিক্যাল সাইকোথেরাপিস্টের সংখ্যা কম হলেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল এবং গ্রাজুয়েশন লেভেলের প্রচুর প্লেসমেন্ট শিক্ষার্থী আছেন। তারা খুবই দক্ষ। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ জন রোগীকে তারা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।’’


গবেষণা ও জরিপ


হাসপাতালটির চিকিৎসকেরা গবেষণা কাজেও নিয়োজিত। জাতীয় পর্যায়ে প্রায় প্রতি বছর বড় ধরনের জরিপ করা হয়। হাসপাতালটির করা ২০১৯ সালের একটি জরিপ নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। সেই জরিপের বিষয়ে তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, ‘‘দেশের ১৬.৮ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।’’


তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালে যত মানুষ চিকিৎসার প্রত্যাশা নিয়ে আসেন, তাদের ৩০ শতাংশ রোগীরই আন্ডারলাইন কোনো না কোনো মানসিক রোগ আছে।’’


পাবনার সঙ্গে পার্থক্য


পাবনা মানসিক হাসপাতালের সঙ্গে এই হাসপাতালের পার্থক্য জানতে চাইলে জামাল হোসেন বলেন, ‘‘এক কথায় দুটোই মানসিক হাসপাতাল। আমাদের এখানে অ্যাকাডেমিক কোর্স আছে। এফসিপিএস ট্রেইনিং ইন্সটিটিউটে যারা পার্ট-১ পাশ করেন, তারা পরবর্তী চার অথবা পাঁচ বছর কোর্সের মাধ্যমে থাকেন। এখানে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই তারা পরীক্ষা দেন। বেইসিক এমডি কোর্স আছে।’’


‘‘পাবনা মূলত দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক সুবিধার মানসিক হাসপাতাল। একটা সময় সেখানে ছয়মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত রোগী রাখা হতো। এখন তারা হয়তো তিন থেকে ছয়মাস রোগী রাখে। কিছু ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে আরও বেশিদিন রোগীরা থাকেন।’’


‘‘আমাদের এখানে সেইসব রোগী বেশি আসেন, যারা নিজেদের মানসিক সমস্যা ধরতে পারেন, সমস্যার কথা নিজেই ডাক্তারকে বলতে পারেন।’’


‘‘অন্যদিকে যেসব রোগী নিজেদের মানসিক সমস্যা বুঝতে পারেন না, স্বীকার করেন না, সমস্যার কথা নিজে বলেন না, ঘর থেকে বেরিয়ে যান, অন্য কেউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন-পাবনায় এই ধরনের রোগী বেশি। পৃথিবীতে ১ থেকে ১.১ শতাংশ এই রোগী দেখা যায়।’’


‘‘পাবনার সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো যোগাযোগ,’’ মন্তব্য করে জামাল হোসেন আরও বলেন, ‘‘আমাদের এখানে রোগীর সঙ্গে স্বজনের উপস্থিতি থাকতে হয়। পাবনায় স্বজন ছাড়াও অনেককে সরকারিভাবে ভর্তি করা হয়। আমাদের এখানে যেসব রোগীর সঙ্গে স্বজনেরা থাকতে পারেন না, তাদের পাবনায় রেফার করা হয়।’’

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7303493.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7303493.html</guid>            
            <pubDate>Tue, 10 Oct 2023 22:48:30 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (অমৃত মলঙ্গী)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-2d88-08dbc9b08fe6_cx0_cy5_cw0_w800_h450.jpeg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>&quot;জ্বর হলে যেরকম বলতে পারি যে জ্বর এসেছে, বিষন্নতার দিনেও যেন বলতে পারি বিষন্ন লাগছে&quot;</title>
            <description>বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তৌহিদা শিরোপা। মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় অনলাইন ও সরাসরি দুইভাবেই বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলিং সেবা ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে ‘মনের বন্ধু’।২০১৯ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত দেশের ৭৫টি পোশাক তৈরির কারখানার ৪০ হাজারের বেশি পোশাক শ্রমিককে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে তার প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’। &apos;ভোগ বিজনেস ইনোভেটরস: ক্লাস অব ২০২৩’-এর &apos;সাসটেইনেবিলিটি থট লিডারস&apos; শ্রেণিতে ১০০ উদ্ভাবকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এই তালিকায় তাকে ‘সাসটেইনেবিলিটি থট লিডার’ হিসাবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’। ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ভয়েস অফ আমেরিকা কথা বলেছে তার সঙ্গে।


ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আফরিন শাহনাজ।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনার প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’ থেকে স্বল্প খরচে পোশাক শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভোগ বিজনেস ইনোভেটরস: ক্লাস অব ২০২৩’-এর সাসটেইনেবিলিটি থট লিডারস শ্রেণিতে ১০০ উদ্ভাবকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। শ্র্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের কী কী উদ্যোগ আপনারা নিয়েছেন? বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে কী ধরণের কাজ করে যাচ্ছেন এবং এ সংক্রান্ত ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?


তৌহিদা শিরোপা: বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি ২০১৯ সাল থেকে। এখন পর্যন্ত আমরা  প্রায় ৪০ হাজারের বেশি পোশাকশ্রমিককে মানসিক  স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি এবং আমরা অনেক গ্রুপ সেশন করিয়েছি, ট্রেনিং দিয়েছি, মেডিটেশন-এর কাজ করেছি, ইয়োগা সেশন করেছি এবং একটি ফ্যাক্টরিতে আমাদের রিক্রিয়েশন সেন্টারও আছে যেখানে ওয়ার্কাররা তাদের মতো সময় কাটাতে পারে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারে, তাদের ওয়েল বিং-এর জায়গাটায় কাজ করতে পারে। এ বছর যখন আমরা টমি হিলফিগার ফ্যাশন ফ্রন্টিয়ার চ্যালেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড জিতলাম  টমি হিলফিগার ফাউন্ডেশন থেকে, তখন আমরা সেখানে একটি টপ-আপ কার্ড ডিজাইন করেছিলাম। এই টপ-আপ কার্ড হচ্ছে যে কার্ডের মাধ্যমে পোশাক শ্রমিকরা ২৯ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে নানা ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, ওয়েল বিং সেবা এমনকি বিউটিফিকেশন; সেখানে ভ্রু প্লাক করা, হেয়ারকাট করা  যেগুলো তাকে মানুষ হিসেবে অনেক বেশি সেল্ফ স্টিম (self esteem) করবে নিজেকে ভালো রাখতে,  সেল্ফ কেয়ার করতে  উৎসাহিত করবে, সেই জায়গাটা আমরা আসলে নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি এখনো। বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিক খাত এমন একটা খাত যেখানে আমাদের অর্থনীতিতে অনেক বড় দাগের কন্ট্রিবিউশন আছে।  সে কন্ট্রিবিউশনের জায়গা থেকে তারা যাতে  আরো  বেশি মাইন্ডফুলি ভালোভাবে থাকতে পারে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবাটা যাতে নিশ্চিত হয়, যাতে তাদের  সুন্দর সুস্থ জীবন হয় সে কারণে আমরা সেই জায়গাটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি এখনো। ভবিষ্যতেও আমাদের আরো নানা রকম, নানামুখী, আরো বিভিন্ন  সেন্টার করা এবং সে সেন্টারগুলোতে আরো বেশি উন্নত সেবা দেয়ার কথা নিয়ে আমরা ভাবছি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ‘মনের বন্ধু’র শুরুটা কবে কীভাবে হয়েছিলো? কেনো সংবাদপত্রের চাকরী ছেড়ে দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে এ ধরণের একটা উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছিলেন?


তৌহিদা শিরোপা: ২০১৫ সালে আমার মায়ের আসলে প্রথমে অ্যাকিউট ডিপ্রেশন হয়। মা কিন্তু সিঙ্গেল প্যারেন্ট।  আমার ভাই এবং আমি, অ্যাজ এ কেয়ার গিভার আমাদেরও আসলে অনেক রকমের স্ট্রাগলের মধ্য দিয়ে সে কারণে যেতে হয়েছে।  আমরা আমার মাকে যখন ১৪ মাস পরে এই মানসিক ডিপ্রেশনের জায়গা থেকে বের করে নিয়ে আসি, আবার একটা আগের মতো সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে আসি, তখন আসলে আমার একটা উপলব্ধি হয়েছিল, জীবনে আসলে আমাদের এত স্ট্রাগল থাকে যে সে স্ট্রাগলের কথাগুলো  আমরা বাইরে বলতে পারি না। আমাদের সব সময় মানুষকে দেখাতে হয় যে আমরা  ভালো আছি  কিন্তু আমরা আসলে সব সময় তো ভালো থাকি না।  এবং এটা স্বাভাবিক যে আমি সব দিন আসলে ভালো  থাকবো না।  কিন্তু আমি যখন এমন একটা জায়গায় যাবো  যেখানে আমি খুব সহজে বলতে পারব যে আমি আজকে ভালো নাই। যাতে আমাকে কেউ জাজ না করে, আমাকে তারা অনেক বেশি ফিল করতে পারে  এবং সঠিক কোনো একটা সেবা আমাকে দিতে পারে, সেই প্রফেশনাল জায়গাটা  তৈরি করার ভাবনা থেকে আসলে ‘মনের বন্ধু’ করা।  ‘মনের বন্ধু’-র রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম ২০১৬ সালে কিন্তু আমরা খুব  ভালোভাবে কাজ শুরু করি  ২০১৮ সালে এবং সে কারণেই  ২০১৯ সালে  আমি আমার চাকরি ছেড়ে দেই।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ‘মনের বন্ধু’র কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের বলুন। &apos;মনের বন্ধু&apos;র কাজগুলো কি এখনো অনলাইন ভিত্তিক? কী কী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মনের বন্ধু প্রদান করছে এবং কারা এই সেবাগুলো নিতে পারছেন?


তৌহিদা শিরোপা: ‘মনের বন্ধু’র সেবাটা হাইব্রিড। ঢাকার লালমাটিয়াতে আমাদের ‘মনের বন্ধু’ সেন্টারে সপ্তাহে  শুক্রবার বাদ দিয়ে সব দিনই আমাদের দিনরাত সেবা প্রদান চলে। আমাদের একটি হেল্প লাইন নাম্বার আছে।  আমাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে লোকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের অনেক বাংলায় কন্টেন্ট আছে ফেসবুকে, যেগুলো মানুষ প্রতিদিন দেখেন, মানুষ তাদের মনের জায়গাটা যাতে ভালো রাখতে পারেন, সুন্দর রাখতে পারেন, অনেক হেলদি প্র্যাকটিস করতে পারেন। একই সঙ্গে আমাদের হেল্প লাইন নাম্বারে তারা যোগাযোগ করতে পারেন। হেল্প লাইনে আমাদের কাউন্সিলররা ইনিশিয়াল স্বাস্থ্যসেবা ফ্রি দেন এবং  তারপরও  যদি মনে করেন যে সেই ব্যক্তির আরো সেশন লাগবে তখন তারা আমাদের যে প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ কাউন্সিলররা আছেন, মনোবিদরা আছে তাদের সাথে সেশন বুক করে দেয়। এখানে আমাদের একটি মোবাইল অ্যাপ আছে সেখান থেকেও তারা আমাদের কাছ থেকে অনলাইনে সেবা নিতে পারবেন। একই সাথে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবেন। আমরা শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক কিন্তু কাজ করি না। যেরকম আমাদের কাজটা পোশাক শ্রমিকদের জন্য ঠিক সেরকম  ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রচুর স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের কাজ চলছে এই মুহূর্তে।  একইসঙ্গে ক্লাইমেট ভালনারেবল  পিপল অর্থাৎ  দুর্যোগ প্রবণ এলাকাগুলোতে যারা থাকেন তাদেরও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে ‘মনের বন্ধু’ কাজ করে যাচ্ছে। ‘মনের বন্ধু’র বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী কিন্তু যারা ঢাকার বাইরে থেকে ‘মনের বন্ধু’র সেবা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ‘মনের বন্ধু’ প্রায় পঁচাশি হাজারের মত মানুষকে সরাসরি ইন্ডিভিজুয়াল কাউন্সিলিং দিয়েছে।  আর যেটার বড় সংখ্যক এসেছে  ঢাকার বাইরে থেকে। তাদের অনেককে আমরা বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে, বিভিন্ন সেবা প্রদানের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি যত বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়।


ভয়েস অফ আমেরিকা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে সারা বিশ্বে কেউ না কেউ আত্মহত্যা করে আর আমরা সকলেই জানি যে আত্মহত্যা করার মূল কারণ হলো মানসিক সমস্যা। বাংলাদেশেও কিন্তু এই আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তারমধ্যে তরুণ ও কিশোর বয়সের ছেলেমেয়েদের সংখ্যা বেশি বলে আমরা বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপের মাধ্যমে জানতে পারি। আত্মহত্যা রোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরণের উদ্যোগ নিতে পারে এবং মনের বন্ধু থেকে আপনারা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন কি?


তৌহিদা শিরোপা: আপনি একদম সঠিক পরিসংখ্যান বলেছেন। একই সাথে এটাও সত্যি আত্মহত্যা  একটি মানসিক রোগ ডব্লিউএইচও-এর মতে। আত্মহত্যা একটা মেন্টাল হেলথ ইলনেস এবং এটাকে প্রিভেন্ট করা সম্ভব। সেই জায়গা থেকে অবশ্যই  কালেক্টিভ এ্যাপ্রোচ মানে সম্মিলিত প্রচেষ্টা লাগবে।  ‘মনের বন্ধু’ অবশ্যই  এখানে কাজ করছে।  ডব্লিউএইচও-ও কাজ করছে, বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট কাজ করছে।  আরো হয়তো অন্য সংস্থাগুলো তাদের মতো কাজ করছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাজ হচ্ছে। ‘মনের বন্ধু’ যেটা করছে, আত্মহত্যা প্রতিরোধেও আমাদের একটা ক্যাম্পেইন আছে যেটা আমরা সারা বছর ধরে করি। গত বছর থেকে এটা আমরা শুরু করেছি। এর নাম হচ্ছে  ‘মনের দরজায় আমরা’।   আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, বিভিন্ন  কমিউনিটিতে গিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কথা বলছি।  আত্মহত্যা প্রতিরোধে কী করা যেতে পারে সে বিষয়ে সচেতনতা  বাড়ানোর কাজ করছি  এবং একই সঙ্গে আমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণদের মবিলাইজ করছি যাতে  তারা কী করে আসলে একটিভ লিসনার হতে পারে।  তারা কী করে আসলে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার জায়গাটায় প্রাইমারি সাপোর্ট, ইনিশিয়াল সাপোর্ট  তাদের সহপাঠীদের, তাদের বন্ধুদের, তাদের কমিউনিটি লোকজনকে দিতে পারে এটা নিয়ে &apos;মনের বন্ধু&apos; কাজ করছে। কিন্তু আমরা মনে করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই কাজটাকে আরো তরান্বিত করবে। আমাদের তরুণদের আরো অনেক সেবা দরকার  এবং তাদের অনেক সাপোর্ট লাগবে। সেই সাপোর্টগুলো  সবাই মিলে দিলে অনেক বেশি সহজ হবে, অনেক বেশি দ্রুত হবে  এবং খুব এফেক্টিভ হবে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কোন কোন দিক নিয়ে বেশি কাজ করা প্রয়োজন? মানসিক সমস্যা হ্রাসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বয়স এবং শ্রেণির মানুষের মধ্যে কী ধরণের সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন বলে মনে করেন?


তৌহিদা শিরোপা: আমরা জানি, এখন বাংলাদেশে তিন কোটিরও বেশি মানুষ  কোন না কোন মানসিক সমস্যায় ভুগছে এবং আমরা দেখেছি করোনা পরবর্তী সময়গুলোতে  কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আমরা অনেক নাজুক অবস্থার  মধ্যে পড়েছি। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করছি যে আমাদের আসলে  যে কাজটা করা উচিত, সবার আগে সচেতনতা বাড়াতে হবে।  মাসিক স্বাস্থ্য সেবা নেয়া ‘লাক্সারি’ সেই ভ্রান্ত ধারণা থেকে আমাদের  বের হয়ে আসতে হবে।  কারণ এটা আসলে সবার জন্য প্রযোজ্য। এটাকে আরো আমাদের  সহজ করতে হবে।  এই সেবাটাকে সুলভ করে দেয়া, সহজ করে দেয়ার জন্য আমরা  কাজ করছি। কিন্তু সুলভ করতে গিয়ে আমরা কোয়ালিটিটা যেন মিস না করে ফেলি, যাতে মানুষ কোয়ালিটি সম্পন্ন অথেন্টিক স্বাস্থ্য সেবা পায় সেই জায়গাটা আসলে নিশ্চিত করা  এবং এটাকে আরো বেশি আসলে সর্বসাধারণের মধ্যে  ছড়িয়ে দেয়া। এ কথাটা বলতে  যাতে আমার দ্বিধা না হয়।  আমার জ্বর হলে যেরকম আমি বলতে পারি যে আমার জ্বর এসেছে,  আমার মন খারাপের দিনে, বিষন্নতার দিনেও আমি যেন বলতে পারি যে আমার আসলে বিষন্ন লাগছে এবং সেই জায়গাটাতেই ‘মনের বন্ধু’ কাজ করতে চায়। যাতে সবার আগে‘মনের বন্ধু’র কথা মনে হবে তার ভালো দিনগুলোতে অনেক বেশি ভালো থাকার জন্য এবং খারাপ দিনগুলোতে নিজেকে ভালো রাখার জন্য। ‘মনের বন্ধু’ সেই জায়গাটা আসলে যেতে চায় এবং এই লক্ষ্যে আসলে আমরা কাজ করে চলছি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী প্রতিবন্ধকতা পেয়েছেন?


তৌহিদা শিরোপা: সবার আগে যে প্রতিবন্ধকতা আমাদের এসেছে সেটা হলো  আমাদের সচেতনতার অভাব।  সচেতনতার অভাবেই আসলে আমাদের এই প্রতিবন্ধকতা এসেছে এবং আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমাদের বাজেটের একটা খুব অল্প শতাংশ, ২% এরও কম যায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার খাতে। আমি মনে করি  যে সেই জায়গাটাও আরো একটু বাড়ানো উচিত যাতে  মানুষ এটা নিয়ে আরো বেশি কাজ করতে পারেন। সবাই যাতে কাজ করতে উৎসাহিত হতে পারেন। কারণ মানসিক স্বাস্থ্য যদি ভালো না থাকে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকাটাও খুবই কঠিন।  সেই জায়গাটায় অবশ্যই আমাদের কাজ করা উচিত।  এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে  এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা একটি চ্যালেঞ্জিং জায়গা  কারণ মানুষকে ডিল করতে হয় এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে যেহেতু অনেক সাইকোলজিস্ট নেই, সেখানে হিউম্যান রিসোর্সের একটা  অসুবিধা থাকে  সেজন্য  আমরা  একই সঙ্গে টেকনোলজি-ও এনেছি যাতে  টেকনোলজি এবং মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা এ কাজটা করতে পারি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ‘মনের বন্ধু’ ভোগ বিজনেস-এর এই সম্মাননা ছাড়াও আর কী কী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও স্বীকৃতি পেয়েছে? মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরী এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে আপনাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?


তৌহিদা শিরোপা: ভোগ বিজনেস ইনোভেটর লিস্টে আসা ছাড়াও এ বছরেই আমরা টমি হিলফিগার ফ্যাশন ফ্রন্টিয়ার চ্যালেঞ্জে যাবার পর  সেখানে এ বছর গ্লোবাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এবং একই সঙ্গে  ইউএন উইমেন-এর  এশিয়া-প্যাসিফিক রিজওন-এ ‘উওমেন এম্পাওয়ারমেন্ট প্রিন্সিপাল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছি।  আমরা আইসিটি ডিভিশনের ‘কল ফর নেশন’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি।  আমরা একই সঙ্গে  ডেইলি স্টার  এবং সিএসআর উইন্ডো বাংলাদেশের আয়োজিত ‘ইয়াং হিউমেনিটেরিয়ান’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। কমনওয়েলথ ডিজিটাল হেলথ অ্যাওয়ার্ডসহ  আরো  অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার আমরা পেয়েছি।  শুরুতেও আমি বলেছিলাম যে আমরা আসলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যেখানে মানুষ কথা বলতে কোন প্রকার দ্বিধাগ্রস্থ হবেন না, জড়তা থাকবে না । অন্য সব যে কোনো বিষয়ের  মতো সে প্রতিদিন ভালো থাকার জন্য বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে, এটা নিয়ে কাজ করবে এবং  ভালো দিন, খারাপ দিনে  শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বের মানুষের কাছে তার প্রথম যে নামটা মনে আসবে সেটা হলো  ‘মনের বন্ধু’।‘মনের বন্ধু’ মানুষের সেই দোরগোড়ায় যেতে চায়।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7303555.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7303555.html</guid>            
            <pubDate>Tue, 10 Oct 2023 22:46:17 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>সাক্ষাৎকার</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (আফরিন শাহনাজ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-e6ae-08dbc90896f0_cx0_cy18_cw0_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>বিশ্বব্যাপী কলেরার প্রকোপ বাড়ছে </title>
            <description>বিশ্বব্যাপী কলেরার প্রকোপ বাড়ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও। 


জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, গত বছর রিপোর্ট করা আক্রান্তের সংখ্যা ২০২১ সালে রিপোর্ট করা আক্রান্তের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।  


কলেরা ছড়িয়ে পড়ছে এমন দেশের সংখ্যাও ২০২২ সালে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০২১ সালে ৩৫টি দেশ থেকে বেড়ে গত বছর তা ৪৪টি দেশে পৌঁছেছে। 


ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুসারে, কলেরা একটি প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে, যা সাধারণত অনিরাপদ খাবার কিংবা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া কলেরা আক্রান্ত মানুষের মল পানিতে মিশে গেলে সেই পানি থেকেও কলেরা ছড়াতে পারে। 


দীর্ঘদিন ধরে কলেরার প্রচলিত চিকিৎসায় দুই ডোজ করে টিকা দেয়া হত। তবে, গত বছরের অক্টোবর থেকে, জরুরী ভ্যাকসিন সরবরাহ তত্ত্বাবধানের জন্য নিয়জিত আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী গ্রুপ এক ডোজ করে কলেরার টিকা দেয়া শুরু করেছে।    


ডব্লিউএইচও বলেছে, গত বছর কলেরার প্রাদুর্ভাব ছিল ব্যাপক। বিশেষ করে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, মালাউই, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া এবং সিরিয়া দশ হাজারেরও বেশি সন্দেহজনক এবং কলেরা আক্রান্ত রোগী নিশ্চিত করেছে৷  


ডব্লিউএইচও-এর মতে, বিশ্ব বর্তমানে এই বছর কলেরার উত্থানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এবং ইতোমধ্যে ২৪টি দেশে এর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে &quot;কিছু কিছু দেশ ভয়াবহ সংকটের মধ্যে রয়েছে।&quot; 

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7281991.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7281991.html</guid>            
            <pubDate>Mon, 25 Sep 2023 03:00:34 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><category>বিশ্ব</category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-4aab-08db5a2677e2_cx0_cy10_cw0_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>বিশ্ব অ্যালঝাইমার্স দিবস: রোগ নির্ণয় ও ঝুঁকি হ্রাসে চাই সঠিক ব্যবস্থাপনা</title>
            <description>ইকবাল আহমেদের বয়স ৮১ বছর।  এতদিন ‍তিনি নিজের কাজগুলো নিজেই করতে পছন্দ করতেন। রোজ বাজার-সদাই করা, বাড়ির ইউটিলিটি বিল দেয়া, নিয়ম করে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া এ সবকিছুই তার রোজকার রুটিনের মধ্যেই ছিলো। তবে হঠাৎ করেই তিনি ছোটছোট বিষয়গুলো ভুলে যেতে শুরু করেন। নামাজ পড়ে ভুলে যাচ্ছেন যে পড়েছেন। টাকা-পয়সা হারাচ্ছেন, বাসার চাবি, আলমারির চাবি কোথায় রাখছেন তা মনে করতে পারছেন না। বাজারে গিয়ে কী কিনবেন মনে করতে পারছেন না কিংবা বাজার না নিয়েই বাড়ি ফিরছেন। ধীরে ধীরে ভুলে যাওয়ার তালিকা বাড়ছে। আজকাল অনেক পুরনো ঘটনাকে তার মনে হচ্ছে, এক-দুদিন আগের ঘটনা। এ উপসর্গগুলো আসলে অ্যালঝাইমার্স রোগের লক্ষণ।


ইকবাল আহমেদের পুত্রবধু শারমিন সুলতানা ভয়েস অফ আমেরিকা-কে বলেন, “আমরা যখন থেকে বাবার এই ভুলে যাওয়ার সমস্যা হচ্ছে বুঝতে পারি তখন থেকে দেখেছি, অল্প সময়ের মধ্যে খুব দ্রুতই এটা ছোট বিষয় থেকে হঠাৎ করেই বেশ বড় ব্যাপারে দাঁড়িয়ে গেছে। সে সময়টায় প্রায় প্রতিদিনই তিনি কিছু না কিছু ভুলে যাচ্ছিলেন, বড় অংকের টাকা হারাচ্ছিলেন, বাজার করে বাজার ফেলে রেখেই চলে আসতেন। কোন দোকানে রেখেছেন, আদৌ কিনেছেন কিনা কিছুই মনে করতে পারছিলেন না। প্রতিদিনই এ ধরণের কোন না কোন ঘটনা ঘটছিলো।”


ঢাকার বাসিন্দা নাঈমা মিতার শাশুড়ি এখন আর বেঁচে নেই তবে তার অ্যালঝাইমার্স ছিলো যা তাকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এ রোগের শেষ ধাপে নিয়ে গিয়েছিলো। ভয়েস অফ আমেরিকা-কে নাঈমা জানালেন তার শাশুড়ির কথা। বললেন, &quot;আমার শাশুড়ির ক্ষেত্রে দেখেছি, খুব দ্রুতই স্মৃতিশক্তি চলে যাচ্ছিলো। তার হাত-পা কাঁপতো, পারকিন্সন ছিলো। আস্তে আস্তে চলাফেরাগুলো রেস্ট্রিকটেড হয়ে আসছিলো। আমরা তখন বুঝিনি আসলে আমাদের কী কী করা উচিৎ। এক সময় তিনি অনেক মানুষকে চিনতে পারতেন না।  এক্ষেত্রে আসলে যতটা না ওষুধে কাজ করে তারচেয়ে বেশি জরুরী হয়ে পড়ে টেক কেয়ার করাটা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওনার সামনে সারাক্ষণ পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতাম, পুরোনো কথাগুলো মনে করিয়ে দিতাম, শব্দজট খেলতাম। তারপরও একটা পর্যায়ে শাশুড়ি মায়ের বর্তমান সব স্মৃতি হারিয়ে গিয়েছিলো। তিনি শুধু পুরোনো কথাগুলো মনে করতে পারতেন। তার মনে হতো যে তার ছেলেমেয়েগুলো এখনো সেই ছোট ছোট আছে। তিনি একদম পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে গিয়েছিলেন।&quot;


অ্যালঝাইমার্স রোগ,  এর কারণ ও পরিসংখ্যান


অ্যালঝাইমার্স ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় এক বিশেষ ধরনের সমস্যা, যাকে আমরা স্মৃতিভ্রংশ রোগ বলতে পারি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল-এর নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম আরাফাত আমিন ভয়েস অফ আমেরিকা-কে বলেন, “মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কিংবা বিভিন্ন জায়গায় বেটা অ্যামিলয়েড নামে কিছু রাসায়নিক পদার্থ জমা হয় যার ফলে  ধীরে ধীরে কোষগুলো তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ব্যক্তি তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে।”


ভুলে যাওয়া বা স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলার রোগটিকে মূলত ডিমেনশিয়া বলা হয়। এর আবার অনেক ধরন রয়েছে যার মধ্যে অ্যালঝাইমার্স সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এটি দেখা যায়। সাধারণত ষাটোর্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। তবে বিভিন্ন কারণে এর চেয়ে অল্প বয়সের ব্যক্তিরও এ ধরণের স্মৃতিক্ষয় রোগ দেখা দিতে পারে। ডা. আরাফাত আমিন বলেন, “অল্প বয়সেও অর্থাৎ ৫৫ বছর বয়সের নিচেও  যে কোনো ব্যক্তি অ্যালঝাইমার্স-এ আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণত জিনগত কারণে এটি হতে পারে। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ApoE4 জিনের কারণে এ রোগটি হতে পারে এবং এই জিনটি যদি পরিবারের অন্যরাও ধারণ করে থাকেন তবে তাদেরও অ্যালঝাইমার্স-এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এই স্মৃতিক্ষয় রোগকে আমরা দু’ভাগে ভাগ করে থাকি। এর একটা হলো প্রতিরোধযোগ্য আরেকটি অপ্রতিরোধযোগ্য। অ্যালঝাইমার্স ডিমনেশিয়া ও এ জাতীয় আরো কিছু ডিমেনশিয়া হলো অপ্রতিরোধযোগ্য অসুখ।”


ডা. আরাফাত জানান যে বাংলাদেশে এখন গড় আয়ু বেড়েছে। ফলে এদেশে এখন অ্যালঝাইমার্স-এর রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন কোনো সমীক্ষা বা পরিসংখ্যান ছিলো না। সম্প্রতি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে একটি সমীক্ষা চালানো হয় যার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮.১ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ১১ লাখ মানুষ অ্যালঝাইমার্স-এ আক্রান্ত। আর এভাবে চলতে থাকলে ২০৪১ সালের ভেতর এ সংখ্যা দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়ে যেতে পারে।


অ্যালঝাইমার্স এসোসিয়েশেনের ২০২৩ সালের সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে এখন আনুমানিক ৬.৭ মিলিয়ন অ্যালঝাইমার্স আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন যাদের বয়স ৬৫ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি। আশংকা করা হচ্ছে, অ্যালঝাইমার্স রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাময়ের চিকিৎসার অগ্রগতি না হলে ২০৬০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১৩.৮ মিলিয়নে উন্নীত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সাল থেকে অ্যালঝাইমার্স-এ ১,২১,৪৯৯ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে এবং দেশটিতে এই রোগটি মৃত্যুর ষষ্ঠ প্রধান কারণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।


অ্যালঝাইমার্স সচেতনতা দিবস


১৯০১ সালে প্রথমবার একজন জার্মান মনোবিদ অ্যালয়েজ অ্যালঝাইমার্স এই রোগটিকে চিহ্নিত করেন, তখন থেকেই এই রোগটিকে তার নাম অনুসারে অ্যালঝাইমার্স রোগ নামে ডাকা হয়ে থাকে। বিগত শতাব্দীতে ৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের মধ্যেই এই রোগ সব থেকে বেশি হতে দেখা যায় । ১৯৮৪ সাল থেকে অ্যালঝাইমার্স ডিজিজ ইন্টারন্যাশনাল, এই রোগে আক্রান্ত মানুষদের চিকিৎসায় সাহায্য করছে এবং একই সঙ্গে সচেতনতাও তৈরি করছে। ১৯৯৪ সালে সংস্থাটি ২১ সেপ্টেম্বরকে বেছে নেয় বিশ্ব  অ্যালঝাইমার্স দিবস হিসেবে।  রোগটি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় অ্যালঝাইমার্স ডে বা বিশ্ব অ্যালঝাইমার্স রোগ দিবস। ২০২৩ সালের এ দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো &apos;Never too early, never too late&apos;। এবার দ্রুত রোগ নির্ণয় ও ঝুঁকি হ্রাসের উপর জোর দিয়ে দিবসটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। কারণ জীবনধারা এবং স্বাস্থ্যগত নিয়মকানুন মেনে চলা অ্যালঝাইমার্স রোগের অগ্রগতিকে ধীর করে দিতে পারে।


অ্যালঝাইমার্স-এর লক্ষণ


এ রোগের চারটি পর্যায় আছে বলে জানালেন ডা. আরাফাত। পর্যায়গুলো হলো আর্লি স্টেজ, মিড স্টেজ, লেট স্টেজ এবং এন্ড স্টেজ। শুরুর দিকে রোগীদের দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হতে থাকে। এই প্রতিবেদনের শুরুতে ইকবাল আহমেদের কথা বলা হয়েছে, যার লক্ষণগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের সঙ্গে মিলে যায়। এ পর্যায়ে রোগীরা রোজকার কাজের অনেক কিছুই মনে রাখতে পারে না; একটু আগের কর্মকাণ্ড বা ঘটনাবলী মুহূর্তেই ভুলে যান। 


ডা. আরাফাত বললেন, “এ রোগ মানুষের মস্তিষ্কের ভিন্ন ভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যার ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে সাম্প্রতিক ঘটনা, নাম, চেহারা ভুলে যাওয়া, কখনো অল্প সময়ের মধ্যে একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি, একটি জিনিস যে জায়গায় রাখার কথা ছিল সেখানে না রেখে অন্য জাগায় অর্থাৎ ভুল জায়গায় রাখা এ কাজগুলো রোগী বারবার করতে থাকেন। বারবার এ ধরণের ঘটনা ঘটার ফলে রোগীর মধ্যে এ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা তৈরি হতে থাকে।


মিড স্টেজে গিয়ে রোগী তার বিচারবুদ্ধি ও কার্যসক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে থাকেন। অর্থাৎ যে কোনো একটি কাজ কিভাবে সম্পন্ন করবেন সেটা বিবেচনা করবার ক্ষমতা হারিয়ে যেতে থাকে। সেই সঙ্গে কথা বলবার দক্ষতাও হারিয়ে ফেলেন। যেমন কোনো একটি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে একটা পর্যায়ে খেই হারিয়ে ফেলেন অথবা কোন শব্দ বা কোন বাক্য বলবেন তা খুঁজে পান না। ধাঁধা, শব্দজট এ ধরণের খেলাগুলো সমাধান করতে পারেন না। পাশাপাশি ঘুমের সমস্যাও শুরু হতে থাকে। 


এর পরের পর্যায় বা লেট স্টেজে রোগীর মুভমেন্টে সমস্যা হতে শুরু করে। হাত-পা কাঁপা বা পারকিন্সন দেখা দিতে পারে। এর সাথে বিহেভিয়ার প্রবলেম হওয়া শুরু হয়। হ্যালুসিনেশন, ডিলুশন ডিজঅর্ডার হতে পারে। রোগী ভীষণ অ্যাগ্রেসিভ হয়ে যেতে পারে। অকারণ রাগারাগি, চিৎকার চেঁচামেচি করেন। 


একদম শেষ পর্যায় বা লেট স্টেজে রোগী বিছানাবন্দী হয়ে যান, চলৎশক্তি হারিয়ে ফেলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মানসিক সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে ওঠে।”


এর কারণ ও ঝুঁকি এড়াতে করণীয়


রক্তে কোলেস্টেরল ও হোমোসিস্টিনের পরিমাণ বাড়লে অ্যামাইলয়েড বিটা প্রোটিনের উৎপাদন বেশি হয় তখন অ্যালঝাইমার্স-এর লক্ষণ প্রকট হয়। এছাড়া হাইপার-থাইরয়েডিজম, ওবেসিটি ও হাই ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস, দীর্ঘকাল ধরে মানসিক অবসাদ, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ থাকলে অ্যালঝাইমার্স রোগ হতে পারে। বংশে বাবা–মা অথবা ভাই–বোনের মধ্যে অ্যালঝাইমার্স-এর ইতিহাস থাকলে, অতিরিক্ত ধুমপান, মদ্যপান এ রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় বলে জানালেন ডা. আরাফাত। এছাড়া অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এ্যাপনিয়া থাকলেও ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার্স রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে জানালেন তিনি।


অ্যালঝাইমার্স-এর ঝুঁকি এড়ানোর জন্য কিছু শারীরিক সমস্যা যেমন হাইপার-থাইরয়েডিজম, ওবেসিটি ও হাই ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এ্যাপনিয়া এগুলোকে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এছাড়া ধুমপান, মদ্যপান না করা, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা কার্যকরী। লাল চাল, লাল আটা, সামুদ্রিক মাছ, শিমের দানা ও শিম, বাদাম, সবুজ শাকসবজি খাওয়া ভীষণ প্রয়োজন। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বাদাম কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া রেড মিট, মিষ্টি জাতীয় খাবার যত কম খাওয়া উচিৎ। নিয়মিত শরীরচর্চা, মেডিটেশন, ব্রেইন স্টর্মিং হয় এমন কাজ, খেলা এগুলোর চর্চা থাকা প্রয়োজন।


অ্যালঝাইমার্স-এর রোগীর ব্যবস্থাপনায় পরিবারের ভূমিকাই প্রধান


ডা. আরাফাত বলেন, “অ্যালঝাইমার্স-এর রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে ডাক্তার, নার্স, ফিজিওথেরাপিস্টের পাশাপাশি পরিবারের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। আমরা রোগ নির্ণয়ের পর শুরুতেই রোগীর বাড়ির লোককে কাউন্সেলিং করি। রোগের প্রতিটি ধাপে ব্যবস্থাপনা ও পরিবারের লোকের করণীয় নিয়ে তাদের আমরা গাইডলাইন দিয়ে থাকি। নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ রোগীর প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো লিখে রোগীর সাথে সাথে রাখা, যাতে সে মনে করতে পারে কিংবা রাস্তাঘাটে হারিয়ে গেলে বাড়ি ফিরতে পারে সেই ব্যবস্থা করা, রোগী ভায়োলেন্ট হয়ে গেলে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন।&quot;  


ডা. আরাফাতের মতে, “এখানে Palliative care খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি একটি অনিরাময়যোগ্য রোগ। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের লক্ষণ কমিয়ে আনা, ধীর গতি করা সম্ভব। একটা মাল্টিডিসিপ্লিন এ্যাপ্রোচ থাকাটা জরুরী। এ রোগের চিকিৎসায় কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয় যার মাধ্যমে ব্রেইনে জমে থাকা রাসায়নিকগুলোকে কিছুটা অপসারণ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে অ্যালঝাইমার্স-এর প্রক্রিয়াটিকে স্লো করা যায়।”

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7276421.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7276421.html</guid>            
            <pubDate>Thu, 21 Sep 2023 06:46:36 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (আফরিন শাহনাজ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0a00-0242-a397-08dbb9f03377_cx0_cy9_cw0_w800_h450.jpeg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রোপচারে আলাদা হলো জোড়া লাগানো দুই শিশু</title>
            <description>ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অস্ত্রোপচারে আলাদা করা হয়েছে পেটে ও বুকে জোড়া লাগানো ৭৮ দিন বয়সী দুই শিশু আবু বকর ও ওমর ফারুককে।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থায়নে সফল অস্ত্রোপচারে দুই শিশুকে আলাদা করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম জাহিদ হোসেন।


বুধবার সকালে (২০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের অপারেশন থিয়েটারে এ অস্ত্রোপচার করা হয়।


বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অর্থায়নে দুই শিশুর দেহে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও শিশু দুজনের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।


জানা গেছে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার চায়না বেগম এবং তাঁর স্বামী আল আমিন শেখের ঘরে ৪ জুলাই পেটে জোড়া লাগা দুই নবজাতক জন্মগ্রহণ করে। জন্মগ্রহণের পর তাদের শরীরে জটিলতা দেখা দিলে ৫ জুলাই তাদের বিএসএমএমইউয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম জাহিদ হোসেনের অধীনে ২০১ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। পেটে জোড়া লাগানো যমজ এ দুই নবজাতকের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


এরপর বিএসএমএমইউয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আবু বকর ও ওমর ফারুকের নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে বুধবার অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন।


চিকিৎসকেরা জানান, আবু বকর ও ওমর ফারুকের লিভার ও বুকের হাড় সংযুক্ত ছিল। অস্ত্রোপচারের পর তারা শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। দুই শিশু সংকটমুক্ত। তাদের বাবা-মা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তাদের পূর্ণ সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।


জটিল এই অস্ত্রোপচার প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের সার্জনরা এ ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম। এ রকম জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার কোনো দরকার নেই। স্বল্প খরচে দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7276735.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7276735.html</guid>            
            <pubDate>Thu, 21 Sep 2023 00:41:03 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (ইউএনবি)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0a00-0242-5aac-08dbba08fb99_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২০ লাখ ব্যাগ স্যালাইন সংগ্রহ করবে সরকার</title>
            <description>বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি থেকে সরাসরি মোট ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) ব্যাগ স্যালাইন সংগ্রহ করবে সরকার।


বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।


নীতিগত অনুমোদন অনুসারে, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে ১০০০ মিলি ফ্লুইডের ১২ লাখ ব্যাগ সাধারণ স্যালাইন এবং ১০০০ মিলি আইভি তরল গ্লুকোজ স্যালাইনের ৮ লাখ ব্যাগ কেনা হবে।


সরকারি ও বেসরকাররি হাসপাতাল—যেখানে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা চলছে সেখানে স্যালাইনের ব্যাপক সংকটের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।


কমিটির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মাহবুব খান জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইডিসিএলের মাধ্যমে স্যালাইন কিনবে।


তিনি অবশ্য ইডিসিএল থেকে কেনা স্যালাইনের দাম প্রকাশ করেননি।


তিনি বলেন, সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি মোকাবিলায় সরকার ইডিসিএল থেকে স্যালাইন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।


উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকায় ৩ হাজার ৮১৪ জনসহ মোট ১০ হাজার ১০২ জন ডেঙ্গু রোগী এখন সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চলতি বছর এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৭ জন সুস্থ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করেছে।


সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে ১৭৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ছাড়া একই সময়ে ৩৩ হজার ৩৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7276333.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7276333.html</guid>            
            <pubDate>Wed, 20 Sep 2023 20:55:39 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (ইউএনবি)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0a00-0242-eb57-08dbb9e96074_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির কারণে মহামারীর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু: মির্জা ফখরুল</title>
            <description>স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে, বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারীর রূপ ধারণ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।


মির্জা ফখরুল বলেন, “অযোগ্যতা ও দুর্নীতির কারণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার চরমভাবে ব্যর্থতা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে সর্বব্যাপী দুর্নীতির কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন মহামারী আকারে পৌঁছেছে। এ বছর অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি।”


তিনি বলেন, “ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়ার প্রধান শিরোনাম হয়ে আছে। কারণ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ জন করে মানুষ মারা যাচ্ছেন।”


ডেঙ্গু সংক্রমণে মৃত্যু-সংখ্যা সাত শতাধিক, আক্রান্ত দেড় লাখ: জাহিদ মালেক



এদিকে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যে সারাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণে সাত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে; আর আক্রান্ত হয়েছে দেড় লাখ মানুষ। এ সময় তিনি আরো বলেন, “আর মৃত্যু দেখতে চাই না।”




 








জাহিদ মালেক বলেন, “প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে সরকারের পক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব নয়। এর জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আরো বলেস, “এডিস মশা সারা দেশে ছড়িয়ে গেছে। দেশে দেড় লাখ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিন আড়াই হাজার নতুন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে।”


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সবাই মিলে কাজ করলে, কোভিডের মতো ডেঙ্গুও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আর, যে পর্যন্ত মশা না কমবে, রোগীর সংখ্যা কমবে না, মৃত্যু কমবে না। ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে হলে মশা কমাতে হবে। আর, এ জন্য সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”








</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7261931.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7261931.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 10 Sep 2023 19:51:18 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (ইউএনবি)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-9479-08dbb20484e2_cx0_cy10_cw0_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>হজমের ওষুধ ডাইজিন নিয়ে সতর্ক করল ড্রাগ কন্ট্রোলার অফ ইন্ডিয়া, কিছু ব্যাচের ওষুধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতকারক সংস্থা </title>
            <description>হজমের সমস্যা,বিশেষত অম্বল, গলা বুক জ্বালার ওষুধ হিসাবে ডাইজিন জেল ভারতে খুবই পরিচিত ও প্রচলিত ওষুধ। ড্রাগ কন্ট্রোলার অফ ইন্ডিয়া সেই ওষুধ নিয়ে সতর্ক করার পর নিজেরাই বাজার থেকে কয়েকটি ব্যাচের ডাইজিন জেল তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা অ্যাবট্। 


ডাইজিনের স্বাদ নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু উপভোক্তা অভিযোগ করেছিলেন। তাদের এই ওষুধের স্বাদ হঠাৎ করে তেতো লেগেছিল। সেই সঙ্গে ওষুধের মধ্যে অদ্ভূত গন্ধও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ। তার পরই গত ৩১ অগাস্ট ড্রাগ কন্ট্রোলার চিঠি দিয়ে জানায়, প্রস্তুতকারক সংস্থার গোয়া ইউনিটে তৈরি ডাইজিন জেল আপাতত এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।


শুধু তাই নয়, গোয়ার উৎপাদন কেন্দ্রে তৈরি ডাইজিন জেলের সব ব্যাচের ওষুধ বাজার থেকে তুলে নেওয়ার জন্য পাইকারি ব্রিক্রেতাদেরও নির্দেশ দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার। ওষুধে এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে না গেলেও গোয়ার ইউনিটে তৈরি সমস্ত ব্যাচের ডাইজিন জেল তুলে নিতে বলা হয়েছে।


এরই পাশাপাশি ডাক্তারদেরও ড্রাগ কন্ট্রোলার জানিয়েছে যে এই ওষুধ প্রেসক্রাইব করার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এটি খেয়ে কারও শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হলে সে ব্যাপারে রিপোর্ট করতে হবে।


ড্রাগ কন্ট্রোলার-এর চিঠিতে বলা হয়েছে, ডাইজিন জেলের স্বাদ ও গন্ধ নিয়ে গত ৯ অগাস্ট অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ হল, ডাইজেন জেল মিন্ট ফ্লেভারের একটি বোতল ও একই ব্যাচের আরেকটি বোতলের ডাইজিনের স্বাদ ও গন্ধের মধ্যে ফারাক ছিল।



তবে ড্রাগ কন্ট্রোলার জানিয়েছে, প্রস্তুতকারক সংস্থা স্বেচ্ছায় ওই ব্যাচের সব ওষুধ তুলে নেওয়া কথা জানিয়েছে। যা ইতিবাচক বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এর পরেও এই ওষুধ কোথাও মজুত বা বিক্রি হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে নজর রাখছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।


</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7256922.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7256922.html</guid>            
            <pubDate>Wed, 06 Sep 2023 22:55:19 +0600</pubDate>
            <category>ভারত</category><category>খবর</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (দ্য ওয়াল)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-bfd3-08dbaef9531b_cx0_cy35_cw0_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্ক বার্তা, ভুয়ো লিভারের ওষুধে ভরে গেছে ভারতের বাজার, সম্ভাবনা চরম ক্ষতির</title>
            <description>কাশির ওষুধে বিষাক্ত রাসায়নিক নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। এবার নির্দেশিকা জারি করে হু জানাল, ভুয়ো লিভারের ওষুধে ছেয়ে গেছে ভারত ও তুরস্কের বাজার। এই ওষুধের নাম ডেফিটেলিও। ভারতের ওষুধের দোকানগুলিতে খবর অনুযায়ী রমরম করে বিক্রি হচ্ছে এই জাল ওষুধ।


হু জানাচ্ছে, চলতি বছর মানে ২০২৩-এর এপ্রিল মাসে এই ব্র্যান্ডের জাল ওষুধ ধরা পড়ে বাজারে। ডেফিটেলিও ওষুধ হেপাটিক ভেনো-অকালসিভ রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগে। লিভারের অসুখের থেরাপিতে, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন থেরাপিতেও প্রয়োগ করা হয় এই ওষুধ। হু-র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্র্যান্ডের অনেক ভুয়ো ওষুধ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া সেইসব ওষুধ সাধারণের হাতে এলে এবং তা ব্যবহার করলে চরম ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকিও বাড়বে।


উল্লেখ্য, ডেফিটেলিও ড্রাগ জার্মানি বা অস্ট্রিয়া থেকে আমদানি করা হয়। ব্রিটেন থেকেও আসে এই ওষুধ। বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ, এই ব্র্যান্ডের ওষুধ নকল করে তা পাচার করা হচ্ছে ভারত, তুরস্কের বাজারে। ফলে ভুয়ো ওষুধে ছেয়ে গেছে ভারতের বাজার।


কাশির ওষুধ নিয়েও সাবধান করেছে হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, আমরা যেসব কাফ সিরাপ ঘন ঘন খাই তার মধ্যেও নানারকম উপাদান থাকে যা মাত্রাতিরিক্ত শরীরে ঢুকলে বিপদ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু কাফ সিরাপে কোডেইন এবং ফোলকোডিন নামে উপাদান পাওয়া গেছে যা শরীরে ঢুকলে নেশার মতো বোধ হয়। স্নায়ুগুলো ঝিমিয়ে পড়তে থাকে। চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যায়। ব্রেন সেলগুলোকে কব্জা করে ফেলে এই ধরনের রাসায়নিক উপাদান। চার বছরের কম বয়সের কোনও শিশুকে কাফ সিরাপ খাওয়ানো বিপজ্জনক। প্রাপ্তবয়স্ক যাদের কোমর্বিডিটি আছে বা সম্প্রতি কোনও অপারেশন হয়েছে তাদের শরীরে এইসব রাসায়নিক উপাদান ঢুকলে তা বিপদ আরও বাড়াবে। তাই সবদিক থেকেই সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7256885.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7256885.html</guid>            
            <pubDate>Wed, 06 Sep 2023 22:40:59 +0600</pubDate>
            <category>ভারত</category><category>খবর</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (দ্য ওয়াল)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-11f2-08dbaef7bf7f_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>একজন ডেঙ্গু রোগীর জন্য সরকারের ব্যয় ৫০ হাজার টাকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক</title>
            <description>বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন যে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন রোগীর জন্য সরকারের গড় ব্যয় ৫০ হাজার টাকা। রবিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে ‘ডেঙ্গু মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান তিনি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যয় করেছে সরকার।” তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালে মোট রোগীর ৭০ শতাংশ চিকিৎসা নিয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ রোগী বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছে।”


জাহিদ মালেক জানান, সাধারণত দুই ধরনের ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। অনেকের প্লাটিলেট ও আইসিইউ প্রয়োজন হয়। অনেকে শুধু ওষুধেই সুস্থ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৪ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৪১১ জন। আর, মৃত্যু হয়েছে ৫৩৭ জনের। এ ছাড়া এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮ হাজার ২৩৬ জন।”


নারীদের ঝুঁকি প্রসঙ্গে বাংলাদেশর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এ বছর নারীরা আক্রান্ত কম হচ্ছেন, তবে মারা যাচ্ছেন বেশি। পুরুষের প্রায় দ্বিগুণ নারী মারা গেছেন। তারা চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন বলেই তাদের মৃত্যু-হার বেশি।”


তিনি আরো বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে পুরুষ রোগী ৬৫ শতাংশ। আর  মৃত্যু বিবেচনায় ৬৫ শতাংশ নারী।” জাহিদ মালেক বালেন, “রোগী সংখ্যা ঢাকায় অর্ধেক, বাকি অর্ধেক ঢাকার বাইরে। ঢাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সংক্রমণের বিস্তার অর্ধেক হ্রাস করা সম্ভব।”

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7243095.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7243095.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 27 Aug 2023 19:46:20 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (ইউএনবি)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-b1cf-08dba703cc85_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে ইউনিসেফ</title>
            <description>বাংলাদেশে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমিত বলে শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজারেরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জোরদার করছে ইউনিসেফ।


রবিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “আবারও বাংলাদেশের শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির প্রথম সারিতে রয়েছে; কারণ এখানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।”


শিশুদের সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা মোকাবেলায়,২২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যায়ে, জরুরি পরীক্ষার কিট, পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি খাতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও সেবা সরবরাহ করছে ইউনিসেফ।


বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় এখন ডেঙ্গু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ শতাংশ ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। ডেঙ্গুতে ৫০০ জনের বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।


বছরটিতে বিশ্ব জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়ের ক্রমবর্ধমান সংখ্যায়, ডেঙ্গুর মতো সংক্রমিত রোগের বিস্তারকে বাড়িয়ে তুলছে; যা শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7243074.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7243074.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 27 Aug 2023 19:28:29 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><category>বিশ্ব</category><author> voadigital@voanews.com (ইউএনবি)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-6d5a-08dba7015897_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        </channel></rss>