অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাঁচ হাজার আফগান শরণার্থী নেবে যুক্তরাজ্যঃ জনসন


আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর সংসদ অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আগস্ট ১৮, ২০২১- এপি

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন নতুন উদার শরণার্থী নীতির আওতায় আগামী বছরগুলোতে ব্রিটেন ২০ হাজার পর্যন্ত অসহায় আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পারবে। তবে কাবুল বিমানবন্দরে ব্রিটিশ ও আফগান মিলে ৫ হাজারের অনেক বেশি মানুষ অপেক্ষা করছেন যাদেরকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্য।

মূলত নারী ও শিশুদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বছর পাঁচ হাজার আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে যুক্তরাজ্য। তালিবান আফগানিস্তান দখলের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের করনীয় নিয়ে ব্রিটেনের সংসদে বুধবার জরুরী এবং উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন নতুন উদার শরণার্থী নীতির আওতায় আগামী বছরগুলোতে ব্রিটেন ২০ হাজার পর্যন্ত অসহায় আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পারবে। তবে কাবুল বিমানবন্দরে ব্রিটিশ ও আফগান মিলে ৫ হাজারের অনেক বেশি মানুষ অপেক্ষা করছেন যাদেরকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্য। আফগানিস্তানে ঘটনা বিশৃঙ্খল রূপ ধারণ করায় প্রধানমন্ত্রী জনসন কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হন।

জনসন বলেন তালিবানের সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংগঠিত করার কাজ করবে যুক্তরাজ্য। প্রভাবশালী সাত জাতির জোট জি- সেভেনের বর্তমান সভাপতি জনসন জোট সদস্যদের নিয়ে এ লক্ষ্যে একটি বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন।

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমরা পরিষ্কার এবং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই অবস্থায় কোন দেশের পক্ষে আফগানিস্তানের নতুন শাসকদের স্বীকৃতি দেয়া ভুল হবে”। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বরিস জনসন। তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের শাসকের কথায় নয়, তারা কি করে তা দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো”।

২০১৫ সালে সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্যে যুক্তরাজ্যের যে শরণার্থী পরিকল্পনা ছিল তার আদলে আফগান শরণার্থীদের জন্যে পরিকল্পনা করায় আইন প্রনেতারা কড়া সমালোচনা করে বলেন এতে শরণার্থী আনার গতি ও সংখ্যা দুটোই অনেক কম ছিল।

প্রধান বিরোধী দল, লেবার পার্টির সংসদ সদস্য ক্রিস ব্রায়ান্ট বলেন, “যুক্তরাজ্য সরকার বলছে এ বছর পাঁচ হাজার শরণার্থীর আশ্রয় দিতে চায়। তাহলে বাকি ১৫ হাজারের কি হবে। তাঁদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন?”

লেবার পার্টি নেতা কেইর স্টার্মার বলেন কনজারভেটিভ সরকারকে আফগানিস্তান সংকটের ন্যায্য দায়টুকু নিতে হবে।

আফগানিস্তান থেকে দ্রুত সেনা ফিরিয়ে আনা এবং ব্রিটিশ নাগরিক ও হাজার হাজার আফগান নাগরিক যারা গত দুই দশক তাঁদের হয়ে কাজ করেছিলেন তাদের সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল অবস্থার কারণে জো বাইডেনের মতো বরিস জনসনও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষত সাবেক সেনা এবং যে ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সৈন্য সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নেটোর সামরিক তত্পরতার সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের স্বজনদের তরফ থেকে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।

আফগান নাগরিক ও তাঁদের পরিবার পরিজনদের সহায়তা করার দাবী তুলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা চলছে।

XS
SM
MD
LG