অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কার্টুনিস্ট কিশোর পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে নারাজি দেবেন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে শারীরিক নির্যাতনের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়নি মর্মে দেওয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর।

বুধবার এই প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। এ দিন কিশোরের পক্ষে তার আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম নারাজি দাখিল করবেন জানিয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নারাজি দাখিলের জন্য আগামী বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

এ মামলায়, সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সাদা পোশাকে অজ্ঞাতনামা ১৬/১৭ জনের বিরুদ্ধে আনা কিশোরকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়নি মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ১০ মার্চ মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার আবেদন করেন আহমেদ কবির কিশোর। তবে মামলার আবেদনে কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়।

মামলায় কিশোর উল্লেখ করেন, গত বছর ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। কিন্তু এর আগে গত ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ১৬-১৭ জন সাদা পোশাকধারী লোক তাকে কাকরাইলের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান। কিন্তু তারা কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ দেখাতে পারেননি। তারা বাসা থেকে মোবাইল, সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ডডিস্কও নিয়ে যান। পরে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যান তাকে। সেখানে ২ থেকে ৪ মে পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়। তাদের আলাপ-আলোচনায় একজনকে জসিম বলে ডাকতে শোনেন।

আর্জিতে কিশোর আরও বলেন, তাকে একটি পুরোনো ও স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রচণ্ড জোরে তার কানে থাপ্পড় মারলে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েন। বুঝতে পারেন, তার কান দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তারপর স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে পায়ে পেটাতে থাকেন। যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন কিশোর। এভাবে কয়েক দফা ২ থেকে ৪ মে পর্যন্ত শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের পর তাকে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

XS
SM
MD
LG