অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বৃহস্পতিবারও জামিন হয়নি আরিয়ান খানের, পেলেন নতুন কয়েদী নম্বর 


আরিয়ান খান

মাদক মামলায় এখনই জামিন পাচ্ছেন না শাহরুখ-তনয় আরিয়ান খান। বৃহস্পতিবারও তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ হয়েছে। আপাতত আর্থার রোড জেলই তাঁর ঠিকানা। আগামী বুধবার ২০ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ততদিন জেলেই কাটাতে হবে শাহরুখ-পুত্রকে। মাদক কাণ্ডে এখনই আরিয়ানকে ছেড়ে দিতে নারাজ নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) (NCB)।

বৃহস্পতিবার শুনানির সময় এনসিবির আইনজীবী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং দাবি করেন, প্রমোদতরীর পার্টিতে মাদক চেয়ে পাঠিয়েছিলেন আরিয়ান খান। মাদক কেনাবেচার যে আন্তর্জাতিক চক্র আছে তার সঙ্গেও শাহরুখ-তনয়ের যোগাযোগ আছে বলে মনে করা হচ্ছে। ডার্ক ওয়েবে মাদক কেনাবেচার পাণ্ডাদের সঙ্গে আরিয়ানের যোগাযোগ আছে বলে জানা গেছে। এই ব্যাপারে আরও বিশদে তদন্তের জন্য আরিয়ানকে হেফাজতে রাখতেই হবে বলে আদালতকে জানিয়েছেন তিনি।

আইনজীবীর আরও বলেছেন, ভারতের মতো দেশে যেখানে মহাত্মা গান্ধী জন্মেছেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, সেখানে যুব সমাজ মাদক নিচ্ছে, এটা মানা যায় না। অনিল সিং বলেছেন, মাদকের ব্যবহার যুব সমাজকে প্রভাবিত করছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবীর বক্তব্যের জবাবে আরিয়ানের আইনজীবী অমিত দেশাই বলেছেন, প্রমোদতরীতে আরিয়ান মাদক চেয়ে পাঠিয়েছিল বা তাঁর বন্ধুরা মাদক কিনেছিল তার কোনও পাকাপোক্ত প্রমাণ নেই। আইনজীবীর দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ওপর ভিত্তি করে মামলা সাজানো হচ্ছে। কমবয়সীদের গ্রেফতার করে জেলে ভরে দেওয়া হয়েছে, এটা ঠিক নয়। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ব্যক্তিগত, সেখানে কমবয়সী ছেলেমেয়েরা নানা প্রসঙ্গে কথাবার্তা বলে। সেটাকেই প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

এনসিবি-র যুক্তি, এই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটই দেখিয়ে দিয়েছে আরিয়ান ও তাঁর বন্ধুরা আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর কাছ থেকে নিষিদ্ধ মাদক সংগ্রহ করতেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু আরবাজ মার্চেন্টের কাছ থেকে আরিয়ান প্রায়ই মাদক কিনতেন। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেছে এনসিবি।

এনসিবি-র যুক্তি, এই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটই দেখিয়ে দিয়েছে আরিয়ান ও তাঁর বন্ধুরা আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর কাছ থেকে নিষিদ্ধ মাদক সংগ্রহ করতেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু আরবাজ মার্চেন্টের কাছ থেকে আরিয়ান প্রায়ই মাদক কিনতেন। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেছে এনসিবি।

ওদিকে মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলে শাহরুখ খানের বড় ছেলেকে দেওয়া হয়েছে কয়েদি নম্বর।আর সেই নতুন ঠিকানায় তিনি এখন 'কয়েদি নম্বর ৯৫৬'। বৃহস্পতিবারই এই নতুন নম্বর পেয়েছেন আরিয়ান। জেল চলছে জেলের নিয়মে। আর সেই নিয়মের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে দিন কাটাতে হবে আরিয়ানকে, অন্তত যতদিন না তিনি জামিন পাচ্ছেন।

এক সপ্তাহ হয়ে গেলে আরিয়ান হাজতবাস করছেন। বারবার আদালতে খারিজ হয়ে গেছে তাঁর জামিনের আবেদন। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত আর্থার রোড জেলই ঠিকানা আরিয়ানের।

শোনা গেছে, মন্নতের বিলাসিতায় বড় হয়ে ওঠা আরিয়ান মুখেই তুলতে পারছেন না জেলের খাবার। তিনি খাচ্ছেন শুধু জেলের ক্যান্টিনের বিস্কুট আর জল। মন্নত থেকে খাবার এসেছিল একদিন তাঁর জন্য, কিন্তু জেলের নিয়ম অনুযায়ী তা আরিয়ানের কাছে পৌঁছতে দেওয়া হয়নি। লোক খাবার হাতেই ফিরে গিয়েছিল।

শুক্রবার জানা গেছে, বাড়ি থেকে তাঁর জন্য পাঠানো হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। ওই টাকায় আরিয়ান মুম্বইয়ে আর্থার রোড জেলের ক্যানটিন থেকে খাবার কিনতে পারবেন। কোনও বন্দিকে বাড়ি থেকে সর্বাধিক সাড়ে চার হাজার টাকা পাঠানো যায়।

ইতিমধ্যে ভিডিও কলে ১০ মিনিট বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেছেন আরিয়ান। এর আগে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বন্দিরা সপ্তাহে দু'বার ভিডিও কলে বাড়ির লোকের সঙ্গে ১০ মিনিট করে কথা বলতে পারবেন। কোভিড পরিস্থিতির জন্য ওই নির্দেশ দেওয়া হয়। আরিয়ান অবশ্য এক সপ্তাহে মাত্র একবারই ভিডিও কলে কথা বলেছেন।

জেলের সুপারনটেনডেন্ট নীতিন ওয়েচাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আদালত যদি কোনও নির্দেশ না দেয়, তাহলে শাহরুখ-পুত্রকে বাইরের খাবার দেওয়া হবে না। তাঁকে জেলের খাবারই দেওয়া হবে।

XS
SM
MD
LG