অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জামিন চাইতে গিয়ে পরীমনি আদালতে অসুস্থ হয়ে পড়েন


আদালতে নেয়া হচ্ছে পরীমনিকে- ফটো- মানবজমিন

চিত্রনায়িকা পরীমনি স্থায়ী জামিন পেলেন। এক মাদক মামলার আসামি হিসেবে রবিবার আদালতে হাজির হয়ে পরীমনি জামিন চান। শুনানির আগেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার আইনজীবীরাও আদালতকে জানান পরীমনি অসুস্থ।

শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি আব্দুলাহ আবু তার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। বলেন, পরীমনি আদালতকে সম্মান দেখাননি। রেওয়াজ অনুযায়ী তার আদালতে আসার কথা সকাল দশটায়। তিনি এসেছেন বেলা দেড়টায়। তাছাড়া পরীমনির কাছে ভয়ঙ্কর রকমের মাদক এলএসডি আইস পাওয়া গেছে । এটা জামিনযোগ্য অপরাধ হতে পারে না।

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের পক্ষে যুক্তি দেখান। ঠিক সময়ে আদালতে না আসতে পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, এরকম ভুল আর হবে না।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন শুনানি চলাকালেই পরীমনিকে বেশ অস্থির দেখাচ্ছিল। আদালত থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে তিনি আবার অসুস্থ হন। তখন তিনি তার এক আত্মীয়ের গায়ের ওপর মাথা রেখে শুয়ে পড়েন। এ সময় তার মাথায় পানি ঢালা হয়। এরপর কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর তিনি আদালত ছেড়ে চলে যান।

উল্লেখ্য যে, গত ৪ আগস্ট পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জব্দ করা হয় তার গাড়িসহ কয়েকটি মদের বোতল। যদিও পরীমনি বলেছেন, বোতলগুলো ছিল খালি। আদালতের নির্দেশে তিনি ইতিমধ্যেই গাড়ি ফেরত পেয়েছেন।

দুই মাসের মাথায় গত ৪ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এ মামলায় ১৯ জন সাক্ষী। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর লিখিতভাবে সিআইডিকে এই তথ্য জানিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী ২০১৯-২০২০ সনে পরীমনির নামে মদ জাতীয় পানীয় সেবনের লাইসেন্স দেয়া হয়।

গত বছরের জুন মাসে লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। এরমধ্যেও পরীমনি বিভিন্ন স্থান থেকে মামলার দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের মাধ্যমে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাসায় মজুত করেন। এই মামলার অন্যতম আসামি কবির হোসেনকে জামিন দিয়েছে আদালত। অপর আসামি আশরাফুল ইসলাম দিপু আগেই স্থায়ী জামিনে রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে পরীমনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। রুপালি পর্দার বাইরে গত জুন মাসে পরীমনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন, ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন এই অভিযোগ এনে। সাভার থানায় মামলাও করেন পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই অভিযোগ ব্যাপক আলোচিত হয়। ফেসবুকে তার প্রায় এক কোটি ফলোয়ার রয়েছেন। তাকে মারধর ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহযোগী শহিদুল আলম এবং তুহিন সিদ্দিকির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। মামলাটি এখন ঢাকার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

XS
SM
MD
LG