অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাক বিতণ্ডায় পূর্ণ ছিল ট্রাম্প-বাইডেন বিতর্ক


বাক বিতণ্ডায় পূর্ণ ছিল ট্রাম্প-বাইডেন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বাকী থাকতে ২৯শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে ওহাইওর ত্লিভল্যান্ডে প্রথম বিতর্কে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যার যার নীতি ও কর্মসূচী নিয়ে বাক বিতন্ডা করেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বাকী থাকতে ২৯শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে ওহাইওর ত্লিভল্যান্ডে প্রথম বিতর্কে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যার যার নীতি ও কর্মসূচী নিয়ে বাক বিতন্ডা করেন। দেড় ঘন্টার বিতর্কে একে অপরকে আক্রমণ করে কথা বলেন দুজনই। ভোটারদেরকে তারা একে অন্য সম্পর্কে এই ধারনা দেন যে তিনি অযোগ্য।

ট্রাম্প বাইডেন বিতর্ক
please wait

No media source currently available

0:00 0:02:42 0:00

করোনা মহামারী, অর্থনীতি, পরিবেশ ও জলবায়ু, বর্ণ বৈষম্য, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি, আয়কর, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গতরাতের দীর্ঘ বিতর্কে অনেকবারই দুই প্রার্থীর মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়।

ওহাইর ক্লিভল্যান্ডে ফক্স নিউজের ক্রিস ওয়ালেসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিতর্কে বেশ কয়েকবার দুই দলের দুই প্রার্থী পরস্পরকে অপমান করেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে আক্রমণ করেন।

বাইডেন ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন তিনি হচ্ছেন আমেরিকার সব চেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট। তিনি বেশ কয়েকবারই ট্রাম্পকে ক্লাউন বা ভাঁড় বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প পাল্টা জবাবে বলেন, “আমি প্রসিডেন্ট হিসেবে গত ৪৭ মাসে যা করেছি আপনি গত ৪৭ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তা করতে পারেননি"।

বিতর্কের সূচনা হয় সম্প্রতি মারা যাওয়া যুক্তরাস্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক রুথ বেডার গিন্সবার্গের স্থলাভিষিক্ত করার বিষয় নিয়ে। যা দ্রুত উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়ে ওঠে।

কোভিড-১৯ বিষয়টি আসে পরপরই। করোনা মহামারীতে বিশ্বব্যাপী এক মিলিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০০,০০০ এর ও বেশী মানূষ মারা গেছে। এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন বলেন, "কভিড নিয়ন্ত্রনে এই প্রেসিডেন্টের কোন পরিকল্পনা নেই। তিনি ফেব্রুয়ারি মাসে জানতেন যে এই সংকট কতটা গুরুতর"।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন তিনি একটি কার্যকর কর্মসূচীর নেতৃত্ব দিয়েছেন, "আমরা কভিড থেকে নিরাপদ থাকতে গাউন, মুখোশ, আমরা ভেন্টিলেটর বানিয়েছি। বাইডেন হলে এসব হতোনা। আর এখন আমরা করোনার টিকা থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহ দূরে আছি”।

জো বাইডেন সাশ্রয়ী মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা বা এ্যফর্ডেবল কেয়ার এ্যাক্ট বা ওবামাকেয়ার সম্পর্কে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই প্রচেষ্টাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। ওবামাকেয়ার, যা প্রায় ২ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ওই আইন অসাংবিধানিক এবং ভোক্তাদের পছন্দকে সীমাবদ্ধ করে।

বাইডেন বলেন তিনি ওবামাকেয়ারের যে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছেন তার অধীনে ভোক্তাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা তারা বজায় রাখতে পারবেন, "তারা পারবে, তারা পারবে, তারা আমার প্রস্তাবের অধীনে থাকবে।"

বিতর্ক চলাকালে একজনের কথার ওপর অন্যজন কথা বলায় খানিকটা বিশৃংখল মনে হয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "ওবামাকেয়ার ভালো নয়। আমরা এটাকে আরও ভালো করে গড়ে তুলতে পেরেছি”।

ট্রাম্প বাইডেনের বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক ঔষধ অনুসরণের অভিযোগ আনেন।

উদারনৈতিক বিচারপতি রুথ বদর গিন্সবার্গের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একটি আসন পূরণ করতে ট্রাম্পের পছন্দ রক্ষণশীল বিচারক এমি কোনি ব্যারেট। বাইডেন বলেন নভেম্বরে যে জিতবে তার গিন্সবার্গের আসন পূরণ করা উচিত।

জো বাইডেন, "সুপ্রিম কোর্টের মনোনীত প্রার্থী কে তা বলার অধিকার আমেরিকার জনগণের আছে।"

জবাবে ট্রাম্প বলেন এই পদ পূরণ করা এখন তার দায়িত্ব, "আমরা নির্বাচনে জিতেছি এবং তাই তাকে বেছে নেওয়ার অধিকার আমাদের আছে।"

ট্রাম্পের প্রচারাভিযান কর্মকর্তা টিম মুরতাগ, বলেন যে তিনি এই বিতর্কে সন্তুষ্ট, "দর্শকরা দেখেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিতর্কের প্রতিটি মুহূর্তের সরব ছিলেন এবং আমি মনে করি দর্শকরা বেশীরভাগ সময় একজন দুর্বল জো বাইডেনকে দেখেছে, যিনি মডারেটরের সাহায্যের জন্য অনেক সময় তার দিকে তাকিয়ে থেকেছেন”।

বিশ্লেষকরা বিতর্কের নানা বিষয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন। জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয় এর বিশ্লেষক জেরেমি মায়ার মতে, "যখন বাইডেন কথা বলেন, অনেকবার তিনি ১০, ২০, ৩০ সেকেন্ড কথা বলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বাধা দেন। তাই এই বিতর্কে কে জিতেছে তা জিজ্ঞেস করা প্রায় অর্থহীন; কারণ প্রেসিডেন্ট আসলে নিশ্চিত করেছেন যে কোন রাষ্ট্রপতি বিতর্ক নেই।

বিতর্কর নভেম্বরের নির্বা্চনের নানা বিষয় আলোচনা হয়। ডাক মারফত ভোট হলে ট্রাম্প মনে করেন ভোটে কারচুপি হবে তবে বাইডেন বলেন যে ডাক মারফত ভোটে জালিয়াতি হবার কোন প্রমাণ নেই।

জরিপে দেখা গেছে বেশির ভাগ ডেমক্র্যাট ডাকে ভোট দেবার পক্ষে কিন্তু অধিকাংশ রিপাবলিকানই বলছেন যে তাঁরা নির্বাচনের দিনই সরাসরি ভোট দেবেন। জনমত জরিপে ট্রাম্পের তূলনায় বাইডেন ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন যদিও গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য খুব কম।

প্রথম রাউন্ড শেষ হওয়ার পর, অক্টোবরে আরো দুটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।

XS
SM
MD
LG