<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom">     
    <channel>      
        <title>সাক্ষাৎকার - ভয়েস অব আমেরিকা</title>     
        <link>https://www.voabangla.com/z/2936</link>
        <description>আমরা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিক, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, প্রফেসর সহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বাংলাদেশী আমেরিকান, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকেন তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকি। </description>
        <image>
            <url>https://www.voabangla.com/Content/responsive/VOA/bn-BD/img/logo.png</url>
            <title>সাক্ষাৎকার - ভয়েস অব আমেরিকা</title>
            <link>https://www.voabangla.com/z/2936</link>
        </image>
        <language>bn</language>
        <copyright>স্বত্বাধিকার ২০১০-ভয়েস অব আমেরিকা</copyright>   
        <ttl>60</ttl>        
        <lastBuildDate>Wed, 28 Oct 2026 23:12:39 +0600</lastBuildDate> 
        <generator>Pangea CMS – VOA</generator>        
        <atom:link href="https://www.voabangla.com/api/zoqgoegugi" rel="self" type="application/rss+xml" />
    		<item>
            <title>বেশিদিন ক্ষমতা থাকলে সরকারের মধ্যে স্বৈরতান্ত্রিক ভাব চলে আসবেঃ খুশী কবির</title>
            <description>অন্তবর্তীকালীন সরকার সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য কিছু নির্বাহী আদেশ দিতে পারেন বলেন মনে করছেন মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির। তিনি বলেন, তারা বেশিদিন ক্ষমতায় থাকলে তাদের মধ্যে স্বৈরতান্ত্রিক ভাব চলে আসবে। তাই তাদের অতিরিক্ত বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা ঠিক হবে না। ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।


সাক্ষাৎকার নেন আদিত্য রিমন।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?



খুশী কবিরঃ প্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। মাঝখানে যেহেতু কোনও সরকার ছিলো না, তাই দেশে শান্তি ছিল না, অরাজকতা হচ্ছিলো। এই নৈরাজ্য বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসা।



তারপর যেটা প্রয়োজন, মানুষের জীবনযাপনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা। খাদ্য ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া। মানুষের মধ্যে যে ভয়-ভীতির যে পরিবেশ বিরাজ করছে, সেখান থেকে আস্থা ফিরিয়ে আনা।



একইসঙ্গে এই সরকার সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারছে, মানুষের মধ্যে সেই আস্থা নিয়ে আসা। এই তিনটি বিষয়ের পর সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সর্বোচ্চ কতদিনের মধ্যে একটি অবাধ নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার?



খুশী কবিরঃ এই বিষয়টি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছে। তারা তো এখনও দেশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে নাই। তাই এই মুহুর্তে এটা নিয়ে কিছু বলা কঠিন। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেন আইন-আদালত সবকিছু সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। তাই একটি অবাধ, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন জন্য কত সময় লাগবে, তার সময়-সীমা বলতে পারছি না। তবে, আমি মনে করি অতিরিক্ত অনেক বছর থাকলে তাদের মধ্যে স্বৈরতান্ত্রিক ভাব চলে আসতে পারে। কারণ তারা জনগণের নির্বাচিত সরকার নয়। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নেই।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধান পরিবর্তন করে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের বিধান কি সংবিধানে স্থায়ী ভাবে সংযোজন যথেষ্ট বলে মনে করেন? নাকি প্রথমে একটি সংবিধান সভা নির্বাচন করে সেখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান তৈরী করে, তার আলোকে নতুন নির্বাচন দেয়া উচিত?



খুশী কবিরঃ সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে সংসদ। অন্য কেউ সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না। অনির্বাচিত সরকার তো সংবিধান করতে পারে না। তারা কিছু যুক্তও করতে পারবে না। তারা (এই সরকার) নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাহী কিছু আদেশ দিতে পারে। অনির্বাচিত সরকারের সংবিধানে হাত দেওয়া আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয় না। এটা অগণতান্ত্রিক। এটা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের পরিপন্থী।



তারা যেটাই করুক না কেন জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামত নিয়ে করতে হবে। সার্বিকভাবে সবার মতামত নিয়ে কিভাবে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব সেটা নিয়ে কিছু নির্বাহী আদেশ দিতে পারে। এর বাইরে কিছু না।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7739551.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7739551.html</guid>            
            <pubDate>Tue, 13 Aug 2024 00:47:41 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>খবর</category><category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-9fc5-08dcbafd71bf_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে চাইলেও কেউ স্বৈরাচার হতে না পারে: মাসুদ কামাল</title>
            <description>বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্দোলনে শহীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে বলে মনে করছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, একইসঙ্গে দেশে এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে যাতে কেউ চাইলেও স্বৈরাচার ও দানব হতে না পারে।


সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আদিত্য রিমন।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?



মাসুদ কামালঃ তাদের অগ্রাধিকারের বিষয়টিকে আমি দুই ভাগে ভাগ করতে চাই। একটি হচ্ছে স্বল্পমেয়াদী, আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী।



স্বল্পমেয়াদী হলো- যত লোক শহীদ হয়েছে তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা। শুনেছি কিছু গণ-কবর হয়েছে। সেটা যদি হয়ে থাকে তাহলে ডিএনএ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারকে জানাতে হবে। শহীদের জাতীয় বীর হিসেবে সম্মান দেওয়া। তাদের পরিবারকে সারাজীবনের জন্য ভাতা দেওয়া। আর যারা আহত হয়েছেন, তাদেরকে আহত হওয়ার গুরুত্ব অনুযায়ী একটা ক্ষতিপূরণ বা ভাতা দেওয়া। আরেকটা বিষয় হচ্ছে যারা শহীদ ও আহত হয়েছে, তাদেরকে কারা গুলি করেছে, অথবা কার নির্দেশে হয়েছে, তার পেছনে নীল-নকশা করা করেছে, কার সিদ্ধান্তে হয়েছে- এদের সবাইকে বিচারের সম্মুখীন করা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।



দীর্ঘমেয়াদী বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বলছি- বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন করেছি। ফলে,দেশের মানুষ গত ১৫ বছরে যেসব অধিকার হারিয়েছে, সেইগুলো পনরুদ্ধার করা। তার একটি হলো ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। নির্বাচন কমিশন ও ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানো। তার জন্য সংবিধান সংশোধনের দরকার হলেও করতে হবে। অর্থাৎ এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি করা, যে ব্যবস্থায় একটা মানুষ চাইলেও যেন স্বৈরাচারী ও দানব হয়ে উঠতে না পারে।




আবার এইগুলো করতে হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। তার জন্য যদি অনন্তকাল সময় নিতে থাকেন সেটাও গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল পরিচয়টা হচ্ছে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত একটা সরকার থাকবে। এই অন্তবর্তীকালীন সরকারকে মনে রাখতে হবে, তারা জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত নয়।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সর্বোচ্চ কতদিনের মধ্যে একটি অবাধ নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার?



মাসুদ কামালঃ আমি মনে করি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। এই যত তাড়াতাড়ি একেক জনের কাছে, একেক রকম অর্থ। এখন তারা কতুটুক পারবে, তাদের সামর্থ্য কতটুকু তার ওপর নির্ভর করবে এই তাড়াতাড়ির অর্থ। আমরা ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, এই অন্তরবর্তীকালীন সরকারের যেসব নাম ও চেহারা দেখেছি, তাতে তারা দ্রুত করতে পারবে বলে মনে হয় না। আমরা এই অভিমত ভুল প্রমাণ হোক এটা চাই। তারপর কেন যেনি মনে হয়, তারা দ্রুত করতে চাইবে না। সেইক্ষেত্রে তাদেরকে এসব মূল কাজগুলো করতে গেলে একটু সময়ও দিতে হবে। এখন কেউ যদি ভাবে, তিন কিংবা ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন হয়ে যাবে, আমি মনে করি সেটা সম্ভব না।



তাদেরকে কমপক্ষে এক-দুই বছর সময় দিতে হবে। এছাড়া এই সরকার যত দেরি করবে সাধারণ মানুষের কাছে ততই সমলোচিত হতে থাকবে। কারণ মানুষ তো ভোট চাই। সেটা যত দ্রুত করতে পারবে ততই প্রশংসিত হবে।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধান পরিবর্তন করে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের বিধান কি সংবিধানে স্থায়ী ভাবে সংযোজন যথেষ্ট বলে মনে করেন? নাকি প্রথমে একটি সংবিধান সভা নির্বাচন করে সেখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান তৈরী করে তার আলোকে নতুন নির্বাচন দেয়া উচিত?



মাসুদ কামালঃ এটা আসলে জটিল প্রশ্ন। কিভাবে? সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে সংসদ সদস্যদের দিয়ে করা উচিত, এটাই নিয়ম। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে পরবর্তীতে যারা নতুন সংসদে আসবে, তারা সংবিধান পরিবর্তন করতে চাইবে কিনা? তারা যদি শেষ মুহুর্তে বলে আমরা জনগণের রায় নিয়ে এসেছি, সংবিধান পরিবর্তন করতে চায় না। তাহলে আপনি কি করবেন। তাই এই মুহুর্তে জনরায় হচ্ছে- শুধু তত্ত্বাবধায় বা অন্য যেটা ভালো হয় সেটাই নয়, নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তরর্ভুক্ত করতে হবে। আমি মনে করি, এসব বিষয়গুলো আগে পরিবর্তন করে করে পরবর্তীতে যে সরকার আসবে তাদেরকে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7739326.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7739326.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 11 Aug 2024 00:32:53 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>খবর</category><category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0a00-0242-46b9-08dc0a19b6ae_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>এখন নির্বাচন হলে বিএনপি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেঃ জাহেদ উর রহমান</title>
            <description>দেশের বর্তমান অবস্থায় নির্বাচন হলে বিএনপি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, কারণ প্রশাসনের সর্বস্তরে এখনও আওয়ামী লীগের লোকজন রয়েছে। নির্বাচন হলে সেখানে আওয়ামী লীগ অংশ নিলে, সেটার ফলাফল ম্যানিপুলেট করে তাদের পক্ষে নিয়ে যাবে। ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।


সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আদিত্য রিমন।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?



জাহেদ উর রহমানঃ প্রথমত, অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা। এক দিকে আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন, অন্যদিকে এই সময়ে যা ঘটে গেছে তা অনেক কষ্টেরও হয়ে গেলো। তাই খুব দ্রুত আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।



দ্বিতীয় হচ্ছে, আওয়ামী লীগের দুর্নীতি-দু:শাসনে মানুষ অনেক বেশি অতিষ্ঠ ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত হবে দুর্নীতি নিয়ে একটি কমিশন গঠন করে দুর্নীতিবাজদের খুজেঁ বের করা, তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা। তাদের সম্পতি বাজেআপ্ত করে রাষ্ট্রের করে নেওয়া। এটা শুধু অর্থনৈতিক দুর্নীতি না। যেমন ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ভোট করে, সরকারের কথা শুনে কোনও বিচারপতি কাউকে জামিন দিয়েছে, অথবা কাউকে জামিন দেয়নি, টাকা নিয়ে কাউকে জামিন দিয়েছে কোনও বিচারপতি এসবগুলো কিন্তু দুর্নীতি। এছাড়া ঋণ খেলাপি আছে। তাই অর্থনৈতিক দুর্নীতি থেকে যে কোনও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। এরমধ্যে সরকারের রাজনৈতিক লোক, প্রশাসন, আমলা ও ব্যবসায়ী যারাই নানা রকম অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।



তৃতীয় হচ্ছে, নির্বাচনের দিকে তো অবশ্যই যেতে হবে তাদেরকে। কিন্তু, এখন বাংলাদেশে একটা ভালো নির্বাচন করা ঝুঁকি রয়েছে। আগে একটা ভালো নির্বাচন কমিশন গঠন করে সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যেতো। তখন আমাদের প্রশাসন ও পুলিশ খুব বেশি নষ্ট ছিলো না। এখন চ্যালেঞ্জ হলো ভালো নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেও দিনশেষে নির্বাচনটা মাঠ পর্যায়ে করে প্রশাসন ও পুলিশ। এই প্রশাসনে এখন বীভৎস দলীয়করণ, অযোগ্য লোকেরা বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। সেটাও এই সরকারকে ঠিক করতে হবে। যাতে তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যেতে পারে।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সর্বোচ্চ কতদিনের মধ্যে একটি অবাধ নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার?



জাহেদ উর রহমানঃ একটি ভালো নির্বাচনের ওপর আমাদের ভবিষ্যত নির্ভর করছে। এটা নিয়ে তাড়াহুড়া করা যাবে না। আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষটি আসলেই ৩ মাসের একটা আলোচনা হতো। দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় কোনোভাবেই মনে হয় না, ৩ মাসের মধ্যে ভালো নির্বাচন সম্ভব। তাই এটা করতে এখন আরও বেশি সময় লাগবে, তবে কতদিন লাগবে সেটা নিশ্চিত নয়। তাই আমি মনে করি, একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের কাঠামো তৈরি না করে সেটা করা ঠিক হবে না। হয়তো কোনও বড় দলের চাপ দিতে পারে, এরমধ্যে দেখলাম বিএনপির পক্ষ থেকে ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। আমি মনে করি, ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন হলে বিএনপি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ নির্বাচন হলে সেখানে আওয়ামী লীগ অংশ নিলে তাদের লোকজন এখনো সব জায়ঘায়, তারা সেটা ম্যানিপুলেট করে তাদের পক্ষে নিয়ে যাবে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই সরকার যতটা সময় দরকার মনে করে দেওয়া উচিত। তারপরও খেয়াল রাখতে হবে অপ্রয়োজনীয় ও অন্যায়ভাবে তারা ক্ষমতায় বসে আছে কিনা সেটাও।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধান পরিবর্তন করে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের বিধান কি সংবিধানে স্থায়ী ভাবে সংযোজন যথেষ্ট বলে মনে করেন? নাকি প্রথমে একটি সংবিধান সভা নির্বাচন করে সেখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান তৈরী করে তার আলোকে নতুন নির্বাচন দেয়া উচিত?


জাহেদ উর রহমানঃ এখানে আসলে দুটো মতই আছে আমার। এখন যেভাবে অন্তবর্তীকালীন সরকার হচ্ছে সেটাও আমাদের সংবিধানে নেই। এই বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদ এসে তার বৈধতা দিবে। এরশাদের পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রে একাদশ সংশোধনী করে আমরা সেটা করেছি। সুতরাং এখনও যেটা হচ্ছে সেটাও সংবিধানের বাইরে হচ্ছে। আলাপ হচ্ছে-সংবিধান সভা নির্বাচন করে নতুন সংবিধান করে…তার আলোকে নির্বাচন- এটা করা গেলে আমি পজিটিভ ভাবে দেখবো। কিন্তু এটা এই মুহুর্তে করা না যায়, আমাদের সংবিধানের মৌলিক কিছু বিষয় তো পরিবর্তন করতেই হবে, সেখানে নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন তো লাগবেই। সেটা তো সংসদ ছাড়া করা যাবে না। নির্বাচন পরবর্তী সেটা করতে হবে। সংবিধান সভা মানে সেকেন্ড রিপাবলিক কথা বলছি, সেটা বাংলাদেশে হওয়া উচিত বলে আমি বিশ্বাস করি।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7739305.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7739305.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 11 Aug 2024 00:32:31 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>খবর</category><category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0a00-0242-6df1-08dc8f9fae7c_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>এক ব্যক্তির শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটার নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে: বদিউল আলম মজুমদার</title>
            <description>দেশে যেন আবার এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে কাজ ও পদক্ষেপ নিতে হবে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)–এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকার তিনি এসব কথা বলেন।


সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আদিত্য রিমন।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার কি হওয়া উচিত?



বদিউল আলম মজুমদারঃ প্রথম অগ্রাধিকার হবে একটা কার্যকর সরকার গঠন করা। তার অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুনর্গঠন করা। একইসঙ্গে প্রশাসন ও রাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্থাগুলো ঠিক করতে হবে। যেসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, আদালত থেকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো মোটামুটি কার্যকর করতে হবে।



দ্বিতীয় হচ্ছে, দুর্বৃত্তদের বিচার করা। এটা যত দ্রুত করা যাবে ততই ভালো হবে।



তৃতীয় হচ্ছে, দেশে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এখন তিনি চলে যাওয়ার পর সবকিছু ভেঙে পড়লো। এটার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেটার নিশ্চিত করা। তার জন্য সংবিধান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল অনেক কিছু সংস্কার করতে হবে।



আমাদের নিরাপদ সড়কের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাদের উত্তরসূরিরা এখনকার কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সুতরাং রাষ্ট্রকে মেরামত করতে যাতে এই আন্দোলনের ফসল জনগণের কাছে পৌঁছে। এটাকে এক অর্থে বলা যায় যে, আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। আমাদের প্রথম স্বাধীনতা এসেছিলো ১৯৭১ সালে। সাম্য-মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ হয়েছিল। তার থেকে আমরা এখন যোজন-যোজন দূরে। বস্তুত আমরা এখন পথহারা জাতি। এখন যেন এই সুফলগুলো আমাদের ঘরে পৌছাঁতে পারে।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সর্বোচ্চ কতদিনের মধ্যে একটি অবাধ নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার?



বদিউল আলম মজুমদারঃ আমি তো জ্যোতিষী নই, কিভাবে বলবো? তবে, রাষ্ট্র সংস্কারের এই কাজগুলো করতে তাদের যতদিন লাগে। এগুলো করতে সময় লাগবে। আমাদের কাছে তো আলাদিনের চেরাগ নেই যে, দৈত্য এসে করে দিবে। আবার কতগুলো জিনিস উপরওয়ালার কাছে ছেড়ে দিতে হয়, অর্থাৎ তাদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সুতরাং নির্বাচনের বিষয়টি নির্ভর করবে অন্তবর্তীকালীন সরকারের মুন্সিয়ানার ওপর। আবার আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ভূমিকার ওপর। তাই এই বিষয়টি পুরোপুরিভাবে অন্তবর্তীকালীন সরকারের হাতে নেই। রাজনৈতিক দলগুলো যদি এখনই ক্ষমতার মসনদে বসতে চায়, তাহলে এই সরকার কোনও সময়ই পাবে না।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধান পরিবর্তন করে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের বিধান কি সংবিধানে স্থায়ী ভাবে সংযোজন যথেষ্ট বলে মনে করেন? নাকি প্রথমে একটি সংবিধান সভা নির্বাচন করে সেখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান তৈরী করে তার আলোকে নতুন নির্বাচন দেয়া উচিত?



বদিউল আলম মজুমদারঃ রাষ্ট্র মেরামতের সবগুলো কাজ এই সরকারের পক্ষে করা সম্ভব হবে না। আবার চাইলে তাদেরকে ১ সপ্তাহের মধ্যে ক্ষমতা থেকে ফেলে দিতে পারবে ছাত্ররা এবং বিদেশীরাও। আমি যেটা মনে করি, তারা যেটা করতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটা আলাপ-আলোচনা করে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা বা বন্দোবস্ত। গত নির্বাচনের আগে আমরা সুজনের পক্ষ থেকে একটা প্রস্তাবনা তৈরি করেছিলাম, যেটা জাতীয় সনদ। এই রকম একটা রাজনৈতিক মীমাংসা হতে হবে, যার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। তারপর যে সরকার আসবে তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করবে, এই অঙ্গীকার করাতে হবে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7739346.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7739346.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 11 Aug 2024 00:32:16 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>খবর</category><category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-f3d9-08dc0a19a6a1_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>সঠিক সময়ে নির্বাচন হওয়া উচিত: আলী ইমাম মজুমদার আলী ইমাম মজুমদার</title>
            <description>দেশের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি দূর করে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে মনে করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, সাধারণ সভা করে নির্বাচন করতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাই তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনে সঠিক সময়ে নির্বাচন দেওয়াই উচিত হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।


সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আদিত্য রিমন।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?



আলী ইমাম মজুমদারঃ এই সরকার প্রধান উপদেষ্টা ডা. ইউনুস তো অনেক বড় মানুষ। সারা পৃথিবী জুড়ে তার পরিচিতি রয়েছে। এই বাছাইটা সময় উপযোগী ও ভালো হয়েছে। এছাড়া অনেক ভালো উপদেষ্টা আছেন। সবাইকে তো আর আমি জানি না। আর প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দেশে নৈরাজ্য চলছে। এখন প্রথম কাজ হবে এটা প্রতিরোধ করা, শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি এই নৈরাজ্য প্রতিরোধের তো হাতিয়ার দরকার। সেই হাতিয়ার হচ্ছে প্রশাসন। পুলিশ এবং অন্যান্য যে প্রশাসন রয়েছে, তাদেরকে কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সর্বোচ্চ কতদিনের মধ্যে একটি অবাধ নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার?



আলী ইমাম মজুমদারঃ এটার সর্বোচ্চ সময় কত হওয়া উচিত তা আমি বলতে পারবো না। তবে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ দরকার। তা হলেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে। তাই আগে এই সরকারকে দাঁড়াতে হবে। প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে হবে। তারপর রাজনৈতিক দলগুলোকে একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে হবে। এরজন্য যতটুকু সময় লাগে তাদেরকে দিতে হবে। তারপরই উপযুক্ত নির্বাচনে সময় হবে।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধান পরিবর্তন করে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের বিধান কি সংবিধানে স্থায়ী ভাবে সংযোজন যথেষ্ট বলে মনে করেন? নাকি প্রথমে একটি সংবিধান সভা নির্বাচন করে সেখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান তৈরী করে তার আলোকে নতুন নির্বাচন দেয়া উচিত?



আলী ইমাম মজুমদারঃ তারা তো শপথ গ্রহণ করেছে। বলেছেন সংবিধান সংরক্ষণ করার কথা। তবে, সাধারণ সংবিধান সভা করে নির্বাচন করতে গেলে অনেক দেরি হবে। আমি মনে করি, সঠিক সময়ে নির্বাচন হওয়া উচিত। তাই আগে যেহেতু আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিলো। সেই ব্যবস্থাটা যুক্ত করা যেতে পারে। তাহলে এবারের মতো অবস্থা হবে না। তখন ৫ বছর পর-পর একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। এতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াটা খুব সহজ হবে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7739290.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7739290.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 11 Aug 2024 00:31:45 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>খবর</category><category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-c0a8-0242-48ba-08dcbae77b4c_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>দেশকে ঠিক করতে যত সময় লাগে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে দেওয়া উচিতঃ মুজিবুল হক চুন্নু</title>
            <description>দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার সঠিক কাঠামো তৈরি, দুর্নীতিবাজদের বিচারসহ সামগ্রকিভাবে দেশকে নিয়মের মধ্য আনতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের যতদিন সময় লাগে, তাদেরকে সেই সময় দেওয়া উচিত বলে মনে করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।


সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আদিত্য রিমন। 



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ অন্তর্বর্তীকালীন/ জাতীয়/ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার কি হওয়া উচিত?



মুজিবুল হক চুন্নুঃ ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার হতে পারে। এটা রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে হতে পারে, আবার রাজনীতির বাইরে থেকে হতে পারে। এটা মূলত নির্ভর করে যারা আন্দোলন করেছে, সেই ছাত্রদের ওপর। এটা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই।



১. এখন তো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ অবস্থা। দেশে কোনও সরকার নেই। পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে না। সুতরাং প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে হবে।



২. নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন করে স্থায়ীভাবে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের কাঠামো করা।



৩. প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। দুর্নীতিবাজদের বিচার করা। আন্দোলনের সময় যাদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেইগুলোর তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। ক্ষতিগ্রস্তদের শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সহায়তা দিতে হবে।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সর্বোচ্চ কতদিনের মধ্যে একটি অবাধ নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার ?



মুজিবুল হক চুন্নুঃ আজকে দেশের এই অবস্থা কেন হলো? প্রথমে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সব পেশার মানুষ এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সরকার, দুর্নীতি ও নির্বাচন নিয়ে। এই সমস্ত বিষয়গুলো নিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব। এটা করতে নূন্যতম একটা সময় লাগবে। আমরা মনে করি, এই সমস্ত বিষয়গুলো সমাধান করতে তাদের যতটুকু সময় লাগে, তাদেরকে সেই সময় দেওয়া উচিত। সেটা যতদিনই হোক।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধান পরিবর্তন করে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের বিধান কি সংবিধানে স্থায়ীভাবে সংযোজন যথেষ্ট বলে মনে করেন? নাকি প্রথমে একটি সংবিধান সভা করে সেখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান তৈরি করে তার আলোকে নতুন নির্বাচন দেয়া উচিত?



মুজিবুল হক চুন্নুঃ  আমাদের বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে ভুল রয়েছে। এটা পরিবর্তন করে এমন একটি আধুনিক পদ্ধতি বের করতে হবে, যাতে কেউ ইচ্ছা করলেও কোনো জাল ভোট বা কারচুপি করতে পারবো না। আমরা মনে করি, এখন যে সরকার হবে, তারা যেহেতু  দলনিরপেক্ষ, তারা যেভাবে চিন্তা করবে একটা দলীয় সরকার সেইভাবে চিন্তা করতে পারবে না। অনেক সময় দলীয় সরকার, দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চিন্তা করে। তাই নিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে সম্ভব সাধারণ মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে এটা করা। পরে সেটা সংবিধানে যুক্ত করা যাবে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7732068.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7732068.html</guid>            
            <pubDate>Tue, 06 Aug 2024 22:47:11 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>খবর</category><category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (আদিত্য রিমন)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-c0a8-0242-a650-08dbec21b9b4_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>৩ মাসের মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবেঃ মির্জা ফখরুল</title>
            <description>অন্তবর্তীকালীন সরকার হিসেবে যারা ক্ষমতা গ্রহণ করবে, তাদেরকে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।



তিনি বলেন, তিন মাস অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য যথেষ্ট সময়।



ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষে থেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আদিত্য রিমন।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ অন্তর্বর্তীকালীন / জাতীয় / তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার কি হওয়া উচিত ?



মির্জা ফখরুল: ১.আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা ও আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। ২. অতি দ্রুত নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।৩. অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য কাজ করা।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সর্বোচ্চ কতদিনের মধ্যে একটি অবাধ নিরপেক্ষ , অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার?



মির্জা ফখরুলঃ আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে-সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধান পরিবর্তন করে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের বিধান কি সংবিধানে স্থায়ী ভাবে সংযোজন যথেষ্ট বলে মনে করেন? নাকি প্রথমে একটিসংবিধান সভা নির্বাচন করে সেখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান তৈরি করে তার আলোকে নতুন নির্বাচন দেয়া উচিত?


মির্জা ফখরুলঃ এটাই করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংবিধানে স্থায়ীভাবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থাটা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আগে নির্বাচন করতে হবে।তারপরই তো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে গেলো।তারপর সংবিধানে যেসব জায়গা পরিবর্তন করা দরকার, সেইগুলো পরিবর্তন হবে। একইসঙ্গে এখন যেটা করা হচ্ছে সেটাকে বৈধতা দেওয়া হবে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7732055.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7732055.html</guid>            
            <pubDate>Tue, 06 Aug 2024 22:40:34 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>খবর</category><category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (আদিত্য রিমন)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-c0a8-0242-ce3a-08dcb5568db2_w800_h450.png" length="0" type="image/png"/>
        </item>		
        <item>
            <title>দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করে যাব: ভিওএ সাক্ষাৎকারে ডনাল্ড লু</title>
            <description>যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, ডনাল্ড লু গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফর করেন। এ সফরে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। এ সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সম্পর্কের মাঝে আস্থার জায়গা ফিরিয়ে আনা ও অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, &quot;আমরা পেছনে নয়, সামনের দিকে তাকাতে চাই।&quot;



সেই সঙ্গে তিনি দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটমেন্টের ব্যাপারটিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।



ডনাল্ড লু&apos;র সফরের পরপরই ২০ মে, ২০২৪ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ৭০৩১ (সি) ধারার অধীনে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে &quot;পাবলিক ডেজিগনেশন&quot; (একধরনের নিষেধাজ্ঞা) ঘোষণা করে।



বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ মে একটি সভায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বলেন, তিনি যদি বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি স্থাপনের জন্য একটি বিদেশি দেশকে অনুমতি দিতেন, তবে গত জানুয়ারিতে তাকে ঝামেলামুক্ত পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।



শেখ হাসিনা বলেন, &quot;আমি যদি একটি নির্দিষ্ট দেশকে বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি দিতাম, তাহলে আমার কোনো সমস্যা হতো না।&quot;



বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।



ডনাল্ড লু তার এবারের সফরে বাংলাদেশের সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, যারা ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করেছিল তাদের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা না করায় বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের একাংশের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এসব বিষয়সহ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা ও গুরুত্ব নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলা গত ১০ জুন ২০২৪ অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডনাল্ড লু&apos;র একটি লিখিত সাক্ষাৎকার নেয়।



এ সাক্ষাৎকারে ডনাল্ড লু তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের অর্জন, দুর্নীতিবিরোধী লড়াই, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু সংকট মোকাবেলা, নারী অধিকার ও উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণের সাথে একযোগে কাজ করে যাবার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটমেন্টসহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি তার এবারের সফরে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা না করা ও বাংলাদেশে নির্বাচন ইস্যুতে ও গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিষয়ে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের &quot;নমনীয়&quot; নীতির সমালোচনার ব্যাপারেও তাঁর সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।



ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলার হয়ে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শতরূপা বড়ুয়া।



প্রশ্ন: আপনার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে, আপনি বলেছেন যে বাংলাদেশে গত ৭ জানুয়ারিতে হয়ে যাওয়া সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হয় ও এ দেশে গণতান্ত্রিক ধারা উৎসাহিত হয়– এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কিছু উদ্যোগের কারণে দু’দেশের সম্পর্কে একধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে এখন আর পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কের মাঝে আস্থার জায়গাটি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও কাজ করার কথা বলেছেন।



এটি কি বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত, যেখানে আপনারা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্র সুরক্ষা ও প্রসারের বদলে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে বেশি মনোযোগ দিতে চান?



ডনাল্ড লু: এই সাক্ষাৎকারের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ। বাংলাদেশে ভয়েস অফ আমেরিকার কাজের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে।



আমার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের সময় আমি যেমনটি বলেছিলাম, আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি, পেছনে নয়।



আমরা বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে আমাদের অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত এবং আগ্রহী। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের সাথে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর হবে। নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় আমরা আমাদের অভিন্ন স্বার্থকে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা ইতোমধ্যে জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করছি। আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দু’দেশের মধ্যে নিজেদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে একসাথে কাজ করে যাবার ব্যাপারে আশাবাদী।



(সেইসাথে) বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন আমাদের জন্য একটি অগ্রাধিকার। আমরা সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সমর্থন করে যাব এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখব।




প্রশ্ন: বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এবং সুশীল সমাজের একটি অংশ ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের ইস্যুতে, যার মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও রয়েছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি &quot;নমনীয়&quot; ভূমিকা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সমালোচনা করেছে। আপনি এ সমালোচনার ব্যাপারে কী বলবেন?



ডনাল্ড লু: যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে সমর্থন করে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরো নির্বাচনকালীন চক্রজুড়ে আমরা নিয়মিত বাংলাদেশের সরকার, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার কাজে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে তাদেরকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্তকারী সহিংসতার নিন্দায় আমরা সোচ্চার ছিলাম এবং আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সহিংসতার ঘটনাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যভাবে তদন্ত করতে এবং যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্যও অনুরোধ করেছি। এই বিষয়গুলি নিয়ে (সংশ্লিষ্টদের সাথে) আমাদের যোগাযোগ চালু থাকবে।



প্রশ্ন: আপনার সাম্প্রতিক সফরে আপনি সুশীল সমাজের সদস্যদের সাথে দেখা করলেও নির্বাচন বয়কটকারী বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করেননি। আপনার সাম্প্রতিক সফরে কেন বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা না করার সিদ্ধান্ত নিলেন?




ডনাল্ড লু: এটা সত্য যে গত বছর নির্বাচনের আগে আমি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকের সুযোগ পেয়েছিলাম। এটা প্রাক-নির্বাচনের সময় নয়, তাই এবারের সফরে আমি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দেখা করিনি।



এবার ঢাকায় থাকাকালীন আমার সৌভাগ্য হয়েছে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার। (এর মধ্যে ছিলেন) সুশীল সমাজের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সাথেও আমি দেখা করেছি, যারা আমাকে বোলিং এবং ব্যাটিং সম্পর্কে দু&apos;একটি ব্যাপার শিখিয়েছে।



প্রশ্ন: আপনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সাথে একসাথে কাজ করার জন্য আপনার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ লড়াইয়েরই একটি অংশ?



আপনি কি (দুর্নীতিসংক্রান্ত) এই ইস্যুগুলো সমাধানের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা করার সদিচ্ছা নিয়ে সন্তুষ্ট?



ডনাল্ড লু: আমি যখন আলবেনিয়া এবং কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রদূত ছিলাম, আমরা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা (স্যাংশান) দিয়েছিলাম। এটি তখনকার (আলবেনীয়) সরকারের কাছে জনপ্রিয় ছিল না, কিন্তু এখন সেই নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সাবেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সবাই কারাগারে। সারা বিশ্বের সমাজ দুর্নীতির বিচার দেখতে আগ্রহী।



আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ২০ মে, আমরা ৭০৩১ (সি) ধারার অধীনে সাবেক জেনারেল আজিজ আহমেদের উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে &quot;পাবলিক ডেজিগনেশন&quot; ( একধরনের নিষেধাজ্ঞা) ঘোষণা করি। দুর্নীতির এ অভিযোগগুলোর ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে বলে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বিবৃতি দিয়েছেন, আমরা এ ব্যাপারটি স্বাগত জানাই।




প্রশ্ন: আমরা কি অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য উচ্চ-প্রোফাইলের বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপরও দুর্নীতির সাথে সম্পর্কিত এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি দেখতে পাব?



ডনাল্ড লু: যখন আমাদের কাছে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকে, তখন আমরা সারা বিশ্বেই নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা বিধিনিষেধের আকারে প্রকাশ্যে পদক্ষেপ নিই। আমাদের আইনগুলি আমাদেরকে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা তাদের দুর্নীতির অর্থের গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট। আমি আশা করি, আমরা বাংলাদেশের জনগণের সাথে মিলে সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করে যাব।



প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ মে অভিযোগ করেছেন যে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের কিছু অংশ আলাদা করে পূর্ব তিমুরের মতো একটি &apos;খ্রিষ্টান&apos; জাতি-রাষ্ট্র গঠনের চক্রান্ত চলছে।



তিনি আরও দাবি করেছেন যে, তিনি যদি বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি স্থাপনের জন্য একটি দেশকে অনুমতি দিতেন তবে গত জানুয়ারিতে তাকে ঝামেলামুক্ত পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করেই এ বক্তব্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, &quot;অফারটি এসেছে একজন সাদা মানুষের কাছ থেকে।... আমি যদি একটি নির্দিষ্ট দেশকে বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি দিতাম, তাহলে আমার কোনো সমস্যা হতো না,&quot; তিনি যোগ করেন।



যুক্তরাষ্ট্র কি কখনও বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে?



ডনাল্ড লু: এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি। নির্বাচনের সময় আমাদের অগ্রাধিকার ছিল শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশের সাথে কাজ করা।




প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরীক্ষণের জন্য আপনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে বিনামূল্যে স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে? আপনার মতে, দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোন ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?



ডনাল্ড লু: মে মাসে ঢাকা সফরের সময় প্রচণ্ড গরমে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি আমি নিজেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করেছি। জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ক্লিন এনার্জি ক্যাপাসিটি গড়ে তোলা, কৃষি ও বিদ্যুতের মতো খাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো, জীববৈচিত্র্য বজায় রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে পরিবেশ সংরক্ষণের দিকে মনোনিবেশ করছি। (এ বিষয়ে) বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল।




প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে বাংলাদেশ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে? এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো কী?


ডনাল্ড লু: একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, যা স্বাধীন এবং উন্মুক্ত, সংযুক্ত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল। যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যাপারে এমন একটা অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে। একটি গতিশীল এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তাকে এ অঞ্চলের বাণিজ্য প্রসারের একটা সেতু এবং এই অঞ্চলে সমৃদ্ধির নোঙ্গর হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।



আমরা এই অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সংকট মোকাবেলা এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের উন্নয়নে আমাদের বাংলাদেশি অংশীদারদের সাথে কাজ করার দিকে মনোনিবেশ করছি। এ ইস্যুগুলোসহ অন্য ইস্যুগুলোর সমন্বয়, আমাদের উভয় দেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7652855.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7652855.html</guid>            
            <pubDate>Wed, 12 Jun 2024 19:57:11 +0600</pubDate>
            <category>সাক্ষাৎকার</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><category>যুক্তরাষ্ট্র</category><category>বিশ্ব</category><author> voadigital@voanews.com (শতরূপা বড়ুয়া)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0a00-0242-fb5e-08dbd7bd046a_cx0_cy10_cw0_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>সৌরভ গাঙ্গুলিঃ ভারত-পাকিস্তান টি-২০ বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছবে</title>
            <description>আর মাত্র এক দিন। শনিবার ১ জুন থেকে নিউ ইয়র্কেই শুরু হবে আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ। মোট ২০ দল খেলবে এবার। ২১ মে রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে নিউ ইয়র্কের বিমানে উঠেছেন রোহিত শর্মারা। ভারতের প্রথম ম্যাচ ৫ জুন, নিউ ইয়র্কে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। যদিও সব নজর এখন থেকেই টেনে নিয়েছে ৯ জুনের ম্যাচ। আমেরিকার মাটিতে মুখোমুখি হবে ক্রিকেট দুনিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, ভারত ও পাকিস্তান।


টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এ নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকা কথা বলেছে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে।ভয়েস অফ আমেরিকার হয়ে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শুভ্র মুখোপাধ্যায়।




সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কি যাচ্ছেন ধারাভাষ্য দিতে?



প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বললেন, খেলা দেখতে অবশ্যই যেতে চান। “এখনই কিছু পরিকল্পনা করিনি। ধারাভাষ্য করব কিনা বলতে পারছি না। প্রস্তাব এলে ভেবে দেখব, সেটা বলতে পারি। তবে খেলা দেখতে তো যেতে চাই।&quot;



কারা যেতে পারে তাহলে শেষ চারে?



ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। যাতে আরও তেল-ঘি ঢেলেছে এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তথা আইপিএল। অস্ট্রেলিয়ার ট্র্যাভিস হেড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পূরণ, দক্ষিণ আফ্রিকার হাইনরিখ ক্লাসেন, আইডেন মার্করাম, ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, ফিল সল্টরা সমর্থকদের প্রত্যাশাকে বুর্জ খলিফায় উঠিয়ে দিয়েছেন।



সৌরভ কিন্তু এবারের আইপিএলে ধুন্ধুমার ব্যাট করা ইংরেজদের চাইতে এগিয়ে রাখছেন নিউজিল্যান্ডকে। পাশাপাশি, পাকিস্তানকেও বাদ রাখছেন না। তবে ভারত যে শেষ চারে যাবেই, সে নিয়ে নিশ্চিত প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক।




বললেন, &quot;আমার মতে, ভারতীয় দল টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাবেই। তারপরেই আসল পরীক্ষা। আমার বিচারে, শেষ চারের দল অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান।&quot; তারপরেই আসল লড়াই।



এবার টি-২০ বিশ্বকাপের আয়োজক যৌথভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র। বহুদিন পর বড়মাপের টুর্নামেন্ট ফিরতে চলেছে ক্রিকেট রূপকথার দেশে। সময়টা বেশ কয়েকদিন ধরেই খারাপ যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এককালের বুক কাঁপানো ম্যালকম মার্শাল, অ্যান্ডি রবার্টস, জোয়েল গার্নার, মাইকেল হোল্ডিং, ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডসদের দল ইতিহাসে প্রথমবার গত বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।


আর অন্য স্বাগতিক আমেরিকাতে ক্রিকেট খেলাটা মূলধারায় সেভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। বেসবল-বাস্কেটবলের দাপটে ফুটবলেরই (সকারেরই) যেখানে কাহিল দশা, ক্রিকেট তো সেখানে পাত্তাই পায় না। ক&apos;জন অ্যামেরিকান ক্রিকেটের নাম জানেন জিজ্ঞেস করলে এদিক-ওদিক তাকাতে হবে। তবে ছবিটা ইদানিং পাল্টাচ্ছে। আমেরিকায় ক্রিকেট জনপ্রিয় করার জন্য আইসিসি চেষ্টায় ত্রুটি রাখছে না। অবসরপ্রাপ্ত তারকাদের নিয়ে &apos;লেজেন্ডস ক্রিকেট লিগ&apos; খেলিয়েছে। যাতে খেলে এসেছেন সৌরভ।




পিচ কন্ডিশন কেমন হবে?




আমেরিকা মানেই স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য, তেমন মনে করার দিন আর নেই বলে মনে করেন সৌরভ। লেজেন্ডস লিগ খেলার অভিজ্ঞতা থেকে বললেন, &quot;সেইসময় উইকেট ছিল ব্যাটসম্যান সহায়ক। তবে এবার তো শুনছি ওরা অন্য শহর থেকে পিচ এনে মাঠ তৈরি করেছে।&quot; বস্তুত, ফ্লোরিডার লডারহিল বাদ দিলে আমেরিকার বাকি সব মাঠই বিশ্বকাপের আগে তড়িঘড়ি তৈরি হচ্ছে।



কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা ক্যারিবিয়ান সাগরের বিভিন্ন দ্বীপে। সেখানে স্পিন ও পেসের ভাল ব্যালেন্স থাকে। বিশেষ করে ত্রিনিদাদ ও গায়নার পিচে টার্ন ভালই। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধ্রুপদী ফাস্ট বোলারদের বধ্যভূমি বলে পরিচিত বার্বেডোজ, অ্যান্টিগুয়া, সেন্ট লুসিয়ার কথাও ভাবতে হবে।


সৌরভও মানছেন, &quot;ওয়েস্ট ইন্ডিজেই বেশি ম্যাচ খেলবে ভারত। ওই দেশের পিচ হবে স্পিনিং। তাই চার স্পিনার নিয়ে যাওয়া ভাল বিষয়। আমি মনে করি, সাত ব্যাটসম্যান, তারমধ্যে একজন বোলিং অলরাউন্ডার থাকতে হবে দলে। আর বিশেষজ্ঞ চার বোলার নিয়ে মাঠে নামা উচিত। দু’জন স্পিনার ও দু’জন পেসার থাকা দরকার দলে।&quot;



কেমন হওয়া উচিত ভারতের লাইনআপ?



এই চার স্পিনারের চক্করে এবারের ভারতীয় দল নিয়ে নির্বাচনের আগে থেকে বিস্তর জলঘোলা চলছে। মোটামুটি কয়েকজনের নাম চূড়ান্ত ছিল। ওই তালিকায় ছিলেন বিরাট কোহলি থেকে রোহিত শর্মা, যশপ্রীত বুমরাহ, কুলদীপ যাদব, ঋষভ পন্থরা। কিন্তু বাকি জায়গাগুলো নিয়েই আমদাবাদের আইটিসি নর্মদায় কার্যত আলোচনার তুফান চলেছে নির্বাচকদের মধ্যে। শেষ অবধি ওপেনে রোহিতের সঙ্গে কি যশস্বী জয়সওয়াল থাকবেন নাকি শুভমন গিলকে খেলানো হবে? তিনে তো বিরাট ছাড়বেন না। চারে সূর্যকুমার মুম্বইয়ের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ওদিকে হার্দিক ব্যাটিং-এর সঙ্গে মিডিয়াম ফাস্ট বোলিংটাও ভাল করেন। স্পিনে আবার ওই দিক দিয়ে রবীন্দ্র জাডেজা রয়েছেন। তাহলে কি সঞ্জু স্যামসন বাদ পড়বেন? শেষ অবধি সঞ্জুকে নিয়েছেন অজিত আগরকর।




কিন্তু সৌরভ বলছেন, বিরাটের উচিত রোহিতের সঙ্গে ওপেন করা। এমনিতেই আরসিবির হয়ে বিরাট ওপেন করে কমলা টুপি আদায় করে নিয়েছেন।


সৌরভ বললেন, &quot;আমি বারবারই বলব, রোহিতের সঙ্গে কোহলিই ওপেন করুক। বিপক্ষ দল যদি দেখে, দুই হেভিওয়েট তারকা ওপেনে নামছে, একটু সমীহ তো করবেই। কোহলি কিন্তু দারুণ ফর্মে আছে। দুই সিনিয়রকে নিয়েই আমি আশাবাদী। ওরা কথা বলে ঠিক করুক, কে ধরে খেলবে, কে মারবে! ম্যাচ বুঝে সেই মত এগোতে হবে।&quot;



পাশাপাশি ঋষভ পন্থকে নিয়ে কার্যত উচ্ছ্বসিত সৌরভ। দিল্লিতে তাঁর অধীনেই ঋষভ দুর্ঘটনা থেকে চোট সারিয়ে &apos;কামব্যাক&apos; করেছে। সৌরভ বললেন, &quot;আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি, ঋষভ দারুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার। এরকম খেলোয়াড় খুবই বিরল। এক হচ্ছে ওর ক্রিকেটীয় প্রতিভা, আর দুই হল, ঋষভের জেদ। দুই মিশ্রণে ওর মতো লড়াকু তারকা হয় না। টি-২০ বিশ্বকাপেও নিজেকে মেলে ধরবে। এত বড় চোট পাওয়ার পরেও দ্রুত মাঠে ফিরে প্রমাণ করেছে, ওর পক্ষে সবই সম্ভব।&quot;




কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ভারত?



২০১৩ সালে শেষ আইসিসি ট্রফি জিতেছে ভারত। তারপর এগারো বছর কেটে গিয়েছে। ভারতের ট্রফি-খরা এখনও কাটেনি। কেন বার বার ব্যর্থ হচ্ছে ভারত? প্রাক্তন অধিনায়ক মনে করিয়ে দিলেন, গত বিশ্বকাপে কিন্তু ফাইনালের আগে একটাও ম্যাচ হারেনি ভারত।




সৌরভ বললেন, &quot;এটা সত্যি কথাই যে, আইসিসি ট্রফিতে অনেকদিন ধরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ভারতীয় দল। তবে আমি এটাও বলব, গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে একটা ম্যাচ না হেরে। এছাড়াও আরও সাফল্য পেয়েছে। আমি ইতিবাচক মানসিকতা রাখতে চাই। হতাশ হলে চলবে না। ব্যর্থতার একটা কারণ, সবাই অহেতুক চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে ভাবছে। এতে করে সবার ওপর চাপ পড়ে যাচ্ছে। এসব চাপ থেকে দূরে সরে স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে হবে। নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে এবার তো ভাল কিছু করা অবশ্যই সম্ভব।&quot;



রিঙ্কু সিংহের বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া প্রসঙ্গে



আইপিএলে সৌরভ দিল্লি ক্যাপিটালসের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু প্রাক্তন কেকেআর অধিনায়ককে পেয়ে রিঙ্কু সিংহের কথা একবার জিজ্ঞেস না করলে হয়? এবারে তো রিঙ্কুর রিজার্ভে থাকা নিয়ে রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে সমাজমাধ্যমে। কী বলবেন আপনি? সৌরভ কিন্তু রিঙ্কুর বাদ পড়া নিয়ে অবাক হ&apos;ননি।


সাফ বলেন, &quot;আমি জানতাম, চার স্পিনার নিয়ে গেলে ওকে বাদ পড়তে হবেই। হার্দিককে এখনও দলে দরকার। বড় মঞ্চের খেলোয়াড়। শিবম দুবেও আমার দারুণ পছন্দের।&quot; কিন্তু তাই বলে হতাশ হলে চলবে না। সৌরভ বললেন, &quot;দল থেকে বাদ নিয়ে আপসেট হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। রিঙ্কুর কাছে আবারও বড় মঞ্চের জন্য সুযোগ আসবে, সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। দল থেকে বাদ পড়ে বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারও কাছে যেতেও হবে না, বলতেও হবে না কিছু। রিঙ্কুকে একটাই কথা বলব, এখনই যেন ধৈর্য্য না হারায়। আরও বহু পথ যেতে হবে।&quot;




আইপিএলের ধকল কি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে?



তবে সৌরভের আশঙ্কা, আইপিএলের ধকল। ২৬ মে আইপিএলের ফাইনাল। মাত্র ছয়দিনের মধ্যে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। মাঝে লম্বা উড়ান আছে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়ে এরকম বড় টুর্নামেন্টে যাওয়াটা কি ঝুঁকির নয়? এমনিতেই বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের খেলোয়াড়দের আইপিএলের আগেই ফিরিয়ে নিয়ে আসার তোড়জোড় চলছে। দেশে ফিরে গিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, ইংল্যান্ডও বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ খেলবে বলে ফিল সল্ট, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, স্যাম কারানদের উড়িয়ে নিয়ে যাবে জানিয়েছে।


সৌরভ যেমন বললেন, &quot;আইপিএলের ধকল দলের ক্রিকেটাররা কেমন নিতে পারছে, সেটা কিন্তু বিশ্বমঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেবে।&quot;

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7610859.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7610859.html</guid>            
            <pubDate>Sat, 01 Jun 2024 00:17:12 +0600</pubDate>
            <category>ভারত</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><category>সাক্ষাৎকার</category><category>দক্ষিণ-এশিয়া</category><category>খেলাধুলা</category><category>যুক্তরাষ্ট্র</category><category>টি-২০ ক্রিকেট বিশ্ব্বকাপ</category><author> voadigital@voanews.com (ভয়েস অফ আমেরিকা)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-875e-08dc819b87f6_cx0_cy14_cw0_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার ফলে আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা কম হতে পারে- রাণা দাশগুপ্ত</title>
            <description>যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় তবে আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের ওপর  সহিংসতার ঘটনা না ঘটার বা কম ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত। 


সোমবার, ১৬ অক্টোবর ভয়েস অফ আমেরিকার সাথে এক সাক্ষাতকারে তিনি একথা বলেন।


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন, হামলার ঘটনা না ঘটে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে এবং ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন তারা যেন নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এটা নিশ্চিত করার জন্য হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে বলে ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানিয়েছেন এডভোকেট দাশগুপ্ত। এছাড়া, নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু নাগরিকদের মানবাধিকার কোনভাবেই যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সেজন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ-র নেতৃত্বাধীন কমিশনে ও পৃথকভাবে স্বারকলিপি দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। 


আগামী নির্বাচনে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুরা যাতে নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিতের জন্যে নির্বাচন কমিশনে ৭ দফা এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়, সেজন্য  মানবাধিকার কমিশনে ৫ দফা প্রস্তাব তারা দিয়েছেন ।


গত ১২ অক্টোবর কুমিল্লাতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মিছিলে যুবলীগের কর্মীরা ধাওয়া দিয়েছে, এ প্রেক্ষাপটে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল দুর্গাপূজার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট আন্তরিক কিনা, ভয়েস অফ আমেরিকার এমন একটি প্রশ্নের জবাবে রাণা দাশগুপ্ত বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে ২ জন যুবলীগ কর্মীকে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২টি সমাবেশ কুমিল্লায় স্থগিত করা হয়েছে, সরকারি দল ও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।



এডভোকেট দাশগুপ্ত আরো বলেন, মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের তরফ থেকে এবারের শারদীয় দুর্গাপুজোয় নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। &quot;আমরা এ অঙ্গীকারের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। দুর্গাপূজার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে (সরকার) যথেষ্ট আন্তরিক কি না তা সময়ই বলে দেবে।&quot; চলতি বছরে দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার অন্তত ১ মাস আগে থেকে দেশের নানান মন্দিরে বিগ্রহ ভাংচুর ও আক্রমণের ঘটনা তাদের  সামনের পরিস্থিতি নিয়ে অধিকতর উদ্বেগ তৈরী করেছে বলেও তিনি জানান।


সংখ্যালঘুদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্য প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন কিনা এবং সংখ্যালঘু  সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও উন্নতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে সামাজিক চুক্তি প্রয়োজন সে আলোচনায়  বিএনপি ও সমমনা দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জনাব রানা দাশগুপ্ত ইতিবাচক জবাব দেন।  তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্য প্রয়োজন। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে তারা উদ্যোগ নিয়েছেন।


সাক্ষাৎকার

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ  গত পহেলা অক্টোবর  সংবাদ সম্মেলনে দুর্গাপূজার সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আপনি বলেছেন, ২০২১ সালে পূজার সময় (হামলার) ঘটনা ঘটেছে, ২০২২ সালে ঘটেনি, তার মানে সরকার চাইলে (হামলার) ঘটনা ঘটবে না, না চাইলে ঘটবে, এটা এখনকার বাস্তবতা। ওই প্রেস কনফারেন্স-এ আপনি আরো বলেছেন এর মধ্যেই এবার মূর্তি ভাঙা শুরু হয়ে গেছে...এরপর গত ১২ অক্টোবর কুমিল্লাতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মিছিলে যুবলীগের কর্মীরা ধাওয়া দিয়েছে, এ প্রেক্ষাপটে আপনি কি মনে করেন যে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল দুর্গাপূজার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট আন্তরিক?


রাণা দাশগুপ্তঃ আপনার এ প্রশ্নের জবাবে বলতে চাই, কুমিল্লার স্থানীয় সরকারদলীয় এমপি বাহারের দুর্গাপুজো নিয়ে অশালিন উক্তি ও মন্তব্যের প্রতিবাদে গত ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মিছিলে হামলার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে ২ জন যুবলীগ কর্মীকে গত ১৫ অক্টোবর গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। এরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছে। তাছাড়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২টি সমাবেশ কুমিল্লায় স্থগিত করা হয়েছে। আমরা সরকারি দল ও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। অতি সম্প্রতি ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজোর সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়। এতে ২০২১ সালের দুর্গাপুজোর সময় সংগঠিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ২০২২ সালের এই সময়ে শান্তিপূর্ণ সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উৎসব অনুষ্ঠানের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বলা হয়, সরকার চাইলে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের পক্ষে এবারের শারদীয় দুর্গাপুজোয় নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। আমরা এ অঙ্গীকারের প্রতি আস্থা রাখতে চাই।


দুর্গাপূজার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট আন্তরিক কি না তা সময়ই বলে দেবে। এ সময়ের জন্যে আমরা পূজার্থীরা সবাই অপেক্ষা করছি।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ  দুর্গাপূজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার?


রাণা দাশগুপ্তঃ আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণলয়ের সভায় নানান প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছি যা গৃহীতও হয়েছে। এখন দেখা যাক, বাস্তবে এসব পদক্ষেপ কার্যকর হচ্ছে কি না।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ  গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মদমুক্ত পূজা করার কথা বলেও সাম্প্রদায়িক কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন, কুড়িগ্রামে চারণকবি রাধাপদ রায়ের ওপর সম্প্রতি হামলা হয়েছে, মুন্সিগঞ্জের মেয়র ফয়সাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মৃনাল কান্তি দাসকে “মালা...”বলে গাল দিয়েছেন, ক্ষমতাসীন দলের অনেকের মধ্যে এই যে সাম্প্রদায়িক আচরণের প্রকাশ ঘটছে, আসন্ন দুর্গাপূজার প্রেক্ষাপটে আপনি কি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত বোধ করছেন?


রাণা দাশগুপ্তঃ ক্ষমতাসীন দলের কারো কারো মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক আচরণের প্রকাশ ঘটছে, সামনে নির্বাচন ও আসন্ন দুর্গাপূজার প্রেক্ষাপটে তাতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকা বোধ না করে উপায় নেই। তবে শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, নির্বাচন নিয়ে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের পূর্বাপর নিয়ে যেসব সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সেসব বিবেচনায় রেখে আমরা নিস্বন্দেহে বিচলিত ও উদ্বিঘ্ন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংগঠিত ঘটনাবলীর নানান তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক জেলা জজ শাহবুদ্দিন আহমেদ-এর নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের ২০১১ সালে সরকারের বরাবরে পেশকৃত রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতে আজো কোন আইনগত-প্রশাসনিক পদক্ষেপ অজানা কারণে দীর্ঘ ১২ বছর পরেও কার্যকর হয়নি।


ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিচারের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আজো অব্যাহত। যদি তা না হতো তাহলে সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে যে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে তা হতো বলে মনে হয় না। চলতি বছরে দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার অন্তত ১ মাস আগে থেকে দেশের নানান মন্দিরে বিগ্রহ ভাংচুর ও আক্রমণের ঘটনা আমাদের সামনের পরিস্থিতি নিয়ে অধিকতর উদ্বেগাকুল করে তুলেছে।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ গত ২২ সেপ্টেম্বর গণ-অনশন ও গণসমাবেশ কর্মসূচি থেকে আপনি অভিযোগ করেন, “মূর্তি ভাঙা শুরু হয়ে গেছে।” এই ভাঙচুর করতে গেলে একজনকে ধরা হয়েছিল, তারপর তাকে বলা হলো সে পাগল। অতীতেও এভাবে যাদের ধরা হয়েছিল, তাদের পাগল বলেছে। ফরিদপুরে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং নানা জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে অভিযোগ করে আপনি বলেছেন, এ ঘটনাগুলো যাতে না ঘটতে পারে, সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আপনারা বৈঠক করেছেন, তারপর ও সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো ঘটেই চলেছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আপনি সম্প্রতি বলেছেন, &quot;নির্বাচনের পূর্বাপর অবস্থা আমাদের জন্য সুখকর নয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল আমরা দেখেছি; ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পূর্বাপর কী হলো, আমরা ভুলি নাই। ১৯৯০ সালের অক্টোবর মাসে কী হয়েছিল, আমরা এগুলো ভুলতে পারি না।&quot; আপনি আরো বলেছেন, ২০১১ সালের পর থেকে আজকে যা চলছে, এটি হচ্ছে রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনি কি এবারের দুর্গাপূজায় বড়ধরণের সহিংসতার আশংকা করছেন?


রাণা দাশগুপ্তঃ এ প্রশ্নের উত্তর আমি ইতিমধ্যেই প্রদান করেছি। এ বিষয়ে আর নতুন করে কিছু বলার নেই।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন হামলার ঘটনা না ঘটে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে এবং ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন তারা যেন নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এটা নিশ্চিত করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার? বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থায় কী ধরণের সংস্কার করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?


রাণা দাশগুপ্তঃ আমরা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে জনাব কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু নাগরিকদের মানবাধিকার কোনভাবেই লঙ্ঘিত না হয় সেজন্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ-র নেতৃত্বাধীন কমিশনের সাথে সাক্ষাত করে পৃথক পৃথকভাবে স্বারকলিপি প্রদান করেছি। আগামী নির্বাচনে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুরা যাতে নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিতের জন্যে নির্বাচন কমিশনে ৭ দফা এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয় সেজন্যে মানবাধিকার কমিশনে ৫ দফা প্রস্তবনা তুলে ধরেছি। উভয় কমিশন আমাদের প্রস্তাবনাকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করে নিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। আমরা একে ইতিবাচক হিসেবে ধরে নিয়েছি।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সংখ্যালঘুদের দেওয়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে আপনি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এরপরও, আপনাদের দাবিগুলো, যেমন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বাজেটে সংখ্যালঘুদের জন্য আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দেয়া, সংখ্যালঘুদের সঠিক শুমারি করার উদ্যোগ নেয়াসহ সংখ্যালঘুদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জীবনে একধরনের আশাহীনতা ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে আপনি বলেছেন। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ যে আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে আপনাদের দাবিগুলো মানবে সে ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী।


রাণা দাশগুপ্তঃ বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে এ ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা ছাড়া বিকল্প আর কি কিছু আমাদের সামনে খোলা আছে। আমরা সুষ্পষ্টভাবে বলতে চাই, ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ, অধিকার ও অস্তিত্ব এবং সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার তাগিদে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক পন্থায় মানবাধিকারের লড়াই চলছে, চলবেই। এক্ষেত্রে কোন আপোস আমরা অতীতেও করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সংখ্যালঘুদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্য প্রয়োজন, কিন্তু আপনাদের তরফ থেকে বিএনপি বা সমমনা দলগুলোর সাথে এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করার কোনো উদ্যোগ সেভাবে দেখা যায় না, কেন? আর আপনি কি মনে করেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও উন্নতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে সামাজিক চুক্তি প্রয়োজন তা বিএনপি ও সমমনা দলগুলোকে আলোচনার বাইরে রেখে করা সম্ভব?


রাণা দাশগুপ্তঃ আমরা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি, সংখ্যালঘুদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্য প্রয়োজন।

ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দেশে যাতে না হয় এবং সংখ্যালঘুরা নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে যাতে আগামী জানুয়ারী মাসে ভোট দিতে পারে তজ্জন্যে প্রয়োজনীয় ঐক্যমত্যে আসার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতি আমাদের সভা-সমাবেশ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা খুশি হয়েছি, আগামী শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালীন সময়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের যাবতীয় কর্মসূচি গ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে এবং ঐ দিনগুলোতে যাতে কোনরূপ সহিংসতা কেউ যাতে করতে না পারে বা সহিংসতার উসকানি দিতে না পারে তজ্জন্যে সজাগ ও সতর্ক ভূমিকা পালনের জন্য বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দলীয় নেতা ও কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এজন্যে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।


সরকার দলীয় সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের এমপি গত জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কা ব্যক্ত করে পূজার্থীদের সজাগ, সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। নির্বাচন এখনো প্রায় ৩ মাস বাকি। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা আমরা শুরু করেছি। ইতোমধ্যে সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান জনাব কবির বিন আনোয়ার, ১৪ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি জনাব হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার এমপি, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জনাব জি এম কাদের, লিবারেল ইসলামিক জোটের সাথে বৈঠক হয়েছে। বিএনপি সহ অন্যান্য দলের সাথেও আলোচনার চিন্তাভাবনা আমাদের আছে।


আমরা মনে করি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও উন্নতির লক্ষ্য ও তা অর্জনের জন্যে সামাজিক চুক্তি প্রয়োজন যা বিএনপি ও সমমনা দলগুলোকে আলোচনার বাইরে রেখে করা সম্ভব নয়।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ আপনি নানা সময় আপনার বক্তব্যে নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিশেভাবে টার্গেট করা হয় এমন বলেছেন... যেখানে তাদের ভয় ভীতি প্রদর্শন, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও তাদের উপর সহিংসতার নজির রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে (যার উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্র বলছে, “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কর্মকা- ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা”), তার ফলে আপনি কি মনে করেন, আগামী নির্বাচনে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে না অথবা কম ঘটার আশংকা রয়েছে?


রাণা দাশগুপ্তঃ হ্যাঁ। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় তবে আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতার ঘটনা না ঘটার বা কম ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7316783.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7316783.html</guid>            
            <pubDate>Thu, 19 Oct 2023 05:14:46 +0600</pubDate>
            <category>সাক্ষাৎকার</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><category>যুক্তরাষ্ট্র</category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/10050000-0aff-0242-0afc-08da53bc269e_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>&quot;শেষের দিকে কিছু জিনিস (ভারতে) আনতে পেরেছি কিন্তু প্রচুর জিনিস (ইসরাইলে) ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হয়েছে&quot;</title>
            <description>পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাসিন্দা মানস শীল ২০১৮ থেকে গত পাঁচ বছর ধরে ইসরাইল-এর রিহোভোট শহরের বাসিন্দা। সেখানে ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স-এ তিনি পোস্ট ডক্টোরাল রিসার্চ করছিলেন প্রোটিনের স্ট্রাকচার ডিটারমিনেশন নিয়ে। এই বছরই তার গবেষণা শেষ হয়। তিনি পুরোপুরি ভারতে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রী ও দু&apos;বছরের শিশুপুত্র। গত ৭ অক্টোবর ইসরাইল-এ হামাস-এর হামলার পর যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে চেনা ছবিটা বদলে যায়। একের পর এক বিমান বাতিল হতে থাকে। প্রাথমিকভাবে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে কিছু জটিলতা ছিল। শেষ পর্যন্ত তা মসৃণ হয় ও ভারত সরকারের &apos;অপারেশন অজয়&apos;-এর মাধ্যমে ভারতে, পশ্চিমবঙ্গে ফেরেন তিনি গত ১৪ অক্টোবর। জরুরি পরিস্থিতিতে পাঁচ বছরের জীবনের বহু স্মৃতিবিজড়িত সামগ্রী ফেলে আসতে হয়েছে ইসরাইল-এ। এখনও যোগাযোগ রয়েছে বন্ধু, প্রতিবেশীদের সঙ্গে। ট্রমা আছে অবশ্যই। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে চেষ্টা করছেন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার। ভয়েস অফ আমেরিকা-র সঙ্গে তিনি দূরভাষে কথা বললেন।




ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনি কত বছর ইসরাইল-এ আছেন? 


মানস শীল: আমি টোটাল প্রায় পাঁচ বছর আছি। ২০১৮ থেকে আমি ইসরাইল-এ আছি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ইসরাইল-এর কোন অংশে আপনি/ আপনারা থাকতেন? কী কাজ করতেন? 


মানস শীল: এটা ইসরাইল-এর সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট এটার নাম রেহভোট (Rehovot)। একটা ছোট্ট সিটি, ওয়েল নউন ডিস্ট্রিক্ট। তেল আভিব থেকে এটা প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার দূরে। ওখানে আমি, আমার ওয়াইফ থাকতাম এবং আমাদের দু বছরের একটি ছেলে আছে । আমার ছেলের ওখানেই রেহভোট জন্ম হয়েছে।


ওখানে আমি পোস্ট ডক্টোরাল রিসার্চ করছি। ওখানে আমার ইনস্টিটিউটটির নাম হলো ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (Weizmann Institute of Science)। এটা রেহভোট-এ একটা রিসার্চ ইনস্টিটিউট। আমি মোস্টলি কাজ করছি প্রোটিনের স্ট্রাকচার ডিটারমিনেশনের ওপরে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: যেখানে হামলা হয় সেখান থেকে আপনি যেখানে ছিলেন সে জায়গার দূরত্ব কতটা?


মানস শীল: যেখান থেকে মেইন রকেট অ্যাটাকগুলো হচ্ছে সেটা হচ্ছে গাজা থেকে এবং গাজা বর্ডার থেকে আমাদের সিটি-টা ওটা প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার ডিসটেন্সে। ওটা যদি আমি বাই রোড সেটা সেরকম ডিসটেন্স এর মধ্যে পড়ে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনার এলাকাতে কি কোনরকম হামলা ইত্যাদি হয়েছে মানে আপনি যেখানে থাকছেন?


মানস শীল: হ্যাঁ, হ্যাঁ। বেশ কয়েকবার। প্রথম দিন যখন হামলা শুরু হয় সেদিন সকালবেলা আমরা তো বুঝতে পারিনি। মানে আগের দিন তো কোনো রকম কোনো অ্যালার্ট ছিল না বা ইসরাইল ডিফেন্স-এর পক্ষ থেকে কোনরকম কোন আপডেট ছিল না। জেনারেলি ওরা অ্যালার্ট থাকে এবং আগে থেকে আপডেট দিয়ে রাখে যে এরকম হামলা হতে পারে। কিন্তু এইবার সেটা কোন রকম ভাবে কোন অ্যালার্ট ছিল না। সকালবেলা সাড়ে ছ&apos;টার সময় টানা দু&apos;ঘণ্টা আমাদের শেল্টারে থাকতে হয়েছে এবং সেই টানা দু&apos;ঘণ্টা মানে ৫ মিনিট ১০ মিনিট ছাড়া ছাড়াই হিউজ নাম্বার অফ রকেট এক সঙ্গে ছোড়া হয়েছে। মেইনলি সেন্ট্রাল রিজিওন-এর উপর এবং তেল আবিবকে টার্গেট করে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: হামাস-এর সাম্প্রতিক হামলার সময় সেখানে কী ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বা হতে চলেছে বলে আপনি আপনার অন্যান্য যে পরিচিতজন তাদের কাছ থেকে জানতে পারছেন?


মানস শীল: দেখুন, এরকম হামলা ইসরাইল-এর হিস্ট্রিতে গত ৫০ বছরে হয়নি। লাস্ট যে বড় ওয়ারটা হয়েছিল ইয়ম কিপুর ওয়ার (Yom Kippur War) বলে, সেটাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল কিন্তু সেখানেও ছিল বিটুইন আর্মি। সেখানে সিভিলিয়ানদের উপরে এরকম অ্যাটাক দেখা যায়নি। এখানে মেইন যেটা, আমি আগের রকেট অ্যাটাকও এক্সপেরিয়েন্স করেছি, ২০২১-এ যেটা হয়েছিল। সেটাও বেশ বড় রকম হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইল-এর যে ডিফেন্স সিস্টেম আছে আয়রন ডোম ডিফেন্স সিস্টেম। অ্যান্টি মিসাইল সিস্টেম। সেটা মোস্টলি যে সিভিলিয়ান বা সিটি এরিয়াতে যে রকেটগুলো আসে সেগুলোকে ইন্টারসেপ্ট করতে পারে। তো সেইগুলো থেকে ৪/৫ জন বা ম্যাক্সিমাম ১০জন মারা গেছে এরকম ঘটনা এসেছে এবং ১০০ জন হয়তো ইনজ্যুরড। কিন্তু এবার যেটা হয়েছে রকেট অ্যাটাকের পাশাপাশি টেররিস্ট ইনফিলট্রেশন হয়েছে। সুতরাং এটা একটা অনেক বড় এফেক্ট আমি বলব। এর আগে সচরাচর এই জিনিসগুলো দেখা যায়নি এবং এই টেরোরিস্ট অ্যাটাক(?) মোস্টলি সাউথের দিকে সেন্ট্রালে ছিল এবং ওরা চেষ্টা করছিল যাতে নর্থের দিকে মানে আরেকটু সিটির দিকে মোস্টলি তেল আবিব-এর দিকে ঢোকা যায়। যার জন্য আমরাও খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বারবার খবর দেখছিলাম যে ওখান থেকে টেরোরিস্টের হামলাগুলো দেখা যাচ্ছে বা নিয়ার বাই সিটিতে আসছে কিনা। লাস্ট আমরা যেটা দেখেছিলাম আশকেলান বলে একটা সিটি আছে, যেটা আমাদের জায়গা থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরে। সেখানে পর্যন্ত আমি লাস্ট দেখেছিলাম যে টেররিস্ট-এর একটা ইনফরমেশন এসেছিল যেখানে পুলিশ ট্র্যাক করে টেরোরিস্টদেরকে মেরে ফেলেছে। তো সেই পর্যন্ত দেখে আমরা খুব ভয়ে ছিলাম যে কুড়ি কিলোমিটার দূরে জাস্ট এই ঘটনা ঘটেছে, আমাদের সিটিতেও যে কোন টাইমে হয়তো আসতে পারে। এজন্য আমরা মোস্টলি বাইরে বের হতাম না খুব একটা খুব দরকারী কাজে না পড়লে, এবং শহরটা মোটামুটি শুনশান হয়ে গিয়েছিল। যেটা জেনারেলি আমি দেখিনি। আগেরবার রকেট অ্যাটাকের সময়ও পাব বা রেস্টুরেন্টগুলো সবগুলি খোলা ছিল। মানুষের সেখানে দিব্যি খাওয়া-দাওয়া করছিল, গল্পগুজব করছিল এবং রকেট অ্যাটাক হলে তারা শেল্টারে ঢুকে যেত। কিন্তু এইবার পুরো সিটিটায় সন্ধ্যা নামার পর থেকে আর সচরাচর কাউকে দেখা যেত না। খুব দরকার হলে লোকজন গ্রসারির সামনে দাঁড়িয়ে কিছু কিনে হয়তো তাড়াতাড়ি বাড়িতে ঢুকে যেত। আমরা মোস্টলি বাড়িতে ছিলাম। খুব কিছুর দরকার না করলে বাড়ির বাইরে বেরতাম না। এবং ইসরাইল ডিফেন্স থেকে ওরা আপডেট দিয়ে দিত যে উইদিন এইট্টি কিলোমিটার মানে যেটা আমরা লাস্ট পেয়েছিলাম যে গাজা বর্ডার থেকে এইট্টি কিলোমিটার দূরে সবাইকে অ্যালার্ট থাকার জন্য যাতে কেউ খুব একটা না বাইরে বেরোয়। এ ধরনের কিছু আমরা আপডেট নিয়ে সারাক্ষণই ছিলাম।


ভয়েস অফ আমেরিকা: হামাসের হামলার সময় আপনি কোথায় ছিলেন?


মানস শীল: হ্যাঁ, সে সময় সে সময় আমরা সকালবেলা ঘুমোচ্ছিলাম ৬:৩০ টার দিকে। হঠাৎ করে আনএক্সপেটেড সাইরেন বাজে মানে রকেট অ্যাটাক হলে প্রত্যেকটা সিটিতে সাইরেন বাজে, মানে যে এরিয়ায় রকেটটা আসতে পারে সে প্রজেক্টাইল্লটাকে ওরা চেক করে সাইরেন দেয়। আমার সিটিতে সাইরেন বাজলে তখন থেকে ৯০ সেকেন্ড হচ্ছে আমার টাইম থাকে শেল্টারে যাওয়ার জন্য। আমরা লাকিলি যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকি সেখানে একটা রুম ছিল, শেল্টার রুম । আমাদেরকে জাস্ট নেক্সট রুমে মুভ হয়ে যেতে হয়েছিল। যাদের এই শেল্টার রুম থাকে না তাদের সিঁড়িঘরে দৌড়ে যেতে হয়।


বেশিরভাগ অ্যাপার্টমেন্টে সিঁড়িটাকেই শেল্টার হিসেবে ইউজ হয় । ইনকেস যাদের সিঁড়ি থাকে না তাদের নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে শেল্টার রুম থাকে। সেখানে ছুটে চলে যেতে হয়। প্রচুর প্যানিক অ্যাটাক হয় এ সময়। লোকজন অনেকে পড়ে যায় এবং সেই জায়গাগুলো থেকে অনেকে ইনজুরড হয়। স্পেশালি বাচ্চা এবং প্রেগন্যান্ট উওমেন যদি থাকে তাদের জন্য এটা খুব ভয়ের কারণ।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনার পরিচিত কেউ কি সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন? কোন খবর পেয়েছেন কি?


মানস শীল: এবারের ঘটনায় নয়। কারণ আমাদের সিটিতে রকেট অ্যাটাক এবং টেরোরিস্ট অ্যাটাক সেরকমভাবে ডিরেক্ট হিট হয়নি রকেট থেকে। যেটা শুনেছি মানে কিছু বিল্ডিং এর পাশে পড়েছে এবং তাতে কোন হিউম্যান বা কারো কোন ইনজুরড হওয়ার ঘটনা ফর্ম রকেট অ্যাটাক আমি শুনিনি। কিন্তু ওই যে সাইরেন বাজলে পরে চট করে যে প্যানিকটা হয় এবং প্রত্যেকে ছুটে যেতে হয় শেল্টারে, সেখান থেকে বহু লোক ইনজুরড হয়ে যায় এবং রকেট অ্যাটাকের পরেই অ্যাম্বুলেন্সের প্রচুর সাউন্ড পাওয়া যায়। সিটিতে ঘোরাঘুরি করছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজনকে নিয়ে যাচ্ছে, যারা পড়ে গেছে বা যারা ইনজুরড হয়েছে কিন্তু আমার চেনা-জানা সেরকম কারো কথা আমি শুনিনি যারা ইনজুরড হয়েছে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: খবর পাওয়ার পর আপনি ইসরাইল-এ কোন বন্ধু বা আত্মীয়র সাথে যোগাযোগ করেছেন কি? তারা কি অবস্থায় আছে বলে আপনি খবর পেয়েছেন?


মানস শীল: হ্যাঁ আমাদের যারা ইন্ডিয়ান বা বাঙালি গ্রুপ আছে, আমরা যাদেরকে চিনি বা আমরা প্রত্যেকের কাছ থেকে আপডেট নিতাম যে ওখানে সিটিতে যদি রকেট অ্যাটাক হতো, ওরা কেমন আছে বা কী রকম কাটাচ্ছে মানে ওভার ফোন এবং মেসেজ করে আমরা খোঁজ নিতাম।


ভয়েস অফ আমেরিকা: তাদের সাথে কি এখনও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন? কিভাবে রাখছেন... ফোন, ইমেইল?


মানস শীল: হ্যাঁ, তবে আমার জানাশোনা ম্যাক্সিমাম, আমার এক বন্ধু যে জেরুজালেম রয়ে গেছে তার বাদে বেশিরভাগ ইন্ডিয়ান বা আমার পরিচিত সার্কেলের যারা আছে যাদেরকে আমি জানি আইদার evacuation flight অথবা তারা পার্সোনালি ফ্লাইটের টিকেট কেটে ইসরাইল থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে এখনো বেশ কিছু ইন্ডিয়ান রয়ে গেছে। মোস্টলি ইমেইল-এ ও হোয়াটসঅ্যাপে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনি বললেন ভারতীয় ছাড়া অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও রয়েছেন…


মানস শীল: হ্যাঁ, হিউজ নাম্বার অফ সিটিজেন রয়েছে বিভিন্ন দেশের। কারণ আমি যখন evacuation flight নিয়ে এয়ারপোর্টে আসছিলাম দেখছিলাম যে এয়ারপোর্ট-এ সমস্ত দেশে ছোট ছোট কাউন্টার করে ওরা হেল্প করার জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছে। আইদার ইভাকুয়েশন ফ্লাইট অথবা অন্য যে কোন রকম ফ্লাইট অ্যারেঞ্জ করতে পারছে প্রত্যেকটা দেশের সিটিজেনকে ওরা অ্যালার্ট করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ইসরাইল-এ অবস্থানকালে আপনার প্রতিবেশীরা কোন দেশের ছিলেন?


মানস শীল: আমি যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতাম তাতে যেহেতু ওটা আমাদের ইনস্টিটিউটের অনেকটা শেয়ার ছিল ওই অ্যাপার্টমেন্টে অনেক ইন্টারন্যাশনাল লোকজন থাকতো। যেমন আমি চিনি - রাশিয়ার লোকজন ছিল, ইথিওপিয়ার লোকজন ছিল, ইউ কে-র বেশ কিছু লোকজন ছিল এবং ইন্ডিয়ান তো প্রচুর ছিল, চায়নার লোকজন ছিল।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনার যারা বন্ধু বা পরিচিত ছিলেন তাদের সাথে কি আপনার যোগাযোগ আছে এখন? 


মানস শীল: হ্যাঁ আমার বেশ যোগাযোগ আছে এবং ওদের সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে। ওরাও যথেষ্ট মেন্টাল স্ট্রেসে আছে। আমরাও সে অবস্থায় আছি। জাস্ট একটু কথা বলা মানে সেম জায়গা থেকে আমরা এসেছি, কতটা রিলিফ আমরা ফিল করছি, কতটা সেফ এখন লাগছে। বেশ কথাবার্তা হচ্ছে আমাদের মধ্যে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনি ভারতে ফিরলেন কবে, কোন পরিস্থিতিতে ও কীভাবে? ভারতীয় দূতাবাসের সাথে কিভাবে এটা arrange করলেন? 


মানস শীল: একচুয়ালি আমার আসার কথা ছিল ১২ তারিখে। এ ঘটনা তো বেশ কিছুদিন ধরে ঘটছে। আমার ১২ তারিখে একটা ফ্লাইট-এর টিকিট কাটা ছিল যেটা আমি পার্সোনালি কেটেছিলাম ফিরে আসার জন্য। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সমস্ত এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ফ্লাইটগুলোকে ক্যান্সেল করে দিচ্ছে। কারণ এই গাজা থেকে যে রকেটগুলো যাচ্ছে সেগুলো এয়ারপোর্টটাকে অ্যাটাক করছে । কারণ আমি যখন দেখতে পাচ্ছি যে ম্যাপে যে আপডেট পাচ্ছি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তেল আভিবের পাশাপাশি ওরা এয়ারপোর্টে অ্যাটাক করছে। সেইজন্য সমস্ত ফ্লাইট যা ছিল সেগুলো ক্যানসেল করে দিয়েছিল। একমাত্র ইসরাইলি এয়ারলাইন্স, ওরা ফ্লাইটগুলো চালু রাখছিল। আমার ক্ষেত্রে যেটা, যতগুলো ফ্লাইট ছিল খুব একটা বেশি অপশন পাচ্ছিলাম না। চলে আসার জন্য যখনই ফ্লাইট পাবো ভাবছিলাম আমি বেরিয়ে ফিরে আসবো কিন্তু সেই অপশন খুব একটা ছিল না আর আমাদের ক্ষেত্রে আর একটা অসুবিধা ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট । অন্য ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলোতে ঢুকে আমি বেশিক্ষণের জন্য থাকতেও পারবো না যে আমি ঢুকে অন্য কোথাও যাব বা অন্য দিক দিয়ে যাব। ফলে শুধু ট্রানজিটের জন্য যা অপশন আমাকে সে অপশনই দেখতে হতো। আমাদের ক্ষেত্রে বেস্ট অপশন ছিল দুবাই হয়ে ফিরে আসা। সেগুলো যখন হচ্ছিল না তখন কন্টিনিউ আমরা এমব্যাসিতে যোগাযোগ করছিলাম কিভাবে কোন ফ্লাইট, কোন কিছু আছে কিনা। এমব্যাসি থেকে প্রথম দিকে ওরা খুব একটা সিরিয়াসলি নেয়নি। পরের দিকে প্রত্যেক নাম্বার অফ স্টুডেন্টস আমরা প্রত্যেকে যে ফর্ম ইউজ করে এমব্যাসিকে পাঠাই যে আমরা এত নাম্বার অফ স্টুডেন্ট। প্রত্যেকটা ইউনিভার্সিটির থেকে তারা ফিলাপ করে পাঠায় যে আমরা এখান থেকে ইভ্যাকুয়েটেড হতে চাই। আমরা বের হতে চাই। আমি আশা করি মানে অন্যান্য যারা ওয়ার্কার আছে যারা অন্যান্য সেক্টরে আছে তারাও সেম জিনিস করেছে। তারপরে এমব্যাসি সেই evacuation flight চালু করেছে এবং প্রথম থেকে যখন হচ্ছিল কোন ফর্মটা ইউজ করতে হবে। আমরা বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে অ্যাডেড।


যেমন আমাদের ইনস্টিটিউট এর একটা গ্রুপ আছে প্লাস ইন্ডিয়ান স্টুডেন্ট এর ইসরাইলে একটা গ্রুপ আছে এবং প্রত্যেকটা ইনস্টিটিউটের এক একটা গ্রুপ আছে এবং বিভিন্ন ছোটখাটো গ্রুপ আছে যার মধ্যে থেকে নানারকম ভাবে নানান ফরম আসছিলো যেগুলো ফিলাপ করতে হবে আমাদেরকে। এই ফরমটা ফিলাপ করলে পরে আধঘন্টা, দু ঘন্টা পরে আরো একটা ফরম আসছে। এবং আমরা যে কটা ফরম পাচ্ছিলাম পাগলের মত ফিলাপ করে যাচ্ছিলাম। কারণ আমরা জানতাম না কোন ফরমটা আল্টিমেটলি অ্যাম্বাসির কাছে গিয়ে পৌঁছবে। তারপরে যখন আমাদের প্রথম কেউ একজন কল পেতে শুরু করলো এ্যাম্বেসি থেকে যে আমরা evacuation flight চালু করছি এবং আমরা কল করব তখন আমরা আস্বস্ত হলাম যে কিছু প্রসিডিউর হচ্ছে এবং এম্বাসি থেকে যেটা করতে শুরু করল যে কিছুজনকে জানালো যে আজকের ফ্লাইট বা নেক্সট ডের ফ্লাইটে আপনি যেতে পারবেন। কিন্তু তারপরও ওরা যেটা করল যে কল করে কনফার্ম করতো এবং সেই সময় ওরা কলের টাইমটাও ছিল রাত বারোটার পরে । যেহেতু এটা একটা ইমারজেন্সি, বুঝতে পারছি কিন্তু ওই টাইমে অনেকে হয়তো শুয়ে পড়েছে যারা কল মিস করতো এবং কল মিস করা মানে ফ্লাইট মিস করা। যেহেতু কনফার্ম করত না। সেগুলো নিয়েও আমরা প্রচন্ড টেনশনে ছিলাম যে এম্বাসি থেকে কল কখন আসবে এবং শেষের দিকে দু-তিন দিন পর থেকে এসিউর করতে শুরু করল এম্বাসি যে আমরা যে কয়জনের রেজিস্ট্রেশন করেছি আমরা সবাইকে ইভ্যাকুয়েট করব বাট স্লোলি। ওয়ান বাই ওয়ান হবে। সে ক্ষেত্রে আস্তে আস্তে টাইম লেগেছে। আমি যেমন তৃতীয় দিনে আমার ফ্লাইটটাকে পেয়েছি এবং তার আগে অলরেডি দুটো দিন ফ্লাইট চলে গেছে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: তারপরে আপনি কল পেলেন এবং এসে পৌঁছালেন দিল্লিতে? 


মানস শীল: রাইট


ভয়েস অফ আমেরিকা: এবার দিল্লি থেকে কলকাতা আসার ব্যাপারটা যদি একটু বলেন।


মানস শীল: দিল্লি থেকে আমি নিজেই একটা এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট বুক করে রেখেছিলাম। যেহেতু জানতাম যে তেল আভিব থেকে ফ্লাইটটা রাত নটা দশটার দিকে ছাড়ে। সেই অনুযায়ী এখানে দিল্লিতে সকালে পৌঁছানোর কথা, আমি দুপুরের দিকে একটা ফ্লাইট বুক করে রেখেছিলাম। কিন্তু আমাদের ফ্লাইটটা তেল আভিব থেকে অনেকটা আর্লি ছেড়েছিল, সাড়ে পাঁচটার দিকে ছেড়েছিল। তো এখানে আমরা রাতে দেড়টা দুটোর দিকে এসে পৌঁছেছিলাম। সেখানে আমি যেটা দেখেছিলাম এবং যেটা খুব ভালো লাগলো, বিভিন্ন স্টেট থেকে ওরা হেল্প করার জন্য ওখানে দাঁড়িয়ে ছিল। প্রত্যেকটা স্টেটে রিপ্রেজেনটিভ যারা ফ্লাইটে নামছে তাদের প্রত্যেককে সেই স্টেট-এর যে হাউজিং বা যেটা আমাদের স্টেটে আছে, যেমন পশ্চিমবঙ্গের বঙ্গভবন বা ওয়েস্ট বেঙ্গল গভমেন্টের যে ডিপার্টমেন্ট আছে ওরা সেখানে নিয়ে গিয়েছিল এবং রাতে থাকার ব্যবস্থা খাওয়ার ব্যবস্থা সেগুলো করে দিয়েছিল। নেক্সট দিন বা পরে যার যে ফ্লাইট আছে সে অনুযায়ী ওরা গাড়ি দিয়ে এয়ারপোর্টে যাওয়া-আসার জন্য হেল্প করেছিল। তো সেটা নো ডাউট একটা বেশ বড় হেল্প।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনার সাথে আর ক&apos;জন ভারতীয় ফিরে এসেছে?


মানস শীল: আমরা যে ফ্লাইটটা এলাম সেটায় অলমোস্ট ২২০ জন হবে মানে আমি অ্যাপ্রক্সিমেটলি বলছি। সেটা প্লাস মাইনাস টুয়েন্টি হতে পারে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনার পরিবার আপনার সঙ্গে ফিরে এসেছে?


মানস শীল: হ্যাঁ ওরা দুজনে একসঙ্গে ফিরে এসেছে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনাকে যাবার আর কোন সম্ভাবনা রয়েছে নাকি পুরোপুরি চলে এলেন এখানে?


মানস শীল: আমার ক্ষেত্রে আমি কমপ্লিট করে পুরোপুরি চলে এলাম। কারন আমার পাঁচ বছর কমপ্লিট হয়ে গেছে ওখানে। তো এটা আমার ফাইনাল ডিপার্চার ছিল। কিন্তু আমি আমার বন্ধুবান্ধব যারা এসেছে এবং যাদেরকে আমি চিনি তারা প্রত্যেকে আবার ওখানে হয়তো ব্যাক করবে এবং প্রত্যেকেই ওয়েট করছে কখন একটু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটার উপর ডিপেন্ড করে ওরাও হয়তো ব্যাক করবে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: এই যে এরকম জরুরি পরিস্থিতিতে ফিরে আসতে হল আপনার কি আপনাদের সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যা আপনাদের আনার ছিল আনতে পেরেছেন সঙ্গে করে?


মানস শীল: না না সেটা একদমই না। কিছু জিনিসপত্র আমি শিফটিং করে পাঠিয়েছি আসার সময়। আমাদের পাঁচ বছরের ওখানে সংসার। পাঁচ বছরের জিনিসপত্র, সেগুলো নিয়ে যথেষ্ট ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট থাকে। সেই জিনিসগুলো জাস্ট আসার সময় আমরা জানতামও না যে কতটা কি লাগেজ পাব evacuation flight-এ কিংবা কোন ফ্লাইটে আমরা যেতে পারবো। শেষের দিকে কিছু জিনিস আমরা আনতে পেরেছি কিন্তু প্রচুর জিনিস আমাদেরকে ধরে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হয়েছে। কিছু জিনিস আমরা নেইবারদেরকে দিতে পেরেছি, যারা ওখানে ছিল তাদেরকে বলেছি নিয়ে নেয়ার জন্য। বা অন্য যারা বিভিন্ন রকম গ্রুপ আছে ফেসবুকে তাদেরকে সেখানে পোস্ট করেছিলাম যে কেউ কিছু যদি নিতে চায় জাস্ট দিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু শেষের দিকে এত কিছু জিনিস ছিল যেগুলো না আনতে পেরেছি। ভেবেছিলাম নিয়ে আসবো। সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসতে হয়েছে বা বাসার সামনে রেখে দিয়ে এসেছি কিছু জিনিস। ওখানে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস খুব ইউজ করে। রাস্তায় রেখে দেয় যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়। তো আমরা সেরকম রাস্তায় রেখে দিয়েছি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: এরকম জরুরি পরিস্থিতিতে ফিরে আসার পর আপনি কি সরকার বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোন ট্রমা সাপোর্ট নিচ্ছেন?


মানস শীল: এখনো পর্যন্ত সেরকম কোনো সাপোর্ট পাইনি বা আমরা এখনো নেইনি। আমরা জাস্ট এখন চেষ্টা করছি বেশিরভাগ সময় ফ্যামিলির সঙ্গে বাড়িতে একটু সময় কাটানোর জন্য পুরো এই পরিস্থিতি থেকে আলাদা হয়ে। সেটা অবশ্যই যদি যেই সাপোর্ট বা কোন কিছু হয় কারণ আমি জানি হয়তো আমার ক্ষেত্রে নয় বা আমার ক্ষেত্রে কিছুটা কিন্তু আমার বেশ কিছু বন্ধু-বান্ধবদের জানি যারা বেশ ভাল রকমভাবে ট্রমাটাইজ ছিল। ইসরাইল থেকে জাস্ট বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পিঠে শুধু একটা ব্যাগ নিয়ে ওরা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য রেডি ছিল। কারণ এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটা মানুষ মারাত্মক রকম ভাবে বিচলিত হয়ে যায় এবং কে কতটা বিচলিত হয়ে যায় সেটা ইন্ডিভিজুয়াল লেভেল-এর উপর ডিপেন্ড করে। আমি দেখেছি বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব যারা মারাত্মক রকম ভাবে ট্রমাটাইজ হয়ে গেছে। তারা নিজেরাও এখন ফ্যামিলির মধ্যে থাকছে আমি এক্সাক্টলি জানিনা তারাও হেল্প নিচ্ছে কিনা কারো কাছ থেকে। কিন্তু গভর্নমেন্টের পক্ষ থেকে বা অন্য কারো পক্ষ থেকে সেই হেল্প আমরা কিছু পাইনি। কিন্তু আমাদের ইনস্টিটিউট আমি যেটা ছিলাম সেখান থেকে ওরা ফুল সাপোর্ট দিচ্ছিল। ওদের সোশ্যাল ওয়ার্কার যারা এবং সাইকিয়াট্রিস্ট প্রত্যেকে ছিল ওনারা ফ্রি ছিলেন যে আমরা যেকোনো সময়ে ওনাদের সঙ্গে সাপোর্ট নেওয়ার জন্য কথা বলতে পারি। সেটা ইনস্টিটিউট-০ এর পক্ষ থেকে আমাদের খুব সাপোর্ট ছিল ।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ইসরাইল ফেরত অন্য ভারতীয়দের/বাঙ্গালীদের সাথে আপনি কি যোগাযোগ রাখছেন?


মানস শীল: হোয়াটসঅ্যাপে বেশ কিছু জন আমি যাদেরকে চিনি তাদের সঙ্গে আমি কানেক্টেড এবং তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে যে ওরা কেমন আছে। এই পরিস্থিতির ভেতর থেকে বের হয়ে এসে কতটা রিলিফ লাগছে সেগুলো নিয়ে আমাদের কথা হয়। এখনো পর্যন্ত আমি সবাইকে কল করে উঠতে পারিনি। আমিও জাস্ট এসেছি একদিন হয়েছে। আমার দুই-তিনজন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা হয়েছে। আরো প্রচুর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু যারা আমার খোঁজ নিয়েছে অনেকজনকে আমি কল করতে পারেনি। আস্তে আস্তে সবার সঙ্গে কথা বলবো। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমি অনেকের সাথে কথা বলতে পারিনি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ইসরাইল থেকে যারা ফিরেছেন সেরকম বাঙালি বা ভারতীয় তাদের সঙ্গে একই রকম যোগাযোগ রয়েছে আপনার?


মানস শীল: হ্যাঁ, প্রত্যেকের সঙ্গেই আমার হোয়াটসঅ্যাপে অল্প একটু টুকটাক কথাবার্তা হচ্ছে। কিন্তু ইন ডিটেইলস কথাবার্তা বলার মত আমিও চাইছি না তাদের সঙ্গে এখনই ডিরেক্টলি কথাবার্তা বা ডিসকাশন করতে। আমিও চাইছি ওরা এখন কয়েকদিন পিসফুলি কাটাক তারপর হয়তো আমরা একসঙ্গে মিট করব কোথাও বা কথাবার্তা বলব, সেগুলো আমাদের প্ল্যান আছে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7315011.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7315011.html</guid>            
            <pubDate>Wed, 18 Oct 2023 03:20:22 +0600</pubDate>
            <category>সাক্ষাৎকার</category><category>খবর</category><category>ভারত</category><category>বিশ্ব</category><category>মধ্যপ্রাচ্য </category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-6567-08dbcf561fc3_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>&quot;জ্বর হলে যেরকম বলতে পারি যে জ্বর এসেছে, বিষন্নতার দিনেও যেন বলতে পারি বিষন্ন লাগছে&quot;</title>
            <description>বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তৌহিদা শিরোপা। মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় অনলাইন ও সরাসরি দুইভাবেই বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলিং সেবা ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে ‘মনের বন্ধু’।২০১৯ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত দেশের ৭৫টি পোশাক তৈরির কারখানার ৪০ হাজারের বেশি পোশাক শ্রমিককে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে তার প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’। &apos;ভোগ বিজনেস ইনোভেটরস: ক্লাস অব ২০২৩’-এর &apos;সাসটেইনেবিলিটি থট লিডারস&apos; শ্রেণিতে ১০০ উদ্ভাবকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এই তালিকায় তাকে ‘সাসটেইনেবিলিটি থট লিডার’ হিসাবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’। ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ভয়েস অফ আমেরিকা কথা বলেছে তার সঙ্গে।


ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আফরিন শাহনাজ।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনার প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’ থেকে স্বল্প খরচে পোশাক শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভোগ বিজনেস ইনোভেটরস: ক্লাস অব ২০২৩’-এর সাসটেইনেবিলিটি থট লিডারস শ্রেণিতে ১০০ উদ্ভাবকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। শ্র্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের কী কী উদ্যোগ আপনারা নিয়েছেন? বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে কী ধরণের কাজ করে যাচ্ছেন এবং এ সংক্রান্ত ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?


তৌহিদা শিরোপা: বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি ২০১৯ সাল থেকে। এখন পর্যন্ত আমরা  প্রায় ৪০ হাজারের বেশি পোশাকশ্রমিককে মানসিক  স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি এবং আমরা অনেক গ্রুপ সেশন করিয়েছি, ট্রেনিং দিয়েছি, মেডিটেশন-এর কাজ করেছি, ইয়োগা সেশন করেছি এবং একটি ফ্যাক্টরিতে আমাদের রিক্রিয়েশন সেন্টারও আছে যেখানে ওয়ার্কাররা তাদের মতো সময় কাটাতে পারে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারে, তাদের ওয়েল বিং-এর জায়গাটায় কাজ করতে পারে। এ বছর যখন আমরা টমি হিলফিগার ফ্যাশন ফ্রন্টিয়ার চ্যালেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড জিতলাম  টমি হিলফিগার ফাউন্ডেশন থেকে, তখন আমরা সেখানে একটি টপ-আপ কার্ড ডিজাইন করেছিলাম। এই টপ-আপ কার্ড হচ্ছে যে কার্ডের মাধ্যমে পোশাক শ্রমিকরা ২৯ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে নানা ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, ওয়েল বিং সেবা এমনকি বিউটিফিকেশন; সেখানে ভ্রু প্লাক করা, হেয়ারকাট করা  যেগুলো তাকে মানুষ হিসেবে অনেক বেশি সেল্ফ স্টিম (self esteem) করবে নিজেকে ভালো রাখতে,  সেল্ফ কেয়ার করতে  উৎসাহিত করবে, সেই জায়গাটা আমরা আসলে নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি এখনো। বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিক খাত এমন একটা খাত যেখানে আমাদের অর্থনীতিতে অনেক বড় দাগের কন্ট্রিবিউশন আছে।  সে কন্ট্রিবিউশনের জায়গা থেকে তারা যাতে  আরো  বেশি মাইন্ডফুলি ভালোভাবে থাকতে পারে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবাটা যাতে নিশ্চিত হয়, যাতে তাদের  সুন্দর সুস্থ জীবন হয় সে কারণে আমরা সেই জায়গাটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি এখনো। ভবিষ্যতেও আমাদের আরো নানা রকম, নানামুখী, আরো বিভিন্ন  সেন্টার করা এবং সে সেন্টারগুলোতে আরো বেশি উন্নত সেবা দেয়ার কথা নিয়ে আমরা ভাবছি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ‘মনের বন্ধু’র শুরুটা কবে কীভাবে হয়েছিলো? কেনো সংবাদপত্রের চাকরী ছেড়ে দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে এ ধরণের একটা উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছিলেন?


তৌহিদা শিরোপা: ২০১৫ সালে আমার মায়ের আসলে প্রথমে অ্যাকিউট ডিপ্রেশন হয়। মা কিন্তু সিঙ্গেল প্যারেন্ট।  আমার ভাই এবং আমি, অ্যাজ এ কেয়ার গিভার আমাদেরও আসলে অনেক রকমের স্ট্রাগলের মধ্য দিয়ে সে কারণে যেতে হয়েছে।  আমরা আমার মাকে যখন ১৪ মাস পরে এই মানসিক ডিপ্রেশনের জায়গা থেকে বের করে নিয়ে আসি, আবার একটা আগের মতো সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে আসি, তখন আসলে আমার একটা উপলব্ধি হয়েছিল, জীবনে আসলে আমাদের এত স্ট্রাগল থাকে যে সে স্ট্রাগলের কথাগুলো  আমরা বাইরে বলতে পারি না। আমাদের সব সময় মানুষকে দেখাতে হয় যে আমরা  ভালো আছি  কিন্তু আমরা আসলে সব সময় তো ভালো থাকি না।  এবং এটা স্বাভাবিক যে আমি সব দিন আসলে ভালো  থাকবো না।  কিন্তু আমি যখন এমন একটা জায়গায় যাবো  যেখানে আমি খুব সহজে বলতে পারব যে আমি আজকে ভালো নাই। যাতে আমাকে কেউ জাজ না করে, আমাকে তারা অনেক বেশি ফিল করতে পারে  এবং সঠিক কোনো একটা সেবা আমাকে দিতে পারে, সেই প্রফেশনাল জায়গাটা  তৈরি করার ভাবনা থেকে আসলে ‘মনের বন্ধু’ করা।  ‘মনের বন্ধু’-র রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম ২০১৬ সালে কিন্তু আমরা খুব  ভালোভাবে কাজ শুরু করি  ২০১৮ সালে এবং সে কারণেই  ২০১৯ সালে  আমি আমার চাকরি ছেড়ে দেই।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ‘মনের বন্ধু’র কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের বলুন। &apos;মনের বন্ধু&apos;র কাজগুলো কি এখনো অনলাইন ভিত্তিক? কী কী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মনের বন্ধু প্রদান করছে এবং কারা এই সেবাগুলো নিতে পারছেন?


তৌহিদা শিরোপা: ‘মনের বন্ধু’র সেবাটা হাইব্রিড। ঢাকার লালমাটিয়াতে আমাদের ‘মনের বন্ধু’ সেন্টারে সপ্তাহে  শুক্রবার বাদ দিয়ে সব দিনই আমাদের দিনরাত সেবা প্রদান চলে। আমাদের একটি হেল্প লাইন নাম্বার আছে।  আমাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে লোকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের অনেক বাংলায় কন্টেন্ট আছে ফেসবুকে, যেগুলো মানুষ প্রতিদিন দেখেন, মানুষ তাদের মনের জায়গাটা যাতে ভালো রাখতে পারেন, সুন্দর রাখতে পারেন, অনেক হেলদি প্র্যাকটিস করতে পারেন। একই সঙ্গে আমাদের হেল্প লাইন নাম্বারে তারা যোগাযোগ করতে পারেন। হেল্প লাইনে আমাদের কাউন্সিলররা ইনিশিয়াল স্বাস্থ্যসেবা ফ্রি দেন এবং  তারপরও  যদি মনে করেন যে সেই ব্যক্তির আরো সেশন লাগবে তখন তারা আমাদের যে প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ কাউন্সিলররা আছেন, মনোবিদরা আছে তাদের সাথে সেশন বুক করে দেয়। এখানে আমাদের একটি মোবাইল অ্যাপ আছে সেখান থেকেও তারা আমাদের কাছ থেকে অনলাইনে সেবা নিতে পারবেন। একই সাথে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবেন। আমরা শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক কিন্তু কাজ করি না। যেরকম আমাদের কাজটা পোশাক শ্রমিকদের জন্য ঠিক সেরকম  ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রচুর স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের কাজ চলছে এই মুহূর্তে।  একইসঙ্গে ক্লাইমেট ভালনারেবল  পিপল অর্থাৎ  দুর্যোগ প্রবণ এলাকাগুলোতে যারা থাকেন তাদেরও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে ‘মনের বন্ধু’ কাজ করে যাচ্ছে। ‘মনের বন্ধু’র বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী কিন্তু যারা ঢাকার বাইরে থেকে ‘মনের বন্ধু’র সেবা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ‘মনের বন্ধু’ প্রায় পঁচাশি হাজারের মত মানুষকে সরাসরি ইন্ডিভিজুয়াল কাউন্সিলিং দিয়েছে।  আর যেটার বড় সংখ্যক এসেছে  ঢাকার বাইরে থেকে। তাদের অনেককে আমরা বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে, বিভিন্ন সেবা প্রদানের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি যত বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়।


ভয়েস অফ আমেরিকা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে সারা বিশ্বে কেউ না কেউ আত্মহত্যা করে আর আমরা সকলেই জানি যে আত্মহত্যা করার মূল কারণ হলো মানসিক সমস্যা। বাংলাদেশেও কিন্তু এই আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তারমধ্যে তরুণ ও কিশোর বয়সের ছেলেমেয়েদের সংখ্যা বেশি বলে আমরা বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপের মাধ্যমে জানতে পারি। আত্মহত্যা রোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরণের উদ্যোগ নিতে পারে এবং মনের বন্ধু থেকে আপনারা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন কি?


তৌহিদা শিরোপা: আপনি একদম সঠিক পরিসংখ্যান বলেছেন। একই সাথে এটাও সত্যি আত্মহত্যা  একটি মানসিক রোগ ডব্লিউএইচও-এর মতে। আত্মহত্যা একটা মেন্টাল হেলথ ইলনেস এবং এটাকে প্রিভেন্ট করা সম্ভব। সেই জায়গা থেকে অবশ্যই  কালেক্টিভ এ্যাপ্রোচ মানে সম্মিলিত প্রচেষ্টা লাগবে।  ‘মনের বন্ধু’ অবশ্যই  এখানে কাজ করছে।  ডব্লিউএইচও-ও কাজ করছে, বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট কাজ করছে।  আরো হয়তো অন্য সংস্থাগুলো তাদের মতো কাজ করছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাজ হচ্ছে। ‘মনের বন্ধু’ যেটা করছে, আত্মহত্যা প্রতিরোধেও আমাদের একটা ক্যাম্পেইন আছে যেটা আমরা সারা বছর ধরে করি। গত বছর থেকে এটা আমরা শুরু করেছি। এর নাম হচ্ছে  ‘মনের দরজায় আমরা’।   আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, বিভিন্ন  কমিউনিটিতে গিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কথা বলছি।  আত্মহত্যা প্রতিরোধে কী করা যেতে পারে সে বিষয়ে সচেতনতা  বাড়ানোর কাজ করছি  এবং একই সঙ্গে আমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণদের মবিলাইজ করছি যাতে  তারা কী করে আসলে একটিভ লিসনার হতে পারে।  তারা কী করে আসলে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার জায়গাটায় প্রাইমারি সাপোর্ট, ইনিশিয়াল সাপোর্ট  তাদের সহপাঠীদের, তাদের বন্ধুদের, তাদের কমিউনিটি লোকজনকে দিতে পারে এটা নিয়ে &apos;মনের বন্ধু&apos; কাজ করছে। কিন্তু আমরা মনে করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই কাজটাকে আরো তরান্বিত করবে। আমাদের তরুণদের আরো অনেক সেবা দরকার  এবং তাদের অনেক সাপোর্ট লাগবে। সেই সাপোর্টগুলো  সবাই মিলে দিলে অনেক বেশি সহজ হবে, অনেক বেশি দ্রুত হবে  এবং খুব এফেক্টিভ হবে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কোন কোন দিক নিয়ে বেশি কাজ করা প্রয়োজন? মানসিক সমস্যা হ্রাসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বয়স এবং শ্রেণির মানুষের মধ্যে কী ধরণের সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন বলে মনে করেন?


তৌহিদা শিরোপা: আমরা জানি, এখন বাংলাদেশে তিন কোটিরও বেশি মানুষ  কোন না কোন মানসিক সমস্যায় ভুগছে এবং আমরা দেখেছি করোনা পরবর্তী সময়গুলোতে  কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আমরা অনেক নাজুক অবস্থার  মধ্যে পড়েছি। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করছি যে আমাদের আসলে  যে কাজটা করা উচিত, সবার আগে সচেতনতা বাড়াতে হবে।  মাসিক স্বাস্থ্য সেবা নেয়া ‘লাক্সারি’ সেই ভ্রান্ত ধারণা থেকে আমাদের  বের হয়ে আসতে হবে।  কারণ এটা আসলে সবার জন্য প্রযোজ্য। এটাকে আরো আমাদের  সহজ করতে হবে।  এই সেবাটাকে সুলভ করে দেয়া, সহজ করে দেয়ার জন্য আমরা  কাজ করছি। কিন্তু সুলভ করতে গিয়ে আমরা কোয়ালিটিটা যেন মিস না করে ফেলি, যাতে মানুষ কোয়ালিটি সম্পন্ন অথেন্টিক স্বাস্থ্য সেবা পায় সেই জায়গাটা আসলে নিশ্চিত করা  এবং এটাকে আরো বেশি আসলে সর্বসাধারণের মধ্যে  ছড়িয়ে দেয়া। এ কথাটা বলতে  যাতে আমার দ্বিধা না হয়।  আমার জ্বর হলে যেরকম আমি বলতে পারি যে আমার জ্বর এসেছে,  আমার মন খারাপের দিনে, বিষন্নতার দিনেও আমি যেন বলতে পারি যে আমার আসলে বিষন্ন লাগছে এবং সেই জায়গাটাতেই ‘মনের বন্ধু’ কাজ করতে চায়। যাতে সবার আগে‘মনের বন্ধু’র কথা মনে হবে তার ভালো দিনগুলোতে অনেক বেশি ভালো থাকার জন্য এবং খারাপ দিনগুলোতে নিজেকে ভালো রাখার জন্য। ‘মনের বন্ধু’ সেই জায়গাটা আসলে যেতে চায় এবং এই লক্ষ্যে আসলে আমরা কাজ করে চলছি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী প্রতিবন্ধকতা পেয়েছেন?


তৌহিদা শিরোপা: সবার আগে যে প্রতিবন্ধকতা আমাদের এসেছে সেটা হলো  আমাদের সচেতনতার অভাব।  সচেতনতার অভাবেই আসলে আমাদের এই প্রতিবন্ধকতা এসেছে এবং আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমাদের বাজেটের একটা খুব অল্প শতাংশ, ২% এরও কম যায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার খাতে। আমি মনে করি  যে সেই জায়গাটাও আরো একটু বাড়ানো উচিত যাতে  মানুষ এটা নিয়ে আরো বেশি কাজ করতে পারেন। সবাই যাতে কাজ করতে উৎসাহিত হতে পারেন। কারণ মানসিক স্বাস্থ্য যদি ভালো না থাকে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকাটাও খুবই কঠিন।  সেই জায়গাটায় অবশ্যই আমাদের কাজ করা উচিত।  এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে  এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা একটি চ্যালেঞ্জিং জায়গা  কারণ মানুষকে ডিল করতে হয় এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে যেহেতু অনেক সাইকোলজিস্ট নেই, সেখানে হিউম্যান রিসোর্সের একটা  অসুবিধা থাকে  সেজন্য  আমরা  একই সঙ্গে টেকনোলজি-ও এনেছি যাতে  টেকনোলজি এবং মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা এ কাজটা করতে পারি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ‘মনের বন্ধু’ ভোগ বিজনেস-এর এই সম্মাননা ছাড়াও আর কী কী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও স্বীকৃতি পেয়েছে? মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরী এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে আপনাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?


তৌহিদা শিরোপা: ভোগ বিজনেস ইনোভেটর লিস্টে আসা ছাড়াও এ বছরেই আমরা টমি হিলফিগার ফ্যাশন ফ্রন্টিয়ার চ্যালেঞ্জে যাবার পর  সেখানে এ বছর গ্লোবাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এবং একই সঙ্গে  ইউএন উইমেন-এর  এশিয়া-প্যাসিফিক রিজওন-এ ‘উওমেন এম্পাওয়ারমেন্ট প্রিন্সিপাল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছি।  আমরা আইসিটি ডিভিশনের ‘কল ফর নেশন’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি।  আমরা একই সঙ্গে  ডেইলি স্টার  এবং সিএসআর উইন্ডো বাংলাদেশের আয়োজিত ‘ইয়াং হিউমেনিটেরিয়ান’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। কমনওয়েলথ ডিজিটাল হেলথ অ্যাওয়ার্ডসহ  আরো  অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার আমরা পেয়েছি।  শুরুতেও আমি বলেছিলাম যে আমরা আসলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যেখানে মানুষ কথা বলতে কোন প্রকার দ্বিধাগ্রস্থ হবেন না, জড়তা থাকবে না । অন্য সব যে কোনো বিষয়ের  মতো সে প্রতিদিন ভালো থাকার জন্য বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে, এটা নিয়ে কাজ করবে এবং  ভালো দিন, খারাপ দিনে  শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বের মানুষের কাছে তার প্রথম যে নামটা মনে আসবে সেটা হলো  ‘মনের বন্ধু’।‘মনের বন্ধু’ মানুষের সেই দোরগোড়ায় যেতে চায়।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7303555.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7303555.html</guid>            
            <pubDate>Tue, 10 Oct 2023 22:46:17 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>সাক্ষাৎকার</category><category>স্বাস্থ্য</category><author> voadigital@voanews.com (আফরিন শাহনাজ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-e6ae-08dbc90896f0_cx0_cy18_cw0_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>যাদেরকে গুম করা হয়েছে, তারা নিজ এলাকাতে খুবই ভালো সংগঠক ছিলেন- মায়ের ডাকের সানজিদা ইসলাম</title>
            <description>“ঢাকাসহ বাংলাদেশের সবখানে দেখেন, যাদেরকে তুলে নেয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, যাদেরকে খুন করা হয়েছে, তারা নিজ নিজ এলাকাতে খুবই ভালো সংগঠক ছিলেন। আর তাদেরকে টার্গেট করেছে এবং এ মানুষগুলোকে আমরা পাচ্ছি না।  শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য, &apos;ফ্যাসিবাদ&apos; প্রতিষ্ঠা করার জন্যে এ সরকার তা করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতি কখনোই এমন ছিলো না,” আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলার সাথে সাক্ষাৎকারে  গুমের শিকার পারিবারদের সংগঠন মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি একথা বলেন।



সানজিদা ইসলাম তুলি গুমের শিকার পরিবারের গড়ে তোলা সংগঠন মায়ের ডাকের একজন সমন্বয়ক। তিনি একই সঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কার্যনির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য। কাজ করেছেন জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অফ এনফর্সড ডিসএপিয়ারেন্স । প্রায় ১৯ বছর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেশি ও বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি গত ১০ বছর ধরে মানবাধিকার কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছেন এবং একই সঙ্গে কাজ করে চলেছেন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বন্ধের দাবিতে।



তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমন ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুজে পেতে তাদের পরিবারের যে সংগ্রাম সেই সংগ্রামে তিনি কাজ করেছেন ক্রীড়ানক হিসাবে।



ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মো মুক্তাদির রশীদ। 



ভয়েস অফ আমেরিকা: মায়ের ডাক কি এবং কেন এ আন্দোলন?



সানজিদা ইসলাম তুলি: মায়ের ডাক একটি প্ল্যাটফর্ম ( মঞ্চ)। যে প্ল্যাটফর্মটির প্রত্যেক সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত। অর্থাৎ, প্রত্যেকটি পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য গুমের শিকার হয়েছে অথবা বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। অর্থাৎ এটি গুমের শিকার পরিবারগুলোর একটা প্লাটফর্ম, এই মায়ের ডাক। আমরা দক্ষিন আমেরিকার আর্জেন্টিনায় গুমের শিকার সন্তানদের জন্যে যে মায়েদের আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো, তারই ভাবধারা নিয়ে আমরা এ সংগঠনটির নাম দিয়েছি &apos;মায়ের ডাক&apos;। সমগ্র বাংলাদেশে যারা গুমের শিকার বা যতগুলো পরিবার, যাদের সন্তানদেরকে বা যাদের পরিবারের সদস্যদেরকে গুম করা হয়েছে এবং গুমের পরবর্তী সময়ে যারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে, অথবা ফিরে এসেছে তাদের বা তাদের পরিবারকে নিয়ে এই প্ল্যাটফর্ম করা হয়েছে। 



ভয়েস অফ আমেরিকা: বাংলাদেশে তো গুমের ঘটনা নতুন নয়। তবে কেন আপনাদের আন্দোলন এ গড়ে ওঠছে? এর কী কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে?



সানজিদা ইসলাম তুলি: ২০১৪ সালের নির্বাচন ঘিরে আমরা বহু সংখ্যক গুমের ঘটনা দেখতে পাই। যেটা অনেকটা গনহত্যার মতো ঘটনা । এতো সংখ্যক গুমের ঘটনা পূর্বে কখনো বাংলাদেশে এভাবে হয়নি। আগে ঘটনা ঘটেছে। তবে একটা, দুটা করে এসব ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু একসাথে এতটা নয়। এর আগে বিএনপির ঢাকা মহানগরের নেতা ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের রমনা-শাহবাগ এলাকার সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলম নিখোঁজ হয়েছেন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পূর্ববর্তী যে বহু সংখ্যক গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের মত ঘটনাগুলো ঘটেছে। এবং এই সংখ্যাটা ছিল অনেক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা এমন ঘটনা আসলে দেখিনি এবং আশাও করিনি। সেই প্রেক্ষিতেই আসলে মায়ের ডাক, একটি প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করানোর কাজ করে। এবং যদি বলেন যে, যারা গুমের শিকার তাদের অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক অথবা কর্মী... এখানেই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা চলে আসে। অন্যথায় এটা একটি প্লাটফর্ম যেখানে শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে সংগঠিত করেছে।



ভয়েস অফ আমেরিকা : আপনাদের জন্য এ আন্দোলনটা শুরু করাটা কেমন অভিজ্ঞতা ছিল?



সানজিদা ইসলাম তুলি : এই আন্দোলনটা শুরু হয় কারন যখন আমরা দেখতে পাই যে বাংলাদেশের কোন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছিলাম না। এই রাষ্ট্র কর্তৃক এমন ঘটনা ঘটানোর কারণে যখন আমরা মামলা করতে যাই, যখন আমরা জিডি করতে চাই, উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হই, এবং প্রত্যেকটা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমরা আবেদন করি এবং সেটা বছরের পর বছর কোন সদুত্তর আসে না এবং কোনো তদন্ত হয়না বরং উল্টো যেমন হয় যে, এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে হয়রানি করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে। তখন বাধ্য হয়ে আমাদেরকে এ ক্যাম্পেইন শুরু করতে হয়। কারন আমরা কোন সদুত্তর পাচ্ছিলাম না। জোরপূর্বক গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদেরা, মায়েরা, তাদের স্ত্রীরা, বোনেরা আমরা সকলে মিলে এ প্ল্যাটফর্মে একসাথে কাজ করি। আমরা যখন প্রথমে দাঁড়াই, তখন ঢাকায় ১৯ জনের, যারা গুমের শিকার হয়, তাদের পরিবার এক সাথে করে আমরা এ প্রচারণা শুরু করি। সেটা দেখার পর সারা বাংলাদেশের যে সব ভুক্তভোগী পরিবার ছিলেন তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। এবং নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। সেই নেটওয়ার্ক ভিত্তিতেই আজ এতো দূর আমরা পৌঁছেছি।



ভয়েস অফ আমেরিকা : সরকার বা রাষ্ট্রীয় সংস্হাগুলো কি গুমের ঘটনার তদন্তে করছে বা করেছে? বিচারের সুযোগ সৃষ্টি করেছে?



সানজিদা ইসলাম তুলি : সরকার তদন্তের কোন উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি কোন তদন্ত কমিটিও তারা করেননি। এত বছর যাবত তাদের নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তুলে আসছেন, তাদেরকে সংখ্যাগুলো দিচ্ছেন, বাংলাদেশের যে সমস্ত মানবাধিকার সংগঠনগুলো আছে তার বাইরেও আন্তর্জাতিক যে সমস্ত মানবাধিকার সংগঠন রয়েছে তারা সরকারের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার পরেও কিন্তু গুম-খুনের যে ঘটনাগুলো রয়েছে তাতে সরকারের কোনো সদুত্তর নেই। কোন তদন্ত নেই। এতো বছরে আমরা যে জবাব পেয়েছি তা হতাশাজনক। আপনি যদি দেখেন,  হিউম্যান রাইট ওয়াচ যে ৮৬জনের তালিকা করেছে সরকার তার কোন উত্তর দেয়নি। তদন্ত তো করিনি। ২০২২ জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার যে হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশ সফরে করেছেন সেখানেও ৭৬ জনের তালিকা দিয়ে গেছেন সেই তালিকায় কোন সদুত্তর সরকার দেননি।  এমনকি তদন্ত  করেননি। এই জায়গাটাতেই বোঝা যায় আসলে সরকার কেন নিশ্চুপ। এই পরিবারগুলোর কাছে তাদের কোন উত্তর কেন নাই। এ দায়িত্ব তো সরকারেরই। এটাতো চরম গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। এর থেকেও বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা কোথা আছে কিনা আমরা জানি না। গুম এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যে অপরাধ এগুলো সরকার ও তার এজেন্সি  দ্বারা সংগঠিত হচ্ছে। একারণেই আসলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। একারনেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসছে। জানতে চাইছে, আসলেই  মানুষ গুলো কোথায়। এবং এদেরকে যে সরকারের সংস্হা কর্তৃক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে, সেই ঘটনাগুলোর জবাবদিহির জায়গা কোথায়। সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় যে বাহিনী চলে তাদের তো জবাবদিহি জায়গা আছে।



ভয়েস অফ আমেরিকা : প্রায়ই শুনি সরকার আপনাদেরকে নিয়ে &apos;কটাক্ষ&apos; করছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতপিটার হ্যাস গত বছর ১৪ ডিসেম্বরে শাহীনবাগে, আপনাদের সাথে দেখা করতে গেলে সরকার দলীয় লোকজন, পুলিশ ও সরকার সমর্থিত মায়ের কান্না সেখানে অপ্রিতীকর ঘটনার সৃষ্টি করে। এরপর থেকে কি আপনারা কোন চাপ বোধ করছেন?



সানজিদা ইসলাম তুলি: সরকার কটাক্ষ করে এবং দায়িত্বশীল পদে থেকে অনেকে হাসি তামাশা করেন। আমাদের সাথে বিদেশী একজন রাষ্ট্রদূত দেখা করতে আসলে সেখানেও একটা অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত হয়। এটা আমার সরকারের দায়িত্ব সম্মানিত একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু ঐ জায়গাতেও সরকার শিথিল। তাদের বোধ কি কাজ করে না, যে সেখানেও তারা অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এবং তার রেসপন্স দেখেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দেখেছেন। এমন সব অমানবিক কথাবার্তা উনাদের পক্ষে সম্ভব। কারন হচ্ছে, নিজেদের দোষটা যখন ঢাকতে চাচ্ছেন,এবং স্বীকার করছেন না। (নিখোঁজ) মানুষগুলো কোথায় তার জবাব দিতে পারছেন না, তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিতে পারছেন না। এবং তদন্ত করতে পারছেন না,  কেননা তাদের দোষটা বের হয়ে আসবে।



ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনাদের আন্দোলনের কি কোন সাফল্য দেখতে পাচ্ছেন? আপনাদের বিষয়ে কি আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের মনযোগ বাড়ছে?



সানজিদা ইসলাম তুলি: আমরা দেখতে পাচ্ছি যে গত দুই-তিন বছরে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাংলাদেশের প্রতি নজর বেড়েছে। কারন সরকার যে অসম্ভব অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সেজন্য। এবং গুমের সংখ্যা অনেক বেশি হয় গেছে। গুম ও বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা এটা কোন সহনশীলতার মধ্যে আর ছিলনা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা বেড়ে গেছে, কারন এটা একটা ভীতিকর পরিস্থিতি এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। সে কারনেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে।



ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনারা কি মনে করেন ভবিষ্যতে আপনার ন্যায় বিচার পাবেন? কী আশা করেন?



সানজিদা ইসলাম তুলি: আমরা মনে করি, যেভাবে আমরা চাই এমন তদন্তকারী সংস্থার গঠন করা হলে আমরা অবশ্যই আশা করি আমরা ন্যায়বিচার পাবো। অবশ্যই জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কোন কিছু আয়োজন হলে আমরা আশা করি বিচার পাবো৷ কেননা স্হানীয়ভাবে যারা আছেন তাদের উপরে কোন ধরনের বিশ্বাস বা আস্থা আমাদের নাই। কেননা তাদের দ্বারাই এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘের ঘটনা ঘটে বা অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়, সে সমস্ত সংস্থা বা ব্যক্তি দিয়ে কোন তদন্ত সম্ভব নয় বা তারা কোনো নিরপেক্ষ কোনো তদন্ত করবেন না। সেকারণেই আমরা চাই  আন্তর্জাতিক তদন্ত হোক। যেমনটি জাতিসংঘ শ্রীলঙ্কায় করেছে। সেক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেক ঘটনার বিচার পাবো। দেশটা আসলে মঘের মুল্লুক না যেটা সরকার এতোদিন ধরে বানিয়ে রেখেছে। আগামীতে দেশটাই এমন থাকবে না। আমরা সেই জায়গাটায় তো খুব শীঘ্রই দেখব যেখানে আমরা ন্যায়বিচার পাবো।



ভয়েস অফ আমেরিকা: সরকার বিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি&apos;র পক্ষ থেকে আপনাদের আন্দোলনে কী ধরনের সমর্থন পেয়েছেন? বা আদৌ কোন সমর্থন পেয়েছেন কি?



সানজিদা ইসলাম তুলি: আমাদের প্ল্যাটফর্মের যারা আছে সাথে যদি তাদের দেখেন, সব রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী আছেন। তবে সেখানে বিএনপির সংখ্যাটা বেশি আমরা সে কারণেই বিএনপিকে আমাদের পাশে পাই।  আরো অন্য দল বা সাধারন মানুষ যাদেরকে গুম করা হয়েছে বা খুন করা হয়েছে।



ভয়েস অফ আমেরিকা: গুমের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্কটা কোথায়? 



সানজিদা ইসলাম তুলি: আপনি যদি দেখেন, যাদেরকে গুম করা হয়েছে, হয়তো নির্বাচনের পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে, তারা খুব বড় নেতা নন তবে তারা নিজ এলাকাতে, তাদের সমাজে খুবই পরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় মুখ এবং খুবই ভালো সংগঠক। এসমস্ত ব্যক্তিদের তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত করেছে। ঢাকাসহ বাংলাদেশের সবখানে দেখেন, যাদেরকে তুলে নেয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, যাদেরকে খুন করা হয়েছে, তারা নিজ নিজ এলাকাতে খুবই ভালো সংগঠক ছিলেন। আর তাদেরকে টার্গেট করেছে এবং এ মানুষগুলোকে আমরা পাচ্ছি না।  শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য, &apos;ফ্যাসিবাদ&apos; প্রতিষ্ঠা করার জন্যে এ সরকার তা করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতি কখনোই এমন ছিলো না। সরকার থাকতো। বিরোধী দল থাকতো। আমরা এভাবেই দেখেছি। এভাবে দেখেই বড় হয়েছি। এইবারই দেখলাম, এই সরকার যখন থেকে ক্ষমতায় এসেছে, তারপর থেকে সে নির্বাচনের আগে বা পরে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।



ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনাদের হিসেব অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে কতজন গুম হয়েছে? এর মধ্যে পরে কতজনের হদিশ পাওয়া গেছে? তার মধ্যে কতজন জীবিত, কতজন মৃত?



সানজিদা ইসলাম তুলি: আমরা অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথে একসাথে কাজ করি। যারা আমাদের সহায়তা করেন। আমরা আমাদের নেটওয়ার্কের গুমের শিকার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করি। আমরা বলি এ সরকারের সময় ৬৪৫ গুমের ঘটনা ঘটেছ । তবে মনে করি অনেক ঘটনা আছে যেগুলো করা আমাদের কাছে তথ্য আসেনি। সে সংখ্যা অন্তত তিনগুন।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7247339.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7247339.html</guid>            
            <pubDate>Wed, 30 Aug 2023 20:47:57 +0600</pubDate>
            <category>সাক্ষাৎকার</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (মুক্তাদির রশীদ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-0d96-08dba967be96_cx10_cy19_cw82_w800_h450.jpeg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>মধ্যবয়সে নারীর নিজের যত্ন </title>
            <description>“আমি আসলে চল্লিশের পরে এসেই নিজেকে এক্সপ্লোর করার সুযোগ পেয়েছি। তার আগে আমি আমার সংসার, সন্তান, কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত এবং এতটাই আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা ছিলাম যে আমার পক্ষে তখন আলাদা করে নিজের জন্য সময় বের করা, নিজেকে নিয়ে ভাবার অবকাশ হয়নি। যখন আমি চল্লিশ পার করলাম, তখন আমার মধ্যে যে ব্যাপারটা কাজ করলো সেটা হচ্ছে, এখন আমার আর কিছু যায় আসে না। আগে আমি সবসময় মাথায় রাখতাম আমাকে কে কীভাবে দেখছে, কী ভাবছে, আমার ভালো-মন্দকে কীভাবে বিবেচনা করছে, গ্রহণ করছে। এখন আর আমার মধ্যে সে বিষয়টা কাজ করে না। আমি যদি এখন বিদেশে যেয়ে হাফ প্যান্ট পরে একটা ছবিও তুলি, আমার মনে হয় না কে আমাকে কীভাবে জাজ্‌ করছে সেটা নিয়ে আমি ভাবি। একটা সময় কিন্তু ভাবতাম। আমার মনে হয়, চল্লিশের পরে যেয়ে কনফিডেন্স লেভেলটা অনেক বেড়ে যায়। এটা আমার ক্ষেত্রে হয়েছে। আরেকটা বিষয় হলো, এই সময়টাতে একজন নারী আর্থিকভাবে তাঁর পার্টনারের কারণেই




হোক কিংবা নিজের কারণেই হোক কিছুটা স্টেবল হন। যখন একজন নারী মধ্যবয়সে যেয়ে ফিনানশিয়ালি স্টেবিলিটিটা ফিল করবেন, তিনি অনেক কিছু এক্সপ্লোর করতে পারবেন,”- কথাগুলো ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলছিলেন ফ্রিল্যান্স পরিচালক, অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা নাহিন শফিক। মধ্যবয়সে নারীর বিভিন্ন শারীরিক, মানসিক পর্যায় এবং এ সময়ের ‘সেল্ফ কেয়ার’ বা নিজের যত্ন নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকা-র পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছিল চল্লিশোর্ধ কয়েকজন নারী ও মনোবিদের সঙ্গে।   


মধ্যবয়স কী? কেনো প্রয়োজন বাড়তি যত্নের? 


একটা সময় ছিলো যখন বলা হতো মেয়েরা কুড়িতেই বুড়ি। যুগ তার নিয়মেই পাল্টেছে। এখন আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত কৈশোর ধরা হয়। মধ্যবয়সের বয়সসীমা হলো চল্লিশ থেকে ষাট বছর অবধি। তবে আজকাল চল্লিশকেই নতুন কুড়ি বলা হচ্ছে – ‘ফর্টি ইজ দ্য নিউ টোয়েন্টি’। বয়স চল্লিশ মানে জীবনের একটি নতুন মাইলফলক ছোঁয়া। এখন নিজেকে সময় দেয়ার দিন। ‘মধ্যবয়সী’ ভেবে নিজেকে নিয়ে হাপিত্যেশ না করে চাইলে প্রেমেও পড়া যায় এ বয়সে। কারণ ২০১৬ সালে করা ইউরোপীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের যৌথ গবেষণার ফল বলছে, মধ্যবয়স এখন ষাট বছরে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলাফলকে ধরেই সমীক্ষাটি করা হয়েছিলো। তবে এশিয়ান নারীদের বেলায় এখনও চল্লিশ পরবর্তী সময়কেই মোটামুটিভাবে মধ্যবয়স বলা যায়। 


মধ্যবয়সে নিজের জন্য প্রয়োজন হয় একটু অতিরিক্ত যত্নের। এ সময় সুষম খাদ্য, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ত্বকের ও চুলের যত্ন এবং সর্বোপরি মনের যত্ন নেয়া ভীষণ প্রয়োজন। চল্লিশের পর থেকে শরীরে কোলজেনের প্রোডাকশন কমে যেতে শুরু করে। ফলে বলিরেখা, পিগমেন্টেশন শুরু হয়। আবার মেনোপজের সময়ে  হরমোনাল পরিবর্তনের ফলে অনেকের মধ্যে অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন আসে, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যায়।  মেনোপজের পর  অস্টিওআর্থারাইটিস,  অস্টিওপোরোসিসের মত রোগ দেখা যায়। মেনোপজ সংক্রান্ত আরো অনেক শারীরিক-মানসিক জটিলতা যেমন – হটফ্ল্যাশ, ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফি  ইত্যাদি দেখা যায়। ইস্ট্রোজেন-প্রজেস্টেরন ক্ষরণ কমে যাওয়ায় হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়  যার ফলে শরীরে ও মনে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। 


সমস্যাগুলিকে সরিয়ে ভালো থাকুন 


উদ্যোক্তা আয়েশা এদিব খানম মনে করেন, কুড়ি থেকে চল্লিশ এই ক’টা বছর পড়াশোনা, সংসার শুরু করা, প্রেগনেন্সি, কেরিয়ার সব মিলিয়ে নারীর একটা বিশাল স্ট্রেসের সময় যায়। তখন নিজের দিকে তাকানোর চাইতেও তার সবচেয়ে বেশি ফোকাস থাকে  সংসার, সন্তান বড় করা, তার কেরিয়ার ইত্যাদি।  মধ্যবয়সে যখন নারী পৌঁছান ততদিনে তার সন্তানেরা পড়াশোনার একটা পর্যায়ে চলে আসে।  তার কেরিয়ারও একটা শেপ-এ চলে আসে। কিন্তু এগুলো করতে গিয়ে  বিশেষ করে আমাদের সমাজে একজন নারী  দেখতে পান তাঁর জীবনের অনেকটা সময় চলে গেছে,  নিজের দিকে তাকানোর সময় পাননি। তিনি বললেন, “হঠাৎ করে একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বোধোদয় হওয়ার মত একটা ফিলিংস হলো। একদিন হঠাৎ পাকা চুলটা  চোখে পড়ে।  তারপর দেখলাম, রাস্তাঘাটে লোকজন যারা আগে ‘আপা’ বলে এড্রেস করতো তারা ‘আন্টি’ ডাকতে শুরু করল।  তখন এ বিষয়গুলো কিন্তু খুব কানে লাগতো। প্রথম দিকে খুব ধাক্কা লাগতো, আমি এত বয়স্ক হয়ে গেছি!”  




বাংলাদেশের বাংলা একাডেমির উপ পরিচালক রোকসানা পারভীন স্মৃতির মতে, মধ্যবয়সে কনফিডেন্স লেভেলটা খুব ইম্পর্টেন্ট।  তিনি বলেন, “চল্লিশোর্ধ বয়সে এসে আমি কোন এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড, চাকরি জীবনে, পারিবারিক জীবনে কোন পরিবেশের ভেতর দিয়ে এসে এই জায়গায় অবস্থান করছি সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি আমার কনফিডেন্স লেভেল খুব স্ট্রং তাই আমার জীবনে জটিলতাগুলো খুব কম।  সে কারণে আমাকে কেউ  আমি কী করব, কীভাবে চলবো, কী পরবো – এগুলো নিয়ে বললে আগে  চিন্তা করি, যে বলছে আসলে সে আমাকে এ কথাগুলো বলতে পারে কিনা।  অর্থাৎ তার এডুকেশনাল, তার সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ড, পারিবারিক অবস্থান থেকে সে আমার সমপর্যায়ের  কিনা বা আমার চাইতে বেশি কিনা। যেহেতু আমি মানসিকভাবে স্ট্রং এবং কী করছি সেটা বোঝার মত বুদ্ধি এবং যথেষ্ট বিবেচনাবোধ আমার রয়েছে বলে আমি মনে করি তাই এ বিষয়গুলো আমাকে ভাবায় না। যারা নেগেটিভ কথা বলে তারা আসলে আমার সমপর্যায়ের না অর্থাৎ আমি বলব যে তাদের মানসিক গঠনটা ঠিক আমার মতো করে হয়নি। আমি খুব পজিটিভ মাইন্ডের একজন মানুষ,  খুব পজেটিভ ভাবে সবকিছু চিন্তা করতে ভালোবাসি। কোনও বিষয় কোনও কথা আমার পছন্দ না হলে  সঙ্গে সঙ্গে রিঅ্যাক্ট না করে চেষ্টা করি দুই-তিনবার ভেবে সেখান থেকে পজিটিভ কিছু বের করে আনার।”  


নাহিন শফিক মনে করেন, একজন নারী চল্লিশের কোঠায় এসে তাঁর অবস্থান, তাঁর সৌন্দর্য নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিনা সেটা আসলে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, “একটা বয়সের পরে আপনার রিংকেলস পড়বে, চামড়াটা একটু লুজ হবে, চুলের গোড়া একটু সাদা দেখা যাবে, এটাই তো স্বাভাবিক। এটা সত্যি যে চল্লিশ পার করার পর আমরা অনেকেই অস্থির হয়ে যাই নিজের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য। ফ্যাশন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার চেষ্টা করি, অনেক কিছু করার চেষ্টা করি। কিন্তু সেটা আসলে নিজেকে ভালো রাখার জন্যই। নিজেকে সুন্দর রাখতে, গুছিয়ে রাখতে গিয়ে যদি আপনি কিছু চর্চা করেন তবে তা খারাপ না। যে বয়সে, যখন যেটা পরতে ইচ্ছে করুক না কেনো সেটা পরাই উচিত। আমি পোশাক নয় বরং আচরণটা নিয়ে ভাবি যে সেটা কেমন হওয়া উচিৎ। আমার আচরণটা বয়সের সাথে যায় কি যায় না সেটা চিন্তা করার চাইতেও আমি কতটা সহনশীল, আমি কতটা মানবীয় গুণাবলীসম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠছি আমার এই মধ্যবয়সে সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” 




ভয়েস অফ আমেরিকা-র সঙ্গে কথা বলেছেন আরো একজন নারী, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আলেয়া বেগম। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, “চল্লিশের পর থেকে মুড সুইং হয়, এনার্জি লেভেল কমে যায়।  যেমন আমি এখন আগের মতো এনার্জিটিক না। আমাকে দেখতে আগের মত লাগছে না,  আমি চাইলেই লাইভলি থাকতে পারছি না এই জিনিসগুলো আসলে প্রতিটা মেয়েকে খুব কষ্ট দেয়।  তাছাড়া আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন যে, আমরা কারো সাথে কেউ দেখা হলে প্রথমেই বলি,  ‘আল্লাহ! আপনি এরকম হয়ে গেছেন! আপনি মোটা হয়ে গেছেন! আপনাকে এরকম দেখা যাচ্ছে!’ আমাদের সোসাইটি সারাক্ষণই মনে করিয়ে দিতে থাকে যে আপনি তো আগের মত নাই, আপনি বুড়ো হয়ে গেছেন। আমার কথা হল, বার্ধক্য যখন আসছে তখন একটা টিনএজ মেয়ের এনার্জি, লুকিং  কোনটাই আমার থাকবে না। কিন্তু আমার যেটা থাকবে সেটাকে আমার মেইনটেইন করতে হবে।  সেভাবে আমার ব্যক্তিত্ব বয়সের সাথে  সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। কিন্তু আমরা সমাজের বিভিন্ন কথায় কমপ্লেক্স ও সোশ্যাল প্রেসারে ভুগে অনেক সময় মরিয়া হয়ে যাই নিজেকে কতটা ইয়াং দেখানো যায় সেটা নিয়ে। আমি দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছি  চল্লিশ বছর বয়সের পরে। তখন আমার এনার্জি খুবই কম ছিলো। আমি অফিস করতাম, বাচ্চার টেক কেয়ার করতাম।  দিনের বেলা বাচ্চা ডে-কেয়ারে থাকতো কিন্তু তার সবকিছু আমাকে রেডি করে ডে-কেয়ারে দিতে হতো। এভাবে কেরিয়ার, সন্তান সামলাতে গিয়ে আমি প্রবল চাপে ভুগি। তখন আমি অফিসে একটা সিনিয়র পোস্টে, কাজের অনেক চাপ আবার এদিকে সন্তানের দেখাশোনা।  রাত আটটা-নয়টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হতো। এদিকে কন্যাশিশুর সিকিউরিটির ব্যাপারও আছে। তারপর এলো করোনার সময়। আমার মেয়ের বয়স তখন ছিল মাত্র দুই বছর।  ওই সময়ে ডে-কেয়ারও বন্ধ ছিল। বাচ্চাকে রাখব কোথায়,  সব মিলিয়ে আমি এত এত  ইনসিকিউরিটির মধ্যে  এক সময় কেরিয়ারের পিক পয়েন্ট-এ এসে জব-টা ছেড়ে দিই।”    


মেনোপজ ও অন্যান্য মনোদৈহিক সমস্যা 




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা বেগম মেনোপজ সম্পর্কে বললেন, “মেনোপজটা পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চান্ন বছর বয়সের মধ্যে সাধারণত হয়। এই মেনোপজের প্রক্রিয়াটি হুট করে হবে না। এক বছর পর্যন্ত যদি সাইকেলটা অনিয়মিত থাকে বা পিরিয়ড না হয় তখন তাকে আমরা মেনোপজের ক্রাইটেরিয়া হিসেবে ডিফাইন করি। এটা নারীর জীবনের স্বাভাবিক পরিবর্তন। এটাকে কোনো সমস্যা বা রোগ হিসেবে যদি সমাজ বা পরিবার চিন্তা করলেই ওই নারী মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে এবং একইসঙ্গে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।” তিনি আরো বলেন – “যখন একজন নারীর মেনোপজ হচ্ছে তখন এর কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ কিন্তু তাঁর মধ্যে দেখা দেবে। যেমন দিনে তিন/চারবার  হট ফ্লাশ হতে পারে অর্থাৎ হঠাৎ করে পুরো শরীরে প্রচন্ড গরম অনুভূত হবে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি দরদর করে ঘামতে থাকবেন। এ ধরণের উপসর্গ একজন নারীর জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। হট ফ্লাশের তীব্র খারাপ অনুভূতি থেকে একাকীত্ম, বিষন্নতা, মুড সুইং, খিটখিটে মেজাজ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতি আমরা পরিবারের সদস্যরা অনেক সময়ই বুঝে উঠতে পারি না। তাঁর যে সে সময় কিছুটা বিশ্রাম প্রয়োজন, আরামের প্রয়োজন সেটা তাঁর সঙ্গী কিংবা ছেলেমেয়েরা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা না বুঝেই বিরক্তি প্রকাশ করেন অথবা বিষয়গুলো সম্পূর্ণ ইগনোর করে নিজেদের চাহিদা পূরণে নারীকে ব্যস্ত রাখেন। পরিবারের সদস্যরা যদি এই মেনোপজের বিষয়টি জানেন, বুঝতে পারেন এবং ইতিবাচকভাবে নেন তাহলে সেই সময়টাতে নারীর প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে পারেন। নারীর যদি পরিবারেই এ ধরণের শেয়ারিংয়ের জায়গা থাকে তাহলে তাঁর অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বিষন্নতায় ভোগা বা অস্থিরতার যে অনুভূতিগুলো যেগুলোকে আমরা সাইকোলজিকাল সিম্পটম হিসেবে ধরে থাকি সেগুলো আস্তে আস্তে কমে যাবে।” 


ফারজানার বিশ্লেষণ, যারা মেনোপজের মধ্য দিয়ে যান সেইসব নারীর অনেকেই ভাবেন যে তাঁদের স্বামী বা পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কে ভাঙন ধরে যাচ্ছে। সঙ্গীকে নিয়ে ইনসিকিউরিটি তৈরি হয়। বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন এই চিন্তা নারীদের মনে চাপ তৈরি করে। এরফলে অনেকেই অতিরিক্ত সাজগোজ, রঙীন চকচকে পোশাক পরা, অতিরিক্ত ছবি তোলা, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি এ্যাকটিভ থাকা ইত্যাদি করেন, যা আসলে শরীরের বয়সের সঙ্গে তাঁর মনের তারুণ্য ধরে রাখার দ্বন্দ। আবার নারীদের একটা অংশ মেনোপজকে ইতিবাচক হিসেবে নেন, বিশেষ করে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে। প্রতিমাসে মেনস্ট্রুশন না হওয়া এবং সন্তান ধারণের ভয় না থাকাকে অনেকেই ঝামেলাহীন, উপভোগ্য জীবন মনে করেন। এই বিষয়গুলো পরিবেশ, প্রকৃতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও দেশভেদে নির্ভর করে। 


ফারজানা জানালেন, এই বয়সে নারীর আরো কিছু শারীরিক সমস্যা হতে পারে। যেমন ইউরিনারি ডিসফাংশন। অনেক সময় ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস, ইচিং, বার্নিং, সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স বা যৌন সংসর্গের ক্ষেত্রেও একটা নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়। এ সমস্যাগুলো থেকে সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি কিংবা বোঝাপড়ার অভাব হতে পারে। যদি এ বিষয়গুলোকে ঠিকঠাক সামলানো না যায় তাহলে সেখান থেকে একা থাকা, সেপারেশন এমনকি ডিভোর্সের ঘটনাও ঘটতে পারে। মনে রাখা দরকার, পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সাপোর্টের মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব থেকে নারী বেরিয়ে আসতে পারেন। 


মেনোপজ-এর সময়ে ভালো থাকার উপায় 


নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, গোসল করা, আরামদায়ক সুতি কাপড় পরতে হবে। হট ফ্লাশ হলে ঘরে আরামদায়ক ঠান্ডা পরিবেশ, পর্যাপ্ত বাতাস সম্ভব হলে এয়ার কন্ডিশনার-এর নিচে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত মাত্রায় চা-কফি, ধুমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ ঠিক নয়। এইসব মুড সুয়িংয়ের পরিমাণ বাড়ায়, ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। মেনোপজের পর নারী শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতি দেখা দেয়। তা কমানোর ক্ষেত্রে খাবারের একটি বড় ভূমিকা থাকায় ব্যালেন্সড ডায়েট বা ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেতে হবে।  শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদন কমে গেলে হাড়ক্ষয় হতে পারে। যেটাকে অস্টিওপরোসিস বলা হয় যা মেনোপজের বিপদজনক শারীরিক প্রভাব হিসেবে বিবেচিত হয়। অস্টিওপরোসিস এবং  অস্টিওআর্থারাইটিসের আরেকটি কারণ হচ্ছে চল্লিশের পর শরীরের বাড়তি ওজন। আমাদের শরীরের পুরো ওজনটাই যেহেতু পায়ের হাড়কে বহন করতে হয় তাই ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-র ঘাটতি থাকলে হাড়ক্ষয়জনিত সমস্যায় ভুগতে হবে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। এছাড়া ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতি খুব বেশি হলে সাপ্লিমেন্ট থেরাপির মাধ্যমে ইস্ট্রোজেনের লেভেল বাড়ানো হয়।     


সেল্ফ কেয়ার 


সেল্ফ কেয়ার মানে হলো নিজের আত্মিক, মানসিক ও শারীরিক যত্ন নেয়া। নিজের বিষয়গুলোর প্রতি অবগত থাকা। নাহিন শফিকের মতে, আপনি নিজে যদি ভালো না থাকেন তাহলে অন্যকে কোনোদিন ভালো রাখতে পারবেন না। এমনকি আপনার নিজের সন্তানকেও না। নিজেকে ভালো রাখতে গিয়ে যদি মনে হয় যারা আপনাকে জাজ্‌ করছে, অসম্মান করছে, তাদের সঙ্গে আপনি দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন, সেটা আপনি করতে পারেন। ভালো থাকার জন্য এ বিষয়গুলো নিজেকেই কেটেছেঁটে ফেলতে হবে। নাহিন মনে করেন যদি পার্লারে গিয়ে স্কিন কেয়ার করে, মাসাজ করে, হাত-পা, চুলের যত্ন নিয়ে ভালো লাগে, সতেজ লাগে তবে তা করা উচিৎ। যদি মেকআপ করে কনফিডেন্স লেভেল বাড়ে তবে তাই করা উচিত। 




আয়েশা এদিব খানম ভালো থাকার জন্য অবসরে প্রচুর বই পড়েন। তিনি জানালেন, বিভিন্ন ধর্মীয় বই, বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক দর্শন, মানব সভ্যতার ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তিনি পড়াশোনা করতে ভালোবাসেন। বয়সের সঙ্গে এখন সামাজিক মেলামেশা কিছুটা কমিয়েছেন বরং বইয়ের মধ্যেই সময় কাটাতে ভালোবাসেন। দুই মেয়ের সঙ্গে মাঝেমাঝে শপিংয়ে যান। বললেন, “আজকালকার মেয়েদের ফ্যাশন, সাজগোজ এগুলো দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। কে কী পরবে, কিভাবে চলবে সেটার কোনো ঢালাও প্রেসক্রিপশন হয় বলে আমার মনে হয় না। এটা রুচি ও ব্যক্তিত্বের ব্যাপার। কাপড়চোপড়ের বেলায় আমি খুব বেশি প্রাচীনপন্থী হতে পারি না কারণ আমার মেয়েরা আমাকে ঠিক করে দেয় আমি কী পরবো।  ওরা ওদের জন্য যে টপস, কুর্তি কেনে আমার জন্যও তাই কেনে।”  


রোকসানা পারভীন জিম করেন টানা ১৭ বছর  ধরে। জানালেন, তাঁর ছেলের বয়স যখন ২ বছর তখন থেকে জিম করছেন। তিনি বলেন, এটাই তাঁর ভালো থাকার মূল মন্ত্র। নিয়মিত যোগ ব্যায়াম , এরোবিক্স, কার্ডিও এক্সারসাইজগুলো করার সুফল হিসেবে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকের চাইতে বেশি অ্যাকটিভ থাকতে পারছেন বলে জানালেন। এমনকি হরমোনাল ইমব্যালেন্স হওয়া, হট ফ্লাশ হওয়া, মধ্যবয়সের এ ধরণের সমস্যার মুখোমুখি তিনি এখনও হননি। রোকসানা মনে করেন, প্রত্যেক নারীরই নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। এছাড়াও রোকসানা ভ্রমণকে সেল্ফ কেয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন। তিনি আরো বললেন, “অফিসে আমি টিম ওয়ার্ক-এর মধ্যে কাজ করতে পছন্দ করি। বাড়িতেও কোন কিছু হলে সেটা মায়ের সঙ্গে আলাপ করি। এমনকি আমার ছেলের সঙ্গেও আলাপ করি। কোনো কিছু চেপে রাখি না। আমি ইচ্ছে করে  ছেলের সঙ্গে  অনেক কিছুই আলাপ করি, তার মতামত নেই যাতে পরবর্তীতে ও না বলতে পারে যে আমি ওর উপর কোনো মত চাপিয়ে দিয়েছি যেটা আমার মেন্টাল স্ট্রেসের কারণ হবে। সে কারণে আমি  বিষয়টা শেয়ার করি।” 


আলেয়া বেগম পরিকল্পনা করে কাজ করতে পছন্দ করেন। তিনি জানালেন, “আমি আগে থেকে একটা প্ল্যান করেছিলাম যে চল্লিশের পর থেকে রেগুলার একটা হেলথ চেক আপ করাবো।  কারণ এই সময়টা থেকেই মেয়েদের নানান ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। সে কারণে বছরে একবার এ ধরনের চেকআপ করাই।   আমি মনে করি সব মেয়েরই এই ধরনের  হেলথ চেক আপ করানো উচিত। কারণ অনেক ধরনের সমস্যা শরীরের ঘাপটি মেরে থাকে যেগুলো আমরা আসলে চেক আপ না করালে বুঝতে পারি না।” তিনি মনে করেন এজন্য প্রতিটি নারীরই একটি মেডিকেল ফান্ড তৈরি করে রাখা উচিত যাতে হঠাৎ করে অসুস্থ হলে নিজেই নিজের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা যায়। 


আলেয়া আরো বললেন, “পারিবারিক বন্ধনের মধ্যে থাকাটা অনেক স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয়।  তাই আমি সন্তানদেরও সামাজিকীকরণ করার চেষ্টা করি। মোদ্দা কথা হল, একটা কমিউনিটিতে থাকা। কোথাও না কোথাও নিজেকে ওপেন আপ করা। কমিউনিকেশন বাড়ানো। যে জায়গাগুলোতে ইনসিকিউরিটি আছে সেইগুলোকে সিকিওর্ড করার জন্য কাজ করা।  যেমন আমি নিজে কোনো কাজ করলাম কিংবা জমানো টাকা দিয়ে একটা সঞ্চয়পত্র কিনলাম। সেখান থেকে আমি একটা আর্নিং পাবো। সে টাকা দিয়ে হয়তো আমি একটা লিপস্টিক কিনলাম কিন্তু এর ভেতরে একটা আনন্দ আছে। এটা আমাকে একটা মেন্টাল রিওয়ার্ড দেবে।” 


মনোবিদ ফারজানা পরামর্শ দিলেন, আমরা অনেক সময়েই দেখা যায়, পঞ্চাশোর্ধ বয়সের একজন নারীর কেরিয়ারটা পড়তির দিকে থাকে। এরকম সময়ে সন্তানদেরও নিজস্ব একটা জগৎ তৈরি হয়ে যায়। তারা তাদের নিজেদের পড়াশোনা, কেরিয়ার ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। স্বামী তার নিজস্ব কাজকর্ম, বিভিন্ন সোশ্যাল ক্লাব, কমিউনিটি নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন। এক্ষেত্রে দেখা যায় নারীটি নিজেকে আস্তে আস্তে গুটিয়ে ফেলছেন। সমাজ ও পরিবারে তিনি একা হয়ে যাচ্ছেন, নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে শুরু করেছেন। কিন্তু যদি একজন নারী সেল্ফকেয়ারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন তাহলে তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। একাকীত্ম, মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো অনেক সমস্যা কেটে যাবে। “একজন সাইকোলজিস্ট হিসেবে আমার পরামর্শ হলো, আমরা অবশ্যই নিজের খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে যত্নশীল হবো। পাশাপাশি ব্যায়ামের দিকে নজর দিতে হবে। দিনে অন্তত ত্রিশ মিনিট যেকোনো ব্যায়াম, মর্নিং বা ইভনিং ওয়াকে বের হওয়া বা যোগ ব্যায়াম করা যেতে পারে। এছাড়া বাগান করা, বই পড়া, মুভি দেখা, ধর্মীয় বই পড়া, প্রার্থনা করা, ইউটিউবে শিক্ষণীয় ভিডিও দেখা, ছোট ছোট কোর্স করা ইত্যাদিও ভালো থাকতে ও অ্যাক্টিভ থাকতে সাহায্য করে। আরেকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। সেটি হলো আমরা আমাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে যেনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না করি। তাহলে একাকীত্বের বোধ কম হবে। পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটালে তা মানসিকভাবে প্রফুল্ল করে,” মনোবিদ হিসাবে ফরজানার পরামর্শ। 

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7191181.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7191181.html</guid>            
            <pubDate>Mon, 24 Jul 2023 11:21:49 +0600</pubDate>
            <category>স্বাস্থ্য</category><category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (আফরিন শাহনাজ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-c0a8-0242-6fcd-08db8a2b7ec5_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>যখন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন দেশনায়ক তারেক রহমান আসবেন- নিপুণ রায় চৌধুরী</title>
            <description>সম্প্রতি বিএনপি&apos;র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা জেলা বিএনপি&apos;র সাধারণ সম্পাদক, নিপুণ রায় চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছিলেন।


বাংলাদেশে বিরোধীদলগুলোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবীতে চলমান আন্দোলন, তার বিরুদ্ধে দেওয়া মামলাসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, তারেক জিয়ার দেশে ফিরে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা বিষয়ে ভয়েস অফ আমেরিকা নিপুণ রায় চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার নেয়।


ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলার হয়ে সাক্ষাৎকারটি নেন, শতরূপা বড়ুয়া।




 

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/7103338.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/7103338.html</guid>            
            <pubDate>Mon, 22 May 2023 07:00:25 +0600</pubDate>
            <category>সাক্ষাৎকার</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (ভিওএ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-7820-08db5a5ea7e8_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>বাংলা উপন্যাসে প্রেম ও দ্রোহে নারী</title>
            <description>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের অমিত রায়, লাবন্যকে প্রথম দেখার পরে বাড়ি ফিরে এসে কবিতার খাতা বের করে লিখেছিলো, “পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি / আমরা দুজন চলতি হাওয়ার পন্থী।” লাবন্যকে দেখার পর অমিতের মানসপটে যে আলোড়নের বর্ণনা রবি ঠাকুর দিয়েছেন তা যেনো বাঙালি তরুণের মনে হাজার বছর ধরে লালিত প্রেমের আখ্যান। বাংলা সাহিত্যে প্রেম এসেছে বহু রঙে-বর্ণে, বিভিন্ন আঙ্গিকে। হাজার বছর ধরে সাহিত্যে প্রেম ও বিরহ একই মুদ্রার দুই পিঠ। বাংলা সাহিত্যকে পাঠকের কাছে চিরন্তন করেছে প্রেম, বিরহ ও মিলন কেন্দ্রিক সাহিত্য। বাংলা উপন্যাসে সবচেয়ে বৈচিত্রপূর্ণ বিন্যাস করা হয় নারী চরিত্রগুলোকে। সাহিত্যিকরা উপন্যাসে নারীদের বহু রঙে একেঁছেন। কখনো সে একেবারে শ্বাশত বাঙালি নারী। কখনও বা প্রথা ভাঙা, সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখানো প্রতিবাদী চরিত্র। কখনও প্রেমময়, কখনও কঠোর।


বাংলা উপন্যাসে প্রেম ও প্রেমিকা

বাংলা সাহিত্যের শুরুতেই আসে চর্যাপদের কথা। দেড় হাজার বছর আগে রচিত চর্যাপদের পংক্তিতেও প্রেম ও নারীকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রাচীন ২৮ নং চর্যার কয়েকটি পংক্তির বাংলা করলে প্রেম ও নারীর যে সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় তা হল; ‘উঁচু উঁচু পাহাড়ে শবরী বালিকা বাস করে। তার মাথায় ময়ূরপুচ্ছ ও গলায় গঞ্জরীমালা লাগানো আছে। নানা তরু মুকুলিত হলো। তাদের শাখা-প্রশাখা আকাশে বিস্তৃত হলো। শবর-শবরী প্রেমে পাগল হলো। তাদের হৃদয় রঙিন ও উদ্দাম হলো কামনার রঙে। অতঃপর শয্যা পাতা হলো। শবর-শবরী প্রেমাবেশে রাতযাপন করল।’


আবার মঙ্গলকাব্য সাহিত্যে প্রেমের উপস্থাপনের পাশাপাশি নারীর উপস্থিতি ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও প্রাধান্য পেয়েছে। কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চন্ডীমঙ্গল কাব্যে মূলত কালকেতু ও তার স্ত্রী ফুল্লরার প্রতি দেবী চন্ডীর অনুগ্রহের কাহিনী বর্ণনা করেছেন। এ কাব্যে দেবীর সরব উপস্থিতি ও ফুল্লরার স্বামীর প্রতি ভালবাসা, প্রেম, প্রতিবাদ, বিশ্বাসের পরীক্ষা ফুল্লরাকে মুখ্য চরিত্রে (প্রটাগনিস্ট) পরিণত করেছে। এক্ষেত্রে মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলা ও লখিন্দরের প্রেমও বিশেষভাবে উল্লেখ্য। মনসার শাপে সাপ দংশন করে চাঁদ সওদাগরের পুত্র লখিন্দরকে । তাকে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ভেলায় করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। সব বাধা উপেক্ষা করে লখিন্দরের স্ত্রী বেহুলা স্বামীর সঙ্গে ভেলায় সহযাত্রী হয়। স্বামীর প্রতি অগাধ প্রেম ও তাকে বাঁচানোর জন্যে বেহুলার যে আকুতি ও প্রচেষ্টা তা তাকে মূল চরিত্র হিসেবে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে।


অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি থেকে উপন্যাসের ধারায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। এর সাথে সাথে পাল্টাতে থাকে নারী চরিত্রগুলোও। প্রেমের উপন্যাসগুলোতে বৈচিত্র্য আসে প্রেম, প্রণয় ও বিরহের চিত্রণে। বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা ঔপন্যাসিকদের লেখনিতে এক একটি অমর চরিত্রের সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে আমরা কথা বলেছিলাম দুই বাংলার কয়েকজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিকদের সঙ্গে। তাঁরা ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানিয়েছেন, কিভাবে তাঁরা বাংলা প্রেমের উপন্যাস এবং উপন্যাসের নারী চরিত্রকে মূল্যায়ন করছেন। জানিয়েছেন বাংলা উপন্যাসে তাঁদের প্রিয় নারী চরিত্রগুলোর কথা।


শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

 




বেশিরভাগ উপন্যাস লিখেছেন পুরুষ সাহিত্যিকরা। বঙ্কিমের আমল থেকে এ আমল পর্যন্ত লেখিকার চেয়ে লেখকের সংখ্যা অনেক বেশি। সে কারণেই সাহিত্যে বেশিরভাগ নারীদের দেখা হয়েছে পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে। কাজেই মনে হতে পারে যে শুধু প্রেমিকা হিসেবে দেখা হয়েছে। আর বিভিন্ন সময়ে নারীরা যারা লিখেছেন তাদের লেখায় হয়তো প্রেম আছে তবে সেই দৃষ্টিভঙ্গিটা পুরুষদের মতো নয়। নারীর অসহায়ত্বটাই হয়তো বেশি ফুটেছে। কিন্তু সামগ্রিক বিষয়টা তো হলো নারী ও পুরুষের মধ্যে একটা আকর্ষণ যা সৃষ্টির আদিকাল থেকে চলে আসছে। তাই নারী লিখুন আর পুরুষই লিখুন প্রেমের ব্যাপারটা অগ্রাধিকার পাবে। পুরুষ লেখকের চোখে নারী বেশি রোমান্টিক। তার দৃষ্টিতে সৌন্দর্য অনেক বেশি আরোপিত হয়ে যায়। সৌন্দর্য প্রেমের প্রথম শর্ত। খুব সুন্দরী না হলেও প্রেমিকের বর্ণনায় সে সুন্দর। যেমন লায়লা-মজনুর লায়লা কিন্তু খুব সুন্দরী ছিলেন না। কিন্তু তবু মজনু তাকে ভালোবেসেছিলেন। এবং মজনু বলেছিলেন যে, লায়লাকে দেখতে হলে মজনুর চোখ দিয়ে দেখতে হবে। এই দেখাটাই আরোপিত। প্রেমের উপন্যাসে সামাজিক বিষয়গুলো যেমন বিধি-নিষেধ, শাসন ইত্যাদি চলে আসে কারণ তা সম্পর্কিত। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে বিভূতিভূষণ, রবীন্দ্রনাথ এবং পরবর্তী সময়ের লেখকদের লেখায় প্রেমটাই প্রাধান্য পেয়েছে। প্রেমিকা চরিত্র বা মুখ্য নারী চরিত্র হিসেবে অনেকগুলো প্রিয় চরিত্রের মধ্যে এই মূহূর্তে মনে পড়ছে শরৎচন্দ্রের দত্তার বিজয়ার কথা। এছাড়া বঙ্কিমচন্দ্রের রোহিনী, দুর্গেশনন্দিনীর কুন্দনন্দিনী, আয়েশা; রবীন্দ্রনাথের লাবন্য এই চরিত্রগুলো আমার ভালো লাগে।


বাণী বসু



কথাসাহিত্যের একেবারে গোড়ার দিকে পুরুষ লেখকরা নারীদের জন্য যে মাপকাঠি সৃষ্টি করেছিলেন সে অনুযায়ী তারা চরিত্রগুলো সৃষ্টি করতেন। তার মধ্যে ছিলো নারীর শারীরিক সৌন্দর্য, নারীর রহস্যময় রূপ। আর ছিলো তার কতগুলো কাজকর্ম যেগুলো নারী মানেই করতে হবে। সেগুলোর মধ্যে চরিত্রগুলো ঘোরাফেরা করতো। সেই জায়গায় বঙ্কিমচন্দ্রের আয়েশার মতো একটি চরিত্র বা আনন্দমঠের শান্তি বা কপালকুন্ডলা এগুলো সত্যিই খুব উল্লেখযোগ্য। বঙ্কিমচন্দ্র নিজেও সেই যুগের নারী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। লেখক আরম্ভ করেন একটা সামাজিক অবস্থান থেকে। কিন্তু যত এগোন নিজের সৃষ্টিকর্মের মধ্যে তিনি ততই হারিয়ে যেতে থাকেন এবং সেই সত্যটা প্রকাশিত হতে থাকে। মানে চরিত্রগুলো তার নিজের মতো করে সৃষ্টি হতে থাকে। এটা সমাজ নিরীক্ষা, দর্শন ইত্যাদির কারণে হয়ে যায়। সেটা জানি বলেই এখনো আমরা সেকালের লেখকদের লেখা পড়ে অভিভূত হতে পারছি। আগে যেমন প্রেমের উপন্যাস মানে প্রেমেরই উপন্যাস। সেখানে প্রেমটাকে মুখ্য করে দেখা হতো। বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে প্রেমের সাথে অন্যান্য বিষয় চলে এসেছে। যেগুলো বাদ দিয়ে জীবনে শুধু প্রেমটা মুখ্য হতে পারে না। তাই এখনকার উপন্যাসে অন্যান্য বিষয়ের সাথে প্রেম আছে, শারীরিক সম্পর্ক আছে, তবে প্রেমের সেই আকুতি দেখা যায় না। পছন্দের চরিত্রের মধ্যে ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্যর কথা বলব। লাবণ্য ইন্টালেকচুয়াল সেই সঙ্গে রোমান্টিকও বটে। এ সমস্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে লাবণ্যকে একুশ শতকের নারীদের সাথে সম্পর্কিত করা যায়।


সেলিনা হোসেন



নারী আমার কাছে শুধু প্রাকৃতিক লিঙ্গ নয়। নারী মানুষ। মানুষের মানবাধিকার সত্যের সঙ্গে নারীর সামাজিক অবস্থান আমার কাছে বৃহত্তর সত্য। এখানে নারী-পুরুষের পার্থক্য নেই। নারী পুরুষের লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য আছে কিন্তু সামাজিক অবস্থানের পার্থক্য নেই। এভাবে সাহিত্যে আমি নারীকে দেখি। আমার এ পর্যন্ত প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা পঞ্চাশটির মতো। অনেকগুলি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নারী। এসব নারীর বেশিরভাগ সাহসী, সংগ্রামী, প্রেমিকা। সাহসী প্রেমিকা চরিত্র হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে মনে পড়ছে ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত &apos;পদশব্দ&apos; উপন্যাসের নাসিমা চরিত্রটির কথা। যে কিনা বিবাহ-বিচ্ছেদের পর আবার নতুন করে প্রেমে পড়ে এবং সমাজের নিন্দাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রেমিক সাব্বিরের সঙ্গে লিভ টুগেদার করে।


 


ইমদাদুল হক মিলন



আমি যেটা প্রকৃত অর্থে মনে করি, সেটা হলো, বাংলা সাহিত্য বা পৃথিবীর সাহিত্যের দিকেই যদি আমরা তাকাই সেখানে ভালো উপন্যাসগুলোর একটি প্রধান জায়গা জুড়ে থাকে নারী-পুরুষের সম্পর্কের জায়গাটি। সেখানে প্রেম একটি বড় তাৎপর্যময় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নায়িকা চরিত্রটির মধ্যেই আমরা সেটা লক্ষ্য করি। বাংলা সাহিত্যের খুব গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হচ্ছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’,‘ পুতুল নাচের ইতিকথা’। সে উপন্যাসগুলোয় যেমন বাস্তবতা আছে, সমাজের নানান উত্থান-পতনের কথা আছে, পাশাপাশি প্রেম, ভলোবাসা, আবেগের কথাও ব্যাপকভাবে আছে। যদি আমরা পদ্মা নদীর মাঝিতে কপিলা এবং কুবেরের কথা বলি, সে সম্পর্কটা অত্যন্ত রোমান্টিক একটি সম্পর্ক। কপিলা কুবেরের শ্যালিকা। সেখানে এ মেয়েটি তার শ্বশুরবাড়িতে থাকে। নানারকম ভাবে অতি দারিদ্রতায় জীবন কাটে। শেষ পর্যন্ত সে কুবেরের আমন্ত্রণে তার হাতটি ধরেময়না দ্বীপে চলে যায়। সবকিছু ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়ে। সে সমাজের কথা ভাবে না। এরকম প্রতিবাদী চরিত্র আবার সমরেশ বসুর ‘বাঘিনী’ উপন্যাসে দেখি। এ মেয়েটি প্রেমের জন্য কোনো সামাজিক বন্ধন মানেনি। সে তার সংসার, সমাজকে ত্যাগ করেছে। আমরা যদি ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’য় শশী ডাক্তার আর কুসুমের কথা বলি সে সম্পর্কটাও খুব রোমান্টিক একটি সম্পর্ক। এখানে কুসুম মেয়েটি শশী ডাক্তারের প্রতি এতোই আকৃষ্ট থাকে, কিন্তু একটা পর্যায়ে যেয়ে সে তার মুখ ফিরিয়ে নেয়। সে সিদ্ধান্ত নেয় যে স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়ি ফিরে গিয়ে জীবনটা কাটাবে। তারাশঙ্করের ‘কবি’ উপন্যাসটি পুরোটাই কিন্তু প্রেমের উপন্যাস এবং আমার মতে এটি তারাশঙ্করের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। এ উপন্যাসে আমরা দেখি বসন্ত যে ছিলো যাত্রাদলের মেয়ে, সে কিন্তু সমাজকে কখনো তোয়াক্কা করেনি। আবার অন্যদিকে ঠাকুরঝি সমাজকে তোয়াক্কা করতে গিয়ে পাগল হয়ে মরে গেলো প্রেমের কারণে। এই যে সমাজের বিভিন্ন রীতিকে ভেঙে প্রেমের জন্য এগিয়ে যাওয়া এরকম গল্প এখন যেমন অনেক হচ্ছে, আগেও তৈরি হয়েছে। কিন্তু তা পরিমানে খুব বেশি না।


আমি এক্ষেত্রে একটি উপন্যাসের কথা যদি বলি, বিমল করের ‘খড়কুটো’ নামে একটি উপন্যাস আছে। সে উপন্যাসে অমল এবং ভ্রমর নামে দু’টি ছেলেমেয়ের সম্পর্ক দেখানো হয়, মেয়েটি ক্যান্সারে ভুগছে। সবকিছু মিলিয়ে সে উপন্যাসটি মনে দাগ কাটার মতোই। সমরেশ মজুমদারের ‘কালবেলা’ ও ‘কালপুরুষ’ উপন্যাসের অর্ক এবং মাধবীলতার কথা খুব মনে পড়ে। এর বাইরে আমরা যদি আমাদের বাংলাদেশের লেখকদের কথা বলি তাহলে সৈয়দ শামসুল হকের লেখায়, শওকত আলী, রশীদ করিম, সেলিনা হোসেন, রাবেয়া খাতুন, রিজিয়া হোসেনের লেখায় সেই রোমান্টিকতার জায়গা দেখি। বলা হয় আমার বেশিরভাগ উপন্যাস প্রেমের। আমার ‘নুরজাহান’ উপন্যাসের নুরজাহান চরিত্রের মধ্যে আমি আবেগকে দেখিয়েছি। পারুল নামে একটা নারী চরিত্র আছে, তার প্রেমের কথা আছে। তিনটি সন্তান নিয়েও সে আরেকটি প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। মোট কথা বাংলা সাহিত্যের অনেকটাই দখল করে আছে প্রেম।


চিরায়ত উপন্যাসের কালোত্তীর্ণ নারী চরিত্র

বাঙালী জীবনে সাহিত্যের প্রভাব কতটুকু তার পরিমাপ করাটা বেশ কঠিন বলা যায়। কারণ বাংলা সাহিত্য বিশেষত উপন্যাসের চরিত্রগুলোর প্রভাব আমরা দেখি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে, আমাদের নাটক, চলচ্চিত্র এমনকি সংগীতেও। শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং আরো অনেক সাহিত্যিকদের সৃষ্ট অমর চরিত্রগুলোর পোশাক, সাজ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মিশে আছে। বাঙালি নারীর সাজ পোশাক বা ফ্যাশনে মিশে আছে শেষের কবিতার লাবণ্য, কেতকী, রক্তকরবীর নন্দিনী, দেবদাসের পার্বতী, কালবেলার মাধবীলতা, সাতকাহনের দীপা, হুমায়ুন আহমেদের হিমু চরিত্রের নায়িকা রূপা সহ আরো অনেক অমর চরিত্র। আমরা এখানে চেষ্টা করেছি অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে প্রায় দেড়শ বছরের বাংলা উপন্যাসের কয়েকজন প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের অমর উপন্যাসগুলোর প্রেমিকা নারী কিংবা নায়িকা চরিত্রগুলোকে স্বল্প পরিসরে তুলে ধরতে।


বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃণালিনী: সাহিত্যিক বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় উপন্যাস। মূলত ঐতিহাসিক উপন্যাস, তুর্কী সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা আক্রমণের পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত। রাজপুত্র হেমচন্দ্র এবং মৃণালিনীর প্রেমকাহিনীকে কেন্দ্র করে এর গল্প। দেশ রক্ষার জন্য হেমচন্দ্র বিভিন্ন কারণে মৃণালিনীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করতে বাধ্য হয় এবং ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। মগধের স্বাধীনতা রক্ষার্থে শিক্ষক মাধবাচার্যর প্রতারণায় সে মৃণালিনীকে হারায়৷ শিক্ষক মাধবাচার্য মৃণালিনীকে বন্দি করে রাখেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সফল হন।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতার লাবন্য: “হে মোর বন্যা, তুমি অনন্যা,/ আপন স্বরূপে আপনি ধন্যা।”

লাবণ্য সম্পর্কে অমিতের এই উক্তি থেকেই ‘শেষের কবিতা’র নায়িকা লাবণ্যের পরিচয় পাওয়া যায়। আর পাঁচটি মেয়ের চেয়ে সে আলাদা। লাবন্যর নিজস্ব একটা জগৎ আছে। সেখানেই সে অনন্য। অমিতের সাথে যখন প্রথম দেখা হয় লাবণ্য’র পরনে ছিল সরু পাড় দেয়া সাদা আলোয়ানের শাড়ি, তার উপরে আলোয়ানের একটি জ্যাকেট। জ্যাকেটের হাত কবজি পর্যন্ত। দু হাতে দুটি সরু প্লেন বালা। পায়ে সাদা চামড়ার দেশি ছাঁদের জুতো। চুল আঁট করে বাঁধা। অর্থাৎ লাবণ্য সাজ পোশাকেও অনন্য। অমিত তাই প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলো। লাবণ্যর জীবন আলোড়িত করে অমিত আসে। তাদের বিয়েও ঠিক হয়। কিন্তু অমিতের জীবনে কেতকির অবস্থানের কথা জানার পর লাবণ্য সম্পর্ক থেকে সরে আসে। এখানে লাবণ্যকে আমরা কিছুটা রক্ষণশীল বা ব্যাকডেটেড-ও বলতে পারি কিন্তু তার আত্মপ্রত্যয় ও আদর্শকে অস্বীকার করার উপায় পাঠকের নেই।


“হে মোর বন্যা, তুমি অনন্যা,/ আপন স্বরূপে আপনি ধন্যা।”

 


শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পার্বতী : ভালোবাসার অমর উপাখ্যান ‘দেবদাস’। দেবদাসের নায়িকা পার্বতী বিশ শতকেই বাঙালি হৃদয়কে নাড়া দিয়েছিলো। উপন্যাসে পার্বতীর অভিমানগুলো পত্রপল্লবের মতো ছড়িয়ে পড়লেও তার চরিত্রের দৃঢ়তা, ঋজুতা, সাহসিকতা প্রত্যাখ্যানের মতো মানসিকতা তাকে অনন্য করে। তাই সে যখন গভীর রাতে একাকী দেবদাসের ঘরে ঢোকে, তখন সমকালীন নারীর অবস্থান থেকে তাকে ভিন্নতর মনে হয়। তাকে দেখে দেবদাস ভীত, সঙ্কুচিত হয়। যে কারণে সে ভীতচকিতের মতো বলে, “কিন্তু আমিই কি মুখ দেখাতে পারব’। জবাবে পার্বতী তেমনি অবিচলিত কণ্ঠে উত্তর দিল, ‘তুমি? কিন্তু তোমার কি দেবদা? একটুখানি মৌন থাকিয়া পুনরায় কহিল, তুমি পুরুষ মানুষ। আজ না হয় কাল তোমার কলঙ্কের কথা সবাই ভুলবে? দু’দিন পরে কেউ মনে রাখবে না। কবে কোন্ রাতে হতভাগিনী পার্বতী তোমার পায়ের ওপর মাথা রাখার জন্য সমস্ত তুচ্ছ করে এসেছিল।” পার্বতী দেবদাসের পায়ের ওপর মাথা রেখে বলেছিলো, ‘এইখানে একটু স্থান দাও, দেবদা।’ কিন্তু দেবদাস চরিত্র এত দৃঢ় ছিল না। দেবদাস পারুকে এক চিঠিতে লেখে, “তোমাকে আমি যে বড় ভালবাসিতাম, তাহা আমার কোনদিন মনে হয় নাই। আজও তোমার জন্য আমার অন্তরের মধ্যে নিরতিশয় ক্লেশ বোধ করিতেছে না। শুধু আমার বড় দুঃখ যে, তুমি আমার জন্য কষ্ট পাইবে। চেষ্টা করিয়া আমাকে ভুলিও এবং আন্তরিক আশীর্বাদ করি, তুমি সফল হও।” দেবদাসের এ কথায় বয়সী দ্বিজবর এবং সন্তানের পিতার সঙ্গে বিয়ে ও সংসার যাপনে পার্বতী বিন্দুমাত্র হতাশা, দুঃখ, ক্লেশের প্রকাশ ঘটায়নি। বরং এটাই যেন বাস্তবতা এবং তাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যে তাকে যেতে হবে, সেই বোধ তাড়িত হয়ে সে সংসারের কাজকর্মে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পেরেছিল। এক প্রত্যাখাত নারী তার আত্মসম্মানটুকুর মূল্য দিতেই যেনো সরে গিয়েছিলো।


“তোমাকে আমি যে বড় ভালবাসিতাম, তাহা আমার কোনদিন মনে হয় নাই। আজও তোমার জন্য আমার অন্তরের মধ্যে নিরতিশয় ক্লেশ বোধ করিতেছে না। শুধু আমার বড় দুঃখ যে, তুমি আমার জন্য কষ্ট পাইবে। চেষ্টা করিয়া আমাকে ভুলিও এবং আন্তরিক আশীর্বাদ করি, তুমি সফল হও।”

 


মৈত্রীয়ী দেবীর ন হন্যতে: কথাসাহিত্যিক মৈত্রীয়ী দেবী রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। ১৯৩০ সালে কলকাতায় মৈত্রেয়ী দেবীর বাবা, প্রফেসর সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তর কাছে পড়তে আসেন রোমানিয় ছাত্র মিরচা এলিয়েড। মৈত্রেয়ী দেবীর বয়স তখন ১৬ বছর। তাদের মধ্যে একটা ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয় যা প্রকাশ পাবার পর মিরচা এলিয়েডকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন মৈত্রীয়ীর বাবা। পরে দুজনেই তাদের অপূর্ণ প্রেম, ভালোবাসা নিয়ে নিজের বর্ণনায় দুটি বই লেখেন। ১৯৩০ সালের ঘটনার স্মৃতিচারণ মৈত্রীয়ী করেছিলেন চল্লিশ বছর পর।


কাজী নজরুল ইসলামের ‘বাঁধনহারা’র মাহবুবা: একটি পত্রোপন্যাস কী করে প্রেমের বাঁধন ছেড়ার গল্প বলে তা দেখিয়েছেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। নুরুল হুদা ও মাহবুবার প্রেম পরিণয় পর্যন্ত গড়ায় না। নুরুল হুদা যোগ দেয় সেনাবাহিনীতে আর মাহবুবার বিয়ে হয়ে যায়। এক পর্যায়ে বিধবা মাহবুবা সমস্ত বাঁধন ছিড়ে নুরুল হুদার কর্মস্থল বাগদাদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়।


আশাপূর্ণা দেবীর সত্যবতী: বাংলায নারীবাদী সাহিত্যের কথা বললে প্রথমেই আসে আশাপূর্ণা দেবীর ত্রয়ী উপন্যাস, প্রথম প্রতিশ্রুতি (১৯৬৪), সুবর্ণলতা (১৯৬৭), এবং বকুলকথা (১৯৭৪)। প্রথম উপন্যাসের নারী সত্যবতী বুদ্ধি, যুক্তিবাদ, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর। তার ভালোবাসা আবর্তিত হয় স্বামী নবকুমার, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সুবর্ণলতাকে ঘিরে। এই মায়াবী নারীই প্রতিবাদী হয়ে সংসার ত্যাগ করেন যখন তিনি জানতে পারেন তাকে না জানিয়েই তার আট বছরের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।


সমরেশ মজুমদারের ‘গর্ভধারিনী’র জয়িতা: জয়িতা বিপ্লবী ও বুদ্ধিমতি নারী, তার অস্তিত্বে মিশে আছে সমাজ বদলানোর নেশা। এর প্রমাণ পাওয়া যায়, যখন সে পাহাড়িদের মাঝে মিশে গিয়ে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী পুরুষটিকে ভালোবাসে। সে পুরুষের সন্তান নিজ গর্ভে ধারণ করে। গ্রামের পাহাড়ি মানুষগুলো তার কাছে ভণিতাহীন, অকৃত্রিম ও স্বচ্ছ। ধনী পরিবারের শহুরে ও শিক্ষিত মেয়ে হয়েও জয়িতা প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের তাগিদে হয়ে ওঠে তাদেরই একজন। শহরের তথাকথিত আধুনিক মানুষগুলোর ভেতর সে দেখে - &quot;পুরু চামড়ার নখদন্তহীণ চোখের পর্দা-ছেঁড়া আত্নসম্মানহীন কয়েক লক্ষ বাঙালী, গর্তে মুখ লুকিয়ে এ ওকে গালাগাল দিয়ে যাচ্ছে।&quot;


সেলিনা হোসেনের ‘মোহিনীর বিয়ে’র মোহিনী: সেলিনা হোসেন মোহিনীর বিয়ে উপন্যাসে একটি মেয়ের করুণ আখ্যান রচনা করেছেন। পতিতাপল্লী থেকে উঠে আসা তরুণীর পুরো নাম মোহিনী মহুয়া মঞ্জুর। মহুয়ার প্রিয় কবিতার চরণ, “গণিকা আমার অপ্সরা প্রিয়তমা/ শাড়ি খুলে রেখে পরো আকাশের নীল/ যুগল কুসুম থরথরো অনুপমা/ চোখ দুটি হোক জ্যোৎস্নায় গাঙ্চিল।” মোহিনীর জীবন বড় অদ্ভুত। তার বাবা রমজান আলী প্রেমিকা নাসিমাকে পতিতালয় বিক্রি করে দেয়। নাসিমার ঘরে জন্ম নেয়া ছেলে সন্তানকে ঘরে তোলে নিজের ছেলে হিসেবে। আর রমজানের বৈধ সন্তান মোহিনীকে দিয়ে যায় নাসিমার কাছে পতিতাপল্লীতে। মোহিনীর জীবনের চূড়ান্ত ট্র্যাজেডি তৈরি হয় যখন তার বিয়ে ঠিক হয়। ভদ্রপল্লীতে মোহিনীর জায়গা হয় না, তার বিয়ের স্বাদ অপূর্ণই থাকে।


“গণিকা আমার অপ্সরা প্রিয়তমা/ শাড়ি খুলে রেখে পরো আকাশের নীল/ যুগল কুসুম থরথরো অনুপমা/ চোখ দুটি হোক জ্যোৎস্নায় গাঙ্চিল।”

 


হুমায়ুন আহমেদের ‘কোথাও কেউ নেই’ এর মুনা: খুব জনপ্রিয় উপন্যাস ‘কোথাও কেউ নেই’ এবং এর নাট্যরূপ এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়। তেমনি জনপ্রিয় এ উপন্যাসের দুই চরিত্র মুনা ও বাকের ভাই। মামার বাড়িতে মানুষ আপাতদৃষ্টিতে শক্ত চরিত্রের মুনার চারিত্রিক দৃঢ়তা, আত্মপ্রত্যয় পাঠকের মনে ছাপ ফেলে। মুনার আত্মমর্যাদাবোধ অভিভূত করে। শৈশবে সে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছিলো। প্রেমিকের কাছেও এহেন আচরণ পেয়ে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত মুনা একা লড়ে চলে শেষ অব্দি। এই সংবেদনশীল বিষয়গুলো গল্পের ভাঁজে ভাঁজে মমতা নিয়ে লিখেছেন লেখক। শেষ পর্যন্ত মুনা হয়ে যায় একা। তার কোথাও কেউ থাকে না।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/6961095.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/6961095.html</guid>            
            <pubDate>Tue, 14 Feb 2023 00:06:09 +0600</pubDate>
            <category>বাংলাদেশ</category><category>খবর</category><category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (আফরিন শাহনাজ)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01000000-0aff-0242-d162-08db0dec64d3_cx0_cy10_cw0_w800_h450.jpeg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>বাংলাদেশের মানুষ র‍্যাবকে খুব পছন্দ করেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন</title>
            <description>বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছিলেন। গত ২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডি সি&apos;তে ভোয়া বাংলার পক্ষ থেকে তার একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই সাক্ষাৎকারে ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক, ৱ্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা, এর অগ্রগতি, কথিত &quot;বেগম পাড়া,&quot; &quot;সেকেন্ড হোম,&quot; ইত্যাদি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ, সুইস ব্যাঙ্কসহ, বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার, সেগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া নানা কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের পাশাপাশি ভারত সরকার ও চীন এর সহযোগিতায় এ সংকট নিরসনে নেয়া তার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, তারেক জিয়া ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা ইত্যাদি নানা বিষয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটিতে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করার স্বপক্ষে বিভিন্ন যুক্তিও জোরালো ভাবে তুলে ধরেন। সেইসাথে &apos;গুমের হাত থেকে সব নাগরিকের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার&apos; বিষয়ক জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদের ধারাটিতে বাংলাদেশ কেন অনুমোদন দিচ্ছে না সে বিষয়েও তিনি তুলে ধরেন তার মত। এছাড়া, কিছুদিন আগে শেখ হাসিনা সরকারকে তার ভাষায়, &quot;স্থিতিশীলতার স্বার্থে,&quot; ক্ষমতায় রাখার জন্য ভারত সরকারকে &quot;যা যা করা দরকার&quot; তা করতে অনুরোধ করেছেন এধরণের একটি বক্তব্য দেয়ার পর নিজ দলের নেতৃবৃন্দসহ দেশের মিডিয়া ও নাগরিকদের নানা মহলের ব্যাপক সমালোচনার বিষয়টিকে &quot;বুঝতে না পারা&quot; ও &quot;বোঝাতে না পারা &quot; বলে উল্লেখ করে তিনি নিজের বক্তব্যকে সঠিক বলে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শতরূপা বড়ুয়া।


 


ভয়েস অফ আমেরিকা: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে যে বিষয়টি বারবার আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে তা হলো ৱ্যাব-এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। এনিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আপনারা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন। এই নিষেধাজ্ঞা বিএনপি&apos;র লবিয়িস্ট নিয়োগের মাধ্যমে অপপ্রচারের ফল, যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল বোঝানো হয়েছে...এগুলোও আপনাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে লবিয়িস্ট নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। 






তবে অতি সম্প্রতি (গত ২৯ সেপ্টেম্বর ) বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, জবাবদিহিতার আওতায় না আসা পর্যন্ত ৱ্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এতে বোঝা যাচ্ছে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলায় নি। তাহলে কি আমরা ধরে নেব বিএনপি&apos;র লবিয়িস্টরা বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখছে অথবা তাদের যোগ্যতা আপনারা বা বাংলাদেশ সরকার যে লবিয়িস্ট নিয়োগ করেছেন তাদের চাইতে বেশি? 



এ. কে. আব্দুল মোমেন: আসলে দেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক। আর সম্পর্ক একদিনের না, আজকে ৫০ বছরের সম্পর্ক। এবং যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ। সিঙ্গেল কান্ট্রি (একক দেশ) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার (বাণিজ্য অংশীদার)। আর বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের গভীর সম্পর্ক। তাহলে একটি দুর্ঘটনা – সেটা নিয়ে আমাদের সম্পর্ক বিচার বিশ্লেষণ করা ঠিক হবে না। আর বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিলিভ ইন সেইম ভ্যালুস অ্যান্ড প্রিন্সিপ্যালস। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে যখন গণতন্ত্র ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছিল। টু আপহোল্ড ডেমোক্রেসি, জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস – আমরা কিন্তু যুদ্ধ করেছি। আমাদের ৩০ লক্ষ লোক প্রাণ দিয়েছে। সো বাংলাদেশ ইজ আ হোম অফ ডেমোক্রেসি। বাংলাদেশ ইজ আ হোম অফ হিউম্যান রাইটস। বাংলাদেশ ইজ আ ল্যান্ড অফ জাস্টিস। আর আমেরিকাও এই ভ্যালুজ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস, ডেমোক্রেসি বিশ্বাস করে। তো আমাদের একটা আত্মিক সম্পর্ক আছে। আর পৃথিবীর নির্যাতিত মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকায় একটা আশ্বাস পাওয়ার জন্য।


শুধু একটি দুর্ঘটনা – এই যে র‌্যাবের ঘটনা – আমরা মনে করি এইটা ইজ নট এনাফ। এটা দিয়ে আমাদের সম্পর্ক বিচার করার কোন কারন নেই।

তবে এক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, আমাদের দেশ একসময়ে সন্ত্রাসীর দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। একইদিনে দেশের ৬৪ জেলার [মধ্যে] ৬৩টি জেলায় ৪৯৫টি বোমাবাজি হয়। একেবারে সাইমুলটেনিয়াস, সিঙ্ক্রোনাইজড ওয়ে-তে। এমনকি জাজ-রা এজলাসে থাকা অবস্থায় সেখানে বোমাবাজি হয়ে মারা যান। এক বিদেশী কূটনীতিক, ব্রিটিশ হাই কমিশনার, উনি একটি এলাকায় গিয়েছেন – সেখানেও বোমাবাজি হয়। লোক মারাও যায়। উনি বেঁচে যান, কিন্তু লোক মারা যায়। তাছাড়া [দেশের] বিভিন্ন নামকরা লোকজন যখন-তখন বোমাবাজিতে কিংবা গ্রেনেড হামলায় মারা গেছেন। এবং মাইনরিটি গ্রুপ যারা ছিল, তাদের উপর তো অত্যাচার চরমে পৌঁছেছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সময়ে একটি র‌্যালি করেন এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, করাপশনের (দূর্নীতি) বিরুদ্ধে। তখন সেই র‌্যালিতে বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা হয়। তাতে ২৪ জন মারা যান, ৩৭০ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেন, আহত হন। সেই অবস্থার সময়, এই যে র‌্যাবের কথা বললেন, সেই প্রতিষ্ঠানটা গড়ে ওঠে। [ভোয়া ফ্যাক্ট চেকঃ র‍্যাব প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালের এপ্রিলে, বিএনপি সরকারের শাসনামলে। শেখ হাসিনার র‍্যালিতে গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট।] আমেরিকা এবং ব্রিটিশ – তারাই কিন্তু বুদ্ধি-টুদ্ধি দেয় কিভাবে তৈরি করবে। এবং ইট বিকেম অ্যান ইফেকটিভ অর্গানাইজেশন। তখন হয়ত কিছুটা এক্সেস (বাড়াবাড়ি) হয়েছে – প্রথম যখন তৈরি হয়। কারন তখন অবস্থা খুব খারাপ ছিল।


কিন্তু গত অনেক বছরে আমেরিকানরা এটাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্যে র‌্যাবের লোকজনকে ট্রেনিং দেয়। অনেক বছর ট্রেনিং দিয়েছে। এবং র‌্যাবের অপারেশনাল প্রসিডিউরস অনেকটাই এদেশের (আমেরিকার) আদলে তৈরি করা হয়েছে। কিছু এক্সেস হয়েছে হয়ত। যেখানে এক্সেস হয়, সেখানে জবাবদিহিতা আছে। আপনি জানেন যে, র‌্যাবের অনেক লোক চাকরিচ্যুত হয়েছে, কিংবা ডিমোশন হয়েছে। এমনকি কয়েকজনের ফাঁসিরও আদেশ হয়েছে, কারন তারা হাইলি ইররেগুলার কাজ করেছে। সো জবাবদিহিতার একটা নিয়ম আছে।


আর র‌্যাবের কারনে আমাদের দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতাটা মোটামুটি বন্ধ। লাস্ট সন্ত্রাসী তৎপরতা ২০১৭ [ভোয়া ফ্যাক্ট চেকঃ হলি আর্টিজানে হামলাটি হয় ২০১৬ সালে] সালে, হলি আর্টিজানে। এরপরে আর হয়নি। সুতরাং যারা এই সন্ত্রাসীকে পছন্দ করে, তারা খুব হতাহত, তারা খুব দুঃখিত। তাই তারা র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিভিন্নরকম ইস্যু তৈরি করে, বানোয়াট জিনিস তৈরি করে। যদি কোথাও র‌্যাবের অপরাধ হয়ে থাকে, অবশ্যই তার বিচার হবে। ট্রান্সপারেন্সি আমরা চাই, অ্যাকাউন্টেবিলিটি চাই। এতে কোন ব্যত্যয় নাই। দেয়ার ইজ সিভিলিয়ান প্রসিডিউর। এভরি কিলিং এর অ্যাগেইনস্ট-এ দেয়ার ইজ আ প্রসিডিউর।


আমার মনে হয় যে আমরা এই ইস্যুগুলো আমেরিকাকে ঠিকমত বুঝাতে পারিনি। এবং না বোঝানোর ফলে একটা গ্যাপ হয়েছে। এই গ্যাপের কারনেই হয়ত আমেরিকা ওদের স্যাঙ্কশন (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছে। সুতরাং আমরা আমেরিকাকে রিকোয়েস্ট করেছি, যে আপনারা কি কি কারনে ওদের এই স্যাঙ্কশন দিলেন, সেই তথ্যটা আমাদের বলেন, তাহলে উই উড বি এবল টু প্রোভাইড দি কারেক্ট ইনফরমেশন।

আর আপনি যেটা বলেছেন যে, বিএনপি’র প্ররোচনার জন্যে। হ্যাঁ, অনেক গোষ্ঠীই আছে, সব দেশেই থাকে। তারা বিভিন্নরকম বানোয়াট তথ্য [দেয়] এবং বানোয়াট তথ্যগুলো যদি গ্রহণ করে সরকার, যাচাই-বাছাই না করে, সেটা তো দুঃখজনক হবে। আর আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকার মত একটা বড় দেশ, যারা ম্যাচিউরিটি অর্জন করেছে ওভার [দ্যা] লাস্ট টু হান্ড্রেড ইয়ারস, তারা কিন্তু বানোয়াটের উপর ভিত্তি করে এমন কাজ করবে না যেটা কোয়েশ্চেনেবল (প্রশ্নবিদ্ধ) হবে, তাদের জন্য লজ্জার হবে। তো আমরা এইজন্য বলেছি যে, [নিষেধাজ্ঞাটা] ওদের কি ইস্যুর জন্য এটা জানান – উনারা এখনও জানান নাই। আর আমরা এদের যে একটা প্রসিডিউর, যে সিস্টেম আছে, উই আর ট্রাইং টু ফলো থ্রু দিস প্রসিডিউর।


তো আপনি জেনে খুশি হবেন যে, আমাদের দেশের জনগণ, ওয়ান টু অল, র‌্যাঙ্ক অ্যান্ড ফাইল, র‌্যাবকে খুব পছন্দ করে। তারা বিশ্বাস করে র‌্যাব মানুষের সিকিউরিটি দেয়। তারা বিশ্বাস করে র‌্যাব করাপশন করে না। তারা বিশ্বাস করে র‌্যাবের কাছে গেলে তারা বিচার পাবে।

আমি একটা ঘটনা বলি। আমার এলাকায় একটি লোক মারা যায় পুলিশ কাস্টডিতে। তখন সেখানে লোকে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। তখন আমরা এই কেইসটা পুলিশের বিশেষ একটা [শাখা] – পিবিআই আছে, এদের অনুসন্ধান করতে দেই। তখন যেই ছেলেটা মারা যায়, তার মা এবং পরিবার আমাকে বললেন যে, মাননীয় মন্ত্রী, এইটা বেস্ট হবে আপনি র‌্যাবকে দায়িত্বটা দেন, কারন র‌্যাবের প্রতি এত বিশ্বাস। তো এইজন্য আমাদের খুব আশ্চর্য লেগেছে [যে], এরকম একটা ভাল প্রতিষ্ঠান, তার বিরুদ্ধে আমেরিকার মত সরকার কি করেছে। এবং কয়েকজন লোকের বিরুদ্ধে করেছে। শুনেছি যে এদের কেউ কেউ, এই লোকগুলো, অনেকেই চাকরিতে জয়েন করেছে কয়েকদিনের জন্যে। তারপরে সে পড়ে গেছে এই ঝামেলায়।


ভয়েস অফ আমেরিকা: কিন্তু আমরা বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কথা থেকে বুঝতে পারছি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পাল্টায় নি। এদিকে বেনজির আহমেদ, যিনি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ছিলেন, তিনি অবসর নিয়েছেন। নতুন আইজিপি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে, তার উপরও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। তো এখন আমার প্রশ্ন হলো আপনারা কি মনে করছেন না, এর ফলে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে? 


এ. কে. আব্দুল মোমেন: না, আমরা মনে করি না। যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীতে আপনার কতজন লোককে স্যাঙ্কশন দিয়েছে, আর কতগুলো উইথড্র করেছে আপনি হিসাব করেন। আই ডোন্ট নো। টাইম [টু] টাইম যুক্তরাষ্ট্র অনেকের উপরই এইসব দেয়। আবার ওদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে।


মোদী সাহেবকে একবার স্যাঙ্কশন দিল – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপরে। তারপর উনি বেস্ট ফ্রেন্ড অফ ইউএসএ হলেন।

সুতরাং আমরা মনে করি, এগুলো অন্যকোন কারনে হয়েছে। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ঢাকায় বলেছেন, এইটা। আমরা বাকিটুকু জানিনা। আমার সাথে যখন সেক্রেটারি অফ স্টেটের (যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন) আলোচনা হয়েছিল, তখন উনি বলেছেন যে, তারা ম্যানডেটেড টু ডু ইট। এবং এইটার একটা প্রসেস আছে উইথড্রয়াল-এর। এবং সেই প্রসেসটা উনারা বলেছিলেন – আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি। উই আর ওয়ার্কিং উইথ দেম। আমাদের বিভিন্ন রকম আপনার এক্সচেঞ্জ [হয়]। ইউএস এবং বাংলাদেশের মধ্যে, বহুরকম আলোচনা, বহুরকম ফোরাম ফর ডায়ালগ অ্যান্ড ডিসকাশন আছে। সুতরাং আমাদের একটা নিয়ে বসে থাকার কোন কারন নাই।





ভয়েস অফ আমেরিকা: আমার পরের প্রশ্ন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে। আপনি সম্প্রতি একাধিকবার বলেছেন যে বাংলাদেশ আর কোন রোহিঙ্গাকে প্রবেশ করতে দেবে না। কিন্তু আমরা সাম্প্রতিক সময় লক্ষ্য করেছি যে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রাখাইন রাজ্যে, আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েই চলছে। তো এমন একটা পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হতে পারে যেখানে আবারও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চেষ্টা করতে পারে। বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রবেশ ঠেকাতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?



এ. কে. আব্দুল মোমেন: আমরা দেখলাম যখন রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার হচ্ছিল, পারসিকিউটেড হচ্ছিল, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে ফেলে, তাদের রেপ করে, শত শত... প্রায় ২৫ হাজারের মতো হত্যা করে। এরকম কঠিন সময়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ; যারা আপনার মানবতার কথা বলে, হিউম্যান রাইটসের কথা বলে তারা কিন্তু ওদের আশ্রয় দেয়ার জন্য, সাহায্য করার জন্য কেউ অগ্রসর হয়ে আসেননি। কোন দেশ আসেননি। তখন সেই সময়ে যখন দে আর বিন পারসিকিউটেড তখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আউট অফ হিউম্যান কনসিডারেশন, তাদের তিনি আশ্রয় দেন। আমাদের বর্ডারটা খুলে দেন। তার ফলে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সে সময় প্রায় ৮ লক্ষ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা আমাদের দেশে প্রবেশ করে। আর তারপর আরো কিছু। প্রায় এখন ১২ লক্ষের মত রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আছে। আমরা তাদের টেম্পোরারি শেলটার দিয়েছি । উই কল দেম &apos;ফর্সিবলি ডিসপ্লেসড রেসিডেন্স অফ মায়ানমার।&apos; তবে মায়ানমারের একটি ইতিহাস আছে। আপনি জানেন মায়ানমারে প্রায় ১২৫ ধরনের এথনিক কমিউনিটি আছে । কিন্তু রোহিঙ্গারা একসময় বড় ছিল, তারা পাওয়ারফুল ছিল। তারা মন্ত্রী ছিল, তারা মেম্বার্স অফ পার্লামেন্ট ছিল। কিন্তু ’৬২-র পরে যখন মিলিটারি গভর্নমেন্ট আসলো তখন তাদের এই দুরাবস্থার শুরু হয়। সত্তর দশকে অনেক রোহিঙ্গাকে মায়ানমার সরকার বিতাড়িত করে। আশির দশকে, নব্বই দশকে অনেক রোহিঙ্গাকে বিতাড়িত করে। কিন্তু তখন মায়ানমার সরকার ওদেরকে আবার নিয়েও যায়। সসম্মানে নিয়ে যায়। তখন মায়ানমার সরকারের উপর একটা স্যাঙ্কশন ছিল, ইকোনোমিক স্যাঙ্কশন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামা সেই স্যাঙ্কশনটা উইথড্র করেন। এখন মায়ানমারের সাথে মোটামুটি সবগুলো দেশের বিজনেস অ্যাজ ইজু্য়াল কোন ঘাটতি হয়নি। এই এ্যাথনিক ক্লিনজিন হল, জেনোসাইড হল, এইসবের পরেও আমার খুব তাজ্জব লাগে বিশ্বের দেশগুলো মায়ানমারের সাথে মোটামুটি ব্যবসা করে যাচ্ছে। যাই হোক, এগুলো তাদের দেশের বিষয়। কিন্তু আমি আশা করব যে, মায়ানমারের এই ইস্যুটা শুধু বাংলাদেশের ইস্যু না। এই সমস্যা মায়ানমার তৈরি করেছে, এর সলিউশন মায়ানমারকে করতে হবে। তবে মায়ানমারের উপর চাপ দিতে হবে, জাতিসংঘ সহ অন্যান্য দেশ, যারা হিউম্যান রাইটসের বিশ্বাস করে। সম্প্রতি মায়ানমারে আবার একটি সংঘাত চলছে, তাদের অভ্যন্তরীন সংঘাত চলছে। এবং সে সংঘাতের ফলে যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে যে আরো অনেক লোক বিতাড়িত হবে। আমি শুনেছি যে ওখানে মায়ানমার আর্মি অ্যানাউন্সমেন্ট করছে, &quot;তোমরা এখান থেকে সরে যাও।&quot; না হলে তারা অপারেশন করবে। তার ফলে কিছু লোকও এখান থেকে সরে গেছে। তবে এখন আমাদের দিকে না এসে ওরা অন্যদিকে যাচ্ছে বলে শুনেছি। তো আমাদের আর সক্ষমতা নাই আর একটি লোককেও নেয়ার মতো। সেই কারণে আমরা বলেছি যে আমরা আমাদের বর্ডার সিল করে দিয়েছি। আমরা কাউকে এখন নেয়ার জন্য প্রস্তুত না। কারণ যারা আছে এদেরকে নিয়েই আমরা হিমশিম খাচ্ছি। আমি প্রস্তাব করেছি আমেরিকাকে, যুক্তরাজ্যকে, অন্যান্য দেশকে, যে এই লোকগুলোর এক নম্বর সলিউশন, তারা ফেরত যাক তাদের দেশে। আর তাছাড়া অন্যান্য দেশ, আমি এখানে একটা কথা বলেছি যে, বাংলাদেশে প্রতি বর্গমাইলে প্রায় ২৯০০ লোক থাকে। আর আমেরিকার প্রায় ৪০ জন লোক থাকে। অনেক বড় দেশ, অন্যান্য Scandinavian countries -এ এভারেজ ১৫ জন লোক থাকে প্রতি বর্গমাইলে। They have more resources. তো মানুষগুলো আফটার অল হিউম্যান বিং, এদের এই রিঅ্যালোকেট, রিসেটেলমেন্ট করার ব্যবস্থা করতে। আই এম ভেরি হ্যাপি, যে ইউএস সেক্রেটারি অফ স্টেট বলেছেন, দে উইল ওয়ার্ক অন রিসেটেলমেন্ট। তারা তো বিভিন্ন দেশকে এখানে নিয়ে আসেন। দেশটাতো এ ল্যান্ড অফ ইমিগ্রান্ট। আমরা আশাবাদী যে, এই মায়ানমারের সমস্যা মানে রোহিঙ্গাদের সমস্যা দূর হবে এবং অনেক দেশ out of humanitarian consideration বাংলাদেশ যেভাবে অগ্রসর হয়ে এসেছে তারাও সামনে আসবেন।


তবে এই মুহূর্তে আমাদের আর একটিও মায়ানমারের লোককে নেয়ার মতো সক্ষমতা নেই।

মনে করেন, আমাদের ক্যাম্পে যেখানে রেখেছি, সেখানে প্রতি বর্গমাইলে প্রায় আশি হাজার লোক থাকে। It is not a living, খুব দুঃখজনক! তো এই অবস্থায় আমাদের সক্ষমতার অভাব এবং আমরা সেই জন্য চাই যে অন্যান্য দেশ অগ্রসর হয়ে আসুক। এদের যদি পারসিকিউশন হয় তাহলে Others should come forward and try to help them out.


ভয়েস অফ আমেরিকা: চীন বা ভারতের সাথে এরকম কোন সংলাপ কি আপনাদের হয়েছে? 


এ. কে. আব্দুল মোমেন : আমাদের সাথে ভারত এবং চীনের গভীর সম্পর্ক। আপনি জানেন, ভারতের সাথে আমাদের একটা rock solid সম্পর্ক। আমরা বিভিন্ন রকম সমস্যা আলোচনা করে সমাধান করি। এই রোহিঙ্গা ক্ষেত্রে... আপনার ভারত সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্য ছিল। আমরা তাদের বলেছি। তাদের সাথে মায়ানমারের সম্পর্ক ভালো এবং তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের তারা বলেছেন যে, এবারে তারা বিশেষ উদ্যোগ নেবেন যাতে এই রোহিঙ্গাগুলো তাদের স্বদেশে সম্মানের সাথে ফিরে যেতে পারে। চীনের সাথে আমাদের... চীনের একটি যথেষ্ট প্রভাব আছে মায়ানমারে। সেজন্য আমরা চীনের কাছে এপ্রোচ করেছি। চীনও এক বাক্যে বলেছে, in fact they have organized, they coordinated. আমাদের বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের মধ্যে দুই তিনটি মিটিং হয়েছে, যেগুলোতে চীন মিডলম্যান ছিল, কোঅর্ডিনেট করেছিল। তিন দেশ মিলে আমরা আলাপ করেছি এবং সেখানেও মায়ানমার বলেছে, সুখের বিষয় এটা আমাদের; গুড নিউজ ইজ মায়ানমারের বর্তমান সরকারও বলেছে যে... আমরা মায়ানমারের সাথে একটা এগ্রিমেন্ট, তিন তিনটে এগ্রিমেন্ট যে তাদের লোকগুলো তারা নিয়ে যাবে। মায়ানমার সরকার বলেছে যে আমরা আমাদের লোকগুলো নিয়ে আসবো। তারা বলেছে will provide safety and security. এটা অং সান সু চিও বলেছিল। আর এখন জান্তা সরকারও বলছে। So this is a good news.এরপর তারা আলোচনায় বসেছে। মডালিটি, লজিস্টিক... ওদের ফেরত নেয়ার প্রসেসটা কী সেই নিয়ে। কিন্তু এতসব বসে-টসে একটা লোকও এখনো ফেরত যায়নি। এইটা বড় দুঃখজনক। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় আমি এটাতে বিশ্বাস করি । তারা আমাদের বলেছে যে তাদের ইচ্ছা আছে, নিবে। কিন্তু এখনো নেয় নাই। এবং তাদের প্রসেস অফ আইডেন্টিফিকেশন, ভেরিফিকেশন অলসো ভেরি পুয়র। আমরা প্রায় ৮ লক্ষ ৩৮ হাজার বায়োমেট্রিক ডাটা দিয়েছি তাদের নাগরিকদের, যারা আমাদের দেশে আছে। এর মধ্যে মাত্র তারা ৪২ হাজার... এখন বোধহয় আরেকটু বেড়েছে; আইডেন্টিফাই করতে, ভেরিফাই করতে পেরেছে। সো প্রসেস ইজ ভেরি স্লো। তবে আমরা আশাবাদী যদি ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপ তাদের উপরে চাপ প্রয়োগ করে তাহলে কিন্তু তারা তাদের লোক নিয়ে যাবে, আগে যেভাবে নিয়েছে। আমরা আসিয়ানকেও বলেছি।


তো আমরা আশা করি ভারত, চায়না এবং অন্যান্যরা ... আমেরিকা, এরা মায়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে যাতে তারা তাদের লোকগুলোকে নিয়ে যায়।

ভয়েস অফ আমেরিকা: এবারে অন্য প্রসঙ্গ। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ২০২৩-২৫ মেয়াদের জন্য এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যে চারটি শূন্য আসন রয়েছে তার একটিতে নির্বাচিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা করছে এবং ১১ই অক্টোবর সম্ভবত এই নির্বাচন হবে। তো এখানে বাংলাদেশের জয়ের ব্যাপারে আপনি কতখানি আশাবাদী? 


এ. কে. আব্দুল মোমেন: আমি খুব আশাবাদী। দেখেন, আমরা এই হিউম্যান রাইটস কমিশনের সদস্য বহু বছর ধরে আছি এবং আমি আশা করি এবারও আমরা জিতব। কারন আমরা পৃথিবীর মধ্যে মানবতার একটা আদর্শ দেশ। আপনার রোহিঙ্গার কথাই বলি না কেন, অন্য কোন দেশ যখন ধারে কাছে আসেননি আমরা মানবতার জন্য তাদের আশ্রয় দিয়েছি এবং তাদের রেখেছি আমাদের এখানে। আর বাংলাদেশে হিউম্যান রাইটসটা অত্যন্ত সমুন্নত। আমি শুরুতেই বলেছি আমাদের দেশের সৃষ্টিই হয়েছিল ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস এন্ড জাস্টিস যাতে আমরা অর্জন করতে পারি তার জন্য এবং আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দেশ ছোট দেশ। কিন্তু আমাদের জনসংখ্যা বিরাট। ১৬৫ মিলিয়ন পিপল এবং ধনী দেশ না। তো আমাদের বিভিন্ন অক্ষমতা আছে। কিন্তু আই মাস্ট সে; এইসব ব্যাপারে, হিউম্যান রাইটসে আমরা খুব সোচ্চার এবং সব দেশে আমরা এটা নিয়ে সোচ্চার। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে অনেকে অসন্তুষ্ট হন। ইন দি ইস্যু অফ হিউম্যান রাইটস জাস্টিস, ফেয়ারনেস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি। আমরা কোথাও পিছপা না।


সুতরাং আমি বিশ্বাস করি যে, পৃথিবীর লিডারশিপ আমাদেরকে ভোট দেবে এবং এবার আমরা জয়যুক্ত হব।

ভয়েস অফ আমেরিকা: মানবাধিকারের যে নয়টি প্রধান সনদ আছে তার মধ্যে আটটিতে বাংলাদেশ অনুমোদন দিলেও গুম থেকে সব নাগরিকের সুরক্ষা পাবার অধিকারের যে সনদটি, সেটি বাংলাদেশ এখনো গ্রহণ করেনি। তো আপনার সরকার বরাবরই গুম বিষয়ে বাংলাদেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের দাবি অস্বীকার করে আসছে। তো সেটাই যদি আপনাদের অবস্থান হয় তাহলে সব নাগরিকের গুম থেকে সুরক্ষা পাবার যে মানবাধিকার সনদ, সেখানে আপনারা অনুমোদন কেন দিচ্ছেন না?


এ. কে. আব্দুল মোমেন:


শুনেন, আমেরিকা কয়টি আপনার আর্টিকেল গ্রহণ করেছে, বলেন। আপনার সব আর্টিকেল গ্রহণ করতে হবে না।

It is a mindset. আমাদের দেশের মাইন্ড সেট হচ্ছে হিউম্যান রাইটস-এর মাইন্ড সেট। আমাদের দেশের সামান্য কিছু হলে পরে আমরা এটা নিয়ে সোচ্চার হই, যেটা অনেক দেশেই অসম্ভব। অন্যান্য দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে আমরা এসব ব্যাপারে অত্যন্ত সোচ্চার। এ দেশের স্ট্রেন্থ আমি প্রায়ই বলে থাকি আমেরিকার strength is their justice system within the country. আউটসাইডে তারা কি করে, দ্যাটস এ ডিফারেন্ট ইস্যু। বাট ডোমেস্টিকালি এভরিওয়ান হ্যাজ এ রাইট টু হ্যাভ জাস্টিস। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হয়। এদেশেও অনেক লোক বিনা বিচারে মারা যায়। আপনার মল এ গিয়ে, স্কুলে গিয়ে, বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলে। কোন কোন উগ্র লোক এসে বাচ্চাগুলোকে স্কুলে মেরে ফেলে। But these are not sanctioned by government...these are certain incidents. আমাদের দেশেও দুই-একটা ইন্সিডেন্ট হয়। These are not same. যেখানেই সরকার দেখে যে বিনা বিচারে কোন একজনের... হয়েছে তখনই সরকার কিন্তু সেখানে খুব সোচ্চার এবং সরকার tries... the best to uphold justice. সুতরাং আমি মনে করি এ ব্যাপারে, আমাদের... উই আর লিডার ইন দা ওয়ার্ল্ড, ইন টার্মস অফ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি। আর বিশেষ করে এই আওয়ামী লীগ সরকার.। বাংলাদেশের যতগুলো ইলেকশন আওয়ামী লীগ সরকার করেছে by and large they are fair and transparent.


আমার ইলেকশন যেমন ২০১৮ ইলেকশন নিয়ে যদি কথা বলি সেখানে ইউএস এর অ্যাম্বাসেডররা আমার শহরে ছিলেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনার আমার শহরে ছিলেন ইলেকশনের দিনে। They have seen that it was a very fair election. যদিও কোন কোন জায়গায় অন্যরকম হতে পারে there is a possibility but by and large government is committed for a free, fair and transparent election process.


ভয়েস অফ আমেরিকা: এবারে আরেকটি বিষয়। সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার। আমরা প্রায়ই শুনি কানাডাতে &apos;বেগম পাড়া&apos;, মালয়েশিয়াতে &apos;সেকেন্ড হোম&apos;, সিঙ্গাপুর, ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডে ব্যবসা খুলে বসা, সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখা। তো এই পাচারকৃত টাকা উদ্ধারের জন্য আপনারা কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন এবং কতটুকু সাফল্য পাচ্ছেন? 


এ. কে. আব্দুল মোমেন: দেখেন আমরা তথ্য ঠিকমতো পেলে তখন টাকা স্বদেশে ফিরিয়ে আনার হোল প্রসেস নেই এবং আমরা স্বদেশে এনেছিও।


আপনি জানেন যে খালেদা জিয়ার ছেলে কোকো, ছোট ছেলে। সে যখন বিদেশে টাকা পাচার করেছিল, এই ইউএস গভমেন্টের এফবিআই আমাদের সাহায্য করেছিল এবং তারা সাহায্য করার ফলে আমরা ওই টাকাগুলো ফেরত নিয়ে এসেছি।

অনলি আওয়ামী লীগ গভমেন্ট ইন বাংলাদেশ, যারা বিদেশ থেকে পাচার করা টাকা ফেরত নিয়ে এসেছে। আর কোন সরকার আনেনি। প্রায়ই বলা হয় যে, বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা বিদেশে পাচার হয়। দেয়ার ইজ এ পসিবিলিটি এবং পাচার হওয়ার বিভিন্ন ফন্দি ফিকির হয়। তবে এটাও ঠিক, বিদেশের সরকারের কাছে আমরা যখন তথ্য চাই যে, আমাদের দেশের লোক আপনার দেশে গিয়ে টাকা পাচার করেছে কিনা বিদেশি একাউন্টে। উনারা এসব তথ্য দেন না। উনারা তখন বলেন যে, প্রাইভেসি এ্যাক্টে আমরা কোন তথ্য দিতে পারব না। So this is a dilemma. বিদেশ সরকারও &apos;এনকারেজ&apos; করে টাকা পাচারে। যেমন কোন কোন সরকার বলে, আমার দেশে যদি আপনি ওয়ান মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করেন কিংবা এখানে তিন বছর একটি লোককে ওয়ান মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করে চাকরি দেন তাহলে আপনাকে আমরা ওয়ার্ক পারমিট দেবো, সিটিজেনশিপ দেব। এর ফলে they are enticing people to bring out money এবং এসে এখানে ইনভেস্ট করার জন্য। আমি চাইবো এই দেশগুলোর সরকারসমূহ আমাদের সাথে যৌথভাবে যদি কাজ করে then there will be a possibility, আমরা যে টাকাগুলো পাচার হয়েছে সেগুলো ফেরত পাব। It is not a one way trade... এটা হচ্ছে টু ওয়ে। একা টাকাগুলো সব ফেরত আনতে পারবেন না। সেজন্য বিদেশি সরকার যে সমস্ত দেশে বেশি টাকা পাচার হয় সেই সমস্ত সরকার যদি ইনিশিয়েটিভ নেয়, let&apos;s say USA, let&apos;s say Canada, let&apos;s say UK. এ সমস্ত সরকার যদি বলে হ্যাঁ, আমার দেশে যারা বিদেশিরা টাকা এনেছেন আমরা তাদের ইনভেস্টিগেট করব। তখন there could be some way to find out টাকাগুলো ফেরত পাওয়া যায় কিনা। এটা তো একা সম্ভব না। Because it is a very difficult task. I am very happy যে, US government is taking some initiative এই মানি লন্ডারিং বন্ধ করার জন্য। I hope they will take some corrective actions, তার ফলে আমাদের উপকার হবে। আমরাও চাই যে, যারা টাকা বিদেশে পাচার করেছে ইল্লিগ্যালি, সেটা ফেরত আনার। We have given some option also, বিদেশে কেউ পাচার করলে যদি আপনি স্বদেশে নিয়ে আসেন, আপনাকে কম ট্যাক্স চার্জ করা হবে। কিন্তু তাতেও খুব সুবিধা হচ্ছে না।


So we have been trying a variety of ways. তবে বিদেশি সরকারের সাহায্য ছাড়া সম্ভব না।

ভয়েস অফ আমেরিকা: এই যে বিদেশি সরকারের কথা আপনি বলছেন, তো আপনার কাউন্টার পার্টের সাথে যখন আপনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় তখন কি আপনি এ বিষয়গুলো আলোচনা করেন?


এ. কে. আব্দুল মোমেন: সবসময়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা এটা ডিল করেন, তারা এটা সবসময় বলে থাকেন যে আপনাদের সাহায্য চাই।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আমার পরের প্রশ্ন। কিছুদিন আগে ভারত সফর থেকে ফিরে আপনি চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অনেক সমালোচনা, আলোচনা হয়েছে। এবং একটা পর্যায়ে গিয়ে দেখা গেছে যে আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা আপনার সাথে একটা দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করেছেন। তারা এমন বক্তব্য দিয়েছেন যে, &quot;আপনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কেউ নন,&quot; তারা এও বলেছেন, এটি আপনার ব্যক্তিগত মন্তব্য, এটি আওয়ামী লীগের কোন কথা নয়। আওয়ামী লীগের একজন নির্বাচিত এমপি হয়ে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার পর আপনি যখন আওয়ামী লীগের নেতাদের এরকম মন্তব্য শুনেছেন, তখন আপনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন? 


এ. কে. আব্দুল মোমেন: আওয়ামী লীগে আমার সহকর্মী যারা কিংবা নেতা, তারা কেন এ ধরনের বক্তব্য দিল, উনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।


তবে আমি যে বক্তব্য দিয়েছি সেটা সঠিক বক্তব্য দিয়েছি।

I took some initiatives in the Foreign Ministry. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি রোড ম্যাপ আমাদের নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ২০২১-এ উন্নয়নশীল দেশ, ২০৪১-এ আমরা একটা ডেভলপড কান্ট্রি হতে চাই। সোনার বাংলা হতে চাই। এই সোনার বাংলা অর্জনের জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রোডগুলো অর্জনের জন্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমার মন্ত্রণালয় কিভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে সে সম্পর্কে আমি কয়েকটা ফিলোসফি দিয়েছি। আমার প্রথম প্যাকেজটার নাম দিয়েছি &apos;ইকোনোমিক ডিপ্লোমেসি&apos;। তা হচ্ছে যে, আমি যদি আমার এই দেশের সম্পদ এবং এই রোডম্যাপ অর্জন করতে চাই তাহলে আমার জনগণকে কাজে লাগাতে হবে। সেই জন্য ইকোনমিক ডিপ্লোমেসিতে পাঁচটা কম্পনেন্ট আমার। আমার এই পাঁচটা কম্পনেন্টের একটি হচ্ছে আমার বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমার ট্রেড বাড়াতে হবে, আমার গেইনফুল এমপ্লয়মেন্ট দেশে-বিদেশে করতে হবে। এর জন্য যা যা করার, স্কিল ট্রেনিং এসব করতে হবে। আমার টেকনোলজি ট্রান্সফার দরকার, আর আমার কোয়ালিটি সার্ভিস to all my diaspora as well as those will come to my mission. এটা আমার ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি। তো এটাকে strengthen করার জন্য একটি সম্পূরক কম্প্লিমেন্টারি প্যাকেজ দিয়েছি। তার নাম হচ্ছে গিয়ে পাবলিক ডিপ্লোমেসি প্যাকেজ। এর উত্তর হচ্ছে, আমি সরকারের লোক হয়ে যদি বলি, আমার দেশের গত ১৪ বছরে অভাবনীয় সাফল্য। পৃথিবীর মধ্যে ওয়ান অব দা টপ মোস্ট ইকোনোমিক পারফরম্যান্স আমাদের। হ্যাঁ, আমাদের দারিদ্রসীমা কমেছে। একসময় it was known as a bottomless basket. Now it is a vibrant economy. It is a land of opportunity. যারা এখানে ইনভেস্ট করবে দে আর উইনার্স। কারন all sources of necessary ingredients are there. আমার জনবল আছে। যথেষ্ট ইয়াং ইউথ এবং কোয়ালিফাইড স্কিলড লেবার ফোর্স আছে। এবং আমি প্রায়ই আমেরিকান কোম্পানিকে বলি, বিদেশি কোম্পানিকে বলি, if you like to be competetive in the global market come to Bangladesh. because এখানে আপনি can produce your product in a relatively affordable price. যার ফলে you can be competetive in the international market. তো আমি তাদের বলি। সেই সাথে আমি চাই যারা থিংকার আছেন, যারা পন্ডিত লোক আছেন, ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, তারাও বলবেন দ্যাটস মাই পাবলিক ডিমান্ড।


সেই সাথে আমি চাই যারা থিংকার আছেন, যারা পন্ডিত লোক আছেন, ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, তারাও বলবেন দ্যাটস মাই পাবলিক ডিমান্ড। তারা যদি বলেন তাহলে গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি হবে। দিস ইজ মাই সেকেন্ড প্যাকেজ। থার্ড প্যাকেজ হচ্ছে, গত কয়েক বছরে যে অভাবনীয় সাফল্য হয়েছে আমার সোশ্যাল সেক্টরে we have done better than many our neighbours. এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে poverty বলেন, infant death rate, maternal death rate বলেন, all the social indicators বাংলাদেশের জন্য... এটাকে ধরে রাখতে গেলে peace and stability, regional peace and stability (দরকার)। এবং এটা না হলে আমার এই অর্জনগুলো আমি ধরে রাখতে পারব না। They cannot sustain। সেকেন্ডলি শুধু আমার দেশের উন্নয়ন হলে it may not be suatainable in the long run. আমি এন্টার রিজিয়নের উন্নয়ন চাই।


তো সেই কারণে যে জিনিসটা আমি বলেছি, শেখ হাসিনা ইজ এ সিম্বল অফ স্টেবিলিটি । শেখ হাসিনা এমন এক মহিলা যিনি একটা অসাম্প্রদায়িক মন-মানসিকতার লোক।

আমাদের সমাজে সাম্প্রদায়িক কারণে ঝামেলা হয় অনেক সময়। আমরা যদি অসম্প্রদায়িক হই... বঙ্গবন্ধু একটা ফিলোসফি দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলতেন যে, ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়বেন। অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা গড়বেন। এই এটা হলে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হতাম। আমাদের ভারতবর্ষে সেটার কিছুটা অভাব অন্যান্য দেশে আমেরিকার মতো দেশে (ইস্যু হলো) এথনিসিটি, কালার। বাংলাদেশে আমরা একটা ফিলোসফি দিয়েছি। আমরা এটাকে বলি &apos;কালচার অফ পিস&apos;। ফিলোসফি হচ্ছে, দেশে দেশের সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ এর মূল কারণ হচ্ছে একে অপরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ । আমরা এজন্য we want to inculcate a mindset of tolerance. a mindset of respect towards each other irrespective of religion, color, race or ethnicity. আমি যে ফিলোসফিটা দিচ্ছি বা ভারতবর্ষে আমি বলেছি যে, আমাদের এই এলাকায় regional stability and peace খুব দরকার। সেই জন্য আমাদের দায় দায়িত্ব আছে এবং ভারত সরকারেরও দায় দায়িত্ব আছে। ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকার উভয়ে মিলে আমাদের অঞ্চলে উই নিড টু হ্যাভ রিজোনাল প্লিস অ্যান্ড স্টেবিলিটি। তাহলে আমাদের সবারই মঙ্গল হবে। This is the issue I raised. কিন্তু অনেকেই এর ধারে কাছে কিছু বুঝতেই পারেন না।


তাদের হৃদয়ে, তাদের মন মগজে শুধু নির্বাচন। নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত। এজন্যই আমি বলেছি যে উনারা বুঝতে পারেননি। আমি হয়তো বোঝাতে পারিনি। কারণ তারা বাকিটুকু শুনেন নাই । বাইট শুনেছেন দুটো অক্ষরের যে, &quot;যা যা করার তাদের আমি তা করতে বলেছি।&quot; আর যায় কোথায়!

যা যা করার মানে কি? এই সাম্প্রদায়িক অসুবিধা যাতে না হয়। উগ্র সন্ত্রাসবাদ যদি না হয়, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার জন্য, সাম্প্রদায়িক উগ্রতা বন্ধ করার জন্য ভারত সরকার এবং আমাদের... আমি বলেছি Bangladesh is not isolated island in the world. অন্য জায়গায় যদি অন্যায় হয় there will be an impact. সুতরাং we have to work together. যা যা করার... যাতে শান্তি বিঘ্নিত না হয়। স্টাবিলিটি বিঘ্নিত না হয়। আমাদের পিস বিঘ্নিত না হয়। So this is a concept... we need regional peace and stability for sustainable development in the long run. এবং সেটাই আমার বক্তব্য। I don&apos;t think I have done anything wrong. এবং আমি এটাও বিশ্বাস করি যে, আমাদের দেশে যে শেখ হাসিনার সরকার is a very progressive সরকার। অত্যন্ত প্রগ্রেসিভ সরকার এবং এই সরকার দেশে থাকলে আমাদের মঙ্গল হবে। I should as an individual, as a teacher আমি আমার ছেলেমেয়েদেরকে অবশ্যই বলব, দে শুড সাপোর্ট শেখ হাসিনা এবং তাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। অন্যান্য দেশে... মিডল ইস্ট দেখেন আফগানিস্তানে দেখেন অশান্তি থেকে দেশটা ধ্বংস হয়ে গেল, কত রিসোর্স ছিলো। সিরিয়া মোটামুটি ভাল দেশ ছিল, ওখানে অশান্তি হয়। তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। যে সমস্ত দেশে স্থিতিশীলতা আছে আমি স্থিতিশীলতার উপর খুব জোর দিয়েছি। সেই সমস্ত দেশ has done well for the people. মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদ স্থিতিশীল ছিল। সেজন্য তার সময়ে মালয়েশিয়ার কত উন্নতি হয়েছে! আপনি দেখেন ছোট দেশ, একটা শহরকেন্দ্রিক দেশ সিঙ্গাপুর। বাপ আর ছেলে । স্থিতিশীল ছিল, সেই জন্য সে এশিয়ার একটা মিরাকল। Same if you look at in Cambodia. একই সরকার কত বছর ধরে আছে দেশে । যে সমস্ত দেশে স্থিতিশীল সরকার আছে সেখানে মঙ্গল হয়। তবে এখানে আপনি একটু বলতে পারেন । বলতে পারেন যে এমার্জিং কান্ট্রির স্থিতিশীলতা দরকার। যারা একবার ডেভেলপ্ড হয়ে গেছে, তারপরে there could not be changes. তাদের খুব বেশি অসুবিধা হয় না। কিন্তু যেগুলো ডেভলপিং এমার্জিং কান্ট্রি, ইস্যু অফ স্টেবিলিটি ইজ ভেরি ইম্পর্টেন্ট।


ভয়েস অফ আমেরিকা: যদিও কম্বোডিয়ার হুনসেনের ক্ষেত্রে কিন্তু তাদের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন আছে।


এ. কে. আব্দুল মোমেন : কোশ্চেন আছে কিন্তু তাদের মানুষের আগের অবস্থান থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: আমি শেষ প্রশ্ন চলে যাই। বাংলাদেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামী, যারা বিদেশে আছেন, যাদের মধ্যে তারেক জিয়াও আছেন, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা ভোগ করানোর ব্যাপারে আপনারা কোন উদ্যোগ নিয়েছেন কি? 


এ. কে. আব্দুল মোমেন: আমরা সবসময়ই চাই যে পিপল শুড ফেস জাস্টিস। যারা বাংলাদেশের লিগাল প্রসেসে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং বিদেশে আছেন দে শুড কাম ব্যাক।


আমরা সেই জন্য, সে সমস্ত সরকারকে সব সময় অনুরোধ করি যে, আপনার দেশে এরকম একটা fugitive আছে তাকে পাঠান।

আমরা রিকোয়েস্ট করেই যাচ্ছি এবং আমাদের perception is তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। এবং তারা এই সাজা প্রাপ্ত লোকগুলোকে পাঠাবে। Same case applies to USA. একটা সাজাপ্রাপ্ত লোক আমাদের দেশে বিচার হয়েছে, বিভিন্ন প্রসেসে তার বিচার হয়েছে। সে একটা খুনি, সে এখানে আছে। এখনো আছে। আমরা আশা করি আমেরিকা তাকে আমাদের দেশে পাঠাবে। তারা আগেও পাঠিয়েছে আরেকজনকে, এবারও hopefully they will meet it.


ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য।




</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/6775894.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/6775894.html</guid>            
            <pubDate>Wed, 05 Oct 2022 05:22:12 +0600</pubDate>
            <category>সাক্ষাৎকার</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (ভয়েস অফ আমেরিকা)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/03990000-0aff-0242-1a67-08daa64cf1d7_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>১১ই সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার স্মৃতিতে এখনও শিউরে ওঠেন প্যারামেডিক মোতাছিম বিল্লাহ</title>
            <description>আমেরিকার ইতিহাসে ১১ই সেপ্টেম্বর এক মর্মান্তিক দিন। আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ১৯জন জঙ্গী চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জায়গায় আত্মঘাতী হামলা করেছিল। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ার, পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ায়। এই ঘটনায় মোট ২ হাজার ৯৯৬ জন নিহত হন যার মধ্যে ১৯ জন হামলাকারী অন্তর্ভুক্ত। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে দুটি বিমান হামলায় মারা যান ২ হাজার ৭৬৩ জন। আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে ৩৪৩ জন উদ্ধারকর্মী এবং ৬০ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান। ঐ চারটি হামলায় ৭৮টি বিভিন্ন দেশের মানুষ নিহত হন।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন পার্ল হার্বার আক্রমণের পর এই একমাত্র আক্রমণ। টুইন টাওয়ার আক্রমণের ঘটনায় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দানকারীদের প্যারামেডিক টিমের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোতাছিম বিল্লাহ। ঐ সময় তিনি মেট্রো কেয়ারের প্যারামেডিক ছিলেন,বর্তমানে তিনি এম্বুল্যানজ Ambulnz কোম্পানির সঙ্গে কর্মরত। ১১ই সেপ্টেম্বরের সেই মর্মান্তিক দিনের কথা তিনি স্মরণ করলেন ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে।


ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন তাহিরা কিবরিয়া।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে আমেরিকার বুকে বিংশ শতাব্দীর সম্ভবত সবচেয়ে বর্বরোচিত আক্রমণ ঘটেছিল। নিউইয়র্ক সিটির দুইটি আইকনিক ভবন টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যায়। সেদিনের ঘটনায় প্যারামেডিক টিমের সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা দান করেছিলেন আপনি। সেই সময়কার কিছু কথা বলবেন কি?


মোতাছিম বিল্লাহঃ২০০১ সনে, দিনটি ছিল মঙ্গলবার। আমার অফ ডে। সকালে আমার আম্মার ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। তিনি ঢুকে বলেন টিভি অন করতে। ঠিক একই সময় আমার তখন নেক্সটেল ফোন ছিল... ওটাতে (কল করেন) আমার সুপার ভাইজার জেরেড রিং। সে আমাকে বলল যে, &quot;আমারা সবাই ডাউন টাউনে চলে আসছি তুমি চলে এসো।&quot; So, আমি তাড়াতাড়ি কাপড় পরলাম বোধ হয় ইউদিন দুই মিনিটসে ঘড় থেকে বেরিয়া আসতেছি--- আমার মাকে শুধু বললাম “আমি তোমাকে পরে ফোন করে জানাব।” আমি তখন জামাইকা থাকতাম, কুইন্সে। ওখান থেকে ম্যানহ্যাটেনে গেলাম। রাস্তাতো প্রায় খালি, তখন সব ব্রিজ এবং টানেল going to Manhattan ব্লক করে দেয়া হইছে শুধু মাত্র এমার্জেন্সি ভেহেকেলস ছাড়া এবং এমার্জেন্সি রেস্পন্ডারদের ছাড়া। তো আমরা যখন ঢুকলাম ফার্ষ্ট আমি যাই Vassey and ওয়েস্ট পর্যন্ত। তখন অলরেডি প্রথম টাওয়ারটা পড়ে গেছে। তারপর সেকেন্ড টাওয়ার আমি যাওয়ার পর পড়ে।এটা ওখানে না থাকলে আমি এটি বলব যে বোঝানো সম্ভব না... এরকম দিন যেন আর দেখতে না হয়।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ তো আপনি যখন পৌঁছালেন তার পরপরই আপনার চোখের সামনেই দ্বিতীয় টাওয়ারটি ধ্বসে পড়ল... তো ঐ সময় মানুষের কী অবস্থা ছিল বা আপনার নিজের মনের অবস্থাই বা কী ছিল? কী অনুভূতি তখন হয়েছে আপনার? 


মোতাছিম বিল্লাহঃ অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে,বুঝে উঠতে পারছি না যে এটা রিয়ালিটি নাকি দুঃস্বপ্ন! না আর ভয়,প্রাণের জন্য যেটা আছে সেটা আমাদের ট্রেইনিং-করার সময়... We are being trained in a different way. আমরা তখন সেবায় ব্যস্ত ছিলাম যে কাকে হেল্প করা যায়। আমরা যারা ফার্ষ্ট রেস্পন্ডার থাকি পুলিশ বলেন, ফায়ার ম্যান বলেন, বা এমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসেস--- যারা কাজ করি প্যারামেডিক্সস ইএমটিস,আমাদের কাজের মধ্যে একটা ট্রেনিং করে দেয়া হয় যে ঐ সময়টা মনে থাকে না। যখন কাজ শেষ করে আসি তখন বলি ওরে বাবারে এটা কেমন করে করলাম আমরা। কিন্তু ঐ সময়টায় We just act.আমি যেটা বলব যে ঐ ভাবে আমরা আসলে চিন্তা করি না। আমাদের চিন্তাটা থাকে যে কিভাবে সেবা করা যায়।


আসলে প্রথমত যে জিনিষটা হচ্ছিল সেটা হচ্ছে যে ঐ মানুষগুলোকে ঐ এরিয়া থেকে ইভাকুয়েট করা হচ্ছিল। ওখান থকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল। আমরা যেটা করি লাইফ চেইনের মত সবাই দাঁড়িয়ে যাই। মানুষ যাতে আপ-টাউনের দিকে যেতে পারে... তো যেই হাঁটতে পারছে আমারা এগিয়ে দিচ্ছি যারা হাটতে না পারছে আমরা ধরে একটু এগিয়ে দিচ্ছি। যখন ফার্ষ্ট টাওয়ারটা পরে যায় যখন আমরা দেখেছি একটা বিরাট একটা ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মত। জিনিষটা ধোঁয়া ঠিক না কারণ ওর মধ্যে বালু রোবো এভ্রিথিংঙ্ক মিশানো ছিল। শ্বাস নেওয়াটা ছিল কষ্টকর।


যেমন আমরা গেছি। যেমন আমি গেছি আমার পার্সোনাল ভেহেকেল নিয়ে এবং অনেকে সাথে সাথে চলে গেছেন যেখানে যারা ছিলেন। আমরা তো apparatus use করি না, কাছে থাকে না ফায়ার এপারেটাস, যেটা ব্রিদিং এপারেটাস যেটা রেস্পিউটার।আমাদের কাছে সেটা ছিল না যার জন্য আমাদের শ্বাস নিতে কষ্ট শুরু হয়েছিল। তারপরে আমরা যেটা করেছি যে...কেউ যদি আহত হয়ে থাকে(তাদের) প্রাথমিক চিকিৎসা করে দিয়ে হয়তো ব্লিডিং কন্ট্রোল করতে হয়েছে বা কারু হাত পা ভেঙ্গেছে বা মচকেছে তো দৌঁড়াতে পারছে না তাদেরকে যতটুকু হেল্প করা যায়।এগিয়ে দেয়া towards the staging area. প্রথমে খুব কেয়োটিক ছিল। কারণ আমরা তো কোনো সময় ওভাবে এক্সপেক্ট করি নাই। মানুষের স্রোত বলা যায়--- সেটা হ’লো যে সবাই তখন আপটাউন মুখি যতটুকু ওখান থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে। আর আমাদের যারা ফার্ষ্ট রেস্পন্ডার ছিল, আমাদেরকে গাইড করা হচ্ছে ভেতরে যাওয়ার জন্য। ঐ দিকটাতে, যাতে তাদের হেল্প করে বার করে আনা যায় বা আমাদের পাশাপাশি যে ফায়ারম্যানরা ঢুকেছে খুব ইয়াং বয়সী ছেলেরা তারা তো অবশ্য বিল্ডিং-এর উপরে উঠেছে ইভাকোয়েট করার জন্য তারা বেড়িয়ে আসতে পারে নাই। ঐ দিনটা খুব খারাপ গেছে।যখন সেকেন্ড টাওয়ারটা পড়ে যায় আমরা প্রায় বিল্ডিংটার একশ ফুটের কাছাকাছি চলে যাই tosee if there is any survivor। পড়ার পরে,আমি তো তখন নর্থ সাইডে ছিলাম আইল্যান্ডের--- সো ঐ সময় Vassey andWest থেকে তিন ব্লকের মত। তো ফার্ষ্টটা যখন পড়ে যায় তখন বাতাসের জন্য দম নিতে পারছিলাম না।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ আচ্ছা,আপনারা কতজন প্যারামেডিক,চিকিৎসাকর্মী বা পুলিশকর্মী প্রাথমিক ভাবে সেদিন কাজ করেছিলেন এবং উদ্ধার কর্মীদের অনেকেই প্রাণঘাতী পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন---- এই ঘটনাটি এভাবে মনে করানোর জন্য ক্ষমা চাইছি।


মোতাছিম বিল্লাহঃ থ্যাঙ্কইউ আপনার কন্সিডারেশনের জন্য। যেটা করা হয়,ইমিডিয়েটলি প্রায় তিনশ&apos;র মত ফার্ষ্ট রেস্পন্ডারসকে এসাইন করা হয়। তারপরে সেটা বাড়তে থাকে। একজ্যাক্ট এমাউন্ট বলা যাবে না কারণ আমরা যারা অফ ডিউটি ছিলাম আমরা ওখানে গিয়ে রিপোর্ট করি। At a certain point, আমি বলব যে মনে করেন সাড়ে ১০টার মধ্যে প্রায় ১ হাজারের উপরে উদ্ধার কর্মী একসাথে হয়। পুলিশ,ফায়ার এবং এএমএস মিলে প্রায় তিনশ জন মারা গেছে। উনারা বেড়িয়ে আসতে পারেন নাই। আমরা যারা বাইরের দিকে ছিলাম চেষ্টা করেছি তাদের খুঁজতে কিন্তু যখন বিল্ডিং ধ্বসে পড়ে যায়। Therewas nothing to bedone because এত বড় বড় bolder যা হাত দিয়ে তো সরাতে পারবেন না। So we had to wait to get বড় বড় apparatus, cranes... stuff ওগুলা সরানোর জন্য। আর তারপরে তো শুধু লাশ-ই-লাশ। আর তো কিছু পাওয়া যায় নাই। আমি যার সাথে আগের সপ্তাহে বৃহস্পতিবারে কাজ করছি, শনিবার কাজ করেছি আমার এক ক্লাসমেট ছিল সেও মারা গেছে। ফ্রেন্ডরা ছিল, মারা গেছে।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ নিউইয়র্ক সম্পর্কে বলা হয় যে শহরটি ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকে। তো এরকম একটা শহরে এই ধরণের একটা মর্মান্তিক ঘটনার পর ঐ শহরের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন ছিল? 


মোতাছিম বিল্লাহঃ সার্বিক পরিস্থিতি?জিনিষটা আপনাকে এভাবে বলতে হবে। দুপুর ১২টার পর থেকে সম্পূর্ণ এরিয়া ক্রাইম সিন হিসেবে বলে দেয়া যায়... it was a crimescene। এক নম্বর, চারদিকে পুলিশ লোহার বেষ্টনী তুলে দেয়। দুই নম্বর, রেগুলার সাবওয়ে, ট্যানেলস, রাস্তা ঘাটে extreme caution-এর জন্য আরো পাহারা বসানো হয়। ঐদিন যেটা বলব যে যুদ্ধের মত একটা অবস্থা। কারণ আমরা বুঝে উঠতে পারছিলাম না যে ঐ দু’টোই কি শেষ অ্যাটাক না আরও হবে? সুতরাং আমাদের যেরকম উদ্ধার কাজও চলছিল--- হ্যাঁ, আপনি যে কথাটি বললেন আয়রনিকালি--- আমরা সত্যি ২৪ ঘণ্টা জেগে ছিলাম ঐ সময়।নিউইয়র্ক জেগে ছিল, নিউইয়র্ক জেগে থাকে উৎসব মুখরভাবে।সেদিন আমরা উৎসব মুখরভাবে জেগে ছিলাম না। আমরা ছিলাম,More defensive চিন্তাধারাতে। সবাইকে সব জায়গায় চেক করা হচ্ছে, গাড়ি চলছে না রাস্তায় যেহেতু সাবওয়ে এবং বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। --- আপনারা তো জানেন যে ম্যানহ্যাটেনে ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষ অন্যান্য বোরোর থেকে কাজে আসে। By ten o’clockমনে করেন ১০-১৫ লাখ মানুষ এসেছেন কাজে,কিন্তু ব্যাক করার কোন উপায় ছিল না।


অনেকে হেঁটে অনেকগুলো ব্রিজ পার হয়েছেন। যেমন ব্রুকলিন ব্রিজ পার হয়ে অনেকে হেঁটে ওখান থেকে আবার কোন ভাবে কুইন্সে গেছেন--- এরকম ঘটনাও ঘটছে।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ বাংলাদেশি আমেরিকান এবং একজন মুসলমান হিসেবে প্রবাসীরা কীভাবে এই ঘটনার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিলেন?আপনার নিজের কী মনে হয়েছিল?


মোতাছিম বিল্লাহঃ কিছুটা Islamaphobiaছিল। এ বলব না যে এটা হয় নাই। আমরা নিউইয়র্কে তো পাঁচ মিশালী মানুষ থাকি এবং We respect each other.Personally আমার উপরে সেরকম প্রভাব আমি দেখি নাই। আমি যেটা মনে করছিলাম যে হয়ত আমার কোলিগস,আমি যাদের সঙ্গে কাজ করি They might look at me in a different way কিন্তু আমি দেখেছি যে আসলে ওরা ওটা করে নাই। I was very fortunate about it. আমার সাথে যারা বেশিরভাগ কাজ করতেন--- আমার সাথে Jews ছিলেন, Catholic ছিলেন। Basically that day we proved that we are Americans. তবে হ্যাঁ কিছু মানুষ আছেন, এটা আপনি যেকোন দেশেই যান হাতে গোনা কয়েকজন তো থাকেই। পাঁচ আঙ্গুল তো আর সমান না। তবে ইন জেনারেল যে জিনিষটি হয়েছে যেমন আমি একটা জিনিষ আপনাকে বুঝিয়ে বলি, এই ঘটনার সাথে সাথে ইউদিন থ্রী আওয়ার্স প্রতিটি মসজিদে একটা করে পুলিশের গাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। মসজিদের সামনে। যাতে কিনা মসজিদের উপর কোন আক্রমণ না আসে। So,I have to give kudosto George Pataki, Governor at that time, Rudi Giuliani, Mayor at that time. তারা যেভাবে জিনিষটাকে হ্যান্ডেল করেছে, যে অপারেশনগুলো করা হয়েছে বা রেসকিউ অপারেশন---শুধু তাই না তারা সব দিকে খেয়াল রেখেছেন। এবং হ্যাঁ, কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে very isolated, very isolated.


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ আপনি কি মনে করেন যে সেই দিনটি সম্পর্কে আরও বেশি লোকের জানা উচিত?


মোতাছিম বিল্লাহঃ জানা উচিত বলতে কি ইতিহাস এক নম্বর আর দুই নম্বর,আপনার ঐ ভাবে চিন্তা করতে হবে যে ২০০১ সনের ঘটনা যার তুলনা করা যায় সেটা হলো পার্ল হার্বার। যেখানে প্রায় তিন হাজারের মত নাবিক এবং সোলজাররা মারা যান। আর এটা তো আরও বলবো খারাপ,বলবো এই জন্য আমি ঠিক বাংলা শব্দটা পাচ্ছি না, নিন্দনীয় খারাপ। এখানে সিভিলিয়ানদের মারা হয়েছে এবং অনেক ফার্ষ্ট রেস্পন্ডার্স তারা মারা গেছেন। জিনিষটা এভাবে দেখেন যে আরেক বারের ঘটনা দিয়ে আমরা কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশ করছি। এবারের ঘটনাতে আমরা আরও অনেক বেশি আক্রান্ত হয়েছি। আমাদের কয়েক বছর লেগে গেছে ২০০১ সালের ঘটনাটার শোকটা কাটিয়ে উঠতে। কয়েক বছর পর্যন্ত ঐ ডাউন টাউন এরিয়াটা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। যেটা আপনি বলেছেন একটু আগে,“যে ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকে” ---সেখানে জেগে থাকছে শোকের প্রদীপ জ্বালিয়ে। কারণ জাস্ট rubble-গুলি সরাতে এবং রাবলের ভেতর থেকে আপনি যে একটা যে ফুলবডি It was very hard to find এই যে আমাদের এই সময়টা গেছে --- ঐ যে আপনি বললেন না যে ভয় এটা তখন আমাদের থাকে না। তবে এটার এফেক্ট খুব খারাপ থাকে । কী হচ্ছে বা কী বলছেন,আপনি কী চিন্তা করছেন সেটা &apos;আপনি&apos; আর থাকে না। আপনি শুধু কাজ করে যাচ্ছেন। You just have to have it done. হ্যাঁ--- এটা বলব যে আফটার মেথ থেকে যায়। আমি এখনও স্তূপ করা গার্বেজ দেখলে--- কালো ব্যাগগুলা আছে না, স্তূপ করা থাকে ঐ রকম দেখলে আমি ফ্রিজ হয়ে যাই। হাঁটতে পারিনা। কারণ ঐ সময় মানুষদেরকে যখন পাওয়া গেছে ঐ ভাবে রাখা হয়েছে।


গ্রাউন্ড জিরো ওয়াজ ভেরি বীভৎস। এই একটা শব্দই ব্যবহার করা যায় There was no other word. কোনো খাওয়া নাই-দাওয়া নাই ঐ জায়গাতে আমরা যখন কাজ করছি একটানা ১৪ ঘণ্টা পানি পর্যন্ত ঐ জায়গায়ে পাওয়া যচ্ছিল না। Weare just working.


আমার এক বন্ধু ছিল। মজার ছেলে, ইয়াং ছেলে ছিল তখন। কলেজ থেকে মেডিক্যাল স্কুলে ভর্তি হবে। এ অবস্থাতে ছিল। আমাদের কাজ করতো মেট্রো কেয়ারে এবং আমার মনে হয় বোধ হয় মাস খানেক আগে অগাস্টের দিকে কাজ ছেড়ে দেয়। কারণ স্কুলে যাবে। ও চলে এসেছিল, off duty ছিল। কিন্তু ও আর বের হতে পারে নাই। ওকে আমরা--- ওর মা-বাপ খুঁজছিল তার দুই তিনদিন পরে আমরা খুব চিন্তাতে ছিলাম যে কোথায় ছিল। ছেলেটা মুসলিম। খামদানি ওর নাম ছিল। Believe he was a Pakistani descendent. তখন আমার মনে আছে যে একটা কথা উঠেছিল যে ওতো মুসলিম, ওকি সেই সাথে জড়িত আছে কিনা? একটা রিউমার উঠছিল এক সময়। কিন্তু আমি দেখেছি এখানকার পুলিশ অফিশিয়াল, এখানকার এফবিআই and they were so courteous and generous. তারা ঐগুলাতে পাত্তা দেয় নাই। They did their investigation---ইনভেস্টিগেশন তো করতেই হবে।কিন্তু, They were notin a certain way--- একটা মুখ ফসকে যে একটা রুড কথা বলবে সেটা বলে নাই। এসে জিজ্ঞেস করেছে,আমাদের সবাইকে জিজ্ঞেস করেছে ঐ ছেলেকে যে যে চিনত।But after like four days we found his body. চারদিন পরে তখন ওরাই বলেছে, “আমরা বলছিলাম না যে আমাদের ইনভেস্টিগেশনে বলছে যে ও রেস্কিউ কাজে ছিল। এবং ওর জানাযা নিউ ইয়র্ক পুলিশ কমিশনার এটেন্ড করেছেন।&quot;


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ আজ দুই দশক পরে বর্তমান প্রজন্ম এই আক্রমণকে কিভাবে স্মরন করে? 


মোতাছিম বিল্লাহঃ এখানে এভাবে হয়,যেরকম স্কুল-কলেজেতো এ সমস্ত ব্যাপারে আলাপ তো হয়ই, সেমিনার হয়।এখানে ৯-১১ মেমোরিয়াল ডে-তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যেই থাকুক না কেন সে তো সম্মান প্রদর্শন করতে আসেন টুইন টাওয়ারে।এবং ছোট করে হোক, বড় করে হোক মোটামুটি সব বোরোতেই অনুষ্ঠান করা হয়, আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদেরকে স্মরণ করা হয়।আমাদের এখানে ব্রোংসে,আমরা নিজেরা একটা অনুষ্ঠান করি, গত বছরও করেছিলাম।এখনে ফায়ার, ইএমএস,পুলিশ ডিপার্টমেন্ট,এখানকার ইলেকশন অফিশিয়ালস, তারা সবাই এসে সম্মান জানান, শোক জানান ঐ দিনে। এইভাবে আমরা স্মরণ করি এই দিনটাকে।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ ১১ই সেপ্টেম্বর নৃশংস হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে এবং ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে তাদের স্মরণ করছি এবং যারা ঐ হামলার শিকার হয়েছেন তাদেরও স্মরণ করছি শ্রদ্ধাভরে।মোতাছিম বিল্লাহ আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।


মোতাছিম বিল্লাহঃআপনাদেরও ধন্যবাদ।একটা কথাই বলবো,ভাল থাকেন, বেঁচে থাকেন এবং এই যে বেঁচে থাকাটা, এক সেকেন্ডও বেঁচে থাকা সেটাকে উপলব্ধি করেন। এবং নিজেকে এবং সবাইকে ভালবাসেন।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ ধন্যবাদ


 


 


 

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/6744436.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/6744436.html</guid>            
            <pubDate>Tue, 13 Sep 2022 00:36:34 +0600</pubDate>
            <category>সাক্ষাৎকার</category><author> voadigital@voanews.com (তাহিরা কিবরিয়া)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/00eb0000-0aff-0242-700a-08da94b8472c_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>ক্যাপাসিটি চার্জ, এটা যে কোনরকম বিনিয়োগে আপনাকে দিতে হবেঃ তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী </title>
            <description>বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র  ঘুরে গেলেন। তার এ সফরকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি জে ডাব্লিউ ফার্নান্দেজের সাথে বৈঠক করেন। ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে দীর্ঘ ও খোলামেলা এক সাক্ষাৎকারে তিনি আন্ডার সেক্রেটারির সাথে তার বৈঠকের বিষয়বস্তু, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, দু&apos;দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ-বান্ধব ক্লিন এনার্জি,  বিদ্যমান জ্বালানি সংকট, এর কারণ ও এ থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ, মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি, বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এছাড়া, &quot;সরকারের ভুল জ্বালানি নীতির কারণেই বর্তমান সংকট&quot;, কিছু জ্বালানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞের এমন সমালোচনারও জবাব দেন তিনি এই সাক্ষাৎকারে। 


ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শতরূপা বড়ুয়া। 


 


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ আপনি এবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে Economic Growth, Energy, &amp; the Environment বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি হোসে ফার্নান্দেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আমরা জেনেছি, এই সাক্ষাতে আপনি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আরেকটু বিস্তারিত বলবেন। 


তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: আসলে আন্ডার সেক্রেটারির সাথে আমার যখন কথা হয়, আমি প্রথমে যে জিনিসটা উত্থাপন করি, সেটা হলো যে ইউক্রেন যুদ্ধ সারা পৃথিবীকে এনগালফ করে ফেলেছে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য It had been a great shock for us to absorb. ফসিল ফুয়েলের যে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, এটা আমাদের পক্ষে সহনীয় না। যে কারণে আমাদের বিদ্যুৎ কমাতে হচ্ছে, সারা দেশে বিদ্যুতায়ন করেও বিদ্যুৎ দিতে পারছি না। সেখানে আবার রয়েছে আমাদের শিল্প এবং কৃষি... সুতরাং এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে। এবং এই চ্যালেঞ্জটা এসেছেই ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে। তাই আমি তাকে অনুরোধ করলাম যে, &quot;আপনারা যুদ্ধটা বন্ধ করার ব্যবস্থা করেন। The whole world cannot pay price for that and we are such a distant country from this conflict.&quot; উনি বললেন যে, &quot;ঠিক আছে আমরা তো চেষ্টা করছি, এটা তো রাশিয়ার হাতে।&quot; যাক, আমি এই পয়েন্টটা করলাম। তখন উনি বললেন, &quot;দেখেন কিন্তু আমাদের তো জ্বালানি, খাদ্যশস্য এবং ফার্টিলাইজারের উপরে কোনো স্যাঙ্কশন নাই। সুতরাং এটা তো আমাদের দায়দায়িত্ব না।&quot; আমি তখন বললাম যে, &quot;তাহলে আমরা যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করি, এটা তো আপনার কথায় অ্যাক্সেপ্টেবল।&quot; উনি খুব উত্তর দিলেন না। যা আমরা বাংলায় বলি, যে আপনি বুঝে নেন। তারপর অন্যান্য যখন ইস্যু আসলো, তখন আমি বললাম যে, &quot;ডিএফসি ফাইন্যান্সিং বলে একটা আছে। ডিএফসি ফাইন্যান্সিং নিয়ে আপনারা যদি আসেন, তাহলে দেশে আমাদের infrastructure-এ বিনিয়োগ করতে পারবেন।&quot; এর আগে আমার সাথে আন্ডার সেক্রেটারি ল্যু&apos;র সাথে কথা হয়েছে। উনি বললেন যে, &quot;ইন্ডিয়ায় কাজ করছে, তো আমরা একটা ডেলিগেশন পাঠাব।&quot; আমি বললাম, &quot;পাঠান, বাংলাদেশে ডেলিগেশন দেখে আসুক।&quot; এই প্রস্তাব আলোচনায় উনি বললেন, &quot;দেখেন আপনারা জিএসপি&apos;র জন্য যতক্ষণ এনটাইটেল না হবেন, ততক্ষণ ডিএফসি ফাইন্যান্সিং দেয়া হয় না।&quot; তখন আমাদের অ্যাম্বাসেডর সাহেব বললেন, &quot;দেখেন, এটা তো তাহলে ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।&quot; উনি তখন বললেন যে, &quot;আচ্ছা আমি একটু ভেরিফাই করে নেই।&quot; সমকালীন চ্যালেঞ্জের সাথে ভবিষ্যৎটাও তো দেখতে হয়। সেজন্য বললাম যে, &quot;আপনারা আসেন, কোথায় বিনিয়োগ হয়, রিনিউয়েবল এনার্জি হতে পারে, অন্যান্য স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর হচ্ছে, হাইড্রোজেন যে নতুন সোর্স সেটায় হতে পারে। আমাদের দেশে আমরা হাইড্রোজেনের একটা পাইলট প্রোজেক্ট করেছি, সেটার কথা বললাম, চট্টগ্রামে।&quot;


এখানে আমি একটা জিনিস পরিষ্কার করতে চাই যে, The focus should not be on renewable, the focus should be on clean energy. যেমন, Nuclear is a clean energy. নিউক্লিয়ারের এমিশন সোলারের চেয়ে কম। তারপরে আমরা যদি হাইড্রোজেন করি সেটাও এমিশন কম হবে। কার্বন ক্যাপচারের স্টোরেজ যদি করি তাহলে যে কার্বন এমিশন হচ্ছে সেখানেও কম হবে। সুতরাং এটা সব মিলিয়ে একটা স্ট্যাট্রেজি হওয়া উচিত যেটা আমরা করেছি।


&quot;এখানে আমি একটা জিনিস পরিষ্কার করতে চাই যে, The focus should not be on renewable, the focus should be on clean energy.&quot;


এছাড়া আমি যেটা উনাকে বললাম, &quot;দেখেন, আমেরিকার কিছু কোম্পানী, ন্যুস্কেল (NuScale) বলে একটা কোম্পানী মডিউলার রিঅ্যাক্টরের অনুমোদন পেয়েছে। এগুলা যদি আসে, টেকনোলজি এভেইলেবল হয়, আর আপনারা যদি ডিএফসি ফাইন্যান্সিং করেন তাহলে তো এটা মণিকাঞ্চন যোগ হলো।&quot; তো উনি এটাতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। সেইসাথে বললেন যে আমাদের ট্রেডের ব্যাপারে যে রিলেশনশিপটা ওইটাকে আরো গভীর করার কথা। এবং লেবার রিলেশনশীপ, লেবার স্ট্যান্ডার্ড, ইউনিয়ন ইত্যাদি নিয়ে তাদের একটা দৃষ্টিভঙ্গি আছে সেটা নিয়ে একটা বোধহয় ওয়ার্কিং গ্রুপ হয়েছে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা বা এই দেশের ছেলেমেয়েরা যদি ইউনিভার্সিটিতে কানেকটেড হয়, একদিকে শিক্ষার উন্নতি হতে পারে আর একটা হলো যে দুই দেশের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইমপ্রুভ করতে পারে। এজন্য উনি খুব আগ্রহী ছিলেন। বাংলাদেশের উন্নতির ভূয়সী প্রশংসা করলেন। যেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্জন করেছেন। এটার কোন প্যারালাল নাই। অনেক &apos;বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা&apos; বলছেন, &quot;এই দেখেন এখনই তো ফাটল ধরতে যাচ্ছে।&quot; দুইটা কথা। একটা হলো আমাদের এই গ্রোথটা কনসিসটেন্স হয়েছে, কোনো আকাশ থেকে পড়া না। দুই নম্বর, এটা খুব স্ট্র্যাটেজিকালি করা হয়েছে। আমাদের ইকনমিক গ্রোথের সাথে ইনকাম ইকুয়ালিটি। ইনকামের কী ব্যবহার? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য। আমাদের এই ইকোনমিক গ্রোথের সাথে এ সবগুলোর উন্নতি হয়েছে। জীবনযাত্রার মান। সুতরাং এটা যারা বলেন, আমি &quot;বিশেষভাবে বিশেষজ্ঞ&quot; না বলে বলব &quot;বিশেষভাবে অজ্ঞ।&quot; কারণ হলো লাইফের যদি সব ইন্ডিকেটরগুলোর উন্নতি হয় সেটাই তো মেইন। কারণ টাকা পয়সা, কোন খাতে কী খরচ হলো, একটা হিসাব নিকাশ করা, কত পার্সেন্ট, কী নিলো...এগুলো তাত্ত্বিক জিনিস। বাস্তবে আমাদের জীবনযাত্রার সবকিছুর মান উন্নয়ন হয়েছে। সেজন্য এটা একটা সামগ্রিক উন্নতি করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এখন অনেকে ক্র্যাক ধরছেন, এগুলো বলেন-টলেন এগুলো থেকে হয়তো, &quot;দে টেক প্লেজার।&quot; বাংলাদেশের যদি একটু ক্ষতি হয়, দেশটা যদি না দাঁড়াতে পারে তাহলে তাদের প্রেডিকশন ইউল কাম ট্রু, হুইচ আই ইনশাআল্লাহ, আই বেট দ্যাট শুড নট।




 


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বর্তমানে যে সংকট চলছে সেজন্য অনেক বিশেষজ্ঞ বর্তমান সরকারের পলিসিকে দায়ী করেছেন। বিশেষ করে তারা দায়ী করছেন গত পনেরো বছরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে জোর না দেয়া, নতুন কূপ খনন না করা, উত্তোলন ক্ষমতা না বাড়ানো ইত্যাদি। এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?


তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: প্রথমে একটা পরিসংখ্যান বলে নেই। ২০০৯ সালে গ্যাসের উৎপাদন ছিলো ১৭০০ এমএমসিএফডির একটু বেশি। এখন কিন্তু গতবছর পর্যন্ত এটা ৩০০০ এমএমসিএফডি হয়েছে। এটা ঠিক না যে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি পায়নি। গ্যাস উৎপাদন প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আমাদের জ্বালানি নীতি হলো অর্থনৈতিক নীতির একটা অঙ্গ। এটা ইনডিপেন্ডেন্ট না। আমরা যদি অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চাই তাহলে আমাকে প্যারালাল কিছু পলিসি নিতে হবে। যেমন, আমি কতগুলি বাস্তবতার উদাহরণ দেই। আপনি শুনবেন অনেক ভূত্বত্তবিদরা বলবেন, যে Bangladesh is 3:1. আমি খুব ‍দুঃখের সাথে বলছি যে, তারা এগুলোতে যদি একটু গভীরে না যান, তাহলে দেশ সম্বন্ধে একটা ভ্রান্ত ধারণা দেয়া হয়। আপনি দেখেন, গত বিশ বছর বা ত্রিশ বছরে বাংলাদেশে ২১টি গ্যাসফিল্ড আবিষ্কার হয়েছে। এই ২১টি গ্যাসফিল্ডের মধ্যে দুটি বড় গ্যাসফিল্ড হলো, বিবিয়ানা আর জালালাবাদ গ্যাসফিল্ড। বাকি ১৯টি গ্যাসফিল্ড থেকে সাকুল্যে মিলে ৫ টিসিএফ গ্যাস। মানে এক একটায় ২৫০ বিসিএফ-এর মতো গ্যাস হয়। অন্যান্য দেশে এটা কমার্শিয়ালি ভায়াবল না। আপনি, গ্যাস পাওয়া এক জিনিস আর গ্যাসের কমার্শিয়াল ভায়াবিলিটি এনাদার থিং। আমরা তো গ্যাস পেয়েছি। যেটা বললাম আপনাকে, ১৯টি গ্যাসক্ষেত্র, বিবিয়ানা এবং জালালাবাদ ছাড়া, সেগুলো তো ছোট্ট, ছোট্ট। সুতরাং নাম্বার দিয়ে এটাকে বিবেচনা করা যাবে না যে, অতটা হবে, অতটা হবে। বিশেষজ্ঞদের দেখতে হবে উৎপাদন এক একটা ফিল্ড কত করছে। আমি অনেক সময় বক্তৃতায় বলি, দেখেন, &quot;কাতারের একটা গ্যাসফিল্ড, হলো ৯০০ টিসিএফ। ওর পাশে ইরানের সেম গ্যাসফিল্ডের পার্কে ১০০০ টিসিএফ। আর আমার ২১টা ফিল্ডে হলো ৫ টিসিএফ। এটা তো নগন্য আমাদের প্রয়োজনের তুলনায়।&quot; সেজন্য আমরা এটা সমান্তরালভাবে করেছি। যে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নতি আমরা করে যাবো এবং সেই সাথে আমাদের জ্বালানি যেভাবে প্রাপ্যতা হয় আমাদের দেশে, সে চেষ্টা করবো। আমরা গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন ধরণের ৪৮টা কূপ করেছি। কোনটা এ্যাডভেঞ্চার, কোনটায় এক্সপ্লোরেশন, কোনটা ওয়ার্কওভার, বিভিন্নভাবে গ্যাস পাওয়া যায়। এক্সপ্লোরেশন করেও গ্যাস পাওয়া যায়, আবার যে ফিল্ড আছে সেটার মধ্যেও বেশি করে গ্যাস পাওয়া যায়। তো পুরো স্ট্র্যাটেজি নিয়েই গত পাঁচ বছরে ৪৮টি কূপ ডিল করা হয়েছে। আপনাকে যে বললাম, সেইজন্য কিছু উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু দেশ তো বসে থাকবে না ভূতাত্বিক এক্সপেরিমেন্টের জন্য যে, আচ্ছা ভাই অপেক্ষা করি, আর একটু বড় পাওয়া যাবে। সেইজন্য আমরা দেখলাম যে আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, অন শোর খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। 


&quot;১৯টি গ্যাসফিল্ড থেকে সাকুল্যে মিলে ৫ টিসিএফ গ্যাস। মানে এক একটায় ২৫০ বিসিএফ-এর মতো গ্যাস হয়। অন্যান্য দেশে এটা কমার্শিয়ালি ভায়াবল না। আপনি, গ্যাস পাওয়া এক জিনিস আর গ্যাসের কমার্শিয়াল ভায়াবিলিটি এনাদার থিং।&quot;

ওদিকে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাপেক্সকে দুইটা রিগ কিনে দিয়েছে নুতন যাতে তারা করতে পারে এবং তারা করেছে।



এখন আপনি বলবেন যে, ঠিক আছে, আপনারা ডিপসি&apos;তে কেন করলেন না, গভীর সমুদ্রে। গভীর সমুদ্রে তো আমরা নিজেরা করবো না, এটা প্রোডাক্ট শেয়ারিং কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে, বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানীকে দেয়া হয়। প্রথম আমরা দশ-বারো বছর আগে দিয়েছিলাম কনকো ফিলিপস্‌কে (ConocoPhillips) দুইটা ব্লক। তারা সিসমিক স্টাডি করে একটা লিড পেলো, কিন্তু বলল যে, &quot;তোমরা যে টার্মসটা দিয়েছো, সেই টার্মস অনুয়ায়ী আমরা করতে পারি না।&quot; বলল যে, &quot;এখানে অনেক বেশি খরচ এবং ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ কত বড় ফিল্ড আমরা জানি না। সেটা হলে সেই গ্যাস কিভাবে আনবো, এটা কি পাইপ দিয়ে আনবো এক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে বা পাঁচশ কিলোমিটার দূর থেকে... নাকি লিকুইফিকশন প্লান্ট করে... এখানে অনেক ব্যবসায়িক ঝুঁকি আছে।&quot; আমরা তখন দোমনা হলাম। আমরা যদি, একটা চুক্তি করে তার শর্ত বদলাই, তাহলে আবার এদিকে শেভরন (Chevron) যারা কাজ করছে, তারাও বলবে &quot;আমাদেরটাও বদলাতে হবে।&quot; এটা একটা গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ ছিলো না। আমরা পরে বললাম যে, &quot;তোমরা পরে আসো। নতুন টার্মস আমরা করবো, তাও আসো।&quot; এবং ঐ দুইটা ব্লকের যেহেতু কিছু ইনফরমেশন আছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে বড় বড় অয়েল কোম্পানীকে বলেছি যে, &quot;তোমরা এখানে আসো। তোমাদের টার্মস কী, আমাদের বল। তার থেকে যদি আমরা লাভবান হই, আমরা যাবো।&quot; I&apos;m guessing their terms. উল্টিয়ে বললাম, &quot;তুমি বল কী টার্ম? I will look at this. এবং বাংলাদেশে যদি বেনিফিটেড হয় তো যাবো।&quot; এটার কোনো সাড়া পাইনি। কারণ যেটা হয়েছে যে, আমার ধারণা, প্রথম দিকে তেলের দাম খুব কম ছিলো। আর আমার যেসব পেমেন্ট সব তেলের সাথে এ্যান্কর্ড। তখন তারা উৎসাহী ছিলো না। এবং আমি জানি যে প্রায় দুই/তিনশ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তারা ক্যানসেল করেছে। তারপরে তেলের দাম বাড়া শুরু হলো। তখন সারা পৃথিবীতে ফসিল ফুয়েলের বিরুদ্ধে একটা আন্দোলন শুরু হলো। আপনি কপ-২৬ দেখবেন। ফসিল ফুয়েল যারা উৎপাদন করে তারা সন্দিহান হয়ে গেছে যে, এটা নিয়ে লং রেঞ্জে কতখানি স্টে করা যায়। বাংলাদেশে যদি এখন কেউ করতো, তাকে বিশ/ত্রিশ বছর সামনে রেখে করতে হতো। এবং বিশ/ত্রিশ বছর পরে ফসিল ফুয়েল কী হবে, এনিবডি&apos;স গেস। সুতরাং আমার ধারণা তারা এক্সিস্টিং ফিল্ড নিয়েই ব্যস্ত। বড় বড়, কাতারে আছে, ইরানে হবে, আফ্রিকায় কিছু ফিল্ড আবিষ্কার হয়েছে, এটা আমার নিজের কঞ্জেকচার, হয়তো ভুলও হতে পারে।


এর মধ্যে কিছু কিছু ব্যবস্থা আমরা আগে থেকেই নিয়েছি। একটা যুদ্ধাবস্থা হলে কী করতে হবে। আমাদের সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে, আমাদের সবাইকে কিছু কষ্ট করতে হবে। আমাদের সবাইকে সহনশীল হতে হবে। রাতে আমরা কিছু লোডশেডিং আমরা দিতে বলি। বিকজ আমরা প্রথমত কৃষিকে দিতে চাই। শিল্পকে দিতে চাই তার প্রয়োজন অনুযায়ী। তাহলে বাকি রইলো অন্যরা। বাকিটা শেয়ার করেতে হবে। একঘন্টা, দুইঘন্টা যদি কারেন্ট না থাকে সেটুকু সহ্য করতে হবে। এখন আপনি বলবেন যে, আগেও তো এক ঘন্টা, দুই ঘন্টা, পাঁচ ঘন্টা, দশ ঘন্টা হতো। ২০০৯ সালে সাত-আট ঘন্টা হতো। তফাৎ আছে। তফাৎটা হলো এখন কিন্তু আমরা ২০০৯ সালের তুলনায় ৪ গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। এই যে বললাম, লোডশেডিংয়ের পরেও তখন ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট ছিলো, এখন ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো উৎপাদন হচ্ছে। সুতরাং, এটা ঠিক না যে একই জায়গায় অবস্থান। আমরা সামনে গিয়েছি। এখন একটা বিপদ সামনে এসেছে। আমরা হয়তো পনের হাজার, সাড়ে পনের হাজার করলে ঠিক থাকতাম, কিন্তু এক-দেড় হাজার আমাকে কমিয়ে দিতে হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এলএনজির প্রাইসের আকাশচুম্বী দাম হওয়ায়।


এখন বিশ্বব্যাপী একটা সমস্যা। এটা আমাদের বাংলাদেশের সমস্যা না। It’s a global challenge. সেটা নিয়ে সরকারের উপর দায়ভার দেয়া, বলা যে করিনি। আমি তো আপনাকে পরিসংখ্যান দিলাম।


&quot;আমরা প্রথমত কৃষিকে দিতে চাই। শিল্পকে দিতে চাই তার প্রয়োজন অনুযায়ী। তাহলে বাকি রইলো অন্যরা। বাকিটা শেয়ার করেতে হবে। একঘন্টা, দুইঘন্টা যদি কারেন্ট না থাকে সেটুকু সহ্য করতে হবে।&quot;

 



ভয়েস অফ আমেরিকাঃ আপনি সম্প্রতি একটি সেমিনারে বলেছেন আমদানি করা এলএনজি&apos;ই এখন ভরসা ... কিন্তু অনেকে বলছেন আমদানিকৃত এলএনজি&apos;র ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতাই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী? 


তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: আমরা দেখলাম যে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতিকে সামনের দিকে নিতে হলে উই নিড টু ব্রিংগ এলএনজি। এবং আমরা এলএনজি প্রথম যেটা করেছি, সেটা কিন্তু পৃথিবীর ৫/৭টা এলএনজির মধ্যে আমাদেরটা একটা। এর উপকার যে হয়েছে, সেটা বহুলাংশে। এই গ্যাস থাকার কারণে আমাদের শিল্প, বাণিজ্য, সবকিছুর উন্নতি হয়েছে। সো ইট কম্পেসেটেড কোট আনকোট প্রাইস অফ এলএনজি। আমরা যেটা দেখি, আমরা বলি, অপারচুনিটি কস্ট, আমি একটা জিনিস কিনে কতখানি লাভ করছি। আমি যদি ১০ টাকা কিনে ১৫ টাকা পাই, সেটা আমার জন্য বেশি বৈ কম না। সেজন্য আমরা দেখেছি, আমরা লাভবান হয়েছি। এরপর আরেকটা আমরা এলএনজি টার্মিনাল করেছি। এবং বলবেন যে আমরা এখন এলএনজির উপর নির্ভরশীল হয়ে বিপদে পড়েছি। এলএনজি যদি না আনতাম তাহলে তো বিপদে আরো আগে পড়তাম। কারণ কোনো গ্যাসই থাকতো না দেশে। এলএনজি আনার কারণে দশ বছর পর্যন্ত আমাদের গ্যাসের সরবরাহ রয়েছে।


&quot;এলএনজি যদি না আনতাম তাহলে তো বিপদে আরো আগে পড়তাম। কারণ কোনো গ্যাসই থাকতো না দেশে। এলএনজি আনার কারণে দশ বছর পর্যন্ত আমাদের গ্যাসের সরবরাহ রয়েছে।&quot;

ওদিকে পস্কো-দায়ু (Posco-Daewoo) দুটো ফিল্ড নিয়েছিলো. মিয়ানমারে কাজ করছিলো। আমরা বললাম যে, &quot;তুমি এক কাজ করো। তুমি আমাদের এখান থেকেও... কারণ মিয়ানমারের পাশাপাশি তো, কম খরচে অনুসন্ধান করা যায়।&quot; আর এটা ভাগ করার একটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড আছে। আমি বলি &apos;ইউনিটাইজেশন&apos;। তখন তারা এসে আমাদের সাথে চুক্তি করলো। চুক্তি করে ওদের কিছু টার্মস রিল্যাক্সেশন করলো। সবাই বলছিলো বার্মায় পাওয়া গেলে এখানে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বছর দু-এক পরে এসে বলে, &quot;আমরা আর করবো না।&quot; এখন করবো না কী কারণে সেটা তারা জানে। রেলিংকুইশ করে দিলো। কিন্তু আপনারা এটা জানবেন যে অনেকে বলে যে মিয়ানমারে এই গ্যাস পাচ্ছে, সেই গ্যাস পাচ্ছে। কিন্তু গত দশ বছরে মিয়ানমার একটা কূপে এক্সপ্লোরেশন লেভেলে কোনো গ্যাস পায়নি। আগে পেয়েছিলো যেটা, সেটার কিছু গ্যাস চলে গিয়েছিলো কুনমিং। সেই গ্যাসটাই কিন্তু বাংলাদেশে আনার চেষ্টা হয়েছিলো। খালেদা জিয়ার (বেগম খালেদা জিয়া, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) সময় অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে এটা একটা প্রস্তাব ছিলো যে মিয়ানমার থেকে গ্যাস এনে বাংলাদেশ হয়ে এটা ভারতে যাবে। আমরাও কিছু ভাগ পাবো। সব দেশের মধ্যে এটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছিলো। কিন্তু যখন এটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেল, উনি এটা নাকচ করে দিলেন। তখন তো মিয়ানমারের খুব একটা উন্নতি হয়নি, মানে বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কম ছিল। সেজন্য, তখন যদি গ্যাসটা আনতাম তাহলে আজকে অনেক কিছুতে লাভবান হতাম। এছাড়াও আমি যখন এই অং সান সুচির আগে, যখন মিলিটারি গভর্নমেন্ট, রোহিঙ্গারা বিতাড়িত হচ্ছে, তারা আমাদের দেশে শরণার্থী হয়ে আসছে, তখন আমি গিয়েছি মিয়ানমারে।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ এটা কোন সালের কথা?






তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: ইলেকশনের আগে। সুচি গভর্নমেন্ট আসার আগে গিয়েছি। আবার আসার পরেও গিয়েছি। রোহিঙ্গা ইস্যু তখন অলরেডি শুরু হয়েছে। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন যে, &quot;আমরা অন্তত চেষ্টা করে যাই, অন্যরকম কোনো সহযোগিতা হলে মানুষের মধ্যে হয়তো ট্রাস্ট বিল্ড আপ হয়। তখন তারা হয়তো মিসট্রাস্টের ভিত্তিতে যে অ্যাক্ট করছে তা হয়তো শোধরাবে।&quot; তো আমি গিয়েছিলাম। গিয়ে মিলিটারি গভর্নমেন্ট-এর সময় বললাম যে, &quot;দেখেন আপনাদের এখানে কিছু গ্যাস আছে শুনেছি। সেই গ্যাসটা যদি আপনি চট্টগ্রামে আনেন, তাহলে আমরা চট্টগ্রাম থেকে আরাকানে বিদ্যুৎ সাথে সাথে দিতে পারবো।&quot; আমি ম্যাপও করে নিয়ে গিয়েছিলাম। কারণ আমাদের তখন চিটাগংয়ের কিছু প্লান্ট বসে ছিল। আর আরাকানে আমি কিছু লাইনও ড্র করে নিয়ে গিয়েছিলাম। আরাকান এটা পাহাড় তো, পাহাড়ের পশ্চিমে হলো আরাকান। তারা যদি নিজেরা আনতে চায় তাহলে পাহাড় ঘুরে বা পাহাড়ের উপর দিয়ে আনতে হবে, অনেক খরচ এই বিদ্যুতের লাইন আনতে। আরাকানে একটা বিষয় ছিলো যে ডিসক্রিমিনেশন হচ্ছে। তো সেজন্য আমরা বললাম যে, &quot;এটা যদি করো, আমরা দুই বছরের মধ্যে আরাকানে বিদ্যুৎ দিব।&quot; ওইসময় আমরা বললাম, &quot;আমাদের যে সোলার হোম সিস্টেম, এটার ১০ হাজার ইউনিট এমনি বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে দিতে চাই। তারা ইমপ্রেসড হলো।&quot; বলল যে, &quot;আমরা টিম পাঠাবো, দেখি।&quot; তারপর তো তাদের ইলেকশন চলে এলো, ইলেকশন যাওয়ার পরে ওই সরকার চলে গেলো। অং সান সুচি যখন এলো তখন আবার গেলাম। যেয়ে বললাম। কথাটা শুনলেন। উনাদের মিনিস্টার ছিলো সেখানে। কিন্তু, আই ডোন্ট নো, হোয়াই এটা সম্বন্ধে খুব উৎসাহ দেখালেন না। যাই হোক, আমরা ফেরত চলে আসলাম। তখনও কথা হয়েছিলো যে, একটা টেকনিক্যাল টিম আসবে, আসেনি।


মানে আমি যেটা বলতে চাচ্ছি যে, We have left no stone unturned...যাতে আমাদের দেশে গ্যাস সরবরাহ ডাইরেক্টলি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু Wishes are not horses. চাইবেন আর হয়ে যাবে। আমি তো দেখালাম, আমরা কূপ করে, কতখানি গ্যাস পেয়েছি।


আমরা উন্নতি অর্জন করেছি এবং আমাদের অপরচুনিটি কস্ট দিয়ে আমরা হিসাব করে দেখেছি, এলএনজি আনা আমাদের জন্য, তখনকার দামে গ্রহণযোগ্য ছিলো। এখন আপনি বলবেন, এখনকার দাম। এখনকার দাম আপনার আকাশচুম্বী। আমরা স্পটমার্কেটে পাঁচ ডলারে পর্যন্ত কিনেছি। এখন চল্লিশ ডলার। এখন এত বড় এই দামের বিভেদ। এতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে, এবং ইনফ্যাক্ট বাজারে যেটা এভেইলেবল সেটাও বলা যাবে না। We have been priced out of the market. ইউরোপ থেকে বিভিন্ন জায়গায় যেয়ে এরা এলএনজি নিচ্ছে। ইনফ্যাক্ট আমাদের আরেকটা করার কথা ছিলো। সেই জাহাজটা জার্মানি নিয়ে নিয়েছে।


তো সেইজন্য এখন এই পরিস্থিতিতে আমাদের যেটা করণীয়, সেটা হলো আমাদেরকে ধৈর্য্ ধরে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। আর &apos;পয়েন্টিং ফিঙ্গার&apos;, এটার যেখানে কোনো ভিত্তি নাই, সেটা করা যাবে না।


বাংলাদেশে অন শোরে...রিসেন্টলি ভোলার কাছে একটা ছোট্ট ফিল্ড পেয়েছি। ভোলার কাছে নর্থে কিছু কিছু এক্সপ্লোরেশন চলছে। এখন একটা ফিল্ড পাওয়া অর্থ আর্ন কতখানি করতে পারে। একটা ফিল্ড পেলাম, এটা যদি ২০ এলএমসিএফটিও হয় দিনে, তাও তিন হাজারের তুলনায় কতটুকু বাড়লো, এটা তো বুঝতে হবে। যে আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় কতখানি, এক একটা ফিল্ডে পাচ্ছি। আপনি শুনবেন, ভোলায় বিরাট গ্যাসফিল্ড আছে। অপটিমিস্টিক্যালি হলো ১ টিসিএফ গ্যাস আছে। সেটা আমাদের এক-দেড় বছরের গ্যাসের সমান। তবু আমরা ভোলাতেই কিন্তু পাওয়ার প্লান্ট করেছি, যাতে গ্যাসটা যেটুকুন আসে ব্যবহার করার জন্য। এবং আমরা হাতে নিয়েছি একটা প্রকল্প, God willing আমরা পায়রা সাইড দিয়ে একটা এলএনজি ইনজেক্ট করবো। করে একটা ফ্যাসিলিটি করবো, infrastructureটা করবো। করে ওটাকে ভোলার সাথে কানেক্ট করবো। যদি ভোলা থেকে গ্যাস ভালো পাই আমরা, সেই পরিমান কম ইম্পোর্ট করবো। এই গ্যাসকে আমরা নিয়ে যাবো খুলনা পর্যন্ত। খুলনায় নিয়ে গেলে খুলনায় আমাদের পাইপলাইন আছে, খুলনা থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত। তাহলে আমরা ওই গ্যাস দিতে পারবো খুলনায়, যেগুলো অয়েলবেসড পাওয়ার স্টেশন, সেগুলো রিপ্লেস করবো। আর ওদিকে নর্থে উন্নতিও করতে পারবো।


এখন এলএনজি আমি যখন রিপ্লেস করবো, আমাকে দেখতে হবে কী? যে খুলনায় যেগুলো ডিজেল পাওয়ার প্লান্ট, ভেড়ামারায় যেসব ডিজেল পাওয়ার প্লান্ট সেগুলোকে যদি আমি কমদামে, সাশ্রয়ী মূল্যে দিতে পারি তাহলে তো আমার লাভ হচ্ছে। ইনডেপেন্ডেন্টলি কোনো প্রাইসিং হয় না। সেজন্য আমরা পারস্যু করছি। কিন্তু আপনাদের মাধ্যমে আমি যেটা বলতে চাই যে, ইউক্রেন যুদ্ধ যদি না বন্ধ করা হয়, তাহলে এই দেশে, সারা পৃথিবীতে একটা বড় সমস্যা। আমাদের কথা ছেড়ে দেন, আপনি জানেন বিলেতে আজকাল প্রাইস বাড়ছে। ফুড এবং ফুয়েলের মধ্যে একটা কম্পিটিশন শুরু হয়েছে। It&apos;s not worth taking this risk. You know, western powers are such intelligent bunch of people. তারা এটা করতে পারবে না? বলা হলো, আমাদেরকে রাশিয়া কলাপ্স করে যাবে, রাশিয়া কোথায় কলাপ্স করেছে. বরং আয় আরো বাড়ছে। তেলের দাম বাড়ছে, সে কম বেচে বেশি দাম পাচ্ছে।






ভয়েস অফ আমেরিকাঃ বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করার ক্যাপাসিটি বাড়ানো হয়নি ফলে সংকটকালীন মজুদ রাখার সুযোগ তৈরি হয়নি। তেল পরিশোধনের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি? 


তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: আমরা অলরেডি একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। আমাদের চট্টগ্রামে যে রিফাইনারি আছে, সেটার ক্ষমতা বাড়ানোর। প্রায় দ্বিগুণ করার জন্য। এটার টেকনিক্যাল স্টাডি হয়ে গিয়েছে। এবং সেটা হলে, তেল শোধনাগার হলে, স্টোরেজ খুব একটা বাড়ে না। এটাও মনে রাখতে হবে যে, রিফাইনড অয়েলের সাথে ক্রুড অয়েলেও দাম বাড়ে। সুতরাং এটা দিয়ে আপনি কান্ট সলভ ইয়োর প্রবলেম বাট একটা অপশন তৈরি হয়। রিফাইনড অয়েল না পেলে আমি ক্রুড অয়েল আনবো। কিন্তু যদি বলা হয় যে ক্রুড অয়েল রিফাইন করলে আমার অবস্থার উন্নতি হয়ে যাবে বা বিরাট স্টোরেজ হবে...এটা ঠিক না। আমরা ক্রুড অয়েল যখন রিফাইন করি, রিফাইন করার সাথে সাথে আমাদের মার্কেটিং কোম্পানির মাধ্যমে বাজারে নিয়ে যেতে হয়। ইনফ্যাক্ট যদি অফটেক না হয় তাহলে রিফাইন হতে সমস্যা হয়। আমাদের সারাদেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ দিনের ফুয়েল রিজার্ভ আছে। এটাকে বাড়িয়ে হয়তো ৩৫ দিন করা যায়। But it is not going to make a material difference.. আমি মনে করি ক্রুড অয়েলের এক্সপ্যানশন করা হোক, করছি আমরা। সেই সাথে আমাদের চিন্তা করা লাগবে যে, আমরা যে ক্রুড অয়েল আনি সেটা ডাইভারসিফাই করা যায় কি না। কারণ আমরা স্টাক উইথ অ্যা পার্টিকুলার কাইন্ড অফ ক্রুড অয়েল। তো মোটা দাগে উত্তর দিলাম যে, আমরা এটা করছি এন্ড it will take some time। এই প্রজেক্টে অনেক পয়সা (খরচ হচ্ছে), প্রায় দুই-তিন বছর ধরে। এছাড়াও আমরা মিডল ইস্টে বিভিন্ন দেশের সাথে কথা বলেছিলাম যে, &quot;তোমরা এখানে এসে রিফাইনারি করো।&quot; কুয়েতের সাথে কথা হয়েছে, সৌদি আরবের সাথে কথা হয়েছে, &quot;তোমরা আমাদের এখানে এসে রিফাইনারি করো, আমাদের দাও আর প্লাস যদি তোমরা এক্সপোর্ট করতে চাও করো।&quot; তাতে হয় কি, ওরা যদি রিফাইনারি করে তাহলে আমি ক্রুড অয়েল সম্বন্ধে শিওর হই। কারণ ওরাই ক্রুড অয়েল তৈরি করে। আমি গিয়েছি কুয়েতে কথা বলেছি। আমাদের প্রতিমন্ত্রী গিয়েছেন, সৌদি আরবে কথা হয়েছে। সৌদি আরবের টিম এসেছিল, তাদের সাথে কথা বলেছি যে, &quot;তোমরা করো।&quot; একটা বড় আকারে করলে লাভ হয় কী, যেহেতু ক্রুড তাদের। তারা রিফাইন করবে। আর আমরা বলছি, &quot;আমাদের কিছু দাও। তুমি ইস্ট এশিয়ার জন্য একটা স্ট্র্যাটেজিক এখানে রিজার্ভ করতে পারো।&quot; শুনেছে তারা। I&apos;m still hoping that at some point they will come. যদি শুধু তেল না হয়, পেট্রোক্যামিক্যাল কমপ্লেক্স হতে পারে। যাতে আরো ডাইভারসিফাইড প্রোডাক্ট আসে।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ রিনিউয়েবল জ্বালানি, যেমন সৌরবিদ্যুৎ ইত্যাদি খাতে আপনাদের আমলে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে? বর্তমানে মোট বিদ্যুতের শতকরা কতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে আসে, এনিয়ে আপনাদের স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা কী? 


তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: ওই কথা এসে যায় যে বাংলাদেশের জমি খুব কম। একটা উদাহরণ দিলে বুঝবেন, বাংলাদেশের যে ডেনসিটি, সেই ডেনসিটি যদি আমেরিকায় হতো, তাহলে আমেরিকা সারা পৃথিবীর পপুলেশনকে যোগ দিলে রাখতে পারতো অ্যান্ড অ্যানাদার ফিফটি পার্সেন্ট। ক্যান ইউ ইমাজিন দ্য ডেনসিটি... এখানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলেন যে, &quot;ঠিক আছে যেহেতু আমাদের জমি উর্বরা, আমরা খাদ্য উৎপাদন করবো&quot;, আমরা মোটামুটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, মাছে ভাতে বাঙালি বলা হয়। মাছও আছে, সবজি-তরিতরকারি হচ্ছে অনেক। সেজন্য আমরা জমিকে আমাদের সবচেয়ে বেশি মূল্যবান সম্পদ মনে করি। জমির স্বল্পতার কারণে এবং যেহেতু সোলার রাত্রে থাকে না এবং ইউটিলিটি লেভেলের কোনো স্টোরেজের আবিষ্কার হয়নি। হাইড্রোজেন যদি আসে সেটা হতে পারে। যদি ভালো ব্যাটারি আসে, সেটা হতে পারে।


আমি ফিরে যাই আন্ডার সেক্রেটারি সাহেবের সাথে কথায়। আমরা তাকে বললাম যে, &quot;আমরা বিভিন্ন রকম নতুন প্রযুক্তি যেটা, আমাদের যেহেতু জমির এতো অভাব, আমরা সোলার করলে কিছু ফুয়েল সেভ হবে।&quot; ক্যাপাসিটির উপর কোনো লাভ হবে না। কারণ রাত্রে আমার ক্যাপাসিটি লাগবে। দিনের বেলা আমি যদি ইউজ করি, তাহলে ফুয়েল কিছু সেভ হবে। কিন্তু সম্প্রসারণের আমাদের যে সীমাবদ্ধতা, আমরা নিজেরা কী কী করেছি আর করলাম... দেখেন আমরা সারা দেশে যখন বিদ্যুৎ ছিলো না, তখন সোলার হোম সিস্টেম করেছিলাম। প্রত্যেক বাড়িতে ছোট্ট একটা প্যানেল লাগিয়ে ব্যাটারি দিয়ে ফ্যান আর বাতি জ্বালানো, কখনও হয়তো ছোটখাটো টেলিভিশন চলতে পারে। ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন ছিল। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, &quot;দেখেন আমরা বিদ্যুতায়ন করার জন্য গ্রামকে তো ছেড়ে দিতে পারি না।&quot; সো এটা প্যারালাল প্রসেসিং ছিলো। যেসব জায়গায় তখন গ্রিড ছিল না, ২০০৯ সালে। সেসব জায়গায় আমরা সোলার হোম সিস্টেম করি। সোলার হোম সিস্টেম কিন্তু একটা জাস্ট ৬ মিলিয়ন হলে আপনি ৫ দিয়ে গুণ করেন। একটা বাড়িতে যদি ৫ জন যদি হয়, ৩০ মিলিয়ন ৩০ মিলিয়ন মানে নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্কে সব বাড়ি যদি সোলারে চলতো তাহলে সেই পরিমান আমরা চালিয়েছি। আস্তে আস্তে গ্রিড এক্সপান্ড হলো। সুতরাং মানুষ তো চায় ২৪X৭ ভালো ইলেকট্রিসিটি পাবে। দিনভর কাজ করতে পারবে। তো সেজন্য এখনকার পরিস্থিতি থেকে যেটা শিক্ষনীয় যে, ঠিক আছে দিনের বেলা হলেও যদি সোলারের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ফুয়েল এন্ডে ক্যাপাসিটি রাখতে হবে। ফসিল ফুয়েল হোক যে ফুয়েল হোক আপনাকে চালাতে হবে। আমরা এটা করেছি নেট মিটারিং করে। যেসব বড় বড় ছাদ আছে, শিল্পের ছাদ। তাদেরকে বলেছি, &quot;তোমরা ছাদে প্যানেল লাগাও। তাহলে জমি লাগলো না। এবং সেটা হলে আমরা বলেছি তুমি যে বিদ্যুৎটা উৎপাদন করবা সেটার জন্য তুমি ক্রেডিট পাবা। তুমি যদি দশ ইউনিট নাও আমাদের সিস্টেম থেকে, আর যদি দুই ইউনিট তুমি নিজে তৈরি করো তাহলে আট ইউনিটের জন্য পয়সা দিবা। এবং তোমার উইকএন্ডে বিদ্যুৎ দিচ্ছো, যখন তোমার শিল্প বন্ধ থাকে।&quot; এটা তাদের জন্য অ্যাট্রাকটিভ। সেজন্য এই নেট মিটারিংয়ে বেশ শিল্প আগ্রহী হয়ে করেছে। আমিও দুই একটা নিজেই উদ্বোধন করেছি। সমস্যা হলো যে, শিল্পোদ্যক্তাদের জন্য এটা বাইরের কাজ। এটা বসাও, করো। তাদের যে শিল্পে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ তার সাথে এটা অতো অ্যাট্রাকটিভ না। এজন্য আমরা কোম্পানী করেছি। বললেই হবে যে, &quot;ভাই এটা করে দেন।&quot; অনেক কোম্পানী বলে, &quot;আপনাকে এটা করে দিবো, যেটা লাভ তার অর্ধেক আমাকে দিবেন।&quot; এরকম বিভিন্নরকম কন্ট্রাক্ট হচ্ছে। এটা বেশ হচ্ছে।


আমরা নদীতে বা ওয়াটার বডিতে করা যায় কিনা সেটার চেষ্টা করছি। কিছু কিছু পাইলট প্রজেক্ট আমরা হাতে নিয়েছি। তারপর আমি নিজেও চেষ্টা করেছিলাম, ক্ষেতের মধ্যে যদি প্যানেল লাগাতে পারি। এটা পাইলট প্রজেক্টে আমরা সাকসেসফুল। কিন্তু এটাকে স্কেইল আপ করা ডিফিকাল্ট হযে গেছে... আপনার ১০ মেগাওয়াটের জন্যও তো দুই- তিন শ ফার্মারের সাথে যোগাযোগ করতে হয়েছে। তাদের সাথে কন্ট্রাক্ট করা, তাদেরকে দিয়ে এগুলো ব্যবহার করা, এগুলো নিয়ে বহুরকম ম্যানেজমেন্ট। এখন আরেকটু অন্যভাবে আমরা সোলার ইরিগেশনের চেষ্টা করছি। যাতে কৃষিখাতে যদি দিনের বেলা লাগে, দিনের বেলা দিলেই হয়। এখন কৃষিকাজে যদি সোলার ইরিগেশন করতে পারি, তাহলে আমাদের হিসাবে বল পার্ক ফিগার, অ্যাবাউট হাফ মিলিয়ন ডলার হোক, ফুয়েল ইম্পোর্ট, ডিজেল লাগবে না। তো এখন এটার উপর জোর দিয়েছি। পাঁচ-ছয়ভাবে এটার পাইলট হচ্ছে। আমরা এটাকে সমন্বিত একটা পলিসির মধ্যে নিয়ে আসছি এখন।


ভয়েস অফ আমেরিকাঃ  বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ সরকার বিপুল ভর্তুকি দিয়েছে, কোনো কোনো রিপোর্ট-এ এই ভর্তুকি ৯৩ হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি চুক্তিতে রাখার কারণ কী ছিল? এখন কী এই চুক্তিগুলো পরিবর্তনের কোনো সুযোগ আছে? ভবিষৎতেও কী চুক্তি করার সময় এই ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়ার বিষয়টি থাকবে? 


তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: আমাদের তো লোড আসে রাত্রে। রাত্রে তো আমাকে রাত্রের জন্য ব্যবস্থা করতেই হবে। সুতরাং সেই ক্যাপাসিটি, রাত্রে হয়তো ১৫ হাজার মেগাওয়াট। দিনে নেমে আসে ১০ হাজার মেগাওয়াটে। তো আমাকে ওই ক্যাপাসিটি রাখতে হবে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের। নাহলে তো আমি ওই সময়ে দিতে পারবো না। তারপরে দরকার হলো ফুয়েল যদি থাকে। অনেকে বলেন আপনার আইডল ক্যাপাসিটি। যখন ১৫ হাজার হবে তখন কোত্থেকে পাবেন। সো ক্যাপাসিটি হ্যাজ টু বি দেয়ার ইন দ্য কান্ট্রি। না হলে, বললেই তো ১৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাবে না। সারা পৃথিবীতেই ক্যাপাসিটি বেশি রাখা হয় দুই কারণে। একটা হলো আমি যেটা বললাম, সেটা হলো পিকে, এছাড়া ধরা হয় যেটা স্পিনিং রিজার্ভ রাখা হয়। যখন একটা সিস্টেম চলছে, দশ পার্সেন্ট রাখতে হয়। কোনখানে যদি কোনো প্লাগ বসে যায়, গ্রিড যেন ফেইল না করে। এনাদার ফিফটিন পার্সেন্ট চলে যায় মেইনটেনেন্সে, রিপেয়ারে। তো ধরেন, ২৫ পার্সেন্ট চলে গেলো। তাহলে জাস্ট হিসাবের জন্য ২ হাজার মেগাওয়াট ধরি, তাহলে ২৫ পার্সেন্ট চলে গেলো আমার এভাবে। তাহলে আমাদের নিজেদের যে বর্তমান ক্যাপাসিটি, জাস্ট এবাউট সাফিসিয়ান্ট টু টেক কেয়ার অব মেইনটেনেন্স এবং আমাদের স্পিনিং রিজার্ভ রেখে। বারবার যে খবরের কাগজগুলোয় বলা হয়, এত ক্যাপাসিটি রাখা হয়েছে। আমি মনে করি যারা বলছে তারা এই ইন্ডাস্ট্রি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল না। বলা হয় যে ক্যাপাসিটি চার্জ এত দেয়া হচ্ছে। এখন ক্যাপাসিটি যদি রাখেন সে আমরাই করি আর বেসরকারি খাতই হোক এর তো একটা ব্যয় আছে। এই আইডল বসে আছে, ব্যয় আছে। সেই ব্যয় কী? আপনার যে বিনিয়োগ হয়েছে সেই ব্যয়। নিজেদের খাতায় হয়তো পরিষ্কার দেখা যায় না একবারে, কিন্তু প্রাইভেটের সাথে যখন চুক্তি করা হয়, সারা পৃথিবীতে, আমাদের দেশে শুধু না। বিনিয়োগের জন্য একটা পেমেন্ট দেয়া হয়। এটাকে বলা হয় ক্যাপাসিটি চার্জ। আর সে চললে তার জন্য একটা আলাদা একটা ফুয়েল কস্ট এ্যাড করা হয়। সুতরাং ক্যাপাসিটি চার্জ, এটা যেকোন রকম বিনিয়োগে আপনাকে দিতে হবে। কারণ আপনি চাচ্ছেন যে আপনি যখন চাইবেন, সেটা এভেইলেবল হবে।


&quot;ক্যাপাসিটি চার্জ, এটা যে কোনরকম বিনিয়োগে আপনাকে দিতে হবে। কারণ আপনি চাচ্ছেন যে, আপনি যখন চাইবেন, সেটা এভেইলেবল হবে।&quot;

 

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ জ্বালানি ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আপনারা কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন?


তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কথা তুলেছিলেন যে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা। খুব তাড়াতাড়ি করে আমরা এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে এনেছিলাম। খুব বেশি ক্যাপাসিটি বাড়ানো যায় না। আমাদের যে স্টেশন আছে, সেখানে আমরা বিদ্যুৎটা রিসিভ করি। ওখান থেকে আরো এক দেড়শো বাড়ানো হয়েছে। আর ত্রিপুরার সাইডে, বাংলাদেশের পুবদিকে, একটা কানেকটিভিটি করা হযেছে। ওখানেও দেড়শ, দুইশ মেগাওয়াট আসে। তো এটাই প্রথম আমরা ইন্টার কানেকটিভিটি করলাম, এই রিজিওনে।



এরপরে যেটা আরো হয়েছে, আদানিরা ঝাড়খন্ডে একটা কোল (coal) পাওয়ার প্লান্ট রান করছে। সেটার বিদ্যুৎটা ডাইরেক্ট আসবে বাংলাদেশে। ঐ লাইনটাই ডেডিকেটেড টু বাংলাদেশ। এবং এটা অলমোস্ট কমপ্লিট। আমরা আশা করছি, এই বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে ওখান থেকে বিদ্যুৎ আসবে। এটা একটা বড় উদ্যোগ।


তাছাড়াও কথা হয়েছে যে, গুজরাত বা ওখানে অনেক মরুভূমি, তাদের সোলার পাওয়ার, উইন্ড পাওয়ার অনেক। জমির কোন খরচ নাই। ওখান থেকে যদি আমরা কিছু সোলার পাওয়ার আনি, উইন্ড পাওয়ার আনি... সোলার আর উইন্ড মিললে কিন্তু অনেকটা, উইন্ড ইস অ্যা কাইন্ড অফ ব্যাটারি। রাত্রে উইন্ড বেশি আসে। সেজন্য সোলার, উইন্ড মিললে অনেক সময় পিক আওয়ারেও ধরা যায়। আর গুজরাতের সাথে আমাদের টাইম ডিফারেন্স আছে ঘন্টা দুয়েক। তাতে পার্ট অফ দি পিক আওয়ার ধরাতে পারি। সেজন্য একটা আলোচনা হচ্ছে। তারা গুজরাতে উইন্ড এবং সোলার মিক্স করে পাঠাবে বাংলাদেশে। ওদের নিজেদের যে লাইন করছে সেটায় সেই সক্ষমতা আছে, ৫০০-১০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করার।


আর হাইড্রোপাওয়ার নিয়ে আমাদের আমাদের নেপাল, ভুটানের সাথে আলাপ হচ্ছে। আমরা নেপালের একটা প্রকল্পে এমওইউ সই করেছি। গ্রিড নিয়ে যেগুলো সীমাবদ্ধতা ছিলো সেগুলো এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন অফ বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, নেপাল, ভুটান মিলে মোটামুটি সমাধান হয়ে গেছে। ওটা হলে আমাদের কমপ্লিমেন্টারি গ্যাস। নেপালে যখন বা ভুটানে যখন বেশি বিদ্যুৎ লাগবে, যখন তাদের সব জমে-টমে যায় বরফে, তখন আমাদের শীতের সময়, আমাদের এক্সেস থাকবে। আমরা পাঠাতে পারবো। আবার যখন গ্রীষ্মকালে তাদের অনেক বেশি উৎপাদন তখন আমাদেরও প্রয়োজন বেশি। এজন্য কমপ্লিমেন্টারি থাকার কারণে আমরা আগ্রহী, তারাও আগ্রহ দেখিয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমি মনে করি যে এটাও সম্ভব হবে। একটু সময় লাগবে। যে কোন জিনিসে একটু ধৈর্য্য ধরতে হয়। একটা জিনিস এক বছরে করা যায়, আরেকটা জিনিস পাঁচ বছরে করতে হয়, আবার আরেকটা জিনিস হয়তো দশ বছরে করা যায়। যত দূরে যাবেন, তত আনসার্টেনিটি বাড়তে থাকে।


&quot;একটা দেশ তো গ্রোইং কনসার্ন, আপনি এটাকে নিয়ে কোনো এক্সপেরিমেন্ট করতে পারবেন না।&quot;

একটা দেশ তো গ্রোইং কনসার্ন, আপনি এটাকে নিয়ে কোনো এক্সপেরিমেন্ট করতে পারবেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে কারণে, She is focused on outcome...এই করলাম, এটা কী লাভ হবে, মানুষের কী উপকার হবে, মেয়েদের কী উপকার হবে, বাচ্চাদের কী উপকার হবে, যারা গরীব তাদের কী উপকার হবে। ওখান থেকে এগুলোর সলিউশন আসে। সে কারণেই কিন্তু আমি যে বললাম আগে, মাথাপিছু আয়ের সাথেসাথে দেশের সাধারণ মানুষের কোয়ালিটি অফ লাইফ ইমপ্রুভ করেছে, তুলনামূলকভাবে। আপনি যে কোন সময়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ডাটা নিয়ে গুগল করে দেখবেন আমাদের ইনডিসেসগুলো... আমরা পিয়ার কান্ট্রিজের চেয়ে ইনকামে না যতবেশি, অনেক বেশি এগুলোর ব্যাপারে। লাইফ এক্সপেন্সি বলেন, ম্যাটারনাল মর্টালিটি, চাইল্ড মর্টালিটি বলেন, মেয়েদের এডুকেশন, এক্সেস টু ড্রিংকিং ওয়াটার বলেন, স্যানিটেশন বলেন।


তবে, আমি যোগ করবো, still a long way to go. আমরা যেটা চেয়েছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা চেয়েছিলেন আমরা মধ্যম আয়ের দেশে যাবো ২০৩০-এ। ২০৪০ এ আমরা উন্নত দেশের কাতারে যাবো। এই ইউক্রেন যুদ্ধ না হলে কিন্তু এটা অব্যাহত ছিল।


আমি আর একটা ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে বলতে চাই, ইউক্রেন যুদ্ধ যদি না হতো, এই তেলের দাম, এলএনজির দাম যদি না বাড়তো তাহলে কিন্তু সারাদেশে বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা আমাদের ছিল। সারাদেশে বিদ্যুতে সয়লাব করে দিতাম। গ্রামে-গঞ্জে মানুষ বিদ্যুতের ব্যবহারে অনেক আগ্রহী হয়েছে। মেয়েরা গ্রামেও রাইসকুকার ব্যবহার করে। আমরা নিজেরা চিন্তা করছি যে আমরা স্কিপ করতে পারি কিনা, রান্না করার যেসব কনভেনশনাল ব্যবস্থা আছে, সেগুলো স্কিপ করে একবারে ইলেকট্রিসিটিতে যেতে পারি কিনা। আমেরিকায় যেমন আগে গ্যাস ব্যবহার করা হতো এখন ইনডাকশন কয়েল-টয়েল ব্যবহার করে। আমরা হিসাব করে দেখেছি যে, যদি আমরা প্যাকেজিং ভালো করে করতে পারি, তাহলে গ্রামে-গঞ্জে আমরা বিদ্যুৎ দিয়ে পাক করাবো। মেয়েদের, মায়েদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, সময়ের সাশ্রয় হবে। এই প্ল্যানগুলো কিন্তু হোস্টেজ টু অ্যান = এক্সটার্নাল ফ্যাক্টর। আর কিছু না। আপনি কালকে তেলের দাম কমিয়ে দেন, টু বি লো স্ট্রেস অন বাংলাদেশ ইকোনমি। We will be fying with pride.


&quot;ইউক্রেন যুদ্ধ যদি না হতো, এই তেলের দাম, এলএনজির দাম যদি না বাড়তো তাহলে কিন্তু সারাদেশে বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা আমাদের ছিল। সারাদেশে বিদ্যুতে সয়লাব করে দিতাম।&quot;

সুতরাং আমি অনুরোধ করবো আমাদের দেশে যারা আছেন তাদের এই দেশটাকে ভলোবেসে তার জন্য চিন্তা করতে হবে। একেক জায়গায়... একজন আমি বললাম অর্থনীতিবিদ, আরেকজন বললাম ভূতাত্ত্বিক, আরেকজন বললাম এনার্জি স্পেশালিস্ট। যার যার সাইলো থেকে দেখলে তো হবে না। একটা দেশকে পরিচালনার জন্য যে জিনিস দরকার। আপনি দেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশ বছর আগে থেকে যেখানে গিয়েছেন, বক্তৃতা, পাবলিক স্পিচে বলেছেন যে, &quot;আপনারা লাইট অফ করে দেবেন যখন না থাকেন, ফ্যানটা অফ করে দেবেন।&quot; এটা কিন্তু বিহেভিয়েরাল চেঞ্জের কথা বলেছেন, আমাদেরকে রেসপন্সিবল হওয়ার জন্য বলেছেন। পৃথিবীর রিসোর্স ব্যবহারে এফোরডিবিলিটি ইজ নট দি ক্রাইটেরিয়া। আজকে আপনি শুনবেন, জার্মানিতে কথা হচ্ছে রেসপনসিবল হওয়ার জন্য। কাট করো কাট কনজাম্পশন, আজকে ব্রিটেনে কাট করার কথা হচ্ছে। দশ বছর আগেই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। সেটাকে নিয়েই, পৃথিবীতে আমি যেখানে গেছি রেসপন্সিবল এনার্জি ইউজ নিয়ে আমি বলেছি। এটার দাম ধনী হলে দিতে পারবে আর গরীব হলে দিতে পারবে না সেটা না। এ এনার্জি ইউজের সাথে পৃথিবীর রিসোর্সেস রিলেটেড। আপনি কতখানি ফার্টিলাইজার দেবেন, কতখানি পানি ব্যবহার করবেন, যদি পানি ব্যবহার কম করেন কৃষির জন্য, তাহলে এনার্জি ইউজ কম হবে। যদি ফার্টিলাইজার কম ইউজ করেন তাহলে এনার্জি ইউজ কম হবে।


&quot;মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশ বছর আগে থেকে যেখানে গিয়েছেন, বক্তৃতা, পাবলিক স্পিচে বলেছেন যে, &quot;আপনারা লাইট অফ করে দেবেন যখন না থাকেন, ফ্যানটা অফ করে দেবেন।&quot; এটা কিন্তু বিহেভিয়েরাল চেঞ্জের কথা বলেছেন, আমাদেরকে রেসপন্সিবল হওয়ার জন্য বলেছেন।&quot;

পৃথিবীতে যত খাবার নষ্ট হয়, এ খাবার দিয়ে সারা পৃথিবী খেতে পারবে। নুতন প্রজন্ম যারা আসছে তারা এগুলোর ব্যাপারে অনেক আগ্রহী। একটা গ্লোবাল ভিউ লাগবে। বিচ্ছিন্নভাবে উন্নতি কেউ করতে পারবে না। ডেভেলপড কান্ট্রিও পারবে না। দেয়ার ইজ অ্যা লিমিট। কিন্তু আমরা যদি কো-অপারেট করি, আমাদের মধ্যে যদি বিদ্বেষ কমাই, সংঘাত কমাই, আমি যদি দায়িত্বশীল হই। এখন যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং, এটা তো সামনে আসছে। আরো অনেক বিপদ সামনে আছে। পানি নিয়ে যুদ্ধ হবে। স্পেস নিয়ে হবে। এখনই যদি আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক ও সংযমী না হই। There is no pride in wasting resources. There may be little pride in saving resources. আমি অল্প দিয়ে কত ভালো থাকতে পারি। We cannot cater for unlimited consumption of all countries in the world.


আমার ছোট মুখে বড় কথা, আমি বলি বিশ্বের ধনী দেশগুলোর চিন্তা করার সময় এসেছে, কিভাবে আমরা একই জায়গায় থেকে সমভাবে, একটা সবার মধ্যে ভালোবাসা, রিসোর্স, এগুলো নিয়ে ভাল থাকতে পারি। ইকোনমিকস-এ স্টেডি স্টেট বলে একটা কথা আছে। গোল্ডেন রুল, স্টেডি স্টেট। এমন একটা জায়গায় যাবে, বাড়বেও না, কমবেও না। কিন্তু সবাই মিলেমিশে। সেলফিশ হয়ে গেলে আর সেটা হয় না। সেলফিশ হয়ে গেলে এক সময় না এক সময় বিপদে পড়তে হয়।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শিতা নিয়ে এই যে এনার্জি রেসপন্সিবিলিটির কথা বলেছেন... আজকে জার্মানি বলছে, ভলান্টারি কাট থ্রু রেসপন্সিবল ইউজ। সাংহাইয়ের মতো জাযগায় বাতি অফ করে দেয়া হয়েছে। বাঁধের পাড়ে যে বড় বড় বিল্ডিং ছিলো, রাত্রে সুশোভিত থাকতো, কোনো দরকার নেই। পৃথিবীতে এত বিদ্যুৎ এবং এনার্জি অপচয় হয়... বড় বড় শহরে রাতভর বাতি জ্বলছে। কোন দরকার নেই। সিকিউরিটির জন্য আপনি নাইটভিশন ক্যামেরা লাগাতে পারেন। এটা ভালো লাগে যে অনেক বাতি জ্বলছে। এটাও ঠিক যে, ভালো লাগে, বাতি না থেকে যদি চাঁদ ওঠে। সুতরাং এই দুটোকেই বুঝতে হবে। প্রয়োজনের বাইরে অন্ধকারের সাথে যুদ্ধ করার দরকার নাই। অন্ধকার যেটুকু আমাদের জীবনে আছে সেটাকেই দূর করতে হবে।


&quot;এটা ভালো লাগে যে অনেক বাতি জ্বলছে। এটাও ঠিক যে, ভালো লাগে, বাতি না থেকে যদি চাঁদ ওঠে। সুতরাং এই দুটোকেই বুঝতে হবে। প্রয়োজনের বাইরে অন্ধকারের সাথে যুদ্ধ করার দরকার নাই। অন্ধকার যেটুকু আমাদের জীবনে আছে সেটাকেই দূর করতে হবে।&quot;

 




ভয়েস অফ আমেরিকাঃ বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আপনারা কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন? কতদিনের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে বলে আপনি আশাবাদী?


তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: আমি আবার আগের কথায় যাই। বিদেশে একটা যুদ্ধের কারণে যে সংকট, তার সল্যুশন তো আমাদের কাছে নাই। আমাদের জ্বালানির দাম যদি কম না পড়ে আমাদের কাছে ওভারঅল কোনো সল্যুশন নাই। আমাকে সেই বাধ্যবাধকতার মধ্য থেকে সল্যুশন খুঁজতে হবে। উত্তরণ আমি বলব না, How do we manage? আমরা এখন যেমন বললাম ডিমান্ড সাইড ম্যানেজ করছি। যেমন সেদিন স্বিদ্ধান্ত হয়েছে, অফিস বেলা ৩টার সময শেষ হয়ে যাবে। স্কুল দুইদিন বন্ধ থাকবে। এরকম করে করে আমরা নিজেদের বুদ্ধিতে যতটুকু কুলায়, যে অল্প কমিয়ে কিভাবে সাশ্রয়ী হওয়া যায়। আমাদের প্রোডাক্টিভ রাখতে হবে কৃষিকে, শিল্পকে। সেটার উপর আমরা জোর দিচ্ছি, প্লাস যেটা বললাম এনার্জি রেসপন্সিবিলিটি। সেই সাথে ডাইভারসিফিকেশনটায় কিছু লাভ হয়। যেমন আগামী বছর, ইনশাআল্লাহ, আমাদের প্রথম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টটা আসবে। তারপরের বছর আরেকটা আসবে। নিউক্লিয়ার পাওয়ারের, ইটস নট টাইড টু অয়েল। সুতরাং এটার প্রাইসিং ইনডিপেনডেন্ট। কোলের দাম বেড়েছে কিন্তু অতখানি বাড়েনি। মানে বেইজটা কম ছিলো। সেই কোল থেকে আমরা ইনশাআল্লাহ আগামী বছরের মধ্যে অন্তত আরো তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবো। তাহলে আমরা আমাদের দেশটাকে ম্যানেজ করতে পারবো। আপনি উত্তরণ বলতে পারেন।



এই টানাপোড়েন যেটা, সেটা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে কমা শুরু হবে। একদিকে টেম্পারেচার কমবে, আরেকদিকে কৃষির চাপ তখন কমে যাবে। আর আমাদের যেমন রামপাল আছে, পায়রায় আরেকটা ইউনিট আসবে, তারপর ঝাড়খন্ডের বিদ্যুৎ আসবে। এই যে ডাইভারসিফাই করা হয়েছিলো তার জন্য আমরা ইনশাআল্রাহ উত্তরণ করে যাবো।


আমরা তো চাই না পলিউট করতে, গ্যাস ইজ সাপোজ টু বি দি ক্লিন ফুয়েল। সেজন্য গ্যাসের আমরা ক্যাপাসিটি তৈরি করে রাখছি। গ্যাসের প্রাইস যখনই একটা নরমাল লেভেলে যাবে তখন কিন্তু আমরা আউট অফ ইট। আশা করতে চাই যে এই যুদ্ধের অবসান হবে। না হলে তো আরো অনেক বিপদ আছে।


এটা আপনাকে বলে রাখি, আমাদের পার ক্যাপিটা কার্বন ডাইঅক্সাইড এমিশন  .৮ মেট্রিক টন। উন্নত দেশে এটা ১০-২০ মেট্রিক টন এবং ১০-২০ মেট্রিক টন শত বছর ধরে করছে। আমাদের তো দু-চার বছর আগে ছিলো .৫ মেট্রিকটন। সুতরাং এই যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং হয়েছে, এটা কিন্তু উন্নত দেশের কারণে হয়েছে। আমাদের দেশে সবকটা পাওয়ার প্ল্যান্টে যদি ফসিল ফুয়েল বন্ধ করে দেই....ঠিক আছে, আমরা অন্ধকারে থাকবো... It will not make any material difference to CO2 emissions. সুতরাং যে কারণে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা একটা ক্লাইমেট ফান্ড করেছেন। এটা দিয়ে আমরা ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স (জলবায়ু সহনশীলতা) কীভাবে হয়, শিল্প, কৃষি কীভাবে হয় সেগুলোর জন্য গবেষনা করছি। আমরা বসে থাকিনি। যদিও আ লট অফ প্রমিসেস ওয়ের হার্ড ফ্রম ডেভেলপড কান্ট্রিজ, যেসব দেশ ভালনারেবল, তাদের জন্য। ঠিক আছে কথা হয়, তাদের ওপর আস্থা রেখে বসে থাকলে তো চলবে না। আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টা হচ্ছে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স করা।


আমরা এই যে কোল ফায়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট করছি, এর প্রযুক্তি state of the art, পৃথিবীর মধ্যে। খুব উন্নতমানের কযলা এবং এটাকে বলে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি। জার্মানি যেসব খুলছে, ওগুলো সাব ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি। পৃথিবীতে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির কোল ফায়ারড পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড। মে বি হান্ড্রেড। কোল ফায়ারড শুনলে অনেকে আৎকে উঠবে। &quot;আবার আপনি কোল আনছেন!&quot; এটা অনেক ক্লিনার কোল এবং যদি কোন সময় কার্বন ক্যাপচারের স্টোরেজ আবিষ্কার হয়, প্রযুক্তি আবিষ্কার না, এফোরডেবল হয় তাহলে এটা থেকে আমি কিন্তু কার্বন ক্যাপচার স্টোরেজ করে এটাকে ক্লিন করে ফেলবো। সুতরাং তাহলে আমরা বর্তমানকে সার্ভ করলাম, আমরা ফিউচারকেও সার্ভ করলাম। এবং সেইজন্য অনেকে কিন্তু বিরোধিতা করেছিলেন, &quot;আপনারা কোল ফায়ারড পাওয়ার প্ল্যান্ট করছেন, এই হবে, সেই হবে।&quot; আমি তাদের যুক্তি, আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে বুঝতে পারি নাই। আমি যেটা বললাম যে &quot;আমাদের করা না করার উপর পৃথিবীর কোন এমিশন নির্ভর করে না। ঠিক আছে, আমরা রেসপন্সিবল জাতি হিসেবে, উই ওয়ান্ট টু বি রেসপন্সিবল।&quot; সেজন্যই কতভাবে এনার্জি ইউজের রেসপন্সিবিলিটি আনা হচ্ছে। যে কারণে আমরা অনেক ব্যয় করে এই কোল ফায়ারড পাওয়ার প্ল্যান্ট করছি। সেদিনই এক সভায় এই কথাগুলো উঠলো... &quot;যে আপনারা এরকম করলেন না, এখন এই কোল ফায়ারড পাওয়ার প্ল্যান্ট।&quot; আমি বড় বড় বইও দেখেছি, লেখা হয়েছে...এই কোল ফায়ারড পাওয়ার প্ল্যান্টের বিরোধিতা করে। আমি বললাম, &quot;আপনাদের কথা সবই সত্য। আপনাদের আমি টিকেট দিব, আপনারা ইউরোপ যেয়ে এই কথাগুলো বলেন। পলিউশন তো এখানে হচ্ছে না, ইউরোপে হচ্ছে। আপনি ওখানে যেয়ে আন্দোলন করেন।&quot; এখন এসব কথা দিয়ে দেশকে বিভ্রান্ত করা, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বিভ্রান্ত করা, এটা তো ঠিক না।


ভয়েস অফ আমেরিকা: অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য।


</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/6729996.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/6729996.html</guid>            
            <pubDate>Sun, 04 Sep 2022 04:21:07 +0600</pubDate>
            <category>সাক্ষাৎকার</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (শতরূপা বড়ুয়া)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/019e0000-0aff-0242-a3b3-08da8b8c1f0a_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        <item>
            <title>প্রবিধানের আগে বিইআরসি জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করতে পারবে নাঃ আব্দুল জলিল</title>
            <description>আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম পদার্থ, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের মূল্যহার নির্ধারণ করার কথা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি’র। কিন্তু সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে। তাও রেকর্ড হারে। মূল্যবৃদ্ধির এই প্রক্রিয়া এবং হার নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। প্রায় প্রতিদিন মন্ত্রী-উপমন্ত্রীরা মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে নানা ধরনের যুক্তি তুলে ধরছেন। এই পরিস্থিতিতে ভয়েস অফ আমেরিকার অমৃত মলঙ্গীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিইআরসি’র চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।


ভয়েস অফ আমেরিকা: শুরুতেই সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নটি করতে চাই। জ্বালানি তেলের দাম ধাপে ধাপে না বাড়িয়ে যেভাবে এক লাফে বাড়ানো হলো, এটা আইনের ব্যত্যয় কি না? ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও আমি প্রশ্নটা করেছিলাম, তিনি বলেছেন এটা বিইআরসি ভালো বলতে পারবে।


আব্দুল জলিল: দেখুন আমরা গ্যাস এবং বিদ্যুতের মূল্যহার নির্ধারণ করলেও পেট্রোলিয়াম পদার্থ জ্বালানি তেলের মূল্যহার নির্ধারণ করি না। সরকার যেহেতু ডি-ফ্যাক্টোভাবে এটি করেছে, তাই এ ব্যাপারে কমিশনের কোনো মন্তব্য নেই।


ভয়েস অফ আমেরিকা: কিন্তু আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎ, গ্যাসের পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম পদার্থের মূল্যহারও তো বিইআরসি’র নির্ধারণ করার কথা।


আব্দুল জলিল: বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশন আইন ২০০৩-এর ২২ (খ) ধারা মতে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পেট্রোলিয়াম পদার্থের মূল্যহার নির্ধারণ করার আইনগত দায়িত্ব কমিশনের। এই আইনের অর্থাৎ বিইআরসি আইন-২০০৩ এর ৩৪(১) ধারায় উল্লেখ আছে, মূল্যহার নির্ণয়ের জন্য কমিশন সরকারের সঙ্গে আলোচনাক্রমে মূল্যহার সংক্রান্ত নীতিমালা ও পদ্ধতি সংক্রান্ত প্রবিধান প্রণয়ন করবে এবং সেই প্রবিধান অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যহার (ট্যারিফ) নির্ধারণ করা হবে।


দশ বছরেরও বেশি সময় আগে কমিশন থেকে পেট্রোলিয়াম পদার্থের মূল্যহার নির্ধারণের জন্য তিনটি প্রবিধান প্রস্তুত করে সেগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু আজ  পর্যন্ত প্রবিধানগুলো চূড়ান্ত হয়ে ফেরত আসেনি। ফলে বিইআরসি আইনের ৩৪ ধারার বাধ্যবাধকতার কারণে এই মূল্যহার নির্ধারণ করতে পারছে না। অর্থাৎ প্রবিধান চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কমিশন পেট্রোলিয়াম পদার্থের মূল্যহার নির্ধারণ করতে আইনগতভাবে জটিলতায় নিপতিত।


ভয়েস অফ আমেরিকা: তাহলে আপনারা এখন কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত?


আব্দুল জলিল: কমিশন এখন গ্যাসের মূল্যহার নির্ধারণ করছে, বিদ্যুতের মূল্যহার নির্ধারণ করছে। এই প্রবিধানগুলো পাস হয়েছে। আমরা লাইসেন্স দিচ্ছি। সালিশ-মীমাংসা করছি।অন্যান্য সকল কাজ করছি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ২ আগস্ট আপনি গণমাধ্যমে বলেছেন, এলএনজি আমদানির জন্য গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে পেট্রোবাংলাকে কোনো অর্থ দেওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে বিইআরসি অবগত নয়। আইন ও নীতিগতভাবে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেছিলেন আপনি। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পেরেছেন?


আব্দুল জলিল: এখনো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে  অবগত নই। আর আমরা কেনো যোগাযোগ করবো; এখানে বিষয়টা হলো পেট্রোবাংলা যদি গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে এ বিষয়ে কোনো ফান্ড ব্যবহার করে থাকে, তাহলে অবশ্যই লিখিতভাবে জানানো এবং অনুমোদন গ্রহণের দায়িত্ব তার। আমরা লিখিতভাবে এখনো কিছু জানতে পারিনি। সর্বশেষ যেটা নিয়েছে, এটা আমাদের লিখিতভাবে জানায়নি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: ভর্তুকি নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আপনারা কি এ বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেন? ভর্তুকির বিষয়ে আপনার অবস্থানও জানতে চাই।


আব্দুল জলিল: ভর্তুকির বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে বিইআরসি’র আইনগত কোনো দায়িত্ব নেই। তবে ট্যারিফ নির্ণয়ের সময় সরকার যদি কোনো ভর্তুকি দিয়ে থাকে, তখন এটা বিবেচনায় রেখে নির্ধারণ করা হয়।


ভয়েস অফ আমেরিকা: একটু গ্যাসের প্রসঙ্গে আসতে চাই। এলএনজি আমদানি নিয়ে অনেক আলোচনা। গত কয়েক দিনে যত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, প্রায় সবাই বলেছেন নিজস্ব গ্যাসের অনুসন্ধান না করে এলএনজি আমদানি করা ভুল সিদ্ধান্ত। আপনাদের ব্যাখ্যাটা জানতে চাই।


আব্দুল জলিল: আমি আবারও বলছি আইনের ২২ (ঝ) ধারা মতে সরকারকে এনার্জি বিষয়ক পরামর্শ দেয়ার এখতিয়ার বিইআরসি’র আছে। বিইআরসি তার ট্যারিফ আদেশ এবং চিঠিপত্রসহ অফিশিয়াল অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে সরকারকে বিষয়গুলো অবহিত করে। আমাদের গত প্রত্যেকটি ট্যারিফ আদেশে এ বিষয়ক অনেক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনানুষ্ঠানিকভাবেও এটি হয়ে থাকে।


ভয়েস অফ আমেরিকা: একটু নির্দিষ্ট করে জানতে চাই, নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না?


আব্দুল জলিল: অনুসন্ধান করাটা বিইআরসি-এর দায়িত্ব না। এটা সরকারের দায়িত্ব। তবে গত গ্যাস ট্যারিফ আদেশে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও নির্দেশনা রয়েছে।

</description>
            <link>https://www.voabangla.com/a/6704662.html</link> 
            <guid>https://www.voabangla.com/a/6704662.html</guid>            
            <pubDate>Wed, 17 Aug 2022 06:04:01 +0600</pubDate>
            <category>সাক্ষাৎকার</category><category>খবর</category><category>বাংলাদেশ</category><author> voadigital@voanews.com (অমৃত মলঙ্গী)</author><enclosure url="https://gdb.voanews.com/01a10000-0aff-0242-9af9-08da7fe38f91_cx0_cy11_cw86_w800_h450.jpg" length="0" type="image/jpeg"/>
        </item>		
        </channel></rss>