অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিয়ে করা স্ত্রীদের ইরাক পাচার করতেন লিটন 


অভিনব কায়দায় নারী পাচারের অভিযোগে লিটন মিয়াকে আটক করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা র‌্যাব

নিজেকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি হাসপাতালের বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন লিটন মিয়া। তারপর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতেন পাত্রীর বাড়ি। বিয়ে করে কিছুদিন সংসার করতেন। আবার অনেক সময় সংসার করতেনও না। বিয়ে করা স্ত্রীকে বিদেশ নেওয়ার নাম করে পাঠাতেন বাগদাদ। তারপর সেই স্ত্রীকে বিক্রি করে দিতেন। এটাই ছিল লিটনের এক ধরনের পেশা। এভাবে পাঁচ স্ত্রীকে পাচার করেন তিনি। ষষ্ঠ বিয়ের পর পাচারের আগেই আরেক সহযোগীকে নিয়ে ধরা পড়েন।

অভিনব কায়দায় নারী পাচারের অভিযোগে তাকে আটক করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা র‌্যাব। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন লিটন সিন্ডিকেটের কান্ড। বিলাসবহুল গাড়ি, বিয়ার, দেশি-বিদেশি জাল টাকা পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয় তার কাছ থেকে।

লিটনের বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ অনেক দিন থেকে। সিন্ডিকেট তৈরি করে লিটন চক্র নারী পাচারে সংশ্লিষ্ট ছিল। বাংলাদেশে ১৯৯২ সালে লিটন একটি হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করত। অনৈতিক কারণে চাকরি চলে যায়। তারপর চলে যান ইরাক। বেশি দিন থাকেননি। ২০১৩ সালে চলে যান ইতালি। পাশাপাশি ইরাক ও দুবাইতে গড়ে তোলেন নারী পাচার সিন্ডিকেট। বিউটি পারলার, সুপারশপ ও নার্সিং পেশায় চাকরির প্রলোভন দিয়ে নারীদের পাঠানো হতো বিদেশে। তাদের কাছ থেকে নেওয়া হতো চার লাখ করে টাকা।

র‌্যাব জানায়, লিটন ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইতালি ছিলেন। এই সময়ের ভিতরে দেশে এসে বা ফোনে বিয়ে করেন ৬ নারীকে। ৫ জনকে বিদেশ নেওয়ার নাম করে পাঠিয়ে দেন ইরাক। মোট শতাধিক নারী পাচারে সম্পৃক্ত লিটন সিন্ডিকেট।

র‌্যাব জানায়, চাকরির আশ্বাস দিয়ে নারীদের দুবাই পাঠানো হতো ট্যুরিস্ট ভিসায়, আর ইরাক ভিজিট ভিসায়। বলত, গেলেই চাকরি মিলবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরি মিলত না। কিছুদিন নিজেদের কাছে রেখে পরে সুযোগ বুঝে বিক্রি করে দেওয়া হতো।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, অনেক সময় বিদেশ নিয়ে তারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে জিম্মি করত। নির্যাতন থেকে রক্ষার কথা বলে টাকা নিত পরিবারগুলোর কাছ থেকে। দীর্ঘদিন থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লিটন ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়েছে শনিবার। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চেষ্টা চলছে তাদের সিন্ডিকেটকে ধরার।

XS
SM
MD
LG