অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ফিলিপাইনের দিকে এগোচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন রাই


ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের দেয়া এই ছবিতে ফিলিপাইনের কাগায়ান ডি ওরো সিটিতে টাইফুন রাইয়ের কারণে সৃষ্ট বন্যার মধ্য একজন উদ্ধারকারী একটি মেয়েকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সাহায্য করছেন৷১৬ ডিসেম্বর ২০২১। (ছবি-এপি/ফিলিপাইন কোস্টগার্ড)

বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা জানান দক্ষিণ এবং মধ্য ফিলিপাইনে এক শক্তিশালী টাইফুনের আশংকায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দেশটিতে ওমিক্রনের প্রথম সংক্রমণের পর জনসাধারণকে ভিড় এড়াতে সতর্ক করেছিল।

পূর্বাভাসকারীরা বলেছেন যে তারা শেষবার টাইফুন রাইকে দক্ষিণ সুরিগাও দেল নর্তে প্রদেশে অবস্থান করতে দেখেছেন। টাইফুন রাই-এর কারণে সেখান থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার পূর্বে ১৮৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে এবং ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া রয়েছে। ঝড়টি ২৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন টাইফুন রাই যেটি স্থানীয়ভাবে ওডেট নামে পরিচিত, বৃহস্পতিবারের পর দেশের দক্ষিণ-পূর্বের দিনাগাট দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানবে।

দক্ষিণ ও মধ্য প্রদেশগুলোর কয়েকটিতে টাইফুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। টাইফুনের পথ বা তার কাছাকাছি সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা, ভূমিধ্বস এবং জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় ও নিচু গ্রাম এবং অন্যান্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দূরে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের উপকূলরক্ষীরা জানিয়েছে যে তারা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে সমুদ্র যাত্রা নিষিদ্ধ করেছে। প্রায় ৪ হাজার যাত্রী এবং দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় বন্দরের কয়েক ডজন ফেরি ও কার্গো জাহাজ শ্রমিক আটকা পড়েছে। বলা হয়েছে কোস্ট গার্ড কর্মী এবং নৌযানগুলিকে ঘটনাসাপেক্ষে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। কয়েক ডজন ফ্লাইট, বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ, বাতিল করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক হাজার গ্রামবাসীকে স্কুল, জিমনেসিয়াম এবং অন্যান্য সরকারী ভবনসহ জরুরী আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছায় বা জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সপ্তাহে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জাপান এবং নাইজেরিয়া থেকে দেশে আসা দুই ভ্রমণকারীর মধ্যে ওমিক্রন সনাক্ত করার পর জনসমাগম নিরুৎসাহিত করছিল কিন্তু ঝড়ের কারণে সেই সরকারী প্রচেষ্টা এখন জটিল হয়ে পড়েছে।

ফিলিপাইন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে একটি যেখানে ২৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি।

XS
SM
MD
LG