অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিশরে এবারের নির্বাচনে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহন চোখে পড়ার মতো ।

  • সরকার কবীরূদ্দীন

মিশরে ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতিয় দিনের ভোট হচ্ছে আজ । তুলনামুলকভাবে আজ বৃহস্পতিবারের ভোটার সংখ্যা বিশেষ করে কায়রোতে কিছুটা কম দেখা গেলেও এ নির্বাচনে মহিলাদের অংশগ্রহন চোখে পড়ার মতো । ভোটারদের কেউ কেউ মনে করছেন অটোমান সাম্রাজ্যের পর এমনভাবে ভোটে উত্সাহ সঞ্চার হতে আর কখনো দেখা যায়নি । তবে ভোট কারচূপি ও বাইরের হস্তক্ষেপ নিয়েও আশংকা রয়েছে অনেকের মনে । বিষয়টি নিয়ে Pittsburg middle east institute-এর গবেষক-শিক্ষক ডক্টর জর্জেস এফ মন্টিয়ের সঙ্গে কথা বলেন সরকার কবীরূদ্দীন ।

মিশরে ঐতিহাসিক প্রেসিডেণ্ট নির্বাচন চলছে । ভোট শুরূ হয় গতকাল বুধবার থেকে –আজ বৃহস্পতিবার ভোটের দ্বিতিয় ও সমাপনী দিন । ছোটোখাটো কিছু সমস্যা সত্বেও ভোট মোটামুটি নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে । আজ কায়রোয় ভোটার সংখ্যা তুলনামুলকভাবে কিছু কম হলেও সংশ্লিষ্ট সব মহলই অভিমত ব্যক্ত করছেন যে ভোটার সংখ্যা আসলেই উত্সাহব্যঞ্জক । অগ্রবর্তী অবস্থানের দু’ই ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শী প্রার্থীর দু’জনই মুবারক আমলের লোক - একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শাফিক অপরজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমর্ মূসা ।

ইসলামপন্থী দু’ই প্রধান প্রতিদ্বন্দীর একজন হলেন শক্তিশালি মুসলীম ব্রাদারহুড দলের মোহামেদ মোরসী – অপরজন উদারপন্থী-বামপন্থীদের সমর্থনপুস্ট নিজে কিছুটা মধ্যপন্থী আবূল ফৌতুহ । পিটসবার্গের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের গবেষক-শিক্ষক জর্জেস এফ মন্টিয়ে মনে করেন – আসলে প্রার্থী ও সমর্থক নির্বিশেষে মিশরে অনেকের মনেই সন্দেহ-সংশয় রয়েছে যে ভোটে কারচুপি হতে পারে । কথাটা ধর্ম নিরপেক্ষ – ইসলামপন্থী সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ।

ব্রাদারহূড দলের সাবেক নেতা , মতাদর্শী সংগ্রামী আবূল ফৌতুহ মিশরের অতি-রক্ষণশীল সালাফিদের সমর্থন পাচ্ছেন । তিনি দেরিতে প্রতিদ্বন্দীতায় যোগ দিলেও ব্রাদারহূড দলের শক্তিশালী প্রক্রিয়ার মদত মিলছে তাঁর ।

প্রার্থী – ভোটার সবার মনেই আরেকটা বড়ো শংকা বাইরের অযাচিত হস্থক্ষেপ এবং ইস্রাইলের আধিপত্য নিয়ে । বললেন জর্জেস মন্টিয়ে ।

মিশরে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মহিলা ভোটারদের উত্সাহ ব্যঞ্জক অংশগ্রহন চোখে পড়ার মতো । এটা এ কারনেও যে ভোটের ফলাফল নিয়ে তাঁদের মধ্যে আশংকার উদ্রেক ঘটছে । বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান নিয়ে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে সেটা নিয়ে চিন্তান্বিত তাঁরা – নির্বাচীত সরকার কর্মস্থলে তাঁদের অবস্থান যদি হ্রাস করে দেয় তাহ’লে কি হবে – এ দূশ্চিন্তা তাঁদের মনে – বলেন জর্জেস মন্টিয়ে ।

সব কিছুর পর এবারের নির্বাচনকে অনেকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন কেননা অনেকেই বলছেন অটোমান সাম্রাজ্যের পর গনতন্ত্র এভাবে আর কখনোই ডানা মেলেনি – এ আশাবাদের সঙ্গে সহমত পোষন করেন পিটসবার্গের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের গবেষক-শিক্ষক জর্জেস এফ মন্টিয়ে ।

এ ভোটে শেষ পর্যন্ত শীর্ষে থাকবেন যে দু’ই বিজয়ি প্রার্থী তাঁদের মধ্যে আবার ফিরতি রান অফ ভোট হবে জুনের ১৬ ও ১৭ তারিখে । পরিশেষে বিজয়ির নাম ঘোষনা করা হবে জুনের একুশ তারিখ ।

XS
SM
MD
LG