অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে করোনা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে, রেকর্ড ১৫৩ জনের মৃত্যু


বাংলাদেশে করোনা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে

রাজধানী ঢাকা ইতিমধ্যেই করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। ঢাকায় এখন রোগী শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। করোনা ডেডিকেটেড ৫টি হাসপাতালের মধ্যে একটি হাসপাতালেও আইসিইউ খালি নেই।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৪০টি জেলাকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বলেছিল। মাত্র দু' সপ্তাহের ব্যবধানে সারা দেশই এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

অসম্ভব ছোঁয়াচে এই ভাইরাসটি শহর থেকে গ্রামেও ঢুকে পড়েছে। রাজধানী ঢাকা ইতিমধ্যেই করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। ঢাকায় এখন রোগী শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। করোনা ডেডিকেটেড ৫টি হাসপাতালের মধ্যে একটি হাসপাতালেও আইসিইউ খালি নেই। প্রতিদিনই ঢাকার বাইরে থেকে রোগী আসছেন। গত রাতে চার ঘণ্টার ব্যবধানে মহাখালীর ডিএনসিসি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ২৮ জন রোগী ভর্তি হন। এরমধ্যে ২৭ জনই ঢাকার বাইরের।

সারা দেশে ৫২টি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা নেই। বাংলাদেশের আইসিইউ শয্যার ৭৬ শতাংশই ঢাকা বিভাগে। এরমধ্যে রাজধানীতেই ৭৩ শতাংশ। সারা দেশে আইসিইউ শয্যা রয়েছে এক হাজার ১৫৭ টি। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা না থাকায় রোগীর স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

খুলনার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর বলছে, দেশে অক্সিজেন সংকট নেই। তবে যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে সংকট হতে পারে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, বছরের ২৫তম সপ্তাহের তুলনায় ২৬তম সপ্তাহে রোগী বেড়েছে ৫১ শতাংশ। মৃত্যু বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এটাই একদিনে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে একদিনে ১৪৩ জন মারা যান। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ৬৬১ জন।

লকডাউনে প্রধান সড়কগুলো বলতে গেলে ফাঁকা। তবে অলি-গলিতে মানুষের ভিড় অনেক বেশি। পুরনো ঢাকায় স্বাভাবিকের চেয়েও স্বাভাবিক। গত তিনদিনে লকডাউন ভাঙ্গার অভিযোগে দেড় হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

রাজধানীতে সকালের দিকে বৃষ্টির কারণে জন-চালাচল কম ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চলাচল বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মাইকিং হচ্ছে শহরে। কিন্তু কে শুনে? বেশিরভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। কাজ না থাকায় খেটে খাওয়া মানুষজন পড়েছেন বিপদে। বিনামুল্যে এবার খাদ্যও সরবরাহ করা হচ্ছে না। অনেকে তাই টিসিবির চাল বিক্রির দোকানে ভিড় করছেন। যদিও চালের সরবরাহ কম থাকায় খালি হাতে ফিরছেন অনেকেই। লকডাউনের কারণে চালের দাম প্রতি কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে।

XS
SM
MD
LG