অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ট্রাম্প-কিম তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি


ভিয়েতনামের হ্যানয়ে কোনো রকমের অর্থপূর্ন সিদ্ধান্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে শেষ হয়ে গেল ট্রাম্প-কিম শীর্ষ সম্মেলন। উত্তর কোরিয়াকে পরমানুমুক্ত করার মূল লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলন যে একেবারে ব্যর্থ হয়েছে তা বলতে নারাজ আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে কোনো রকমের অর্থপূর্ন সিদ্ধান্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে শেষ হয়ে গেল ট্রাম্প-কিম শীর্ষ সম্মেলন। উত্তর কোরিয়াকে পরমানুমুক্ত করার মূল লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলন যে একেবারে ব্যর্থ হয়েছে তা বলতে নারাজ আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।

উত্তর কোরিয়ার ওপর জারি করা, বলবত থাকা নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবী ছিল কিম জং উনের। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তা করতে রাজী নন। তবে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রেখে তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনের আহবান জানিয়ে এসেছেন কিম জং উনের প্রতি।

আমাদের সহকর্মী ব্রায়ান প্যাডেন তার এ বিষয়ক এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং কিম জং উনের সঙ্গে গত বছর জুনমাসে সিঙ্গাপুরে যে প্রথম শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল; তার প্রেক্ষিতে বেশকিছু অগ্রগতি সাধিক হয়েছে। পরমানু কর্মসূচী বাতিল করা বা বন্ধ করার বিষয়ে কোনো সম্মতি না দিলেও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা এবং হুমকী বন্ধ হয়েছে।

হ্যানয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্ধারিত সময়ের আগেই বৈঠক শেষ করেছেন। পরমানু কর্মসূচী বন্ধ করার বিপরীতে কিম তার দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়ার দাবী করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “মূলত তারা চায় তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়া হোক।

আমরা তা করতে পারি না। তার বদলে তারা তাদের বড় একটি অঞ্চল পরমানুমুক্ত করতে রাজী। আমরাও সেটা চাই; কিন্তু নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে দেয়ার বদলে নয়। আমাদের আরো আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের সম্মেলন সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে ঐ মতের মিল না হওয়ার কারনে”।

উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয় তারা আংশিকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবী করেছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার তেল আমদানী ও সকল ধরনের রপ্তানী নিষিদ্ধকরন বিষয়ক নিষেধাজ্ঞার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাস্প তাতে রাজী হন নি। আর ঐ নিষেধাজ্ঞা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা যুক্তরাষ্ট্রের নয়; জাতীসংঘ আরোপিত।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে Stimson Center এর Korea Analyst, Jenny Town বলেন, “আসলে ঠিক কোন বিষয়টি নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে তা জানা যায়নি তবে এটা নিশ্চিত এমন কিছু নিয়ে মতদ্বৈততা সৃষ্টি হয়েছে যা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যৌক্তিকের চেয়ে বেশি চাওয়া হয়েছে”।

হ্যানয়ে সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কুটনৈতিক তৎপরতা চলবে। আলোচনা চালিয়ে নেয়া হবে।

এ নিয়ে Brookings Institution এর বিশ্লেষক Katharine Moon বলেন: “মিষ্টার ট্রাম্প বুঝতে পেরেছেন উত্তর কোরিয়াকে পরমানুমুক্ত করার বিষয়টি শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত প্রভাবে সম্ভব নয়”।

উত্তর কোরিয়ার ২০ থেকে ৬০টি পরমানু অস্ত্র রয়েছে বলে ধারনা করা হয়। রয়েছে দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র যা যুক্তরাস্ট্রের মূল ভূখন্ড পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। সিঙ্গাপুরে প্রথম শীর্ষ বৈঠকের সময় কিম জং উন কথা দিয়েছিলেন তিনি পরমানুমুক্ত উত্তর কোরিয়া করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবেন।

হ্যানয়ে এ বিষয়ের অগ্রগতিমূলক কিছু চুক্তি হবে এমন আশা ছিল সবার। এর মধ্যে ইয়ংবিয়ন পরমানু কেন্দ্রের কাজকর্ম বন্ধ করার ঘোষণার একটি সম্ভাবনার কথা সবার মনে ছিল। ঐ কেন্দ্রে প্লুটোনিয়াম প্রক্রিয়া করা হয়। কিন্তু তা হয়নি।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটি ছিল দীর্ঘদিনের আশা যে তারা একটি একটি করে পরমানু কেন্দ্র বন্ধ করার অঙ্গীকার করবে। কিন্তু হ্যানয়ে তার কোনোকিছুই হয়নি।

Center for Arms Control and Non-Proliferation এর কর্মকর্তা James McKeon বলেন: “এর ফলে যেটা বোঝা যাচ্ছে তা হলো যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ধাপে ধাপে আলোচনার অগ্রগতির চেষ্টা চালাবে; আমার প্রতিষ্ঠান যা অনেক আগে থেকেই করার কথা বলে আসছিলো”।

এখন মনে হচ্ছে দুই পক্ষই আরো আলোচনার পক্ষে; তবে বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে নেতা পর্যায়ে না গিয়ে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এ নিয়ে খুটিনাটি আলোচনা করে আরেকটি সম্মেলনের আগে সব ঠিকঠাক করে নেয়াই ভালো।

হ্যানয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হলেও বা চুক্তি না হলেও সম্মেলনে একেবারে ব্যর্থ হয়নি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন বেইজিং এ বসবাসরত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ফরিদুল আলম।

ট্রাম্প কিম দুটি শীর্ষ সম্মেলন; কোরিয়া উপদ্বীপকে পরমানুমুক্ত করা; এবং সে বিষয়ে তৃতীয় সম্মেলনের সম্ভাবনা বা কোনো সম্ভাব্য সমাধান হবে কিনা এসব নিয়ে এখন বিশ্লেষন শুনবো অধ্যাপক আতাউর রহমানের। বাংলাদেশ পলিটিক্যাল সাইন্স এ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক ড. আতাউর রহমান ঢাকা থেকে টেলিফোনে যোগ দিয়েছেন।

please wait

No media source currently available

0:00 0:11:46 0:00

XS
SM
MD
LG