অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

২০ বছর ধরে গার্মেন্ট পণ্য চুরি ছিল ওদের পেশা


রপ্তানির জন্য তৈরি করা গার্মেন্ট পণ্য বন্দরে পাঠানোর সময় চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১১জন গ্রেফতার

রপ্তানির জন্য তৈরি করা গার্মেন্ট পণ্য বন্দরে পাঠানোর সময় ২০ বছর ধরে চুরি করাই ছিল ওদের পেশা। কারখানা থেকে বিদেশে রপ্তানির জন্য বন্দরে পাঠানোর পথে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানে হামলা করত তারা। অনেক সময় জোর করে পণ্যবাহী পরিবহন থামিয়ে পোশাক চুরি করত। গার্মেন্ট মালিকদের কাছে বিদেশি ক্রেতারা পরে পণ্য কম পাওয়ার অভিযোগ করতেন। বিস্মিত হতেন গার্মেন্ট মালিকরা। কিন্তুু বুঝতে পারতেন না কোথা থেকে কি হচ্ছে। এভাবে বছরের পর পর চুরি হচ্ছিল গার্মেন্ট পণ্য।

সর্বশেষ গত মে মাসে চোর চক্র ঢাকার আশুলিয়ার জয়ন্তী নিটওয়্যার লিমিটেডের কাভার্ড ভ্যান থেকে রপ্তানির জন্য পাঠানো পণ্য চুরি করে। ইংল্যান্ডে ক্রেতার হাতে ওইসব পণ্য পৌঁছানোর পর দেখা যায় ১১ হাজার পিস কম। তারা বিষয়টি জানায় রপ্তানিকারককে। সব জেনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করে গার্মেন্ট মালিক পক্ষ।

চুরির এ রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেডের ৫ হাজার পিস কাপড় উধাও হয়ে যায় বন্দরে যাওয়ার পথে। শিশুদের জন্য তৈরি করা পোশাক চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে জার্মানিতে যাচ্ছিল। নেটওয়ার্ক ক্লোথিং সব জেনে মামলা করে শিল্পাঞ্চল থানায়।

পুলিশের উচ্চ পর্যায়েও শুরু হয় দেনদরবার। এবার ঘটনা দুটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা অনুসন্ধানের পর ১১জনকে গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহাদৎ হোসেন বের করেন দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা চুরির রহস্য।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, এভাবে ধারাবাহিক চুরির ঘটনা বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছিল। পণ্য খোয়া যাওয়ায় গার্মেন্ট কারখানাগুলোকেও দিতে হচ্ছিল ক্ষতিপূরণ। শুধু জয়ন্তী গার্মেন্ট ২৮ হাজার ৯০৮ ডলার জরিমানা দিয়েছে ক্রেতাকে।

পুলিশ ঘটনার রহস্য বের করার পাশাপাশি পুরো সিন্ডিকেটকে আটক করেছে। এ চোর চক্রের প্রধানের নাম সাঈদ ওরফে সিলেটী সাঈদ। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ২৪টি মামলা। তার বাড়ি মৌলভীবাজারে। আটকের পর জানা যায় তার দোতলা বাড়ি, ইটভাটা ও ট্রাকের মালিকানা রয়েছে। বিয়ে করেছেন দুটি। এক স্ত্রী থাকেন লন্ডনে, অন্যজন বাংলাদেশে। চট্টগ্রামের ছয় মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে বের হয়ে আবার সিন্ডিকেটসহ নামেন পুরনো পেশায়। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে সাঈদ জানিয়েছেন, তারা ৫ হাজার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান থেকে পণ্য চুরি করেছেন।

গার্মেন্ট মালিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন থেকে খোয়া যাওয়া পণ্যের দাম হাজার কোটি টাকার বেশি।

জয়ন্তী নিটওয়্যার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করে ১২ সেপ্টেম্বর। এরপর গায়েন্দা পুলিশ কাভার্ড ভ্যানের চালক ইমরান, মহিউদ্দিন, মোবারক ও ইবরাহিমকে গ্রেফতার করে। ১৭ সেপ্টেম্বর আরেক অভিযানে উত্তরা থেকে রাজ্জাক, ইউসুফ ও মাঈনুল নামে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে কুমিল্লার নিমসার এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে চুরি করা তৈরি পোশাকসহ আল আমিন ও দুলালকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৭০৫ পিস তৈরি পোশাক জব্দ করা হয়।

এরপর গ্রেফতার হন গডফাদার সাঈদ। সাঈদ পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০০০ সাল থেকেই তারা গার্মেন্ট পণ্য চুরি করে আসছেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মহাসড়কে চুরির ঘটনাগুলো ঘটত। বন্দরে যাওয়ার পথে পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চোর চক্র মালামাল নামাত। তাদের দাবী, পরে এগুলো তারা ছোটখাটো বায়িং হাউসের কাছে বিক্রি করে দিত।

XS
SM
MD
LG