অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কুমিল্লার লাকসামের পর মনোহরগঞ্জেও ভোট হচ্ছে না


বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন লোগো
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন লোগো

কুমিল্লার লাকসামের পর এবার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট করতে হচ্ছে না প্রার্থীদের। বিনা ভোটে জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন সকল চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা। এর আগে গত অক্টোবরে একই সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার লাকসাম উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের সকল চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বিনা ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ জানুয়ারি মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট হচ্ছে না। চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যর ১৪৩টির মধ্যে ১২৯টিতে কাউকে ভোট করতে হয়নি। সকল চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সদস্যপদের ৯৯টির মধ্যে ৮৮টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যপদের ৩৩টির মধ্যে ৩০টি পদে ভোট লাগেনি। বিনা ভোটে জয়ীরা এই কারণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের কাছে। অন্যদিকে হতাশা ব্যক্ত করেছেন যারা প্রার্থী হতে পারেননি তারা।

এ বিষয়ে মন্ত্রী তাজুল ইসলামও ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমিও তাদেরকে পছন্দ করি। এই কারণে আমার দেওয়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। এই মতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন সরসপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার মজুমদার। তিনি বলেন, আমাকে এলাকায় যেতে দেওয়া হয়নি। আমার স্ত্রী মনোহরগঞ্জ নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে এসে লাঞ্ছিত হন। তাকে মনোনয়নপত্র কিনতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয়ভাবে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র কিনতে না পেরে আরও অনেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে ৩১ ডিসেম্বর মানববন্ধন করেছিলেন। কিন্তুু নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ঝলম উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন কাউকে মনোনয়নপত্র কিনতে দেননি। যারা গিয়েছেন তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা উপায় না পেয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র কিনতে গেলে তিনি জানান উপজেলা থেকেই কিনতে হবে। পরে ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করি। এরপর সেখানে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ৩১ ডিসেম্বর একটি মানববন্ধন করি। উপায় না পেয়ে আমরা ১ জানুয়ারি ঢাকার উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হই। ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আদালত থেকে আমাদের মনোনয়নপত্র দিতে নির্দেশ প্রদান করে বেলা ১২টার দিকে। আমরা বিকেল সাড়ে চারটায় কুমিল্লা এসে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে জমা দিতে গেলে আমাদের জানানো হয় উপজেলায় দিতে হবে। পরে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় গেলে যুবলীগ নেতা কামালের নেতৃত্বে যুবলীগ –ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের ধাওয়া করে। পরে আর জমা দেওয়া হয়নি।”

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নাজির হোসেন মিয়া সংবাদ মাধ্যমকে জানান, চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হওয়ায় বাইশগাঁও ইউনিয়নে আলমগীর হোসেন, সরসপুর ইউনিয়নে আবদুল মান্নান, হাসনাবাদ ইউনিয়নে কামাল হোসেন, ঝলম উত্তর ইউনিয়নে আবদুল মজিদ খান রাজু, ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নে আশিকুর রহমান হিরণ, মৈশাতুয়া ইউনিয়নে মফিজুর রহমান, লক্ষণপুর ইউনিয়নে মহিন উদ্দিন, খিলা ইউনিয়নে আল আমিন ভূঁইয়া, উত্তর হাওলা ইউনিয়নে আবদুল হান্নান হিরণ, নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নে আবদুল মান্নান চৌধুরী এবং বিপুলাসার ইউনিয়নে ইকবাল মাহমুদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে বিপুলাসার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে এবং মৈশাতুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও ঝলম উত্তর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে একাধিক প্রার্থী আছেন। এই ১৪টি সদস্য পদে ৩১ জানুয়ারি ভোট হবে।

উল্লেখ্য্, ষষ্ঠ ধাপে ভোটে মনোহরগঞ্জে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার। কিন্তু ১১ ইউনিয়নের সব কটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিপরীতে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এলাকায় যেতে পারেননি। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১১ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অপরদিকে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে একক প্রার্থী হওয়ায় আরও ১১৮ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

XS
SM
MD
LG