অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানে আফগান দূতাবাসে কাজ শুরু করেছেন তালিবান কূটনীতিকরা

একজন পুলিশ সদস্য খাইবার পাখতুনখাওয়া হাউসের বাইরে পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন যেখানে ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪ সালে ইসলামাবাদে পাকিস্তান সরকারী কর্মকর্তা এবং তালেবান আলোচকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।(ছবি-রয়টার্স/মিয়াঁ খুরশিদ)
একজন পুলিশ সদস্য খাইবার পাখতুনখাওয়া হাউসের বাইরে পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন যেখানে ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪ সালে ইসলামাবাদে পাকিস্তান সরকারী কর্মকর্তা এবং তালেবান আলোচকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।(ছবি-রয়টার্স/মিয়াঁ খুরশিদ)

বৃহস্পতিবার দুই তালিবান কর্মকর্তা এবং দুই আফগান কূটনীতিক ভিওএকে জানিয়েছে যে তালিবান কূটনীতিকরা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আফগান দূতাবাসে এবং পাকিস্তানের অন্যান্য শহরে আফগান কনসিউলেটে কাজ শুরু করেছেন। ভিওএ ইসলামাবাদে আফগান দূতাবাসে পাঠানো সরকারি তালিবান বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পেয়েছে।

তালেবানের বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হয়েছে যে তাদের কর্মকর্তারা পাকিস্তানে দূতাবাস এবং কনস্যুলেটের দায়িত্ব নেবেন।
তালেবানের বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হয়েছে যে তাদের কর্মকর্তারা পাকিস্তানে দূতাবাস এবং কনস্যুলেটের দায়িত্ব নেবেন।

পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলছেন যে যদিও পাকিস্তান এখনো তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি কিন্তু তারা আফগান দূতাবাসে তালিবান কর্মকর্তা মোতায়েনের অনুমতি দিয়েছে। এছাড়াও, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কাবুলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মনসুর খানকে তালিবান কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানের বিষয়টি ভিওএ জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা নিশ্চিত করেন।

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মনসুর আহমেদ খান, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে আফগানিস্তানের কাবুলে আলোচনার সময় কথা বলছেন।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মনসুর আহমেদ খান, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে আফগানিস্তানের কাবুলে আলোচনার সময় কথা বলছেন।

মনসুর খান বলেন, "এই ভিসাগুলো দূতাবাসের কাজের সুবিধার্থে এবং পাকিস্তানের নাগরিক যারা আফগানিস্তানে আফগান নাগরিকদের মানবিক কাজে সহায়তা করছে তাদের জন্য দেয়া হয়েছে।" তিনি যোগ করেন যে ভিসা দেয়ার অর্থ "স্বীকৃতি নয় বরং সহায়তা দেয়া।"

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় তোলা হয় এই ছবিটি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় তোলা হয় এই ছবিটি।

আগস্টের মাঝামাঝি তালিবান রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আফগানিস্তানে মানবিক সঙ্কট ও অস্থিতিশীলতা এড়াতে তালিবানের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকার কারণে একজন তালিবান কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিওএকে বলেন সরদার মুহাম্মদ শোকাইব, যিনি মোসা ফরহাদ নামেও পরিচিত, ইসলামাবাদে আফগান দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

পেশোয়ারে ডি-ফ্যাক্টো কনসাল জেনারেল হিসাবে তাদের কর্মকর্তা ঘোষণা করে তালেবানের বিজ্ঞপ্তি।
পেশোয়ারে ডি-ফ্যাক্টো কনসাল জেনারেল হিসাবে তাদের কর্মকর্তা ঘোষণা করে তালেবানের বিজ্ঞপ্তি।

একজন আফগান কূটনীতিক যিনি ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকারের সময় থেকে কাজ করছেন জানিয়েছেন, বর্তমানে আফগান দূতাবাসে কোনো রাষ্ট্রদূত না থাকার কারণে শোকাইব ডি ফ্যাক্টো "চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স" হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “প্রাক্তন সরকার জুলাই মাসে রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের পর থেকে রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য থাকায় তিনি (শোকাইব) সব কূটনৈতিক বিষয় দেখাশোনা করছেন।”

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিওএকে বলেন, তিনি মনে করেন যে আফগান দূতাবাসে তালিবানের নিয়োগ “একটি প্রশাসনিক বিষয় যাতে করে দূতাবাস সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।”

জুলাই মাসে আফগানিস্তান আফগান রাষ্ট্রদূত নাজিবুল্লাহ আলিখিলের কন্যাকে অপহরণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসলামাবাদ থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত এবং জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে। সিলসিলা আলিখিল, যিনি ইসলামাবাদে বেড়াতে গিয়েছিলেন, জানান ইসলামাবাদে কেনাকাটা করার সময় তাকে অপহরণ করা হয়। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে কয়েক ঘন্টা আটকে রাখে। তিনি আরো বলেন, তাকে মারধর করা হয়েছে। পাকিস্তান ঘটনার তদন্ত করলেও তার অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

তালিবান পাকিস্তানের তিনটি প্রাদেশিক রাজধানী করাচি, পেশোয়ার এবং কোয়েটায় আফগান কনসিউলেটে কূটনীতিক নিয়োগ করেছে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG