অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা 


শিশু সন্তান কোলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশের এক নারী

জলবায়ু বিষয়ক এক ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞ, পরামর্শক, আলোচক এবং অংশগ্রহণকারিরা এমন মন্তব্য করে বলেছেন নারী ও শিশুদেরকে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচাতে রাষ্ট্র ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া নারীর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বৈষম্যমূলক প্রভাব সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে খর্ব করছে বলে মনে করছেন বক্তারা। বক্তারা বলেছেন কার্যকর জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে অবশ্যই লিঙ্গ-বৈষম্যের বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগী হতে হবে।

দারিদ্র্য নিরসনের কাজে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইড এর বাংলাদেশ শাখা কর্তৃক মঙ্গলবার আয়োজিত এ ওয়েবিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজান আর খান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফেরদৌসি বেগম ও একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।

মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে জলবায়ু প্রভাব প্রশমনের জন্য বাংলাদেশের বাজেট বরাদ্দের বিশ্লেষণ করে বক্তারা গত বছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য জলবায়ু বাজেট বরাদ্দ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন । আলোচকরা বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের ২৫টি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের জন্য চলতি বছরের বাজেটে ২৫,১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ০.২২ শতাংশ কম। তাঁরা বলেছেন বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া অর্থের মধ্যে অন্যান্য খরচ বাদে উন্নয়ন খাতের জন্য অবশিষ্ট থাকে ১৪.৮৩৯ কোটি টাকা যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

অধ্যাপক মিজান আর খান বলেন জলবায়ু অর্থায়নের ৮৫ শতাংশ বরাদ্দ আসে স্থানীয় খাত থেকে এবং এ কারণে স্থানীয় খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, তাকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার যুব সমাজকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধমে জনশক্তি রপ্তানি করা যেতে পারে। উপ- সচিব ফেরদৌসি বেগম বলেন যে কোনও দুর্যোগে নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। তাই কীভাবে নারী ও শিশু বান্ধব বাজেট প্রণয় করা যায় সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

XS
SM
MD
LG