অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঢাকায় আইসিইউর তীব্র সংকট, ৩৬ জেলায় আইসিইউ সুবিধা নেই


আইসিইউ এর জন্য অপেক্ষমাণ একজন করোনা রোগী

রাজধানী ঢাকায় আইসিইউ এর জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন রোগীর স্বজনরা। কোথাও খালি নেই আইসিইউ । প্রতি দশ মিনিট পর একটি করে এ্যাম্বুলেন্স এসে থামছে হাসপাতালের সামনে।

রাজধানী ঢাকায় আইসিইউ এর জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন রোগীর স্বজনরা। কোথাও খালি নেই আইসিইউ।

প্রতি দশ মিনিট পর একটি করে এ্যাম্বুলেন্স এসে থামছে হাসপাতালের সামনে। শুধু ঢাকা থেকে নয়। বাইরের জেলা থেকেও অনেকে আসছেন। ৩৬ জেলায় কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই। গত বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে রোগীরা আইসিইউ এর জন্য রীতিমতো আহাজারি করছেন।

ঢাকা মেডিকেলে তিনদিন ধরে ভর্তি ছিলেন জরিনা বেগম। বয়স তার ৫০ এর কাছাকাছি। করোনাক্রান্ত জরিনার শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকলে তাকে আইসিইউতে নেয়ার দরকার হয়। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিল- আমরা দুঃখিত। হাসপাতালে কোনো আইসিইউ বেড খালি নেই। অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকরা। কি করবেন রোগীর স্বজনরা? আবার ছুটলেন অন্য হাসপাতালে।

এরকম অবস্থা শুধু জরিনা বেগমের নয়। মেহেরপুরের আজিম উদ্দিনের অবস্থাও একইরকম। তাকেও আনা হয়েছে ঢাকায়। ফেনীর মিজানুর এসেছেন প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে। সরকারি হাসপাতালে কিছু আইসিইউ খালি থাকলেও দক্ষ লোকের অভাবে, আবার কিছু অকেজো থাকায় এগুলো চালানো যাচ্ছে না।

শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে রোগীদের অন্য অভিজ্ঞতা। এই হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি আছে। কিন্তু জনবল নেই। তাছাড়া আইসিইউগুলোতে পূর্ণাঙ্গ সাপোর্টও নেই। রোগীর সমস্যা হলে তারা দায় নেবে না, এমনটাই জানিয়ে দেয় স্বজনদের।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে রীতিমতো কাঁপছে বাংলাদেশ। সংক্রমণ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ। আগের দিন শনাক্ত হয়েছিলেন আট হাজার ৪৮৯ জন। মৃত্যুও বেড়েছে আগের দিনের তুলনায়। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২২৫ জন। আগের দিন মারা যান ২০৪ জন।

স্বাস্থ্য দপ্তর বলছে, ঢাকা মহানগরে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড রয়েছে ৮৭৮ টি। সারা দেশে রয়েছে এক হাজার ২৯১টি। ঢাকার বাইরে কোথাও খালি নেই। বেসরকারি হাসপাতালে কিছু খালি থাকলেও অনেক উচ্চমূল্য দিতে হয়।

ওদিকে রাজধানীর গরুর হাটগুলো অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন। কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ৪৬টি শর্ত দিয়ে গরুর হাট চালুর অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছিল। দেখে মনে হয় না, এটা গরুর হাট না জনসেবা!

XS
SM
MD
LG