একজন শীর্ষ আমেরিকান কুটনীতিক শুক্রবার বলেন যে আফগানিস্তানে আসন্ন মানবিক সংকট রোধে যুক্তরাষ্ট্র তার সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করছে কিন্তু সে দেশের নতুন তালিবান শাসকরা, মানবাধিকার রক্ষাসহ জনসমক্ষে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তিনি তাদের সমালোচনা করেছেন।
পাকিস্তানে তাঁর সফর শেষ করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়েন্ডি শারম্যান একদল সংবাদদাতাদের বলেন, “আফগানিস্তানে মানবিক পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা প্রচন্ড ভাবে উদ্বিগ্ন”।
“আফগানিস্তানের এই মানবিক পরিস্থিতি যাতে গোটা অঞ্চলের সংকট সৃষ্টি না করে সে জন্যে এই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে আমাদের সকলের স্বার্থেই একত্রে কাজ করা প্রয়োজন”।
শারম্যান জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার উল্লেখ করেন য়ে এক লক্ষ আফগান শিশু খাদ্যাভাবের ঝঁকিতে রয়েছে , এক কোটি আশী লক্ষ আফগান জনগোষ্ঠির প্রয়োজন জরুরি মানবিক সহায়তা এবং সেখানকার ক্রবর্ধমান খরা পরিস্থিতি এবং আসন্ন কঠোর শীত পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তান যে আফগানিস্তানকে দেওয়া মানবিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য সহায়তা বাবদ লক্ষ লক্ষ ডলার প্রদান , আমরা তার প্রশংসা করি”।
তালিবানের প্রতিশ্রুতি
বাইডেন প্রশাসন বলছে যে তারা নিবীড় ভাবে এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে যে তালিবান তাদের সহিষ্ণুতা রক্ষার এবং একটি সমন্বিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে সকল জাতিগোষ্ঠির প্রতিনিধিত্ব থাকবে সে রকম ব্যবস্থা গঠনের এবং নারীদের অধিকার সুরক্ষিতরাখার প্রতিশ্রুতিগুলো পালন করছে কীনা।
শারম্যান বলেন, “আমরা অবশ্য তালিবানকে তাদের মুখের কথায় বিচার করবো না. আমরা দেখবো তাদের কাজ এবং এখনও পর্যন্ত তাদের কর্মকান্ড জনসমক্ষে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে”। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সরকারে আমার সহকর্মীরা এবং আমি তালিবানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তাদের জবাবদিহিতার বিষয়ে সহমত পোষণ করেছি”।
ইসলামাবাদ বলেছে যে তারা নতুন তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দানের ব্যাপারে কোন তাড়াহুড়ো করছে না তবে তারা ঐ বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত দেশটিকে পরিহার না করে এর শাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশকে আহ্বান জানাচ্ছে ।
আমেরিকার এই কুটনীতিক বলেন যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশীর সঙ্গে তাঁর আলোচনায়, দু পক্ষই ওয়াশিংটন ও ইসলামাদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায়গুলো নিয়েও কথা বলেছেন।