অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুক্রবারের হামলার ঘটনায় ৮ জন আটক   


রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কক্সবাজার জেলার উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে হাঁটছে। ১০ অক্টোবর ২০২১।)ছবি-এপি/শফিকুর রহমান)

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার জেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুক্রবার ভোরে চালানো হামলায় হতাহতের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন শুক্রবার রাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে এই ৮ জনকে আটক করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানানো হয় নাই। এর আগে গতকাল শুক্রবার হামলার ঘটনার পর পরই একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা হয় নাই।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এই ঘটনায় এপিবিএন প্রথমে ৭ জন নিহত হওয়ার খবর জানালেও পরে তা সংশোধন করে ৬ জনের প্রাণহানির কথা নিশ্চিত করা হয়। বলা হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়াহ মাদ্রাসায় শুক্রবার ভোরে দুর্বৃত্তরা সশস্ত্র হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই ৪ জন নিহত হন এবং পরে হাসপাতালে গুরুতর আহত দুইজন মারা জান। পুলিশ জানিয়েছে নিহতদের সকলেই মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক আবু ছৈয়দ জানিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশান আর্মি বা আরসা এর লোকজন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তাদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল । কিন্তু এতে তারা সায় না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, রোহিঙ্গা নেতা ও আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস এর চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া আজিজুল হককে গ্রেপ্তারের করার খবর আজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ১৪ এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাইমুল হক। তিনি জানান আজিজুল হককে লম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে রশিদ, আনাস ও নূর মোহাম্মদ নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে নাইমুল হক বলেন মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় এ নিয়ে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হল।

জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুলের স্বীকারোক্তির উল্লেখ করে এপিবিএন ‘এর এই কর্মকর্তা বলেন রোহিঙ্গাদের নেতা হিসেবে মুহিবুল্লাহ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকায় তাঁর উত্থান ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঠেকাতে একটি দুর্বৃত্ত সংগঠনের নির্দেশে তাঁকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন হত্যার দুই দিন আগে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে দুর্বৃত্তরা ৫ জনকে অস্ত্রসহ মোট ১৯ জনকে নির্দেশ দিয়েছিল মিশন শেষ করার জন্য। সেই মোতাবেক পাঁচ জনের কিলিং স্কোয়াড গত ২৯ শে সেপ্টেম্বর রাতে মুহিবুল্লাহকে তাঁর অফিসে গুলি করে হত্যা করে । এই হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

XS
SM
MD
LG