স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ-২৬ (COP26) জলবায়ু সম্মেলনে আফ্রিকার দেশগুলি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তাদের সাহায্য করার জন্য ধনী দেশগুলি যে কয়েক হাজার কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তাদের সমালোচনা করেছে।
বিশ্বের ধনী দেশগুলি জি-২০ (G-20) - গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য ৮০% দায়ী৷ তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, দরিদ্র দেশগুলো, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাবের শিকার হচ্ছে।
প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য ধনী দেশগুলি ২০০৯ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে প্রতি বছর ১০ হাজার কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই অর্থ দেয়ার তারিখ কপ-২৬ (COP26) শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ২০২৩ সাল নাগাদ পিছিয়ে দেয়া হয়।
মঙ্গলবার সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আফ্রিকার নেতারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গানার প্রেসিডেন্ট নানা আদ্দো ডানকওয়া আকুফো-অ্যাডো বলেন, আফ্রিকানরা "স্বাভাবিকভাবেই হতাশ"।
আকুফো-আডো প্রতিনিধিদের বলেন “ঐ দেশগুলোই জোর দিচ্ছে যে আমরা যেন আমাদের অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের সুযোগ ত্যাগ করি। এটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে তা স্থায়ী করার সমতুল্য হবে।”
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাজ্য পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরঞ্জেল হুইপস জুনিয়রও একইভাবে উষ্মা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "সত্যি বলতে, ধীর এবং বেদনাদায়ক মৃত্যুর কোন মর্যাদা নেই। আমাদের ধীর এবং করুণ মৃত্যুর সাক্ষী হওয়ার জন্য, কষ্ট দেয়ার পরিবর্তে আমাদের দ্বীপপুঞ্জে বোমা নিক্ষেপ করে আমাদের মেরে ফেলতে পারেন। জি-২০ (G-20) নেতারা, আমরা ডুবে যাচ্ছি, এবং আমাদের একমাত্র ভরসা আপনাদের হাতে।
কিন্তু তাদের এই আবেদন অর্থ দেয়ার সময়সূচী পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু জরুরী অবস্থার অগ্রগতির কারণে হতাশা কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।
বিশ্বের ১০০জনেরও বেশি নেতা ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় করে দেয়া বন্ধ করতে সহমত হয়েছেন।এর জন্য সরকারী ও বেসরকারী খাতে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার অনুদান দেয়া হবে।এই নেতাদের মধ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, যিনি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। তিনি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তার বক্তব্য রাখেন।
নিনাওয়া রয়টার্সকে বলেন, “এটি আমাদের সম্প্রদায়ের সামাজিক সমস্যার সমাধান করবে না, যেখানে পানি নেই, যেখানে বন উজাড় করে দেয়া হচ্ছে, যেখানে নদী দূষণ রয়েছে৷ এগুলি এমন বিনিয়োগ যা কেবলমাত্র বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলিকে তাদের দূষণ বজায় রাখার জন্য সুযোগ করে দেবে।”
২০৩০ সালের মধ্যে ৩০% নির্গমন কমানোর জন্য ১০০টিরও বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নেতৃত্বাধীন গ্লোবাল মিথেন প্লেজ(অর্থাৎ বিশ্বে মিথেন গ্যাসের নির্গমন কমানোর জন্য দেয়া প্রতিশ্রুতি) প্রতিশ্রুতিতেও স্বাক্ষর করেছে।এনভাইরনমেন্ট ডিফেন্স ফান্ডের প্রধান বিজ্ঞানী স্টিভ হ্যামবুর্গ বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে মিথেন ৮0 গুণ বেশি শক্তিশালী।