অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জন কেরি চীনে প্রত্যাশিত অভ্যর্থনা পাননি


জলবায়ু বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জন কেরিকে চীনের স্টেট কাউন্সিলর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এর সাথে একটি ভিডিও কনফারেন্সে দেখা যাচ্ছে। ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২১। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর থেকে সরবরাহকৃত

বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দূত জন কেরির এই সপ্তাহের চীন সফরকে একটি কূটনৈতিক ভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি রূপে চিত্রিত করেছেন কারণ চীনা নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সহযোগিতার জন্য কেরির আবেদনে কোন গুরুত্ব দেননি এবং তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুধুমাত্র ভিডিও বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চীনের পর্যবেক্ষক এবং ‘জার্নাল অফ পলিটিকাল রিস্ক’ সংবাদপত্রের প্রকাশক অ্যান্ডারস কর উল্লেখ করেন, “তালিবান আরও ভালো অভ্যর্থনা পেয়েছিল” যখন ঐ আফগান বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে ২৮শে জুলাই বেইজিংয়ে সাক্ষাৎ করে।

কেরির প্রতি শীতল ব্যবহার এ কথাই প্রতিফলিত করে যে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ওয়াশিংটনের প্রতি চীনের ক্রমবর্ধমান প্রত্যয়ী আচরণ কিভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সেনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান কেরির নিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে চীনের একটা সম্পর্ক তৈরীর সুযোগ হিসেবে চীন প্রথমে স্বাগত জানিয়েছিল । বাইডেনের পূর্বসূরি, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে, বেইজিং -এর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগুলিকে কেউ কেউ অতিমাত্রায় কঠোর মনে করত, এবং অন্যান্যরা তা যথাযথ প্রত্যয়ী মনে করত।

ভিডিও কনফারেন্স এর সময় স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং, যিনি কিনা চীনের পররাষ্ট্র বিষয়ক দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি কেরির যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে জলবায়ু সমস্যা এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে তা রাজনীতিকেও অতিক্রম করে যাবে।

কেরি তার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন যে আলোচনা "খুব গঠনমূলক" ছিল এবং তিনি চীনের কর্মকর্তাদের "খুব সরাসরি" বলেছেন যে তাদের নতুন কয়লা কারখানা নির্মাণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে যে ওয়াং কেরিকে বলেছেন, ওয়াশিংটন "চীনের প্রতি বড় কৌশলগত ভুল" করার জন্য দায়ী এবং জলবায়ু সমস্যা অন্যান্য কূটনৈতিক বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।

মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জুন টিউফেল ড্রেয়ার এক ফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, চীন যা বলছে তা হল জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার তাদের কোনো ইচ্ছা নেই যদি না তারা তাই-ই পায় যা তারা চাইছে।

ড্রেয়ার বলেন, বেইজিং যা চায়, তা হলো তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগর, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ে ছাড়। কিন্তু তিনি মনে করেন না যে বাইডেন প্রশাসন সেইসব ক্ষেত্রের কোনটিতেই ছাড় দিতে পারে।

XS
SM
MD
LG