অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আমরা আমেরিকান মূল্যবোধ সমুন্নত রাখবো- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প


কোভিড-১৯, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন, নির্বাচনী জোয়ারসহ নানা পরিস্থিতিতে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবার ৪ঠা জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হলো।

শনিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে স্যালুট টু এ্যামেরিকা অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। এর আগে শুক্রবার সাউথ ডাকোটায় যুক্তরাস্ট্রের ৪ প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্টের ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভাষণ দেয়ার মধ্যে দিয়ে মূলত ফোর্থ জুলাইয়ের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা করেন।

সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সকলের প্রয়াস অব্যাহত রাখান আহবান জানান।

“অমি আপনাদের প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষণা দিচ্ছি যে আমেরিকার বীরদেরকে কেউ কখনো অসম্মান করতে পারবে না। তাদের বীরত্বগাঁথা কখনো ধ্বংস হতে দেয়া হবে নাতাদের সফলতা কখনো ভুলবো না। মাউন্ট রাশমোরে থাকা আমাদের পিতাদেরকে এবং আমাদের স্বাধীনতার গৌরবকে সর্বদাই সমুন্নত রাখা হবে”।

করোনা ভাইরাস যখন মহামারী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, সেই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনসমাবেশে মাস্ক না পরে ভাষণ দেন। সেখানে উপস্থিত জনতার অনেকেই মাস্ক না পরা অবস্থায় ছিলেন। ছিল না সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানার কোনো লক্ষণও।

এতে গনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন সাউথ ডাকোটায় করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রেসিডেন্টের ভাষণের পর মাউন্ট রাশমোরে স্বাধীনতা দিবসের ফায়ার ওয়ার্ক হয়।

হোয়াইট হাউজে দেয়া বক্তব্যেও একই কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বলেন, “আমরা আমেরিকান মূল্যবোধ সমুন্নত রাখবো যা ১৪৯২ সালে কলাম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারের মধ্যে দিয়ে সূচনা ঘটেছিল”।

তবে নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিতদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইউডেন টুইট করে বলেন “এই দেশটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি অতি সাধারন আদর্শের ওপর; তা হচ্ছে আমরা সকলেই সমান। সে আদর্শ এখনো পূরণ হয়নি। কিন্তু আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। স্বাধীনতা দিবসে আমরা সেই আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরনের প্রতিজ্ঞা করতে চাই”।

৪ঠা জুলাই সকাল থেকে রাজধাণী ওয়াশিংটন ডিসির নৌ্যাশনাল মলে জড়ো হতে থাকেন অসংখ্য মানুষ করোনা ভাইরাসের কারনে বেশিরভাহগ মানুষই মাস্ক পরে নিরাপদ হয়ে সেখানে যান। যদিও অনেকেই সামাজিক দূরত্বের নিয়ন মানেন নি।

৪ঠা জুলাই সাধারণত লাল নীল পোষাকে সজ্জিত হয়ে আমেরিকানরা ন্যাশনাল মলে জড়ো হন। এবার অনেকেই কালো পোষাক পরেন, মে মাসে পুলিশ হেফাজতে নিহত জর্জ ফ্লয়েডের স্মরণে ব্ল্যাক লাইভস প্লাজায় যান অনেকেই।

সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন মনুমেন্টের পেছনে আতশবাজীর আয়োজন ছিল মনোউগ্ধকর। ১০ হাজার আতশবাজীর চোখ ধাঁধানো আলোয় আলোকিত হয় রাজধানীর ডাউনটাউন এলাকা। যদিও প্রতিবারের মতো ফায়ারওয়ার্কে জনসমাবেশ হয়নি; যারা আসেন তারা নিরাপদ দূরত্ব মেনে অবস্থান করেন। বেশিরভাগ মানূষ টেলিভিশন সেটের সামসনে বসে উপভোগ করেন ফায়ার ওযার্ক্। অনেকেই নিজ নিজ বাড়ীতেই ছোট আকারে আতশবাজীর আয়োজন করেন।

হোয়াইট হাউজ, লিংকন মেমোরিয়াল ও ব্ল্যাক লাইভস প্লাজার রাস্তাগুলো বন্ধ করে রাখা হয়। প্রতিবাদকারীরা শান্তিপূর্ন মিছিল করেন, কালো পতাকা ও ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার সহ নানা স্লোগান লেখা ব্যানার বহন করেন।

হোয়াইট হাউজের অনুষ্ঠানে কয়েকশো অতিথী আসেন । তাদের বেশিরভাগই মাস্ক পরনে। টেবিলগুলো সাজানো হয় ফুল ও আমেরিকান পতাকা দিয়ে।

অতিথিদের মধ্যে ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সেনা সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ নানা পেশার লোকজন।

ডিসি মেয়র মুরিয়েল বাউজার কোভিড-১৯ এর মাঝেও আতশবাজীসহ সমাবেশের আয়োজনের কড়া সমালোচনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বহু শহর এবারকার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান কোভিড-১৯ন এর কারনে বাতিল করে।

XS
SM
MD
LG