অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নারায়ণগঞ্জের কারখানায় কেন আগুন লাগলো তা এখনও জানা যায়নি


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানার আগুন নেভাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

জুস, ক্যান্ডি, বিস্কিট, লাচ্ছা সেমাই তৈরি হতো এই কারখানায়। অভিযোগ উঠেছে, কারখানায় শতকরা ৩০ ভাগ শিশু শ্রমিক ছিল। ৫২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এরমধ্যে ১৬ জনই শিশুশ্রমিক। ৫১টি লাশ চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিএনএ টেস্টের পরে হয়তো জানা যাবে। 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানায় রহস্যময় আগুনের এখনো কোনো কূল কিনারা হয়নি।

জানা যায়নি, কেন এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। কেন তালাবদ্ধ ছিল কারখানার চারতলা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগলো কেন? কত শ্রমিকই বা সেসময় কর্মরত ছিল। শিশু শ্রমিকই বা কত? বকেয়া বেতন পরিশোধে মালিকরা কেন কথা রাখেনি। ভবন নির্মাণে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছিল কিনা। শ্রমআইন লঙ্ঘন করে কীভাবে কারখানা চলছিল? এসব প্রশ্নের কোনো জবাব নেই।

বলা হচ্ছে, দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার কথা। অতীতে দেখা গেছে, কোনো ঘটনা বা দূর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু আখেরে বেশিরভাগ তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখে না। আসলে এই কারখানায় কত শ্রমিক কাজ করতেন? একাধিক সুত্র জানায়, আটশ'র কাছাকাছি শ্রমিক কাজ করতেন। আগুনের ঘটনার সময় ৪০০ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এদের বেতন ছিল খুব কম। দশ হাজার টাকার ওপরে কারো বেতন নয়।

জুস, ক্যান্ডি, বিস্কিট, লাচ্ছা সেমাই তৈরি হতো এই কারখানায়। অভিযোগ উঠেছে, কারখানায় শতকরা ৩০ ভাগ শিশু শ্রমিক ছিল। ৫২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এরমধ্যে ১৬ জনই শিশুশ্রমিক। ৫১টি লাশ চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিএনএ টেস্টের পরে হয়তো জানা যাবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানার চেষ্টা করছে, আসলে সেদিন কীভাবে আগুন লেগেছিল। কতভাগ শিশু শ্রমিক ছিল। বাংলাদেশের শ্রমআইন অনুযায়ী, শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। পোশাক কারখানাগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপে শিশু শ্রমিক আগের তুলনায় কম। বিজিএমইএ অবশ্য বলছে, পোশাক কারখানায় এখন আর শিশুশ্রমের সুযোগ নেই।

মালিকপক্ষ এখন জেলখানায়। রিমাণ্ডে তাদের কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পয়লা জুলাই বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করেছিল। মালিকপক্ষ বলেছিল, ৫ই জুলাইয়ের মধ্যে বকেয়া দুই মাসের বেতন দেয়া হবে। ওভারটাইমের টাকা পরিশোধেরও অঙ্গীকার করে মালিকপক্ষ। ঈদের আগে বোনাস দেয়ার কথাও বলে। কিন্তু মালিকরা এক রহস্যজনক কারণে কথা রাখেনি। এ নিয়ে শ্রম অসন্তোষের মধ্যেই বৃহস্পতিবার এই কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিয়ে রোববার উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে। আদালত কতজন শ্রমিক আহত, চিকিৎসাধীন তার একটি তালিকা প্রকাশ করার কথা বলেছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম রাষ্ট্রপক্ষকে এ আদেশ দেন। রিটের শুনানিতে আইনজীবী সারা হোসেন অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরে ক্ষতিপূরণের জন্য হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চান। ক্ষতিপূরণের নির্দেশনার ব্যাপারে বিচারপতি বলেন, তারা তো ক্ষতিপূরণের হকদার।

বিচারক বলেন, কতজন শিশু আহত বা নিহত হয়েছে এর একটা পূর্ণাঙ্গ চিত্র হয়তো দশ থেকে পনের দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। তখন ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আমরা দেখবো। এর আগে মৃত দেহগুলো চিহ্নিত হয়ে যাক।

XS
SM
MD
LG