অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুতে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর দাবী শিক্ষক সমিতির

ড. মো. সেলিম হোসেন। (ছবি- ইউএনবি)
ড. মো. সেলিম হোসেন। (ছবি- ইউএনবি)

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত আইনি বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর দাবী জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি। কুয়েট কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমসহ দায়-দায়িত্ব পালন করবেন বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার কুয়েট প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সাধারণ সভায় এ দাবী জানানো হয়। এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র কুমার সরকারসহ ১১৪ জন শিক্ষক উপস্থিতি ছিলেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সভায় ক্লাস বর্জন কর্মসূচী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষকদের এক দিনের বেতন ও ফান্ড থেকে মোট ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনে ড. সেলিমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি জানান, সভায় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ৪৪ ছাত্রের শাস্তি যাতে বহাল থাকে সে পদক্ষেপ গ্রহণে কুয়েট কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়। ড. সেলিমের পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধ এবং তার পরিবারকে অতিরিক্ত এক কোটি টাকা প্রদান, ড. সেলিমের স্ত্রী সাবিনা খাতুনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কুয়েটে তাকে স্থায়ী চাকরি দেয়া এবং ড. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য কুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়।

কুয়েটের শিক্ষকরা জানান, লালন শাহ হলের ডাইনিং ম্যানেজার নিয়োগ নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মানসিক চাপ সইতে না পেরে গত ৩০ নভেম্বর হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ১ ডিসেম্বর থেকে ক্লাস বর্জন শুরু করেছিল শিক্ষক সমিতি। ৩ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট সভায় কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৫ জানুয়ারি কুয়েট সিন্ডিকেটের সভায় চার ছাত্রকে আজীবন বহিষ্কার ও ৪০ ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শিক্ষক সমিতির সভায় এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান, হাসান আব্দুল কাইয়ুম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান রাজ্জাক ও রিয়াজ খান নিলয়কে আজীবন বহিষ্কারসহ ৪৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।

এ ঘটনায় কুয়েট শিক্ষক সমিতি, কুয়েট প্রশাসন, গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে চলমান একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধসহ সব কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষকরা। একাডেমিকসহ সব কার্যক্রম চালু রেখে তাদের আরও তিন দফা দাবী সংযুক্ত করেন তারা।

XS
SM
MD
LG