অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এক দুর্ভাগা রোহিঙ্গা মেয়ের ভাগ্য ফেরার গল্প


এক দুর্ভাগা রোহিঙ্গা মেয়ের ভাগ্য ফেরার গল্প

এই কাহিনী এক দুর্ভাগা রোহিঙ্গা মেয়ের। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে সামরিক জান্তার অত্যাচার থেকে প্রাণ বাঁচাতে যার পরিবার পালিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশে, কক্সবাজারের উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় পেয়েছিল তারা। সেখান থেকে কী করে যেন এই মেয়েটিকে নিয়ে আসা হয় ভারতে।

এই কাহিনী এক দুর্ভাগা রোহিঙ্গা মেয়ের। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে সামরিক জান্তার অত্যাচার থেকে প্রাণ বাঁচাতে যার পরিবার পালিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশে, কক্সবাজারের উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় পেয়েছিল তারা। সেখান থেকে কী করে যেন এই মেয়েটিকে নিয়ে আসা হয় ভারতে।

অনুমান করা যায় নারী ও শিশু পাচার চক্রের কেউ এ কাজ করেছে। তবে তার কোনও প্রমাণ নেই, কেউ এ ব্যাপারে এফআইআর করেনি। তার সঙ্গে নাকি আরও তিন মহিলা ছিল। ভারতে ঢুকে তারা ধরা পড়ে। ওই তিন মহিলাকে পাঠানো হয় আসামের আটক শিবিরে। আর মেয়েটিকে তুলে দেওয়া হয় শিলচরের নিবেদিতা নারী সংস্থা নামে একটি সেবামূলক এনজিও প্রতিষ্ঠানের হাতে।

এক দুর্ভাগা রোহিঙ্গা মেয়ের ভাগ্য ফেরার গল্প
এক দুর্ভাগা রোহিঙ্গা মেয়ের ভাগ্য ফেরার গল্প

সেটা বছর দেড়েক আগের ঘটনা, মেয়েটির বয়েস তখন চোদ্দো। যাঁরা ওই সেবা সংস্থার দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের সেবা-যত্ন আদর ভালোবাসায় মেয়েটি ধীরে ধীরে সেই দুঃস্বপ্নের দিন কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। এরই মধ্যে সরকার মেয়েটিকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে। নিবেদিতা নারী সংস্থা তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলে, এত অল্প বয়সের একটি মেয়েকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে কেন? যেখান থেকে তারা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজারে? যেখানে মেয়েটির বাবা-মা রয়েছেন? তখনকার মতো নিবৃত্ত হলেও কয়েক মাস পরে আবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মেয়েটিকে নিয়ে যায় মিয়ানমার সীমান্তে। সীমান্ত তখন করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ থাকায় আবার মেয়েটিকে ফিরিয়ে এনে রাখা হয় নিবেদিতা নারী সংস্থায়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে, ওই এনজিও চেষ্টা করেছে মেয়েটির বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। কিন্তু তাঁদের কোনও আইনি কাগজপত্র না থাকায় অসুবিধে হচ্ছে।

আমরা প্রথমেই বলেছিলাম দুর্ভাগা মেয়ে। এখন একটু রকমফের করে বলছি, নিবেদিতা নারী সংস্থার আশ্রয়ে এরই মধ্যে মেয়েটি ভাগ্যবতী হয়ে উঠেছে। ওঁরা ওকে যত্ন করেন, ভালোবাসা দেন, পড়াশোনা শেখান, ছোটখাটো কাজকর্মে নিয়োজিত করেন। মেয়েটি ইতিমধ্যে বাংলা শিখে নিয়েছে।

বুদ্ধিমতি মেয়ে, পড়াশোনায় ভালো, এখানকার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, অনেকটা জেনেও নিয়েছে। নিবেদিতা নারী সংস্থার পরিচালকেরা ওকে স্বাধীনতা দিয়েছেন নিজের ধর্মাচরণ করার। তবে মেয়েটি সবচেয়ে বেশি করে চাইছে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে।

আমরা ওর ব্যাপারে কথা বলেছিলাম নিবেদিতা নারী সংস্থার প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসার সুবীর রায়ের সঙ্গে। সুবীরবাবু মেয়েটিকে পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আনুপূর্বিক পুরো ইতিহাস আমাদের জানালেন। তবে সবচেয়ে যেটা ভালো লাগলো, ওঁরা সত্যিকারের সেবা হিসেবে নিয়েছেন এই কাজটাকে। ওই রোহিঙ্গা মেয়েটির সম্বন্ধে বলতে গিয়ে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছিলেন সুবীরবাবু।

সুবীর বাবুদের নিবেদিতা নারী সংস্থায় ওর মতো আরও বহু মেয়ে আছে। তারাও সমান ভালোবাসার সঙ্গে বড় হচ্ছে। সুবীরবাবু যা বললেন, আমাদেরও সেই একই কথা-- শিশুরা যেন বড়দের অপরাধের, পাপের, দুর্ভাগ্যের শিকার না হয়! এই রোহিঙ্গা মেয়েটি একজন মাত্র। যখন আমরা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের কথা বলি, তখন অবয়বহীন, মুখহীন একটা বিশাল জনতার কথা মনে হয়। যেই মুহূর্তে আমরা তার থেকে কাউকে কাউকে আলাদা করে দেখি, তখনই তারা হয়ে ওঠে মানুষ।

জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংক্রান্ত সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এই মুহূর্তে অন্তত ১৭ হাজার রোহিঙ্গা ভারতের নানা জায়গায় আছেন। এর বাইরে হিসেব বহির্ভূত আরও অনেকে রয়েছেন। এঁরা যেন নিরাপদে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারেন তার চেষ্টা করাই দরকার। দীপংকর চক্রবর্তী, ভয়েস অফ আমেরিকা, কলকাতা

এক দুর্ভাগা রোহিঙ্গা মেয়ের ভাগ্য ফেরার গল্প
please wait

No media source currently available

0:00 0:05:23 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG