অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে 


ভিকরুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে করিডোরে শিক্ষার্থীরা হাঁটছে। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে । সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ২৬ জন শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মানিকগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

১২ই সেপ্টেম্বর ১৮ মাস টানা বন্ধ থাকার পর স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু টিকাদানের ধীরগতির কারণে খুব দ্রুত খোলা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। ঠাকুরগাঁয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন শিক্ষার্থী। সদর উপজেলার বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ৫ শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয়েছেন। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্লাস। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা শিশু সদনের আটজন শিক্ষার্থীও আক্রান্ত হয়েছেন। চাঁদপুরের কচুয়ায় ড. মনসুরউদ্দিন মহিলা কলেজের তিনজন ছাত্রী আক্রান্ত হয়েছেন। গোপালগঞ্জে আক্রান্ত হয়েছেন দুইজন শিক্ষার্থী। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের এক ব্যাচের ১০ জন শিক্ষার্থীর আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. শিশির রঞ্জন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থাকাকালেই ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। ক্যাম্পাসে ফেরার পর তারা আক্রান্ত হন। তাদেরকে কলেজ হাসপাতালের স্টুডেন্ট কেবিনে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর বিদ্যালয় দুইদিন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাগেরহাট জেলার মোংলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও তার স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মানিকগঞ্জে এসকে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুবর্ণা ইসলাম রোদেলা করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। হাসপাতালে নেয়ার পথে এম্বুলেন্সের ভেতরেই তার মৃত্যু হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না পাঠানোর জন্য অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন।

ওদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক বিজ্ঞানী ডা. মোজাহেরুল হক মনে করেন, ঢালাওভাবে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। আমরা আগেই বলেছিলাম, পর্যায়ক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে। কিন্তু এভাবে স্কুল বা কলেজ খোলাটা যুক্তিযুক্ত হয়নি। এখন তো তাই দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, যেখানে সংক্রমণের হার পাঁচ-এর নিচে নেমে এসেছে সেখানে আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে আশঙ্কা থেকেই যায়। এটা চলতে থাকলে সংক্রমণ বাড়বে। স্কুল থেকে যাবে পরিবারে। এরপর পরিবার থেকে সমাজে। তারপর সারা দেশে ছড়াবে।

তার পরামর্শ হচ্ছে- অবিলম্বে গণটিকা কার্যক্রম শেষ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং মানাতে হবে। ক্লাসের বাইরে একসাথে জমায়েত হতে দেয়া যাবে না। এটা নিশ্চিত করা না হলে সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না।

XS
SM
MD
LG