অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আরব আমিরাতে আরও হামলার হুঁশিয়ারি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের


সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে জ্বালানি কোম্পানি ADNOC-এর গুদামের বাইরে দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। (ছবি-এএফপি)
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে জ্বালানি কোম্পানি ADNOC-এর গুদামের বাইরে দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। (ছবি-এএফপি)

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক স্থাপনায় সোমবারের (১৭ জানুয়ারি) ড্রোন ও মিসাইল হামলার পরে আরও হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।

এই হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন ভারতীয় এবং একজন পাকিস্তানি বলে নিশ্চিত করেছে আবুধাবি পুলিশ।

সানায় হুতি সরকারের তথ্য উপমন্ত্রী ফাহমি আল-ইউসুফি আরব সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত যতদিন ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুতি বিরোধী যোদ্ধাদের সহযোগিতা করবে “ততদিন আমরা প্রতিশোধ নিতেই থাকব”।

রাজধানী আবুধাবির পুলিশের বরাতে বলা হয়, সোমবারের ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি তেল শোধনাগারের তিনটি তেলবাহী ট্রাক ও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি বর্ধিত অংশ।

যদিও হামলায় বিমানবন্দর অথবা তেল শোধনাগারের দৃশ্যমান কোনো ক্ষতি হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনীর ইয়েমেনের অভ্যন্তরে আক্রমণের প্রতিশোধ নিতেই দেশটির রাজধানী আবুধাবির অর্থনৈতিক কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথি বিদ্রোহীদের একজন মুখপাত্র জানান। হামলায় ৮টি ড্রোন এবং ১০টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে আরব সংবাদ মাধ্যমকে জানায় ইয়েমেনের রাজধানী সানার হুথি বিদ্রোহীদের একটি দল। আরব সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আবুধাবির আকাশ সীমায় ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত আরও ছবিতে আবুধাবি বিমানবন্দর এবং আবুধাবি জাতীয় তেল শোধনাগার কোম্পানিতে হামলায় সৃষ্ট আগুনও দেখা যায়। হামলার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী ইয়েমেনের মারিব প্রদেশ এবং সানার হুথি স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। জোট বাহিনী আরও জানায়, সোমবার তারা সৌদি আরবের দিকে নিক্ষিপ্ত ৮টি ড্রোন রুখে দেন।

আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “এর সমুচিত বিচার করবেন” তারা।

“এ ধরনের সন্ত্রাসি হামলা প্রতিরোধের অধিকার রয়েছে আরব আমিরাতের”, তিনি বলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত হুতি বিদ্রোহী দমনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত জোটের সদস্য। ইয়েমেন থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নিলেও দেশটি হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ইয়েমেনি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও রসদ সরবরাহ করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার জেক সালিভান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্য মিত্রদের সঙ্গে মিলে হুতি বিদ্রোহীদের দমনে একযোগে কাজ করবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম পালন করতে বলেছেন।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ ইভস লা দ্রিয়া বলেন, এই হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত করেছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক পল সালিভান ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, সোমবারের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্য অশনি সংকেত।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গালফ বিশ্লেষক থিওডর কারাসিক বলেন, গালফ দেশগুলোতে উত্তেজনা কমাতে বিভিন্নমুখী প্রচেষ্টার এই পর্যায়ে এসে এরকম একটি হামলা বেশ বিপদজনক।

“সামরিক ক্ষেত্রে ড্রোন হামলা এক অর্থে বৈপ্লবিক, কারণ এটি এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা বহন করে”, তিনি যোগ করেন।

XS
SM
MD
LG