অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

লঞ্চে অগ্নিকান্ডঃ মালিকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা 


ঝালকাঠিতে আগুন লাগা লঞ্চের ভেতরের পুড়ে যাওয়া অংশ। দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন মারা যান। (ডিসেম্বর ২৪, ২০২১। (ছবি- আরিফুর রাহমান/ এএফপি)
ঝালকাঠিতে আগুন লাগা লঞ্চের ভেতরের পুড়ে যাওয়া অংশ। দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন মারা যান। (ডিসেম্বর ২৪, ২০২১। (ছবি- আরিফুর রাহমান/ এএফপি)

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এমভি অভিযান ১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম নাসির বাদী হয়ে রবিবার সকাল ৯টায় বরগুনা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার আবেদন করেন।

আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাহবুব আলম আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন।

আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আখতার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আইনজীবী সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, "লঞ্চে আগুনের ঘটনায় মালিকসহ স্টাফদের গাফেলতি সুষ্পষ্ট। আলোচিত এ ঘটনায় বাদী সংক্ষুদ্ধ হয়ে মামলার আবেদন করেছিলেন। বিজ্ঞ আদালত আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি এজাহার হিসেবে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দিয়েছেন।"

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম নাসির বলেন, "বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্যে আমি নিশ্চিত হয়েছি, মামলার আসামিদের গাফিলতির কারণে আগুন, মৃত্যু, আহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করেছি। এ কারণেই আমি ন্যায় বিচারের স্বার্থে স্বপ্রনোদিত হয়ে মামলাটি করেছি।"

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন এবং তাদের অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আর ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত লঞ্চটির ইঞ্জিন কক্ষ থেকে হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ ঘটনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক যুগ্ম সচিব মো. তোফায়েল ইসলাম।

তিনি বলেন, "ঝালকাঠিতে মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনার বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। একাধিকবার ঘটনাস্থল ও লঞ্চ পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে ইঞ্জিন কক্ষ (রুম) থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। পরবর্তীতে আরও কিছু বিষয়ের কারণে এটি ছড়িয়ে পড়েছে।"

রবিবার বরগুনার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলতে এসে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

তোফায়েল ইসলাম বলেন, "তদন্ত এখনও চলমান। তাই কংক্রিট কোনো তথ্য দেয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে একটি সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা যায়।"

দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চের কোনো স্টাফের সঙ্গে তারা এখনও কথা বলতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

এদিকে, এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে টানা তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সুগন্ধা নদীতে ঘটনাস্থলের অংশ পাশের এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, "বেলা ১১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নদী থেকে নতুন করে আর কোন মরদেহ উদ্ধার হয়নি।"

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পালন কারী কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ২৫ জনের তালিকা করা হয়েছে।

এর আগে লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডে নিহত অজ্ঞাত পরিচয়ের ২৩ জনের লাশ শনিবার বেলা ১২ টায় বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালী সরকারি গণকবরে দাফন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) গভীর রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার উপকূলে সুগন্ধা নদীর মাঝখানে ৮০০ যাত্রী নিয়ে ‘অভিযান-১০’ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

XS
SM
MD
LG