অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগান নারীদের চলাচলের ওপর নতুন কড়াকড়ি আরোপ করলো তালিবান   


কাবুলের একটি মার্কেটে বোরকা পরা দুই আফগান নারী। (ফাইল ফটো- এএফপি)

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালিবান রবিবার দেশের নারী সমাজের ওপর নতুন এক ভ্রমণ বিধি জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র যার সমালোচনা করে ঐ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক আফগান নারীদের সঙ্গে আরও অসদাচরণ বলে আখ্যা দিয়েছে। দ্যা মিনিস্ট্রি ফর দ্যা প্রমোশন অফ ভারচু অ্যান্ড প্রিভেনশন অফ ভাইস তাদের এক বিধি অনুযায়ী আফগান নারীদের ৭২ কিলোমিটার পর্যন্ত একা ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে। এর বেশি ভ্রমণের জন্যে নারীদের সঙ্গে নিকট আত্মীয় সম্পর্কের পুরুষ থাকতে হবে বলে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় ট্যাক্সি ড্রাইভারদেরকে শুধুমাত্র ইসলামী কায়দায় হিজাব অথবা হেডস্কার্ফ পরা নারীদেরকে যাত্রী হিসাবে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদিক আকিফ মাহাজের ভয়েস অফ আমেরিকাকে ঐ বিধির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন এটি শরিয়া বা ইসলামিক আইন মেনে করা হয়েছে।

ঐ ডিক্রিতে শুধুমাত্র পুরুষচালিত যানবাহনে চালকদের দাঁড়ি রাখা, নামাজের সময় বিরতি নেয়া এবং গাড়ীতে গান বাজানো থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে। তালিবান কর্তৃক আফগানিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে নারীদের নিয়ে নাটক এবং সোপ অপেরা বন্ধ করা এবং খবর পড়ার সময় সংবাদ পাঠিকাদের হিজাব পরার আইন চালু করার নির্দেশ দেয়ার কয়েক সপ্তাহ পর এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হলো। বৈশ্বিক সম্প্রদায় এখনও অবশ্য তালিবান সরকারকে অনুমোদন দেয়নি এবং মানবাধিকার, বিশেষ করে নারীদের অধিকার ও সন্ত্রাসের প্রশ্নে উদ্বেগ থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া থেকে বিরত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস রবিবার সিবিএস নিউজে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “তালিবানের সঙ্গে আমাদের যে কোনো আলোচনার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান একটি বিষয় হচ্ছে ঠিক এটি, মেয়েদের অবস্থা, মর্যাদা, এবং নারী ও মেয়েদের প্রতি তাদের আচরণ এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ”। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত কঠোর তালিবান শাসনামলের চেয়ে তুলনামূলক মধ্যপন্থী শাসন ব্যবস্থা চালু রাখার অঙ্গীকার করলেও তালিবান, বহু প্রদেশে বেশিরভাগ আফগান নারীর কাজে যাওয়া বন্ধ করেছে, মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে। গত মধ্য আগস্টে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তানের জন্য বহু বিলিয়ন ডলারের আর্থিক অনুদান স্থগিত করেছে। আর সেই কারণে দেশটির অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। প্রয়োজন হয়ে পড়েছে মানবিক সহায়তা। জাতিসংঘের হিসাব মতে কয়েক বছরের যুদ্ধ, ক্ষরা ও দারিদ্র্যের কারণে ২৩ মিলিয়ন আফগান নাগরিকের সামনে চরম খাদ্য সংকট রয়েছে।

XS
SM
MD
LG