অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

১৬ মাস পর বাংলাদেশের জেলখানা থেকে মুক্তি, ভারতে ফিরলেন নদিয়ার মা-মেয়ে


নদিয়ার মা-মেয়ে

দীর্ঘ ১৬ মাস পর বাংলাদেশের জেলখানা থেকে মুক্তি পেয়ে ঘরে ফিরলেন মা ও মেয়ে। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার বানপুর মাটিয়ারির কুলোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তারা। অবশেষে ফিরে আসায় পরিবারে ও এলাকায় খুশির আবহ। ভারত সরকারের সহযোগিতায় অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মেয়ে ও স্ত্রীকে বাংলাদেশের জেল থেকে ছাড়িয়ে এনেছেন মনসুর আলি। তাদের ফিরে পেয়ে প্রশাসনকে বারবার ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তিনি ও তার পরিবার।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের এপারে নদিয়ার কুলোপাড়া গ্রাম। সেই গ্রামেরই বাসিন্দা মনসুর আলি ও তার পরিবার। জানা গিয়েছে মনসুরের মেয়ে শোভা খাতুন রাতে ভয় পায়। তাই মেয়েকে ভাল করতে কুসংস্কারের বশে বাংলাদেশের এক তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হয়েছিল পরিবার। বাংলাদেশের এক গ্রামে ঝাড়ফুঁক করাতে মেয়েকে নিয়ে যান মনসুর আলির স্ত্রী ভুলু বিবি। কিন্তু ঝাড়ফুঁক করিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান মা ও মেয়ে। কিন্তু সেনাদের কোনও বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় বাংলাদেশ পুলিশ কাস্টডিতে ঠাঁই হয় তাদের। তারপর সেখান থেকে সোজা জেলখানায়।

এরপরই শুরু হয় তাদের মুক্তির লড়াই। স্ত্রী-কন্যাকে ফেরাতে মনসুর রাজ্যের প্রতিটি প্রশাসন দফতরের আধিকারিকের দ্বারস্থ হন। কলকাতার নবান্নেও পড়ে থেকেছেন তিনি। তারপর দীর্ঘ ১৬ মাস পর, অনেক আইনি জটিলতা পেরিয়ে নতুন বছরের দ্বিতীয় সোমবার ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে দেশে ফেরেন মা ও মেয়ে। তাদের ফেরানোর ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা। ভারত সরকারের সহযোগিতার কথা কখনওই ভুলবেন না বলে জানিয়েছেন মনসুর আলি। খুশির হাওয়া এখন নদিয়ার বানপুর মাটিয়ারির কুলোপাড়া গ্রামেও।

XS
SM
MD
LG