ইথিওপিয়া বৃহস্পতিবার উত্তর টিগ্রায় অঞ্চলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইরিত্রিয়ান বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক আমহারা মিলিশিয়া এবং সরকারী বাহিনীর মধ্যে নৃশংস লড়াইয়ের এক বছর পার করলো। এখন টিগ্রায় বাহিনী বলছে যে তারা রাজধানী আদ্দিস আবাবার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং কয়েক মাস এমনকি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটির পতন হতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে, টিগ্রায় বাহিনী এবং ওরোমো আঞ্চলিক বাহিনী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করার দাবি করেছে।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তার সরকারই ক্ষমতায় থাকবে।
বুধবার আদ্দিস আবাবায় তার ভাষণে আবি আহমেদ বলেন, “ইথিওপিয়ার পতন হবে না। ইথিওপিয়া সমৃদ্ধ হবে। "ইথিওপিয়ার সন্তানদের রক্তের বিনিময়ে যারা দেশটির পরীক্ষা নিচ্ছে তাদের পরাজিত করে সম্মানের সাথে চিরকাল থাকবে।"
ইথিওপিয়ার সরকার বুধবার ছয় মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং বিদ্রোহীরা রাজধানীতে এলে বাসিন্দাদের তাদের এলাকা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।রাষ্ট্রীয় সংবাদ সম্মেলনের সময় বিচারমন্ত্রী গেডিওন টিমোথিওস বলেন, “আমাদের দেশ তার অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব এবং ঐক্যের জন্য এক মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন। এবং আমরা স্বাভাবিক আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা এবং পদ্ধতির মাধ্যমে এই বিপদ মোকাবেলা করতে পারবো না।"
টিগ্রায় অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ডেব্রেটসিওন গেব্রেমিকেল গত এক বছরের দুর্ভোগের জন্য ইথিওপিয়ার সরকার এবং তার মিত্রদের দায়ী করেছেন।তিনি বলেন, “যুদ্ধবাজরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং আমরা এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছি কারণ আমাদের একমাত্র উপায় ছিল শক্তির মাধ্যমে শত্রুদের ধ্বংস করা।"
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস যুদ্ধরত সব পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ করার এবং নাগরিকদের জীবন ও অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন ইথিওপিয়ায় ভ্রমণের পরামর্শের বিষয়টি চতুর্থ স্তরে (লেভেল ৪) এ উন্নীত করেছে।
জাতিসংঘের মতে, বছরব্যাপী সংঘাতের কারণে টিগ্রায় অঞ্চলে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে। কয়েক হাজার বেসামরিক লোক এই সংঘাতে নিহত হয়েছে এবং উত্তরের ২৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে।