অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যে পাঁচটি বিষয় নিয়ে ফেসবুক উদবিগ্ন 


লন্ডনে পার্লামেন্টের বাইরে মার্ক জাকারবার্গের তাকার ওপর দাঁড়িয়ে সার্ফিং চিত্রিত ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন একজন প্রতিবাদকারী।২৫ অক্টোবর ২০২১। (ছবি-এপি/কার্স্টি উইগালসওয়র্থ)

গত কয়েকটি সপ্তাহ বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের জন্য কঠিন ছিল। কয়েকজন গোপন তথ্যদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে তথ্য দেয় যে তারা জানতো যে তাদের এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে মানব পাচার থেকে শুরু করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সমস্ত ধরণের সামাজিক অসুস্থতা বাড়ছে।

এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই সপ্তাহে নতুন পাওয়া তথ্যগুলি প্রমাণ করেছে যে মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি প্রতিষ্ঠানটির যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে তা চাপের মুখে রয়েছে কেননা ভিয়েতনামের মতো দমনমূলক সরকারসমূহ এখন ভিন্নমত পোষণকারীদের কণ্ঠ রোধ করে দেয়ার দাবি করছে। দেখা যাচ্ছে যে ফেসবুক জানত যে তাদের অ্যালগরিদম বা গাণিতিক পরিভাষাগুলি ব্যবহারকারীদের চরম বিষয়বস্তুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে-যেমন কিউআনন (QAnon) ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং টিকা সম্পর্কিত মিথ্যা তথ্য।কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এই সমস্যাগুলোর প্রতিকারের জন্য তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কাছে দেয়া বিবৃতিতে, সংস্থাটি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে, বলেছে যে তারা তাদের এই মাধ্যমকে নিরাপদ করার জন্য প্রচুর সম্পদ বিনিয়োগ করেছে। তারা জোর দিয়ে বলছে যে সাংবাদিক এবং সরকারী কর্মকর্তাদের কাছে যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগ খণ্ডিত তথ্য।

সোমবার কোম্পানির ত্রৈমাসিক আয় সম্পর্কিত এক কনফারেন্স কলে ফেসবুকের নির্বাহী পরিচালক মার্ক জাকারবার্গ দাবী করেন যে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া হচ্ছে।

এসব তথ্য ফাঁসের ঘটনা, সেইসঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জগুলির অর্থ হল যে ফেসবুক, যারা ইনস্টাগ্রাম এবং মেসেজিং পরিষেবা হোয়াটসঅ্যাপেরও মালিক, আগামী কয়েক মাস বেশ উৎকণ্ঠায় কাটাবে।

সম্ভাব্য এসইসি তদন্ত

প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও গোপন তথ্যদাতা ফ্রান্সিস হগেন গত মাসে আইনপ্রণেতা ও সাংবাদিকদের কাছে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার নথি দিয়েছিলেন, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যাবলী সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি করে।নথিগুলি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছেও দেয়া হয় এবং বলা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

হগেন দাবি করেছেন যে নথিগুলি প্রমাণ করে যে কোম্পানি তথ্য গোপন করেছে যা ফেসবুকের স্টক কেনার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

এন্টিট্রাস্ট মামলা

ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ইতিমধ্যে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যেখানে দাবি করা হয়েছে যে কোম্পানির প্রধান সাইট, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যে, সামাজিক মাধ্যমের বাজারে ফেসবুকের একাধিপত্য। সংস্থাটি এই তিনটি মাধ্যমকে আলাদা করার দাবি করছে।

ফেসবুক প্রকাশ্যে দাবি করেছে যে এটির একাধিপত্য নেই, কিন্তু হগেন যে নথিগুলি পেয়েছেন তা প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানটি জানে যে এটি কিছু এলাকায় অপ্রতিরোধ্যভাবে প্রভাবশালী। সম্ভাব্যভাবে এই অতিরিক্ত তথ্যটি এফটিসিকে সাহায্য করবে যাতে তারা কেন্দ্রীয় বিচারককে কোম্পানি আলাদা করার বিষয়ে রাজি করাতে পারে।

আইনী পদক্ষেপ

কংগ্রেস আজকাল অনেক কিছুতে একমত নয়, তবে গত মাসে একটি শুনানিতে হগেনের সাক্ষ্য ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে দ্বিদলীয় ক্ষোভের জন্ম দেয়। বিশেষ করে যখন তারা বুঝতে পারলেন যে ইনস্টাগ্রাম জানতো যে তাদের মাধ্যমটি অনেক কিশোর ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক, বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়েদের জন্য।

এরপর থেকে বেশ কয়েকটি আইন প্রবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি "অ্যাপ রেটিং বোর্ড" তৈরি করার প্রস্তাব রয়েছে যা ইন্টারনেট-সক্ষম ডিভাইসগুলিতে অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য বয়স এবং বিষয়বস্তু নির্ধারণ করবে৷

অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত

এই সপ্তাহে প্রকাশিত নথিগুলির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসগুলির মধ্যে একটি হল জনসাধারণের কাছে কোম্পানির ভাবমূর্তি নিয়ে ফেসবুকের ভিতরে ক্ষোভের যে সৃষ্টি হয়েছে তার পরিমাণ। যে তথ্যগুলি প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে অভ্যন্তরীণ বার্তা এবং অন্যান্য যোগাযোগের তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেখানে ফেসবুক কর্মীরা তাদের সাইটে নিয়ম কানুন প্রযোজ্য করার ক্ষেত্রে কোম্পানির অনিচ্ছা সম্পর্কে অভিযোগ করে।

বিজ্ঞাপনদাতাদের বয়কট

গত বছর অ্যান্টি-ডিফেমেশন লীগ ফেসবুকে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য সরাতে ব্যর্থ হওয়ার প্রতিবাদে ফেসবুকে তাদের বিজ্ঞাপন না দেয়ার জন্য সংস্থাগুলিকে চাপ দেয়ার জন্য একটি প্রচারণার আয়োজন করেছিল। ভিওএ-কে দেয়া এক বিবৃতিতে, গ্রুপের সিইও জোনাথন এ. গ্রিনব্ল্যাট বলেন, ঐ আয়োজনটি আবার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

XS
SM
MD
LG