অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিয়ানমারের আদালত আমেরিকান সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে

ফাইল ছবি - ফেনস্টার পরিবারের দেয়া ছবিতে লুইসিয়ানার নিউ আইবেরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারকে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে৷৪ জুন ২০২১। (ছবি-এএফপি/ফেনস্টার পরিবার)
ফাইল ছবি - ফেনস্টার পরিবারের দেয়া ছবিতে লুইসিয়ানার নিউ আইবেরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারকে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে৷৪ জুন ২০২১। (ছবি-এএফপি/ফেনস্টার পরিবার)

মিয়ানমারের একটি আদালত আমেরিকান সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারকে বেআইনি সম্পৃক্ততা, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানি এবং ভিসা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। শুক্রবার তার আইনজীবী এবং নিয়োগকারী সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে।

ফেনস্টারের আইনজীবী থান জাও অং ভিওএ-কে বলেন, বর্তমানে এই মামলার বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

ফেনস্টারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসবাদের অতিরিক্ত অভিযোগও রয়েছে, যার জন্য তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। নতুন অভিযোগগুলো কেন আনা হয়েছে বা ফেনস্টার কী করেছে বলে কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করছে, বুধবার তার আইনজীবী সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা নিষিদ্ধ করা বিষয়ক আইন মিয়ানমারের দণ্ডবিধির ১২৪ এর এ ধারার অধীনে এবং "সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর" সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৫০ এর এ ধারার অধীনে এই অতিরিক্ত অভিযোগগুলো দায়ের করা হয়েছে।

রেঙ্গুন-ভিত্তিক ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, "ফ্রন্টিয়ারের সবাই এই সিদ্ধান্তে হতাশ।"

গত মে মাসে ফেনস্টার যখন মালয়েশিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে একটি ফ্লাইটে উঠছিলেন তখন রেঙ্গুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

থান জাও অং ভিওএকে বলেন, “তারা (পুলিশ) ভেবেছিল তিনি মিয়ানমার নাও এর হয়ে কাজ করছেন। বিমানবন্দরে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ তার মিয়ানমার নাউ এর নামের ট্যাগ পায়”।

গত এপ্রিল মাসে যে পাঁচটি সংবাদ সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করেছিল জান্তা, মিয়ানমার নাও তাদের মধ্যে একটি।

ফেনস্টার ২০১৯-২০২০ সাল পর্যন্ত ঐ সংবাদ সংস্থায় কাজ করতেন। কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের কয়েক মাস আগেই তিনি চাকরি ছেড়ে দেন বলে মিয়ানমার নাউ নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বুধবার ভিওএকে বলেন ফেনস্টারকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া উচিত।

তিনি বলেন, “আমরা জানি যে সরকার ড্যানির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ এনেছে। ড্যানিকে যে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে তা বিশ্বের কাছে স্পষ্ট। সরকারকে এখনই তাকে মুক্তি দেয়ার বিচক্ষণ পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তার অব্যাহত আটক অগ্রহণযোগ্য। সাংবাদিকতা কোন অপরাধ নয়।”

এই সপ্তাহের শুরুতে ভিওএ এর একজন সাংবাদিক ফেনস্টারের মুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তার জবাবে প্রাইস বলেন ফেনস্টারের মুক্তি দেয়ার বিষয়টি একটি "অকাট্য অগ্রাধিকার"।

আগে বার্মা নামে পরিচিত মিয়ানমারের আধুনিক ইতিহাসের অধিকাংশই সামরিক শাসনের অধীনে পরিচালিত হয়েছে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG