কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ইতুরি এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের জীবন-বিনাশী হামলা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বাস্তুচ্যূত লোকদের যে সব স্থানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে সেখানে গত মাসে উপর্যুপরি আক্রমণে কয়েক ডজন লোক নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। সর্বসাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার বাস্তুচ্যূত লোকজনের বসতি ইতুরি প্রদেশের দ্রোদো অঞ্চলের নাদজালায়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে ১০ জন নারী ও ৯ জন শিশুকে হত্যা করা হয় এবং ১১ জন আহত হন। তারা বলছে আক্রমণকারীরা এই হত্যাযজ্ঞের সময়ে বন্দুক, কাটারি এবং ছুরি ব্যবহার করে।
জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থার একজন মুখপাত্র বরিস চেশিরকফ বলছেন যে এই আক্রমণের আগে নিরস্ত্র অসামরিক লোকজনকে জঘন্য ভাবে অপমানিত করা হয়। এ সব লোক এর আগের নির্যাতনের কারণে স্থানচ্যূত হন।
চেশিরকফ বলেন, “ ..এবং আমরা এই কয়েক সপ্তাহে যা দেখেছি তা হলো, আক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং ঘন ঘন এই আক্রমণ সংঘটিত হওয়া । এই হামলাগুলো অত্যন্ত নৃশংস। এই হামলার পরে আমরা দেখতে পাই নারী ও শিশুদের, বস্তুত গোটা পরিবারের মরদেহ। গোটা সমাজটাই যেন ভেঙ্গে পড়ছে”।
জানা গেছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২০টি সশস্ত্র গোষ্ঠী তত্পর রয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক হামলার জন্য কডেকো নামে পরিচিত কো-অপারেটিভ ফর ডেভেলেপমেন্ট অফ কঙ্গো দায়ী।
চেশিরকফ বলছেন যে বাস্তুচ্যূত লোকেরা যেখানে বাস করতেন সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে তারা সেখান থেকে উত্খাত হয়েছেন। তিনি বলছেন যেমন ২১ শে নভেম্বর ড্রোড্র এবং এবং তশি গ্রামের প্রায় ২০,০০০ বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে রোহতে জাতিসংঘের সামরিক ঘাঁটির কাছে পালিয়ে আসে।
চেশিরকফ বলেন “ঐ জায়গায় ২১,০০০ লোক ছিল, মাত্র ৪৮ ঘন্টায় সেখানকার লোক সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ৪০,৫০০ জন’এ যার ফলে নতুন আসা পরিবারদের খোলা জায়গায় ঘুমাতে হচ্ছে। এখন প্রধানত প্রয়োজন খাদ্য, আশ্রয় এবং স্বাস্থ্য পরিচর্যা আর সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।
জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থা স্থানচ্যূত লোকদের উপর হামলা বন্ধ করতে সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং এ স্থাপনাগুলিকে পালিয়ে আসা মানুষের আশ্রয়স্থল বলে বিবেচনা করতে বলেছে।
সংস্থাটি আরও বেশি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করছে এবং বলছে যে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জীবন রক্ষাকারী কাজের জন্য ২০ কোটি ৫০ লক্ষ ডলারের প্রয়োজন। তারা পেয়েছে মাত্র ‘এর ৫২ শতাংশ।