অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আবেদন কেন বাতিল হচ্ছে খতিয়ে দেখার জন্য মমতার টাস্কফোর্স গঠন


ক্রেডিট কার্ড

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় আর বাধা থাকবে না। সবাই স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা পাবেন।

তবে, পরিসংখ্যান বলছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ হাজার ৪৬৮টি আবেদন বাতিল হয়ে গেছে। মঞ্জুর করা হয়েছে ৪ হাজার ৬১৮টি। কেন এত আবেদন বাতিল হলো, কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা জানতেই টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছে, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, নবান্ন। এই টাস্ক ফোর্সের কাজ হবে, জেলায় জেলায় ঘুরে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা। কী কারণে ঋণের আবেদন বাতিল হচ্ছে, কী কী বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ব্যাঙ্ক, কেন লোন পেতে সমস্যা হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের ইত্যাদি সব বিষয়ে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, টাকার অভাবে যাতে কোনও ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ না হয় সে জন্যই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড চালু করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। কোন কোন ক্ষেত্রে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে তাও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দশম থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা, গবেষণা, ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ এই কার্ডের মাধ্যমে লোন পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা, তারা কোচিংয়ের ফি-ও মেটাতে পারবেন এই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। এছাড়া লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ, কোর্স ফি, হস্টেল ফি, বই কেনা যাবে এই কার্ড ব্যবহার করে। কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রেও এই কার্ডের মাধ্যমে মিলবে ঋণ।

অভিযোগ, শুধুমাত্র প্রফেশনাল কোর্সের জন্যই ঋণের আবেদন মঞ্জুর হচ্ছে। ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়ারা ঋণের জন্য আবেদন করলে তা মঞ্জুর করছে ব্যাঙ্ক। কিন্তু বাকি কোর্সগুলির ক্ষেত্রে তেমনটা হচ্ছে না। তাছাড়াও স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লোন নিতে হলে পড়ুয়াদের যেসব নথি জমা করতে হচ্ছে তার মধ্যে রেজাল্ট, কোর্সের খরচ, পরিবারের আয় এসবও থাকছে। অভিযোগ, মেধার মান সন্তোষজনক না হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঋণের আবেদন বাতিল করে দিচ্ছে ব্যাঙ্ক।

এই নিয়ে বিতর্ক হলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, ছাত্রছাত্রীদের কার্ড দেওয়ার বিনিময়ে কোনও কিছু বন্ধক রাখা বা অভিভাবকদের আয়ের প্রমাণপত্র চাওয়া হয়নি। আবেদনকারী কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া এবং মেধাবী কি না, সেটাই বিবেচনা করা হয়েছে। যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের মধ্যে বহু নিম্ন আয়ের পরিবারের পড়ুয়া আছেন। পড়ুয়াদের কোর্স ও মেধার মান সন্তোষজনক না হলে চাকরি পেতে সমস্যা হবে। তখন ঋণের টাকা পরিশোধ করতে সমস্যা হবে ছাত্রছাত্রীদের।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যেসব পড়ুয়া উচ্চশিক্ষার জন্য লোনের আবেদন করবেন তাদের সকলেরই আবেদন মঞ্জুর করতে হবে। তাই একদিকে যেমন স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে ঋণের আবেদন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তেমনই অসন্তোষ জমছে পড়ুয়াদের মনে।

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জট কাটাতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে লোন স্যাংশন ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছিল। মোট ১৭৬টি লোন স্যাংশান ক্যাম্প করা হয়েছিল কলকাতা সহ অন্যান্য জেলাগুলিতে। আট হাজারের বেশি লোনের অনুমোদনপত্র দেওয়া হয়েছিল ক্যাম্পগুলি থেকে। সেই সঙ্গেই ছাত্রছাত্রীরা পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা। আগামী ১ জানুয়ারি ‘শিক্ষার্থী দিবস’ উপলক্ষে প্রায় ২০ হাজার ছাত্র ছাত্রীদের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। কিন্তু তার আগেই অসন্তোষ আর অভিযোগের পাহাড় জমছে।

XS
SM
MD
LG