অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বৈশ্বিক উষ্ণতা চরম সীমারেখার কাছাকাছি – জাতিসংঘ প্রতিবেদন


গ্রীসের এথেন্স থেকে ১০০ মাইল উত্তরে এভিয়া দ্বীপের লিমনি গ্রামের কাছে কোচিলি বীচের দিকে ধেয়ে আসা দাবানলের দিকে তাকিয়ে থাকা একজন লোকের এই ছবিটি চলতি মাসের ৬ তারিখে তোলা। ফাইল ফটো -এপি

পৃথিবীর উষ্ণতা এতোটাই বেড়ে চলছে যে আগামী এক দশকে তাপমাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলতে পারে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তা প্রতিরোধের উপায় খুঁজছেন। সোমবার জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই অবস্থাকে বলা হয়েছে, ‘মানবতার জন্যে চরম বিপদ’।  

পৃথিবীর উষ্ণতা এতোটাই বেড়ে চলছে যে আগামী এক দশকে তাপমাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলতে পারে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তা প্রতিরোধের উপায় খুঁজছেন। সোমবার জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই অবস্থাকে বলা হয়েছে, ‘মানবতার জন্যে চরম বিপদ’।

প্রতিবেদনের সহকারী লেখক যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্রের লিণ্ডা মেয়ারন্স মনে করেন, “এটা নিশ্চিত যে অবস্থা আরও খারাপ হবে। যাবার কোন স্থান নেই, পালিয়ে বাঁচার উপায় নেই”।

প্রতিবেদনে পাঁচটি অবস্থার কথা উল্লেখ করে কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হয়। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর জোর দেয়া হয়। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ কার্বন নিঃসরণ ২.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট কমানোর চেষ্টা করতে সম্মত হন। কিন্তু সমস্যা দ্রুত বাড়তে থাকে তারপর থেকে। ইতিমধ্যেই বিশ্বের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেড়ে গিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয় এই অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ অর্থাৎ আগে যে সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল তার আগেই উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির মাত্রা অতিক্রম করবে।

প্রতিবেদনের সহ সভাপতি জলবায়ু বিজ্ঞানী ভ্যালেরি মেসন ডেলমট বলেন, “আমাদের রিপোর্ট বলছে আগামী দশকে আমাদেরকে উষ্ণতার সেই মাত্রার জন্যে প্রস্তুত হতে হবে। তবে তাঁর চেয়ে যেনো আর না বাড়ে সেজন্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বন্ধে কাজ করতে হবে”।

তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে বড়ো আকারে নিঃসরণ বন্ধ না হলে বিশ্বের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে শিল্পায়ন পূর্ব অবস্থায় যেতে পারে এবং উষ্ণ বায়ু প্রবাহ, ক্ষরা, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যেতে পারে।

২৩৪ জন বিজ্ঞানীর করা ৩ হাজার পৃষ্ঠার বেশি দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে উষ্ণতার কারণে ইতোমধ্যেই সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। বন্যা, ক্ষরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও তপ্ত বায়ু প্রবাহসহ নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। শক্তিশালী ও ভয়াবহ হচ্ছে ক্রান্তীয় ঝড়, গলে যাচ্ছে আর্কটিকের বরফ ও কমছে ভূগর্ভস্থ মজুদ। সবকিছুই আরও খারাপের দিকে যাবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

রিপোর্টের আরেক লেখক রাটগারস বিশ্ববিদ্যালয়ের বব কপ বলেন, এই শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১৩ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার (৬ থেকে ১২ ইঞ্চি) বৃদ্ধি পর্যন্ত সইতে পারবে আমাদের ধরণী।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচীর নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার এণ্ডারসন বলেন, বিজ্ঞানীরা গত তিন দশক ধরে এ কথাটাই বলে আসছেন। কিন্তু বিশ্ব তাতে কর্ণপাত করেনি।

রিপোর্টে প্রথমবারের মত তুলে ধরা হয় অতীতে কিভাবে পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে এবং এর ভবিষ্যৎ কি। বলা হয়েছে পৃথিবীতে উষ্ণায়নকে উস্কে দেয়া হয়েছে কার্বন ও মিথেনের জ্বালানি ভিত্তিক নিঃসরণের মাধ্যমে।

রিপোর্টটিকে ‘এ কোড রেড ফর হিউম্যানিটি’ উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুটিরেজ আশা করেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার চেষ্টা করবেন, যদিও এই সীমা একেবারেই কাছাকাছি চলে এসেছে।

চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ মনুষ্য সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ শূন্যে আনার অঙ্গীকার করেছে বিশ্বের ১০০ টির বেশি দেশ। স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী জলবায়ু সম্মেলনের একটি প্রধান বিষয় হবে এটি।

XS
SM
MD
LG