আফগানিস্তানের মহিলা যুব উন্নয়ন ফুটবল দলের সদস্যরা নিউ ইয়র্কের একজন পাদ্রী ইউ.কে. সকার ক্লাব এবং কিম কার্ডেশিয়ান ওয়েস্টের সহায়তায় পাকিস্তান থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রিটেনে পৌঁছেছে।
রিয়েলিটি স্টারের ভাড়া করা একটি বিমান ৩০ জনেরও বেশি কিশোরী খেলোয়াড় এবং তাদের পরিবারের সদস্য সহ প্রায় ১৩০ জনকে নিয়ে লন্ডনের কাছে স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই আফগানরা ব্রিটেনে নতুন জীবন শুরু করার আগে করোনভাইরাসের জন্য কোয়ারেন্টিনে ১০ দিন কাটাবে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ক্লাব, লিডস ইউনাইটেড খেলোয়াড়দের সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
আগস্টে কাবুল তালিবান জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে পড়ে যাওয়ার পর ব্রিটেন এবং অন্যান্য দেশগুলো হাজার হাজার আফগান নাগরিকদের বিমানে করে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আরও অনেক লোক পশ্চিমে ভ্রমণের আশায় স্থলপথে প্রতিবেশী দেশগুলিতে চলে গেছে।
নারীদের খেলাধুলা করাকে তালিবানের বিরুদ্ধে অবাধ্যতার একটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা হতো এবং দলটি ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে শত শত নারী ক্রীড়াবিদ আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেছেন। নারীদের শিক্ষা ও স্বাধীনতাকে রোধ করাও শুরু করেছে এই গোষ্ঠীটি।
আফগানিস্তানের জাতীয় মহিলা দলের একজন প্রাক্তন অধিনায়ক খালিদা পোপাল যিনি নারী ক্রীড়াবিদদের সরিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছেন, বলেন তিনি "অনেক খুশি এবং স্বস্তি বোধ করছেন যে মেয়েরা এবং নারীরা এখন বিপদের বাইরে রয়েছে।"
পোপাল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, "তালিবান যখন নিয়ন্ত্রণ নেয় তখন অনেক পরিবার তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়।তাদের পরিবারের কিছু সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বা তালিবান তাদের তুলে নিয়ে গেছে। তাই বিপদ এবং মানসিক চাপ অনেক বেশি ছিল এবং সে কারণেই তাদের দ্রুত আফগানিস্তানের বাইরে নিয়ে যাওয়া খুবই জরুরি ছিল।"
অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সদস্যদের সরিয়ে নিয়ে গেছে এবং যুব মেয়েদের দলকে পর্তুগালে পুনর্বাসন করা হয়েছে।